আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ | |
|---|---|
| বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার | |
দায়িত্বাধীন | |
| অধিকৃত কার্যালয় ২৪ নভেম্বর ২০২৪ সাথে ছিলেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ | |
| রাষ্ট্রপতি | মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন |
| প্রধান উপদেষ্টা | মুহাম্মদ ইউনূস |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১ জুলাই ১৯৬৮ নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, বাংলাদেশ |
| পুরস্কার | শীর্ষ স্নাতক হিসেবে পাস আউট হন এবং রাষ্ট্রপতির সোর্ড অফ অনার (বিএমএ) |
| সামরিক পরিষেবা | |
| আনুগত্য | |
| শাখা | |
| কাজের মেয়াদ | ১৯৮৮-২০২৩ |
| পদ | |
| ইউনিট | ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট |
| কমান্ড |
|
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (জন্ম: ১ জুলাই ১৯৬৮) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[১]
প্রাথমিক জীবন, শিক্ষা ও গবেষণা
[সম্পাদনা]আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নাচোল উপজেলার ১নং নাচোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং নাচোল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।
১৯৮৬ সালে তিনি ১৮তম বিএমএ লং কোর্সে ক্যাডেট হিসেবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে যোগদান করেন। ১৯৮৮ সালে পদাতিক বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। প্রশিক্ষণে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন।
তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ ডিগ্রিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মাস্টার্স ইন মিলিটারি আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স এবং ভারতের কলেজ অফ ডিফেন্স ম্যানেজমেন্ট থেকে মাস্টার্স ইন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ (ডিস্টিংকশনসহ) সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এ পিএইচডি গবেষণা করছেন। তার গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে গণতন্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা, ভূ-কৌশল ও ভূরাজনীতি এবং সমরবিদ্যা ও সামরিক বিবর্তন অন্তর্ভুক্ত।[২]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]সামরিক কর্মজীবন
[সম্পাদনা]ফজল ৩৪ বছর ৭ মাসের দীর্ঘ সামরিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কমান্ড পর্যায়ে তিনি পদাতিক ব্যাটালিয়ন ও ব্রিগেড কমান্ড করেছেন এবং আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডক্ট্রিন কমান্ডের ট্রেনিং ডিভিশনের প্রধান ছিলেন। স্টাফ অফিসার হিসেবে তিনি জিএসও-৩ (অপারেশন), ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেড, জিএসও-২, সামরিক অপারেশনস পরিদপ্তর এবং কর্নেল জেনারেল স্টাফ, ডিজিএফআই-এর দায়িত্ব পালন করেন। প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং স্কুল অফ ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসের রণকৌশল শাখায় প্রশিক্ষক ও ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন।
জাতিসংঘ শান্তি মিশন
[সম্পাদনা]ফজল জাতিসংঘ শান্তি মিশনে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪-১৯৯৫ সালে তিনি সোমালিয়ায় এবং ২০০৩-২০০৪ সালে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে জাতিসংঘ মিশনের অংশ ছিলেন।
আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ
[সম্পাদনা]সামরিক দক্ষতা উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইউএস আর্মি কমান্ড অ্যান্ড জেনারেল স্টাফ অফিসার্স কোর্স এবং যুক্তরাজ্যে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরস কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তিনি ভারতের হাইয়ার ডিফেন্স ম্যানেজমেন্ট কোর্স এবং পাকিস্তানের মিড ক্যারিয়ার কোর্সেও অংশগ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের এই কোর্সগুলোতে তিনি শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারী হিসেবে নির্বাচিত হন।
কূটনৈতিক দায়িত্ব
[সম্পাদনা]সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পূর্বে তিনি ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে সামরিক উপদেষ্টা এবং তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাসে একই দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যান্য দায়িত্ব
[সম্পাদনা]সামরিক দায়িত্বের বাইরে তিনি বিভিন্ন সময়ে একাধিক স্কুল ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের ক্লাব ক্যাপ্টেন এবং বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্বেও ছিলেন। এছাড়াও তিনি সেনাবাহিনীর বৃহৎ আবাসন প্রকল্প ‘জলসিঁড়ি আবাসন’-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।[২]
নির্বাচন কমিশনার
[সম্পাদনা]ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.) ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন এবং ২৪ নভেম্বর শপথ গ্রহণ করেন।[৩]
সম্মাননা
[সম্পাদনা]প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতার জন্য ফজল বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেছেন। সেনাবাহিনীর তিনটির বেশি প্রশিক্ষণে প্রথম স্থান অর্জনের জন্য তিনি ‘সেনা উৎকর্ষ পদক (এসইউপি)’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি দুইবার সেনাবাহিনী প্রধানের বিশেষ প্রশংসাপত্র অর্জন করেছেন।[২]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "নতুন সিইসি হলেন সাবেক সচিব নাসির উদ্দীন"। প্রথম আলো। ২১ নভেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ নভেম্বর ২০২৪।
- 1 2 3 "মাননীয় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মোঃ সানাউল্লাহ (অব:) মহোদয় এঁর জীবনবৃত্তান্ত"। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ২৪ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "সিইসি ও চার কমিশনার শপথ নিলেন"। প্রথম আলো। ২৪ নভেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২৪।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
উইকিমিডিয়া কমন্সে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।