আফগানিস্তানের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহের তালিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আফগানিস্তানে দুইটি স্থানকে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বামিয়ান প্রদেশ অঞ্চলে অবস্থিত বিশালাকায় বুদ্ধমূর্তি তালিবান শাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অপর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান জামের মিনার বর্তমানে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত।

বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অবস্থান[সম্পাদনা]

ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির তালিকা[সম্পাদনা]

নিম্নলিখিত সারণিতে প্রতিটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হল:

নাম: বাংলা নাম ও বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির তালিকাভুক্ত ইংরেজি নাম (বন্ধনীতে)
অঞ্চল: সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নাম
ইউনেস্কো তথ্য: কেন্দ্রের রেফারেন্স সংখ্যা; বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতিলাভের বছর; যে বিভাগে স্বীকৃতিলাভ: (১ম) থেকে (৬ষ্ঠ) বিভাগের মধ্যে হলে সাংস্কৃতিক এবং (৭ম) থেকে (১০ম) বিভাগের মধ্যে হলে প্রাকৃতিক
বর্ণনা: কেন্দ্রটির সাধারণ বর্ণনা
  † চিহ্নিত কেন্দ্রগুলি "বিপন্ন"
ক্রম নাম চিত্র অঞ্চল ইউনেস্কো তথ্য ক্ষেত্র
হেক্টর
একর
বর্ণনা
০১ বামিয়ান উপত্যকার সাংস্কৃতিক ভূমিরূপ ও প্রত্নতাত্ত্বিক অবশেষ
(Cultural Landscape and Archaeological Remains of the Bamiyan Valley)
ধ্বংসপ্রাপ্ত বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি বামিয়ান প্রদেশ,  আফগানিস্তান
৩৪°৪৯′৫৫″ উত্তর ৬৭°৪৯′৩৬″ পূর্ব / ৩৪.৮৩১৯৪° উত্তর ৬৭.৮২৬৬৭° পূর্ব / 34.83194; 67.82667 (বামিয়ান উপত্যকার সাংস্কৃতিক ভূমিরূপ ও প্রত্নতাত্ত্বিক অবশেষ)
সাংস্কৃতিক:
(১ম), (২য়), (৩য়), (৪র্থ), (৬ষ্ঠ)
7002159000000000000১৫৯ (৩৯০) বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বুদ্ধমূর্তিগুলির মধ্যে অন্যতম। ২০০১ সালের মার্চ মাসে তালিবানদের হাতে ধ্বংস হবার আগে পর্যন্ত ষষ্ঠ শতাব্দীতে তৈরি[১] প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক মূর্তিদুটি মধ্য আফগানিস্তানের বামিয়ান উপত্যকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৫০০ মিটার বা ৮২০০ ফিট উচ্চতায় একটি পর্বতগাত্রে খোদাই করা অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল। বড় মূর্তিটির উচ্চতা ছিল ৫৫ মিটার আর ছোটটির উচ্চতা ছিল ৩৫ মিটার।[১][২] এছাড়াও ঐ অঞ্চলের পর্বতগাত্রে আরও অনেক অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট বুদ্ধমূর্তিও খোদাই দেখতে পাওয়া যায়। ঐতিহাসিকদের মতে খ্রিস্টিয় ৩য় থেকে ১০ম শতক পর্যন্ত এই অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের প্রভাবে প্রভাবিত যে বিশেষ ধরনের শিল্পকলা বিকাশ লাভ করেছিল, এগুলি সেই গান্ধার শিল্পেরই উৎকৃষ্ট নিদর্শন।[৩] ইউনেস্কো এই মূর্তিগুলিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু তালিবান নেতা মোল্লা মুহম্মদ ওমরের নির্দেশে ইসলামের দোহাই দিয়ে ২০০১ সালের মার্চ মাসে বড় মূর্তিদুটিকে পাহাড়ের গায়ে ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়। বর্তমানে জাপান, সুইৎজারল্যান্ড, প্রভৃতি বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্যোগে মূর্তিদুটিকে পুনরায় তৈরি ও পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।[১][৪][৫][৬]
[৭]
০২ জামের মিনার ও প্রত্নতাত্ত্বিক অবশেষ
(Minaret and Archaeological Remains of Jam)
জামের মিনার ঘোর,  আফগানিস্তান
৩৪°২৩′৪৮″ উত্তর ৬৪°৩০′৫৮″ পূর্ব / ৩৪.৩৯৬৬৭° উত্তর ৬৪.৫১৬১১° পূর্ব / 34.39667; 64.51611 (জামের মিনার ও প্রত্নতাত্ত্বিক অবশেষ)
সাংস্কৃতিক:
(৩য়), (৪র্থ), (৫ম)
7001700000000000000৭০ (১৭০) জামের মিনার পূর্ব আফগানিস্তানে অবস্থিত ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এটি হারি নদীর তীরে ঘোর রাজ্যের সাহরাক জেলায় অবস্থিত। ২৪০০ মিটার পর্যন্ত উচু পাহার বেস্টিত ৬৫ মিটার উচু এই মিনার, সম্পূর্ণ পোড়া মাটির ইট দিয়ে ১১৯০ সালে নির্মিত হয়েছে। মিনারটি তার জটিল ইট, আস্তর এবং পালিশ করা টালি সজ্জার জন্য প্রসিদ্ধা, যার মধ্যে বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফি যেমন কুফিক, নাস্খ, বিভিন্ন জ্যামিতিক আকার এবং কুরআনের আয়াত খোদাই করা রয়েছে। উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এই মিনারটিকে ইউনেস্কো কর্তৃক বিপন্ন ঘোষণা করা হয়েছে[৮]
[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Gall, Carlotta. "Afghans consider rebuilding Bamiyan Buddhas". International Herald Tribune. Asia - Pacific. Sunday, November 5, 2006. সংগৃহীত ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪।
  2. "Untersuchung von Zustand und Stabilität der Felsnischen der Buddha-Statuen von Bamiyan. Der Bundeswehr Universität München. সংগৃহীত ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪"। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১৫ 
  3. Kashyap, J.. "Origin and Expansion of Buddhism". The Path of the Buddha: Buddhism Interpreted by Buddhists. Ed. Kenneth W.Morgan. 1956. Delhi: Motilal Banarasidass, 1997. আইএসবিএন ৮১-২০৮-০০৩০-৩
  4. Waduge, Shenali. Afghans destroy Buddhas, but cry foul over cartoons. Letters to the Editor. The Nation. March 14, 2008. সংগৃহীত ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪।
  5. ""শান্তির দূত হয়ে ফিরে আসছে আফগানিস্থানের বামিয়ানের জোড়া বুদ্ধমূর্তি"। ধম্মইনফো। ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২। সংগৃহীত ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৪"। ১৫ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১৫ 
  6. "Cultural Landscape and Archaeological Remains of the Bamiyan Valley"UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১০ 
  7. 27th session 2003, পৃ. 122–123
  8. "Minaret and Archaeological Remains of Jam"UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১০ 
  9. "World Heritage Committee: Twenty-sixth session" (PDF)UNESCO। পৃষ্ঠা 55। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১১