আধুনিক সাহিত্যের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আধুনিক সাহিত্যের ইতিহাস আলোকিত যুগে ইউরোপে শুরু হয়। রেনেসাঁস সাহিত্যপ্রারম্ভিক আধুনিক সাহিত্যের পর অষ্টাদশ শতাব্দীতে বারোক যুগে সমাপ্তির মধ্য দিয়ে এই যুগের যাত্রা শুরু হয়।

ইউরোপের বাইরে আধুনিক যুগ আরও পরে শুরু হয়, যেমন উসমানীয় তুরস্কে তানজিমাত সংস্কারের (১৮২০-এর দশকে) মধ্য দিয়ে, কাজার ইরানে নাসের আল-দিন শাহের (১৮৩০-এর দশকে) অধীনে, ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ও ব্রিটিশ রাজ স্থাপনকালে (১৮৫০-এর দশকে), জাপানে মেইজি পুনর্জাগরণের (১৮৬০-এর দশকে) মধ্য দিয়ে এবং চীনে নব সংস্কৃতি আন্দোলনের (১৯১০-এর দশকে) মধ্য দিয়ে।

১৮শ শতাব্দী[সম্পাদনা]

অষ্টাদশ শতাব্দীতে বারোক যুগ সমাপ্ত হলে ইমানুয়েল কান্ট, ভলতেয়ার, জঁ-জাক রুসোগটহল্ট এফ্রাইম লেসিং-দের মত লেখকদের হাত ধরে আলোকিত যুগ শুরু হয়। ইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রভাব অন্যান্য মহাদেশেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই সময়ে জাপানের এদো যুগে উয়েদা আকিনারি ও সান্তো কিয়োদেনের মত উল্লেখযোগ্য লেখকগণ সাহিত্য রচনা শুরু করেন। এই শতাব্দীর শেষভাগে উইলিয়াম হিল ব্রাউনের দ্য পাওয়ার অব সিম্প্যাথি রচনার মধ্য দিয়ে প্রারম্ভিক মার্কিন সাহিত্য আবির্ভুত হতে থাকে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে জার্মানিতে রোমান্টিকতা এবং গ্যোটেফ্রিডরিখ শিলারদের মত লেখকদের হাত ধরে স্টুর্ম উন্ট ড্রাং আন্দোলন শুরু হয়।[১]

১৯শ শতাব্দী[সম্পাদনা]

লোকসাহিত্যের ঐতিহ্য ও প্রাচীন কিংবদন্তির সাথে প্রণয়মূলক ধারার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৮০২ সালে স্যার ওয়াল্টার স্কটের মিনস্ট্রেলসি অব দ্য স্কটিশ বর্ডার প্রকাশিত হয়। অ্যামেলিয়া অপিও ১৯শ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রণয়মূলক কাব্য প্রকাশ করতে থাকেন এবং তিনি যুদ্ধ-বিরোধী সক্রিয়কর্মী ছিলেন। অ্যান ব্যানারম্যান (১৭৬৫-১৯২৯) কিং আর্থারমারলিন-এর মত কিংবদন্তি নিয়ে পুনরায় কাজ করেন। উইলিয়াম ব্লেক তার ভাবধারা ও রহস্যময় বিষয়গুলো প্রকাশের জন্য শব্দ ও চিত্র নিয়ে কাজ করেন। ১৮০৭ সালে টমাস মুরের আইরিশ মেলডিজ প্রকাশিত হয়। এই যুগে লর্ড বায়রন অনেকগুলো কবিতা প্রকাশ করেন, পরবর্তী কালে যেগুলোর বিপুল প্রভাব দেখা যায়।

১৮০৭ সালে চার্লস ও ম্যারি ল্যাম্ব টেলস ফ্রম শেকসপিয়ার প্রকাশ করেন। এটি শিশু-কিশোর পাঠকদের জন্য ছোট গল্পের আকারে শেকসপিয়ারের নাটকগুলোর পুনঃকথন। এর মধ্য দিয়েই এই যুগে সাহিত্যে শিশুসাহিত্য ধারাটির সূত্রপাত ঘটে। ১৮০৮ সালে গ্যোটে ফাউস্ট-এর প্রথম খণ্ড প্রকাশ করেন। ১৮০৯ সালে শ্লেগেল অন ড্রামাটিক আর্ট অ্যান্ড লিটারেচার প্রকাশ করেন। ১৮১০ সালে স্যার ওয়াল্টার স্কট লেডি অব দ্য লেক প্রকাশ করেন। অপরদিকে, পার্সি বিশি শেলি জাস্ট্রোরাজ্জি নামে একটি গথিক উপন্যাস প্রকাশ করেন, যার মধ্য দিয়ে গথিক ধারাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৮১১ সালে তিনি সেন্ট আরভিন নামে আরেকটি গথিক উপন্যাস প্রকাশ করেন।

১৮১১ সালে জেন অস্টেন অজ্ঞাতনামে সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি উপন্যাস রচনা করেন। তিনি প্রণয়মূলক ধারার এই যুগে ব্যতিক্রমী ছিলেন। ১৮১২ সালে জর্জ ক্রেব টেলস ইন ভার্স, বায়রন চাইল্ড হ্যারল্ড্‌স পিলগ্রিমেজ ক্যান্টস ১ ও ২, এবং স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ রিমোর্স প্রকাশ করেন। ১৮১৩ সালে জেন অস্টেন পুনরায় অজ্ঞাতনামে প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস প্রকাশ করেন। বায়রন দ্য গিওরদ্য ব্রাইড অব অ্যাবিডস প্রকাশ করেন। ২৩শে জানুয়ারি কোলরিজের রিমোর্স দিয়ে ড্রুরি লেন পুনরায় চালু হয়। মে মাসে শেলি তার কুইন ম্যাব কবিতা প্রকাশ করেন। সেপ্টেম্বর মাসে স্যার ওয়াল্টার স্কট পোয়েট লরেট খেতাব প্রত্যাখ্যান করেন, অপরদিকে রবার্ট সাউদি এই খেতাব গ্রহণ করেন।[২]

২০শ শতাব্দী[সম্পাদনা]

ইংরেজি ভাষায় আধুনিকতাবাদী কাব্যকে মার্কিন উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এজরা পাউন্ড, টি. এস. এলিয়ট, ম্যারিঅ্যান মুর, উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, এইচ. ডি.লুইস জুকোফ্‌স্কি। মার্কিনদের পাশাপাশি ডেভিড জোন্স, হিউ ম্যাকডিয়ারমিড, মিনা লয়, ও ব্যাসিল বান্টিং-দের মত বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ আধুনিকতাবাদী কবিও এই আন্দোলনে সামিল ছিলেন।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ফ্রান্‌ৎস কাফকাজেমস জয়েসদের মত লেখকগণ তাদের চরিত্র, অবস্থান ও বর্ণনার ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সাহিত্যের এইসব নিরীক্ষাধর্মী কাজ সে সময়ে সংগঠিত আধুনিকতাবাদী চিত্রকলা ও ভাস্কর্যের সাথে মিলে যায়, যা পাঠকদের বিশ্ব সম্পর্কিত পূর্বধারণাগুলোকে পুনর্নিরীক্ষণ করতে আহ্বান জানায়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. রয়, পাসকেল (এপ্রিল ১৯৫২)। "The Modern Language Review"। দ্য মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ রিভিউ৪৭: ১২৯–১৫১। 
  2. "Scott the Poet"walterscott.lib.ed.ac.uk। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]