বিষয়বস্তুতে চলুন

আবদ-আল-রাজ্জাক সমরকন্দি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবদ আল-রাজ্জাক সমরকন্দি
জন্মকামাল-উদ-দীন আবদ-উর-রাজ্জাক ইবনে ইসহাক সমরকন্দি
(১৪১৩-১১-০৭)৭ নভেম্বর ১৪১৩
হেরাত, তৈমুরি সাম্রাজ্য (বর্তমান আফগানিস্তান)
মৃত্যুআগস্ট ১৪৮২(1482-08-00) (বয়স ৬৮)
হেরাত, তৈমুরি সাম্রাজ্য (বর্তমান আফগানিস্তান)
পেশাইতিবৃত্তকার, ইসলামি পণ্ডিত
ভাষাফার্সি
জাতীয়তাতৈমুরি
উল্লেখযোগ্য রচনামাতলা-উস-সাদাইন ওয়া মাজমা-উল-বাহরাইন

আবদ-আল-রাজ্জাক সমরকন্দি (ফার্সি: کمال‌الدین عبدالرزاق بن اسحاق سمرقندی, কামাল-উদ-দীন আবদ-উর-রাজ্জাক ইবনে ইসহাক সমরকন্দি;[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ৭ নভেম্বর ১৪১৩ – আগস্ট ১৪৮২) ছিলেন একজন পারসিক[] তৈমুরি ইতিবৃত্তকার এবং ইসলামি পণ্ডিত। তিনি কিছুকাল পারস্যের তৈমুরি রাজবংশের শাসক শাহ রুখের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনি ১৪৪০-এর দশকের শুরুর দিকে দক্ষিণ ভারতের কালিকটে (কোঝিকোড়) গিয়েছিলেন। তিনি কালিকটে যা দেখেছিলেন তার একটি বর্ণনা লিখেছিলেন, যা তৎকালীন কালিকটের সমাজ ও সংস্কৃতির তথ্যের আকর হিসেবে অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি তৈমুরি রাজবংশ এবং মধ্য এশিয়ার তাদের পূর্বসূরিদের ইতিহাসের একটি দীর্ঘ ইতিবৃত্ত বা কালপঞ্জিও তৈরি করেছিলেন, তবে এটি ততটা মূল্যবান নয় কারণ এর বেশিরভাগই পূর্ববর্তী বিভিন্ন উৎস থেকে সংকলন করা হয়েছে।[]

প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]

আবদ-আল-রাজ্জাক ১৪১৩ সালের ৭ নভেম্বর হেরাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জালাল-উদ-দীন ইসহাক ছিলেন হেরাতে শাহ রুখের দরবারের কাজী এবং ইমাম। তিনি তার পিতা এবং বড় ভাই শরীফ-উদ-দীন আবদুর কাহহারের কাছে পড়াশোনা করেন এবং তাদের সাথে একত্রে ১৪২৯ সালে শামস-উদ-দীন মোহাম্মদ জাজারির কাছ থেকে 'ইজাজাহ' (সনদ) লাভ করেন। ১৪৩৭ সালে পিতার মৃত্যুর পর তিনি শাহ রুখের দরবারের কাজী হিসেবে নিযুক্ত হন। [তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ভ্রমণ ও লেখালেখি

[সম্পাদনা]

আবদ-আল-রাজ্জাক জানুয়ারি ১৪৪২ থেকে জানুয়ারি ১৪৪৫ পর্যন্ত পারস্যের তৈমুরি শাসক শাহ রুখের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ভারতের কালিকটে অবস্থান করেন। তিনি এই ভারত অভিযানের ৪৫ পৃষ্ঠার একটি বিবরণ লিখেছিলেন। এটি তার গ্রন্থ মাতলা-উস-সাদাইন ওয়া মাজমা-উল-বাহরাইন (দুই শুভ নক্ষত্রের উদয় এবং দুই সাগরের মিলন) এর একটি অধ্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ৪৫০ পৃষ্ঠার এই বইটিতে ১৩০৪ থেকে ১৪৭০ সাল পর্যন্ত তার পরিচিত বিশ্বের ইতিহাসের একটি বিস্তারিত কালপঞ্জি রয়েছে।[]

ভারত সফরের বর্ণনায় আবদ-আল-রাজ্জাক জামোরিনের অধীনে কালিকটের জীবন ও ঘটনাবলি এবং রাজা দ্বিতীয় দেব রায়ের রাজত্বকালে হাম্পি-র বিজয়নগর সাম্রাজ্যের জাঁকজমক ও বিশাল সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন।[][] তিনি ১৫শ শতাব্দীতে ভারত মহাসাগরের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্পর্কেও তথ্য রেখে গেছেন।

আবদ-আল-রাজ্জাকের মাতলা-উস-সাদাইন ওয়া মাজমা-উল-বাহরাইন বইটিতে শাহ রুখের রাষ্ট্র এবং মিং চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের বিস্তারিত বিবরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিশেষ করে, এতে ১৪২০-১৪২২ সালে শাহ রুখের বেইজিংয়ে পাঠানো প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য গিয়াস আল-দীন নাকাশের প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা সংকলিত হয়েছিল।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Donzel, E. J. van (১ জানুয়ারি ১৯৯৪)। Islamic Desk Reference। BRILL। পৃ. ১০আইএসবিএন ৯০-০৪-০৯৭৩৮-৪Abd al-Razzaq al-Samarqandi: Persian historian; 1413-1482. He served several Timurid rulers in Samarqand and left a historical work which is an important source of information.
  2. Elliot, H. M. (Henry Miers), Sir; John Dowson (১৮৭১)। "Matla'u-s Sa'dain, of Abdur Razzaq"The History of India, as Told by Its Own Historians. The Muhammadan Period। খণ্ড ৪। London : Trübner & Co.।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  3. 1 2 Bellér-Hann, Ildikó (১৯৯৫), A History of Cathay: a translation and linguistic analysis of a fifteenth-century Turkic manuscript, Bloomington: Indiana University, Research Institute for Inner Asian Studies, পৃ. ১১, আইএসবিএন ০-৯৩৩০৭০-৩৭-৩
  4. Alam, Muzaffar; Sanjay, Subrahmanyam (২০০৭)। Indo-Persian Travels in the Age of Discoveries, 1400–1800। Cambridge: Cambridge University Press। পৃ. ৫৪–৬৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৭৮০৪১-৪
  5. "Recalling the grandeur of Hampi"The Hindu। Chennai, India। ১ নভেম্বর ২০০৬। ১ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০০৭

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]