আবুল হাশেম সরকার
আবুল হাশেম সরকার | |
|---|---|
| জন্ম | ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ (মতান্তরে ১৯৩৫) |
| মৃত্যু | ১৯৭১ |
| জাতীয়তা | বাঙালি |
| নাগরিকত্ব | পূর্ব পাকিস্তান |
| মাতৃশিক্ষায়তন | |
| পরিচিতির কারণ | শিক্ষক এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী |
| দাম্পত্য সঙ্গী | হাসিনা খাতুন |
আবুল হাশেম সরকার একজন শিক্ষক ও শহীদ বুদ্ধিজীবী। তিনি কর্মজীবনে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।[১][২] তিনি ১৯৭১ সালে শহীদ হন। ২০২২ সালের ২৯ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাকে বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।[৩][৪]
প্রারম্ভিক ও ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]আবুল হাশেম ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর (মতান্তর ১৯৩৩ সাল[২]) নদীয়া জেলার দৌলতপুর থানার প্রাগপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[৫]
ব্যক্তিগত জীবনে আবুল হাশেম হাসিনা খাতুনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তার পাঁচটি ছেলে ও দুইটি মেয়ের পিতা। তার পরিবারের সদস্যদেরা বর্তমানে প্রাগপুরে বসবাস করেন।[১][২]
শিক্ষাজীবন
[সম্পাদনা]আবুল হাশেম ১৯৫২–১৯৫৬ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এসময় সর্বত্র ব্ল্যাক জুয়েল নামে পরিচিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএড) সম্পন্ন করেন।[১] ভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে কিছুদিন অধ্যয়ন করেছিলেন ।[২]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]আবুল হাশেমের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতার মাধ্যমে। তিনি ১৯৫৭–১৯৭১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কুষ্টিয়ার বাগোয়ান কে.সি.ভি.এন. মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরার তুজুলপুর হাই স্কুল, ঢাকার আজিমপুর গার্লস স্কুল ও মেহেরপুরের গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (বর্তমানে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ) শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।[১][২]
আবুল হাসেম পরপর দুইবার ১৯৬২–১৯৭১ পর্যন্ত গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।[১]
স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মৃত্যু
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পর তিনি পশ্চিমবঙ্গ গিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শেষ করে মেহেরপুরে ফিরে এসে গোপনে স্থানীয় তরুণদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। এই কাজে তাকে তার ভগ্নিপতি হাফিজ উদ্দিন সাহায্য করতেন, হাফিজ উদ্দিনও একজন শিক্ষক ছিলেন। এই বিষয় স্থানীয় রাজাকাররা জেনে যায় ও তাদেরকে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে ধরিয়ে দেয়।[১]
১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মাসে (মতান্তরে ১৬ আগস্ট) গাংনীর চৌগাছা থেকে আবুল হাশেম ও হাফিজ উদ্দিনকে চোখ বেঁধে ট্রাকে করে গাংনী থানার ধানখোলা ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এরপর তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয় (মতান্তরে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়) এবং লাশ কাজলা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।[১][২]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 7 সেলিম রেজা (১৩ ডিসেম্বর ২০২৩)। "কুষ্টিয়ার শহিদ বুদ্ধিজীবী আবুল হাশেম সরকার অভিষিক্ত বিনম্র শ্রদ্ধায়"। দ্য ডেইলি মেসেঞ্জার। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 6 তৌহিদী হাসান (১৭ জুন ২০২১)। "আবুল হাশেম সরকার শহীদ বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, কুষ্টিয়া"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ "শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা" (পিডিএফ)। বাংলাদেশ গেজেট। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০ জুন ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "৭২ শিক্ষকসহ শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্বীকৃতি পেলেন ১০৮ জন"। খুলনা গেজেট। ৫ মার্চ ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ ইমাম মেহেদী। "কুষ্টিয়ায় বুদ্ধিজীবী হত্যা"। রাইজিংবিডি। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৬।