আবু তাহির আস-সিলাফি
আবু তাহির আস-সিলাফি | |
|---|---|
| উপাধি | শায়খুল ইসলাম[১] আল হাফিজ |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | ৪৭৮ হি./ ১০৮৫ খ্রি. |
| মৃত্যু | আলেকজান্দ্রিয়া, আইয়ুবি সালতানাত ৫৭৬ হি./১১৮০ খ্রি. |
| ধর্ম | ইসলাম |
| আখ্যা | সুন্নি |
| ব্যবহারশাস্ত্র | শাফিঈ |
| ধর্মীয় মতবিশ্বাস | আশআরি[২][৩] |
| প্রধান আগ্রহ | হাদিস, উলুমে হাদিস ফিকহ, |
| যেখানের শিক্ষার্থী | নিজামিয়া মাদ্রাসা |
| কাজ | মুহাদ্দিস, বিচারক, জীবনীকার |
| মুসলিম নেতা | |
যার দ্বারা প্রভাবিত | |
যাদের প্রভাবিত করেন | |
আবু তাহির আল-সিলাফি (আরবি: أبو طاهر السلفي; ৪৭২ হি./১০৭৯ খ্রি.–৫৭৬ হি./১১৮০ খ্রি.) ছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীর একজন শীর্ষস্থানীয় মুসলিম পণ্ডিত, হাদিসবিশারদ, জীবনীকার ও ইসলামি আইনজ্ঞ। তিনি ইসফাহানের একজন প্রসিদ্ধ শাফেয়ী হাদিসের পণ্ডিত ছিলেন এবং তিনি বহু বছর যাবত আলেকজান্দ্রিয়ার 'আদিলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন, যেখানে তার কাছে আন্দালুসসহ প্রায় সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ছাত্ররা পড়াশোনা করতে আসতেন।[৪] তিনি অত্যন্ত খর্বকায় ছিলেন এবং নিজের দুর্দান্ত স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি একশ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। [৫] ১১৮০ সালে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।
জীবনী
[সম্পাদনা]তিনি ১১৭৯ সালে ইরানের ইস্পাহানে জন্মগ্রহণ করেন এবং অল্প বয়সেই তিনি নিজের জন্মস্থান ত্যাগ করে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে বাগদাদ সফর করেন। সেখানে তিনি ইলকিয়া হাররাসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যিনি তখন নিযামিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (মুদাররিস) ছিলেন। তাঁর কাছে তিনি অনেক বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন। কিছুদিন পর তিনি আবার ভ্রমণে বের হয়ে পড়েন এবং মুসলিম ভূখণ্ড জুড়ে হাদীস শ্রবণ করেন এবং যাঁদের থেকে হাদীস শিখেছেন, তাঁদের জীবনী লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। তিনি ৫১১ হিজরি/১১১৭ খ্রিস্টাব্দে আলেকজান্দ্রিয়া পৌঁছান এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। [৬] সিলাফি সেখানে মিশরের দ্বিতীয় মাদ্রাসার ( প্রথম শাফেয়ি মাদ্রাসা) পরিচালনায় নিযুক্ত হন, যা ১১৪৯ খ্রিস্টাব্দের দিকে আলেকজান্দ্রিয়ার শাফেয়ি গভর্নর আদিল বিন সালার (খলিফা জাফরের প্রধানমন্ত্রী) আদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রাথমিকভাবে 'আদিলিয়্যা' নামে পরিচিত ছিল; তবে পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক সিলাফির নামানুসারে এটি সিলাফিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে। [৬]
সম্ভবত ১১১৮ খ্রিস্টাব্দে সিলাফি সিতুল আহল বিনতে খালওয়ানিকে বিবাহ করেন; যাদের কন্যা খাদিজা (মৃ. ১২২৬ খ্রি.) প্রসিদ্ধ আলিম আবুল হারাম মাক্কি ইবনে আব্দুর রহমান ত্রাবুলসিকে বিবাহ করেন। তাঁদের পুত্র আবুল কাসিম আবদুর রহমান (জ. ১১৭৪) পরবর্তীতে আলেকজান্দ্রিয়ার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। [৭] [৮]
প্রভাব ও ছাত্রবৃন্দ
[সম্পাদনা]সিলাফি ইস্পাহান থেকে আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত ধর্মীয় জ্ঞানের সঞ্চালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি তিনটি মু‘জাম (হাদীস সংগ্রহ গ্রন্থ) রচনা করেন, যেগুলিতে বর্ণনাসূত্র (সনদ/ইসনাদ) খুব যত্নসহকারে লিপিবদ্ধ ছিল। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন নামকরা তাবাকা (জীবনী) পণ্ডিত ইবনে তাহির আল-মাকদিসি, আবদুল গনি মাকদিসি ও আব্দুল কাদির রুহাওয়ি, যাঁরা তার এই গ্রন্থগুলিকে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে প্রচার করেছেন।
এছাড়াও তাঁর অন্যান্য বিশিষ্ট ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: হাদীস বিশেষজ্ঞ ইবনে মুফাদ্দাল এবং ভাষাবিদ ও ইতিহাসবিদ আবুল হাজ্জাজ আল-বালাভি। [৫]
