আনোয়ারা খাতুন (শিশু অধিকার কর্মী)
আনোয়ারা খাতুন | |
|---|---|
![]() নারীশক্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আনোয়ারা খাতুন | |
| জন্ম | আনুমানিক ১৯৯৬ (বয়স ২৯–৩০) |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| পেশা | ছাত্র |
| পরিচিতির কারণ | শিশু পাচার, শিশুশ্রম এবং বাল্যবিবাহ থেকে শিশুদের রক্ষা করা |
আনোয়ারা খাতুন (জন্ম আনু. ১৯৯৬) একজন ভারতীয় শিশু অধিকার কর্মী। ২০১৭ সালে, ২১ বছর বয়সে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে শিশু পাচার এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবদানের জন্য তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক মহিলাদের পুরস্কার, নারী শক্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
জীবন
[সম্পাদনা]আনোয়ারা খাতুন ১৯৯৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালির ছোট আসগড়া গ্রামে এক দারিদ্র্যসীমার নীচের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[১][২][৩] অল্প বয়সেই তিনি তাঁর বাবাকে হারান এবং বারো বছর বয়সে তাঁকে নতুন দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।[১][২] কয়েক মাস গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার পর, তিনি পালিয়ে তাঁর গ্রামে ফিরে আসেন এবং সেখানে শিশুদের অবস্থা ভয়াবহ দেখতে পান।[১][৪] শিশুদের জোর করে শ্রমে নিযুক্ত করা হচ্ছিল, এবং কিছুকে শহরে এবং সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল,[৩] আবার কিছুজনকে বাল্যবিবাহে বাধ্য করা হচ্ছিল। তাঁর চারপাশের পরিস্থিতি পরিবর্তনের অভিপ্রায়ে, তিনি 'ধাগাগিয়া সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি'[৩] এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সংস্পর্শে আসেন, সেখানে তিনি শিশু অধিকারের ধারণাটি শিখেছিলেন। আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছোনোর জন্য, তিনি শিশু অধিকারের ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী গোষ্ঠী গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আনোয়ারা ১৮০ জন পাচার হওয়া শিশুকে তাদের পরিবারের সাথে পুনর্মিলিত করতে সাহায্য করেছেন, প্রায় তিন ডজন বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন, ৮৫ জন শিশুকে শিশুশ্রম থেকে উদ্ধার করেছেন এবং ৪০০ জন শিশুকে স্কুলে ফিরিয়ে এনেছেন।[১][৫]

২০১১ সালে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সংবর্ধনা জানান। ২০১২ সালে, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত তিনজনের মধ্যে একজন ছিলেন আনোয়ারা।[১] ২০১৭ সালের ৮ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে শিশু পাচার এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবদানের জন্য, আনোয়ারা খাতুনকে ২০১৬ সালের ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক নারী পুরস্কার, নারী শক্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।[৫][৬] আনোয়ারা খাতুনকে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকারের একজন প্রবক্তা হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।[১][৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 "Anoyara Khatun: The Child Crusader Against Exploitation of Children"। Save the Children India (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৭ জুলাই ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২০।
- 1 2 Bhattacharya, Ravik (১০ মার্চ ২০১৭)। "'Nari Shakti Puraskar' winner from Bengal waiting for over a year to get a house under Pradhan Mantri Awas Yojana"। Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২০।
- 1 2 3 Singh, G. (১ জুন ২০১৭)। "A child rights crusader"। ROTARY NEWS (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২০।
- ↑ Bhalla, Nita (৮ মার্চ ২০১৭)। "India honors former child maid who saved hundreds of others"। Thomson Reuters Foundation। ৮ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২০।
- 1 2 "Indian government confers Child Champion Anoyara Khatun with 'Nari- Shakti Puraskar'"। Save the Children India (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ মার্চ ২০১৭। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২০।
- ↑ Chatterjee, Chandreyee (১১ মার্চ ২০১৭)। "Girl champ & her fans"। Telegraph India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২০।
- ↑ "Young Indian displays girl power, fighting against trafficking"। UN News (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২০।
