আবু আহমদ আল-হুসাইন ইবনে মুসা
আবু আহমদ আল-হুসাইন ইবনে মুসা | |
|---|---|
| উপাধি | আশরাফদের প্রধান |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| ধর্ম | ইসলাম |
| জাতীয়তা | আব্বাসীয় |
| যুগ | ইসলামী স্বর্ণযুগ |
| আখ্যা | শিয়া মতবাদ |
| ধর্মীয় মতবিশ্বাস | ইসনে আশারা |
| যে জন্য পরিচিত | বিশিষ্ট আলীয়, বুইদ রাজবংশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা |
| কাজ | আলীয়, সরকারি কর্মকর্তা |
| আত্মীয় | শরীফ মুর্তজা (পুত্র), শরীফ রাজী (পুত্র) |
আবু আহমেদ আল-হুসাইন ইবনে মুসা আল-মুসাভি ছিলেন একজন আলীয় যিনি দশম শতাব্দীর শেষের দিকে বা একাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাগদাদের বুয়িদ রাজবংশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং দ্বাদশ শিয়া পণ্ডিত আল-শরীফ আল-মুরতাদা এবং আল-শরীফ আল-রাদীর পিতা ছিলেন।
জীবন
[সম্পাদনা]
আল-হুসেইন ছিলেন মুসাভিদ শিয়া ইমাম মুসা আল-কাজিমের (মৃত্যু ৭৯৯) বংশধর।[১] তার তিন পুত্র ছিল: আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম, আবুল-কাসিম আলী ওরফে আল-শরীফ আল-মুর্তজা, এবং আবুল-হাসান মুহাম্মদ ওরফে আল-শরীফ আল-রাজী। [১]
আল-হুসাইন ছিলেন তার পরিবারের প্রথম সদস্য যাকে ৭ জুন ৯৬৫ তারিখে ইরাকের বুয়িদ আমির মুইজ আল-দাওলা (শাসন ৯৪৫-৯৬৭) কর্তৃক আলীয় ডিন (নকিব আল-আশরাফ বা আশরাফদের প্রধান) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।[২] এই পদটি ৯৭০ সাল পর্যন্ত হজযাত্রীদের কাফেলার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করত। এরপর এটি কুফার বনু ইয়াহিয়া পরিবারের দায়িত্বে ফিরে আসে।[৩]
মুসার বংশধর হিসেবে আল-হুসাইন এবং তার পরিবার ছিল ইসনা আশারিয়া,[৪] যা হাসানি বংশের একজন সদস্যের নেতৃত্বে অভ্যস্ত কিছু আলিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলস্বরূপ, কিছু আলীয় তার কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তা থেকে অব্যাহতি চায়।[৫] আল-হুসাইন নতুন আমির ইজ্জ আল-দাওলা (শাসন ৯৬৭-৯৭৮) এর সাথে একটি ভালো এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি তাকে পদে বহাল রাখেন এবং ৯৬৮/৯ সালে মসুলের হামদানী আমির আবু তাগলিব এবং তার ছোট সৎ ভাই আবুল-মুজাফফর হামদানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য তাকে নিযুক্ত করেন।[৫] ৯৭১ সালে বাগদাদে দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর আল-হুসাইনকে বরখাস্ত করা হয়, কিন্তু ইজ্জ আল-দাওলার অনুগ্রহ তখনও বজায় ছিল। তিনি ৯৭২/৩ সালে হামদানীদের সাথে শান্তি আলোচনার দায়িত্ব তাকে দিয়েছিলেন।[২]
আদুদ আল-দাওলা (শাসন ৯৪৩-৯৮৩) ৯৭৫ সালে প্রথমবার বাগদাদ দখল করলে আগস্ট/সেপ্টেম্বর মাসে আল-হুসাইনকে নকিব আল-আশরাফ হিসেবে পুনর্বহাল করা হয়।[৬] শহরে ফিরে আসার পর ইজ্জ আল-দাওলা তাকে স্বপদে বহাল রাখেন, এবং আবার ৯৭৮ সালে যখন তিনি ইরাকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করলে তখওন আদুদ আল-দাওলা তাকে স্বপদে বহাল রাখেন। তার চেয়েও বড় কথা, আল-হুসাইনকে পূর্ববর্তী হামদানীয় উচ্চ মেসোপটেমিয়ার বিজয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল, যা তিনি ৯৭৮-৯৭৯ সালে সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।[৭] আদুদ আল-দাওলার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গেলে তিনি ইরাকের বর্তমান অভিজাতদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করতে দ্বিধা করেননি। আগস্ট/সেপ্টেম্বর ৯৭৯ সালে আল-হুসেনকে আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় ও তার ভাই আহমদের সাথে ফর্সে নির্বাসিত করা হয়।[৮] জায়েদী প্রবণ আলীয় মুহাম্মদ ইবনে উমর এবং আল-হুসাইনের প্রধান কাজী এবং বন্ধু ইবনে মা'রুফও এর শিকার হন এবং তাদের ফার্সে নির্বাসিত করা হয়।[৯] ৯৮৩ সালে আদুদ আল-দাওলার মৃত্যুর পর নির্বাসিতদের কারাবাস থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, কিন্তু ৯৮৭ সাল পর্যন্ত তারা ফর্সে নির্বাসিত ছিলেন।[১০] দ্বাদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ইবনে আল-জাওজি দাবি করেন যে আল-হুসাইনকে নকিব আল-আশরাফ হিসেবে পুনরায় নিযুক্ত করা হয়েছিল। এরপর তিনি অসুস্থতার কারণে ৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন, তবে অন্যান্য উৎস থেকে এটি নিশ্চিত করা হয়নি।[১১]
