আফিয়া সিদ্দিকী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ড.আফিয়া সিদ্দিকী
Afia-grad-01a.jpg
স্থানীয় নাম
عافیہ صدیقی
জন্ম (1972-03-02) মার্চ ২, ১৯৭২ (বয়স ৪৭)
অন্য নাম'কয়েদি ৬৫০', 'বাগরামের গ্রে মহিলা'
নাগরিকত্বপাকিস্তানি[১][২]
যেখানের শিক্ষার্থীম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি(BS)
ব্রন্ডেইস বিশ্ববিদ্যালয়[৩] (PhD)
উচ্চতা৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৬৩ মিটার)
ওজন৯০ পাউন্ড (৪১ কেজি) (অভিযোগ দাখিলের সময়)
বোর্ড সদস্যইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক রিসার্চ এন্ড টিচিং (প্রেসিডেন্ট)
অপরাধের অভিযোগহত্যার চেষ্টা, প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলা
অপরাধের শাস্তিদোষী সাব্যস্ত; ৮৬ বছরের জেল সাজা
দাম্পত্য সঙ্গীআমজাদ মুহাম্মদ খান (১৯৯৫ – ২১ অক্টোবর, ২০০২) (বিচ্ছেদ)
সন্তানমুহাম্মাদ আহমেদ (জন্ম: ১৯৯৬);
মারইয়াম বিনতে মুহাম্মাদ (জন্ম: ১৯৯৮) এবং
সুলাইমান (জন্ম: সেপ্টেম্বর ২০০২)

ড. আফিয়া সিদ্দিকী যিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বিখ্যাত একজন মুসলিম স্নায়ুবিজ্ঞানী এবং একজন আলোচিত মহিলা। তিনি করাচীর সম্ভ্রান্ত ও উচ্চ শিক্ষিত পরিবারে ১৯৭২ সালের ২ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। পিএইচডি ডিগ্রি ধারী এই মহিলাকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ২০০৩ সালে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আল কায়েদার সাথে যোগাযোগ থাকার অভিযোগে পাকিস্তানের করাচির রাস্তা থেকে তার তিন সন্তানসহ গ্রেফতার করে। পরে প্রচলিত আইনের আওতায় না এনে পাকিস্তানের কারাগারে গ্রেফতার না রেখেই তাকে আফগানিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে তাকে ৫ বছর বন্দি করে রাখা হয়। মার্কিন আদালত তাকে ৮৬ বছর কারাদন্ড দেয়। বন্দি অবস্থায় তার ওপর ব্যাপক অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ আছে।[৪][৫][৬][৭]

জন্ম ও শিক্ষাগত যোগ্যতা[সম্পাদনা]

জন্ম সূত্রে এই উচ্চ শিক্ষিত মহিলা পাকিস্তানের নাগরিক। শিক্ষা জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ডিগ্রী ধারী (পিএইচডি)। স্বনামধন্য এই স্নায়ুবিজ্ঞানী শিক্ষা জীবনে অসামান্য মেধার পরিচয় দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রন্ডেইস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাকে “নিউরোলজি” বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে। [৮] এছাড়াও সম্মান সূচক ও অন্যান্য ডিগ্রীর ১৪০ টিরও বেশি সার্টিফিকেট তিনি অর্জন করেন। তিনি “হাফিযে কোর’আন” ও “আলিমা”। শিক্ষা লাভের পর তিনি ২০০২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করেন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। সহকর্মীরা তাকে অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও বিনয়ী হিসেবে পরিচয় দেন।[৯]

গ্রেফতার ও অপহরণ[সম্পাদনা]

পাকিস্তানি এই নাগরিককে করাচির রাস্তা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পাকিস্তানে কোনো বিচার কার্য না করেই সরাসরি আফগানিস্তানে নিয়ে গেলে পাকিস্তান সরকার ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়। এবং তাকে অপহরনের অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন সরকারের এতে হাত রয়েছে বলে মনেকরা হয়। [৫]

গ্রেফতারের অভিযোগ ও বন্দী জীবন[সম্পাদনা]

আল-কায়দার সাথে যোগাযোগ থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয় তিন সন্তান আহমদ, সুলাইমান ও মারিয়মকে সহ। আফগানিস্তানে বন্দি রাখা কালে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে মানসিক, যৌন ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হত এবং তাকে দিনের মধ্য কয়েকবার করে ধর্ষন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। বাগরাম কারাগার থেকে মুক্তি প্রাপ্ত বন্দিরা অভিযোগ করেছে “নির্যাতনের সময়ে আফিয়ার আত্ন-চিৎকার অন্য বন্দির পক্ষে সহ্য করাও কঠিন ছিলো।” ওই নারীর ওপর নির্যাতন বন্ধ করার জন্য অন্য বন্দীরা অনশন পর্যন্ত করেছিলো।

