বিষয়বস্তুতে চলুন

আবদুল্লাহ আদ-দাঘিস্তানি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আবদুল্লাহ আল-ফাইজ আদ-দাঘিস্তানি
আবদুল্লাহ আদ-দাঘিস্তানির ছবি
জন্ম(১৮৯১-১২-১৪)১৪ ডিসেম্বর ১৮৯১
মৃত্যু৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩(1973-09-30) (বয়স ৮১)
পেশাসুফি শেখ
পূর্বসূরীশেখ শরফুদ্দিন আদ-দাঘিস্তানি
উত্তরসূরীশেখ নাজিম আল-হাক্কানি

আবদুল্লাহ আল-ফাইজ আদ-দাঘিস্তানি[] (আরবি: عبد الله الفائز الداغستاني), ছিলেন নকশবন্দি হাক্কানি সিলসিলার ৩৯তম শেখ।[]

প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]

তিনি ১৮৯১ সালে উত্তর ককেশাস অঞ্চলের দাগেস্তানে জন্মগ্রহণ করেন, যা তখন রুশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।[][] তাঁর বাবা এবং বড় ভাই উভয়ই চিকিৎসক ছিলেন, তার বড় ভাই রুশ রাজকীয় সেনাবাহিনীতে একজন সার্জন ছিলেন।[] শেখ আবদুল্লাহ তার মামা শেখ শরফুদ্দিন দাঘিস্তানি (১৮৭৫–১৯৩৬) এর কাছে লালিত-পালিত ও প্রশিক্ষিত হন।[] জর্জ গুর্জিফ এ নিয়োগ্রাম সংক্রান্ত একটি বৈঠকের জন্য তার সাথে দেখা করেছিলেন।[]

উসমানীয় তুরস্কে স্থানান্তর

[সম্পাদনা]

১৮৭০-এর দশকে তার মামা শেখ শরফুদ্দিন হিজরত করেছিলেন তাকে অনুসরণ করে ১৮৯০-এর দশকের শেষের দিকে শেখ আবদুল্লাহর পরিবার উসমানীয় সাম্রাজ্যে হিজরত করেন।[] তারা উত্তর-পশ্চিম আনাতোলিয়ার বুর্সা শহরে বসতি স্থাপন করেন এবং এক বছর পর তুরস্কের ইয়ালোভা প্রদেশের রশাদিয়া গ্রামে চলে যান, যা বর্তমানে গুনিকয় নামে পরিচিত। নতুন গ্রামটি সুলতানের দেওয়া জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখানে ৯৩-এর যুদ্ধ এবং রুশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শিকার দাঘিস্তানি শরণার্থীরা বসবাস শুরু করেন। এর কিছুকাল পরেই শেখ আবদুল্লাহর বাবা মারা যান এবং ১৫ বছর বয়সে তিনি হালিমা নামে এক দাঘিস্তানি নারীকে বিয়ে করেন।

সুফিবাদে প্রশিক্ষণ

[সম্পাদনা]

১৯১০ সালে বিবাহের মাত্র ছয় মাস পরে, শেখ শরফুদ্দিন আবদুল্লাহকে পাঁচ বছরের জন্য সুফি নির্জনবাসে (খালওয়াহ) যাওয়ার নির্দেশ দেন। এই অনুশীলনের মধ্যে কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনা অন্তর্ভুক্ত ছিল যা তাঁর আধ্যাত্মিক মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। আবদুল্লাহ যখন পার্থিব জীবনে ফিরে আসেন তখন উসমানীয় সাম্রাজ্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-এ জড়িয়ে পড়েছিল। তাঁর গ্রামের অনেক যুবকের সাথে আবদুল্লাহও সামরিক চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং গ্যালিপলির যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধের সময় শত্রুর গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন।

১৯২১ সালে শেখ শরফুদ্দিন আবদুল্লাহকে আরও পাঁচ বছরের নির্জনবাসে থাকার নির্দেশ দেন। তিনি এটি সম্পন্ন করেন এবং এরপর নকশবন্দি তরিকার একজন শিক্ষক বা শেখ হওয়ার অনুমতি বা ইজাজাহ লাভ করেন।[][]

