বিষয়বস্তুতে চলুন

আবদুল্লাহ (চাগতাই খানাত)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আবদুল্লাহ (মৃত্যু আনু.১৩৫৯) ছিলেন কারাউনাসদের নেতা (১৩৫৮–১৩৫৯) এবং চাগতাই উলুসের শাসক (১৩৫৮)। তিনি আমির কাজাগানের পুত্র ছিলেন।

১৩৪৬ সালের দিকে কাজাগান চাগতাই উলুসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তিনি আবদুল্লাহকে সমরকন্দের গভর্নর নিযুক্ত করেন। পিতার জীবদ্দশায় আবদুল্লাহ খাওয়ারেজমের বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন, যদিও কাজাগান এর বিরুদ্ধে ছিলেন। ১৩৫৮ সালে পিতার মৃত্যুর পর আবদুল্লাহ তার স্থলাভিষিক্ত হন। তার পিতার বিপরীতে, উলুসের উত্তরাঞ্চলীয় উপজাতিদের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। কাজাগানের শক্তির ভিত্তি ছিল উলুসের দক্ষিণ অংশে, তাই তিনি উত্তরদিকের উপজাতিদের খুব একটা ঘাঁটাতেন না। তবে আবদুল্লাহ তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। উত্তরাঞ্চলীয় উপজাতিরা তাদের ক্ষমতা খর্ব করার এই প্রচেষ্টাকে তীব্রভাবে ঘৃণা করত।

সমরকন্দে রাজধানী রাখার সিদ্ধান্তই আবদুল্লাহর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শহরের নিকটবর্তী বারলাস এবং সুলদুস উপজাতিরা তাদের আশেপাশে কারাউনাসদের শক্তিশালী উপস্থিতি পছন্দ করেনি। বারলাস ও সুলদুসদের নেতা হাজি বেগ এবং বুয়ান সুলদুস একত্রে বিদ্রোহ করেন এবং আবদুল্লাহকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। ক্ষমতা হারিয়ে তিনি কারাউনাসদের অঞ্চলে ফিরে যান এবং এর কিছুকাল পরেই তার মৃত্যু হয়। বিজয়ী দলগুলো প্রায়ই আবদুল্লাহ কর্তৃক বায়ান কুলির প্রতি করা আচরণকে তাদের বিদ্রোহের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করত। বায়ান কুলি ছিলেন কাজাগানের হাতের পুতুল খান; কাজাগানের মৃত্যুর পর আবদুল্লাহ বায়ান কুলির স্ত্রীকে পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং বায়ান কুলিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। শেষ পর্যন্ত বুয়ান সুলদুসকে উলুসের আমির হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং আবদুল্লাহর ভাইদের পাশাপাশি শাহ তৈমুরকে (যাকে বায়ান কুলির মৃত্যুর পর আবদুল্লাহ খান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন) হত্যা করা হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]