রচনাবলি
[সম্পাদনা]তাঁর প্রসিদ্ধ রচনার মধ্যে অন্যতম হলো মু‘জাম আস-সাফার (ভ্রমণ অভিধান), যা একটি জীবনীভিত্তিক অভিধান, যার মধ্যে ৫১১ হি./ ১১১৭ খ্রি. থেকে ৫৬০ হি./ ১১৬৪ খ্রি. পর্যন্ত সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এই তার মু‘জামকে পরবর্তী ফাতিমীয় আমলের আলেকজান্দ্রিয়ার জ্ঞানচর্চার একটি সারসংক্ষেপ হিসেবে ধরা যায়। [৯]
তাঁর অন্যান্য অনুরূপ বিখ্যাত রচনার মধ্যে রয়েছে: মু‘জামু উলামা ইসফাহান (ইসফাহানের আলেমদের অভিধান) মু‘জামু উলামা বাগদাদ (বাগদাদের আলেমদের অভিধান) [১০]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Lucas, Scott C. (২০০৪)। Constructive Critics, Ḥadīth Literature, and the Articulation of Sunnī Islam The Legacy of the Generation of Ibn Saʻd, Ibn Maʻīn, and Ibn Ḥanbal। Brill। পৃ. ১০৩। আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪১৩৩১৯৮।
- ↑ "Ahl al-Sunna: The Ash'aris - The Testimony and Proofs of the Scholars"। almostaneer.com (Arabic ভাষায়)। ২৮ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Gibril Fouad Haddad (২ মে ২০১৫)। THE BIOGRAPHIES OF THE ELITE LIVES OF THE SCHOLARS, IMAMS & HADITH MASTERS Biographies of The Imams & Scholars। Zulfiqar Ayub। পৃ. ১৬৪।
Imam al-Subki mentions him among those who followed the school of Imam Ashari in Beliefs & Doctrine (Aqidah) along with Abu al-Walid al-Baji, Abu al-Hasan al-Qabisi, Abu al-Qasim bin Asakir, Abu al-Hasan al-Muradi, Abu Sad bin al-Samani, Abu Tahir al-Salafi, Qadi Iyad and Al-Shahrastani
- ↑ Camilla Adang, Maribel Fierro, Sabine Schmidtke (১০ ডিসেম্বর ২০১২)। Ibn Ḥazm of Cordoba The Life and Works of a Controversial Thinker। Brill। পৃ. ৫২৫-৬। আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪২৪৩১০১।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - 1 2 "Scholar Of Renown: Abu Tahir Al-Salafi-II"। arabnews.com। ৭ জানুয়ারি ২০০২।
- 1 2 Ephrat, Daphna (৩ আগস্ট ২০০০)। A Learned Society in a Period of Transition The Sunni 'Ulama' of Eleventh-Century Baghdad। State University of New York Press। পৃ. ৬২। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৯১৪৪৬৪৫৪।
- ↑ Cortese 2012, পৃ. 12।
- ↑ Cortese 2012, পৃ. 14।
- ↑ Cortese 2012, পৃ. 4।
- ↑ "Encyclopedia of flags - Encyclopedia of Rural Knowledge Network. Archived from" (Arabic ভাষায়)। ২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
আরো পড়ুন
[সম্পাদনা]- Rizzitano, U. “Akhbār ‘an ba‘ḍ muslimī ṣiqilliya alladhīna tarjama la-hum Abū Ṭāhir al-Silafī,” Annals of the Faculty of Arts, Uni. of ‘Ayn Shams, 3 (1955): pp. 49-112
- ‘Abbās, I. Akhbār wa tarājim Andalusiyya al-mustakhraja min Mu ‘jam al-safar li al-Silafī. Beirut, 1963
- Zaman, S.M. Abū Ṭāhir al-Silafī al-Iṣbahānī. His life and works with an analytical study of his Mu‘jam al-safar. PhD thesis, Harvard Univ., Cambridge (Mass.), 1968
- Ṣāliḥ, Ḥ. The life and times of al-Ḥāfiẓ Abū Ṭāhir al-Silafī accompanied by a critical edition of part of the author’s Mu‘jam al-safar. PhD thesis, Univ. of Cambridge, 1972
- Ma ‘rūf, B. A. “Mu‘jam al-safar li-Abī Ṭāhir al-Silafī,” al-Mawrid, 8 (1979): pp. 379–383
- Zaman, S.M. Mu‘jam al-safar. Islamabad, 1988
সূত্র
[সম্পাদনা]- Cortese, Delia (২০১২)। "Transmitting Sunnī Learning in Fāṭimid Egypt: The Female Voices"। 26th Congress of the Union Européenne des Arabisants et Islamisants (UEAI 26), 12-16 Sep 2012, Basel, Switzerland। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৫।