বাহা আল-দাওলা (শাসন ৯৮৮-১০১২) কর্তৃক আল-হুসাইনকে আবার ৯৯০ সালের মে/জুন মাসে নকিব আল-আশরাফ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এছাড়াও তিনি দেওয়ানি আদালতের (মাজালিম) দায়িত্ব পান।[১২] তার দুই পুত্র আল-রাজী এবং আল-মুরতাজা তার ডেপুটি হিসেবে নিযুক্ত হন।[১৩] প্রায় একই সময়ে আল-হুসাইন এবং তার পরিবার এবং জায়েদীপন্থী মুহাম্মদ ইবনে উমরের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়, যাকে পরবর্তী শুদ্ধি অভিযানে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল।[১৪] আল-হুসাইন বাহা আল-দাওলার প্রতি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল ছিলেন। তিনি ৯৯২/৩ সালে তাকে উকাইলিদের কাছে একটি দূতাবাসের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। এ সময়কালে তিনি উকাইলিদের আমির মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসায়্যাব কর্তৃক বন্দী ছিলেন। ৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে খলিফা আল-কাদিরের সাথে বাহা আল-দাওলার মেয়ের বিবাহের সময় আল-হুসাইন তার আইনগত অভিভাবক (ওয়ালি) ছিলেন।[১৪] তবে সরকার পরিবর্তনের ফলে আরেকবার তাকে বরখাস্ত করা হয়, কারণ নতুন বুয়িদ উজির শাপুর মুহাম্মদ ইবনে উমরের পক্ষে ছিলেন এবং তাকে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি দেন। ৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে আল-হুসাইনের স্থলাভিষিক্ত হন একজন জায়েদি প্রার্থী।[১৫]
তবুও আল-হুসাইন তার অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন, কারণ ৯৯৯ সালের মধ্যে বাহা আল-দাওলা তাকে শিরাজ দখলের সময় তার সৈন্যদের সাথে পাঠান।[১৬] ১০০৩/৪ সালে, মুহাম্মদ ইবনে উমরের মৃত্যুর পর আল-হুসাইনকে তার পূর্ববর্তী পদে পুনরায় নিযুক্ত করা হয়।[১৬] এর সাথে এখন প্রধান ধর্মীয় বিচারক (কাজী) পদ যুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু তার সুপরিচিত শিয়া ঝোঁক এবং বাগদাদে কাজি হিসেবে পূর্বের কোনও কাজের অভাব সুন্নি জনগোষ্ঠী এবং খলিফা আল-কাদিরের বিরোধিতাকে উস্কে দেয়। ফলস্বরূপ নিয়োগটি স্বল্পস্থায়ী ছিল।[১৭]
আল-হুসাইন ১০০৯/১০ সালে মারা যান।[১৮] তার পুত্র আল-রাজী তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং ১০১৫ সালের জুনে তার মৃত্যুর পর আরেক পুত্র আল-মুরতাজা তার স্থলাভিষিক্ত হন।[১৯]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Busse 2004, Tafel E।
- 1 2 Busse 2004, পৃ. 282, 295।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 295।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 281।
- 1 2 Busse 2004, পৃ. 282।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 283, 296।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 52–53, 283।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 268, 284, 296।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 59, 268, 284।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 285।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 285, 296।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 286, 293, 296।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 296।
- 1 2 Busse 2004, পৃ. 286।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 286–287, 296।
- 1 2 Busse 2004, পৃ. 287।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 268, 277, 287–288।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 289, 296।
- ↑ Busse 2004, পৃ. 289, 296–297।
সূত্র
[সম্পাদনা]- Busse, Heribert (২০০৪)। Chalif und Grosskönig – Die Buyiden im Irak (945-1055) (German ভাষায়)। Ergon Verlag। আইএসবিএন ৩-৮৯৯১৩-০০৫-৭।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)