২০০৮ সালে তাকে স্থানান্তর করা হয় নিউইয়র্কের এক গোপন কারাগারে। বর্তমানে তিনি পুরুষদের সাথে ওই কারাগারে বন্দি। কারাবন্দি নম্বর ৬৫০। চলমান নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হরিয়ে ফেলেন। পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান দাবি করে বলেন “তার দু সন্তান ইতোমধ্যেই মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আফগান কারাগারে মারা গেছে।” তিনি আরো বলেন, “পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের মধ্যে যারা ড. আফিয়া সিদ্দিকাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে তাদেরকে অবশ্যই বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।”[৪]

৩৮ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানীকে ৮৬ বছর কারাদন্ড দেওয়া হয়, আদালতে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে। অভিযোগ আছে যে তাকে ২০০৮ সালে আফগানিস্তানে অজানা রাসায়নিক পদার্থ ও হামলার পরিকল্পনার নোট সহ গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ৭টা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। সরকার পক্ষের আইনজীবী বলেন যে গ্রেফতারের সময় তার কাছে গুরুত্বপূর্ন স্থানের মানচিত্রর পাওয়া যায়। [১০]

ড. আফিয়াকে ৮৬ বছর কারাদন্ডের রায় ঘোষনা করার পর পাকিস্তানের রাস্তায় বিক্ষোভ হয়। অনেকেই মনে করেন তিন সন্তানের জননী হার্ভার্ড পিএইচডিধারী আফিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সন্তাসবিরোধী যুদ্ধের আর একটি নির্দোষ শিকার। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করে, “বিশ্ব জুড়ে সব জায়গায়তেই অভিযুক্তরা “বেনেফিট অব ডাউট” বা সন্দেহাতীতভাবে দোষী প্রমানিত হওয়ার আগে পর্যন্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হয়। ফলে সকল সুবিধা পায়। কিন্তু ড. আফিয়া তা পাননি বরং নির্যাতনের শিকার হন।”

তার ওপর অমানবিক নির্যাতনের বিষয়টি আলোচিত হয় কারাগার থেকে তার বহুল আলোচিত চিঠিটি লেখার পর। চিঠিটিতে আফিয়া দাবি করেন তার ওপর শারীরিক, পাশবিক নির্যাতনের পাশাপাশি একের পর এক ধর্ষন করা হয়। তার একটি কিডনিও বের করে ফেলা হয়েছিলো ফলে তিনি হাঁটতে পারতেন না। তিনি আরো দাবি করেন যে তাকে গুলি করা হয় এবং তার বুকে গুলি আঘাত ছিলো।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Pakistani Diplomats Visit Woman Detained in New York"। WNYC। আগস্ট ১০, ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১৯, ২০১১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. Emerson, Steven (২০০৬)। Jihad incorporated : a guide to militant Islam in the US। Amherst, NY: Prometheus Books। আইএসবিএন 1591024536 
  3. Peter Bergen (২০১১)। The Longest War: The Enduring Conflict Between America and Al-Qaeda। Simon & Schuster। পৃষ্ঠা 223। আইএসবিএন 9780743278942। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৩Disturbingly, al-Qaeda has been able to recruit American-educated scientists such as Aafia Siddiqui, who has a degree in biology from MIT and a PhD in neuroscience from Brandeis. 
  4. "'আমি নির্দোষ, আমাকে বাঁচান' : ইমরানকে আফিফার আবেগঘন চিঠি"jagonews24.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-১০ 
  5. "ওবামার কাছে আফিয়া সিদ্দিকীর মায়ের হৃদয়স্পর্শী চিঠি | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-১০ 
  6. "টেক্সাসে ড. আফিয়ার মৃত্যুর খবর উড়িয়ে দিলেন পাকিস্তানি কূটনীতিক"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-১০ 
  7. "ড. আফিয়া সিদ্দিকীর কথা | daily nayadiganta"The Daily Nayadiganta। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-১০ 
  8. "Read It Now: Wanted Women—Faith, Lies and The War on Terror: The Lives of Ayaan Hirsi Ali and Aafia Siddiqui"Vogue (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৭-০২ 
  9. "Aafia Siddiqui longing for justice: Fowzia"The Nation (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১২-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-১০ 
  10. "Rulers should demand return of Aafia: Dr Fowzia"The Nation (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৩-০২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৫-১০ 

টেমপ্লেট:AmericanTerrorism