মিশরে অবস্থান

[সম্পাদনা]

নতুন তুর্কি প্রজাতন্ত্রে সুফি বিরোধী আইনের কারণে শেখ আবদুল্লাহ দেশ ছাড়ার কথা ভাবতে শুরু করেন। ১৯৩৬ সালে শেখ শরফুদ্দিনের মৃত্যুর পর, রাজা ফারুকের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল শোক জানাতে রশাদিয়ায় আসে, কারণ মিশরে তাঁর অনেক অনুসারী ছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] শেখ আবদুল্লাহর এক মেয়ের সাথে সেই প্রতিনিধি দলের এক সদস্যের বিয়ে হয়। এরপর শেখ আবদুল্লাহ ও তাঁর পরিবার মিশরে চলে যান, যদিও তাঁরা সেখানে মাত্র অর্ধেক বছর ছিলেন কারণ শীঘ্রই সেই বিয়ে বিচ্ছেদে রূপ নেয়।[]

সিরিয়ায় জীবন

[সম্পাদনা]

তার মেয়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর, শেখ আবদুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার সিরিয়াতে চলে যান যেখানে তিনি তাঁর বাকি জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কিছুকাল আলেপ্পোতে বাস করেন, পরে হমসে এবং সবশেষে দামেস্কে সাধক সাদ আদ-দিন জিবাবীর সমাধির কাছে চলে যান। সেখানে তিনি তাঁর নকশবন্দি তরিকার শাখার জন্য প্রথম তাকিয়া প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৪৩ সালে তিনি জাবাল কাসিউন পাহাড়ের একটি বাড়িতে চলে যান। বাড়িটি তাঁর প্রথম সিরীয় মুরিদ এবং পরবর্তীতে সুফি তরিকার তাঁর অন্যতম খলিফা শেখ হুসাইন ইফরিানি কিনেছিলেন। এই বাড়িটি এখন তার সমাধি সৌধ এবং এর সংলগ্ন মসজিদের স্থান।

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

শেখ আবদুল্লাহ ১৯৭৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দামেস্কে মারা যান। তার কবর ও সমাধি সৌধ সিরিয়ার দামেস্কে তার প্রাক্তন বাড়ি এবং মসজিদের স্থানে অবস্থিত, যা জাবাল কাসিউন পাহাড়ে অবস্থিত।

উল্লেখযোগ্য অনুসারী

[সম্পাদনা]

তার উল্লেখযোগ্য অনুসারীদের মধ্যে রয়েছেন শেখ নাজিম আল-হাক্কানি, শেখ হিশাম আল কাব্বানি, শেখ আদিল মেহমেত, হুসাইন ইফরিনি এবং শেখ আদনান কাব্বানি। তাঁর ছাত্র এবং উত্তরসূরি শেখ নাজিম সারা বিশ্বে শেখ আবদুল্লাহর শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন।[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Gudrun Krämer; Sabine Schmidtke (২০০৬)। Speaking for Islam: Religious Authorities in Muslim Societies। পৃ. ২৬০।
  2. "shaykh-abdullah-al-faiz-ad-daghestani ق"
  3. 1 2 3 4 Böttcher, Annabelle (২০০৬)। "Religious Authority in Transnational Sufi Networks: Shaykh Nazim al-Qubrusi al-Haqqani al-Naqshbandi"। Krämer, Gudrun; Schmidte, Sabine (সম্পাদকগণ)। Speaking for Islam: Religious Authorities in Muslim Societies। Leiden: Brill। পৃ. ২৪১–২৬৮। আইএসবিএন ৯০০৪১৪৯৪৯X। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০১৪
  4. 1 2 3 'The Naqshbandi Sufi Way' by Hisham Kabbani. KAZI Publications, 1995.
  5. "Shaykh Abdullah al-Fa'iz ad-Daghestani | The Naqshbandi Haqqani Sufi Order of America: Sufism and Spirituality" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৩ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২১
  6. "Secrets of the Enneagram & Nine Points"legacy.nurmuhammad.com। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২১
  7. "The 500 Most Influential Muslims, 2009-2013"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৪[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]