বিষয়বস্তুতে চলুন

আবদুশুকুরবয় মাদ্রাসা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবদুশুকুরবয় মাদ্রাসা
সাধারণ তথ্যাবলী
স্থাপত্যশৈলীমধ্য এশীয় স্থাপত্য
ঠিকানাআজিজন সড়ক, বুখারা প্রদেশ
নির্মাণের বছর১৮৯২
সম্পূর্ণ১৮৯২
উন্মুক্ত হয়েছে১৮৯২
স্বত্বাধিকারীআবদুশুকুরবয়
কারিগরি বিবরণ
উপাদানইট, কাঠ, পাথর এবং প্লাস্টার

আবদুশুকুরবয় মাদ্রাসা ছিল উজবেকিস্তানের বুখারা প্রদেশে অবস্থিত একটি মাদ্রাসা (ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)। বর্তমানে এই মাদ্রাসাটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]

আবদুশুকুরবয় মাদ্রাসাটি ১৮৯২ সালে আজিজন সড়কে নির্মিত হয়েছিল।[] এটি বুখারা আমিরাতের আমির আবদুল আহাদ খানের শাসনামলে আবদুশুকুরবয় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। বেশ কিছু ঐতিহাসিক উৎস থেকে এই মাদ্রাসা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

আব্দুরাউফ ফিতরাতের মতে, এই মাদ্রাসার বার্ষিক অনুদান ছিল পঁচিশ হাজার তেঙ্গে। গবেষক আব্দুসাত্তোর জুমানাজারভ এই মাদ্রাসা সংক্রান্ত বেশ কিছু ওয়াকফনামা অধ্যয়ন করে এর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। ওয়াকফ দলিলে উল্লেখ আছে যে, মাদ্রাসাটি আজিজন আলাইহি রাহমা সড়কে, অশতরখানি শাসক আব্দুল আজিজ খানের নির্মিত জারগারন মাদ্রাসার পূর্ব পাশে ইট এবং প্লাস্টার দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। মাদ্রাসার অভ্যন্তরে ছাত্রদের থাকার কক্ষ, একটি মসজিদ এবং একটি পাঠদান কক্ষ (লেকচার হল) ছিল।

মাদ্রাসাটির সীমানার পশ্চিমে জারগারন মাদ্রাসা, পূর্বউত্তরে রাস্তা এবং দক্ষিণে আবদুশুকুরবয় ও অন্যান্যদের বাড়ি ছিল। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উত্তর পাশের সাতটি দোকান এবং কোরাকুল জেলার তুজোতলি গ্রামের ৩০০ তানোব (জমির একক) নিষ্কণ্টক জমি ওয়াকফ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠাতা নিজেই মাদ্রাসার প্রথম মুতাওয়াল্লি (তত্ত্বাবধায়ক) ছিলেন এবং তার পরে তার বংশধররা এই দায়িত্ব পালন করেন।

মাদ্রাসাটির ওয়াকফনামা ১৮৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে (১৩১০ হিজরি সনের জমাদিউল আউয়াল মাস) বুখারার আমির আবদুল আহাদ খানের শাসনামলে লেখা হয়েছিল। এই দলিলের আরও একটি কপি সংরক্ষিত আছে। এছাড়া মাদ্রাসার কার্যক্রম সম্পর্কিত আরও চারটি নথি পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী, মাদ্রাসার শিক্ষকদের (মুদাররিস) বেতন ছিল ২৫ তেঙ্গে।[] সদরি জিয়ার মতে মাদ্রাসাটিতে ৩৯টি কক্ষ ছিল, তবে অন্যান্য সূত্র অনুযায়ী এর কক্ষ সংখ্যা ছিল ৩৫টি। এটি ঐতিহ্যবাহী মধ্য এশীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয়েছিল এবং এর প্রধান উপকরণ ছিল ইট, কাঠ, পাথর ও প্লাস্টার।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Rahmatova S, Qurbonov H (১৯৯৫)। Buxoro guzarlari tarixidan lavhalar (উজবেক ভাষায়)। Buxoro: Buxoro nashriyoti। পৃ. ১৪৪।
  2. Abdusattor Jumanazar (২০১৭)। Buxoro taʼlim tizimi tarixi (উজবেক ভাষায়)। Toshkent: Akademnashr। পৃ. ৫৯২।
  3. Muhammad Ali Baljuvoniy (২০০১)। Tarixi Nofeyi (Foydali tarix) (উজবেক ভাষায়)। Toshkent: Akademiya nashriyoti। পৃ. ১২২।