আবুল কাসিম বাবর মির্জা
| আবুল কাসিম বাবর মির্জা | |||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|
১৫৫২ সালের সফবীয় চিত্রায়নে বায়সুনঘুরের পুত্র আবুল কাসিম বাবর। বোডলিয়ান লাইব্রেরি, MS Ouseley Add. 24, fol. 174r | |||||||
| তৈমুরি রাজশাসক | |||||||
| রাজত্ব | ১৪৪৯–১৪৫৭ | ||||||
| পূর্বসূরি | উলুগ বেগ | ||||||
| উত্তরসূরি | মির্জা শাহ মাহমুদ | ||||||
| জন্ম | ৭ জুন ১৪২২ | ||||||
| মৃত্যু | ১৪৫৭ (বয়স ৩৪–৩৫) মাশহাদ, তৈমুরি সাম্রাজ্য (বর্তমান ইরান)[১] | ||||||
| সমাধি | ইমাম রেজার মাজার, মাশহাদ[২] | ||||||
| দাম্পত্য সঙ্গী | দৌলত সুলতান বেগম বেগী জান আগা কানিজাক বেগী আগা | ||||||
| বংশধর | সুলতান মাহমুদ নামহীন এক কন্যা | ||||||
| রাজবংশ | তৈমুর বংশ | ||||||
| পিতা | বায়সুনঘুর মির্জা | ||||||
| মাতা | গওহর নাসাব আগা খাওয়ারেজমি | ||||||
| ধর্ম | ইসলাম
| ||||||
আবুল কাসিম বাবর মির্জা (ফার্সি: بوالقاسم بابر میرزا بن بایسنقر بیگ) ছিলেন খোরাসানের একজন তৈমুরি রাজশাসক (১৪৪৯–১৪৫৭)।[৩] তিনি ছিলেন গিয়াস-উদ-দিন বায়সুনঘুর মির্জার পুত্র এবং সেই সূত্রে তৈমুর লঙের প্রপৌত্র।
শাহরুখ মির্জার শেষ বছরগুলোতে শুরু হওয়া উত্তরাধিকার লড়াইয়ে বাবর অন্যতম প্রধান পক্ষ ছিলেন। খলিল সুলতানের (তৈমুরের আরেক প্রপৌত্র) সাথে মিলে তিনি রাজকীয় বাহিনীর রসদবাহী গাড়ি লুণ্ঠন করেন এবং খোরাসানের দিকে অগ্রসর হন। ইতিমধ্যে, ১৪৪৮ সালে উলুগ বেগ খোরাসান আক্রমণ করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল আলা আদ-দৌলা মির্জাকে পরাজিত করা, যার দখলে তখন হেরাত ছিল। উলুগ বেগ তাকে তারনাবের যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং মাশহাদ দখল করেন, অন্যদিকে তার পুত্র আবদাল-লতিফ মির্জা হেরাত জয় করেন। আলা আদ-দৌলা মির্জা দক্ষিণ-পশ্চিম আফগানিস্তানে পালিয়ে যান। তবে উলুগ বেগ মাওয়ারান্নাহরকে (যেখানে তিনি কয়েক দশক ধরে শাসন করছিলেন) বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করায় দ্রুতই ওই অঞ্চল ত্যাগ করেন। ফেরার পথে বাবরের পাঠানো এক বাহিনী উলুগ বেগের সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

টেমপ্লেট:Campaignbox Second Timurid Succession Crisis
খোরাসানে তখন এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ায় বাবর দ্রুত এর নিয়ন্ত্রণ নেন। ১৪৪৯ সালে মাশহাদ ও হেরাত তার হস্তগত হয়। আলা আদ-দৌলা মির্জা মাঝে মাঝে আক্রমণ করলেও তা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। উলুগ বেগ এবং সুলতান মুহাম্মদের (যিনি মধ্য পারস্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন) পাশাপাশি বাবর তৈমুরি সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান তিন শাসকের একজনে পরিণত হন। তবে ক্ষমতার এই ভারসাম্য শীঘ্রই ভেঙে যায় যখন সুলতান মুহাম্মদ খোরাসান আক্রমণ করেন। অভিযানের শুরুতে বাবর বিপর্যয়ের মুখে পড়েন এবং ১৪৫০ সালের মার্চে মাশহাদে পরাজিত হয়ে তার অঞ্চলের কিছু অংশ ছেড়ে দিতে রাজি হন। তবে শীঘ্রই বাবর ঘুরে দাঁড়ান এবং সুলতান মুহাম্মদকে বন্দী করে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর তিনি সুলতান মুহাম্মদের এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে শিরাজে অভিযান চালান।
এই পর্যায়ে কারা কয়ুনলুর শাসক জাহান শাহ তৈমুরিদের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করেন। তিনি দ্রুত কোম এবং সাভে শহর অবরোধ করেন। বাবর তার বিরুদ্ধে অগ্রসর হতে শুরু করলেও কারা কয়ুনলু বাহিনীর সংখ্যাধিক্য এবং আলা আদ-দৌলা মির্জার ষড়যন্ত্রের কারণে তাকে হেরাটে ফিরে আসতে হয়। ১৪৫২ সালের মধ্যে পারস্যের বেশিরভাগ অংশ তৈমুরিদের হাতছাড়া হয়ে যায়; শুধু আবারকুহ শহরটি টিকে ছিল, যা ১৪৫৩ সালে কারা কয়ুনলুরা জয় করে। পরবর্তীতে সাময়িকভাবে কেরমান জয় করা হলেও এবং রে দখলের চেষ্টা চললেও, পারস্যের ওই অঞ্চলগুলো তৈমুরিরা আর কখনোই পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।
১৪৫৪ সালে বাবর বাল্খ দখলের প্রতিশোধ নিতে আবু সা'ইদ মির্জার শাসনাধীন মাওয়ারান্নাহর আক্রমণ করেন। তিনি দ্রুত সমরকন্দ অবরোধ করেন। তবে দুই শাসকের মধ্যে শীঘ্রই একটি চুক্তি হয় এবং আমু দরিয়াকে তাদের সীমান্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ১৪৫৭ সালে বাবরের মৃত্যু পর্যন্ত এই সীমানা বজায় ছিল। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র মাহমুদ স্থলাভিষিক্ত হন।
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]বাবরের তিনজন স্ত্রী ছিলেন:[৪]
- দৌলত সুলতান বেগম: আবু সাইদ দারুঘের কন্যা, তিনি সুলতান মাহমুদ মির্জার মা;
- বেগী জান আগা: খুদাইদাদের কন্যা;
- কানিজাক বেগী আগা: এক কন্যার মা;
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Vasilii Vladimirovitch Barthold, Four Studies on the History of Central Asia, Vol. 3 (1962), p. 21
- ↑ Maria E. Subtelny, Timurids in Transition: Turko-Persian Politics and Acculturation in Medieval Persia, Vol. 7, (Brill, 2007), p. 49.
- ↑ Morby, John (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Tīmūrid Empire"। Dynasties of the World (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-১৭৮০০৭-৩।
- ↑ John E Woods, The Timurid Dynasty (1990), p. 46
উৎসসমূহ
[সম্পাদনা]- Peter Jackson (1986). The Cambridge History of Iran, Volume Six: The Timurid and Safavid Periods. আইএসবিএন ০-৫২১-২০০৯৪-৬