আদিলা খাতুন মসজিদ
| আদিলা খাতুন মসজিদ | |
|---|---|
جامع عادلة خاتون | |
২০১৮ সালে মসজিদটি | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | সুন্নি ইসলাম |
| যাজকীয় বা সাংগঠনিক অবস্থা | মসজিদ |
| অবস্থা | সচল |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | আল-রুসাফা, বাগদাদ, বাগদাদ গভর্নরেট |
| দেশ | ইরাক |
বাগদাদ-এ মসজিদের অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক | ৩৩°২১′৭″ উত্তর ৪৪°২২′৪৫″ পূর্ব / ৩৩.৩৫১৯৪° উত্তর ৪৪.৩৭৯১৭° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | মসজিদ স্থাপত্য |
| স্থাপত্য শৈলী | উসমানীয় |
| সাধারণ ঠিকাদার | আদিলা খাতুন |
| সম্পূর্ণ হয় |
|
| বিনির্দেশ | |
| ধারণক্ষমতা | ৫০০ জন মুসল্লি |
| গম্বুজসমূহ | ১টি |
| মিনার | ১টি |
| উপাদানসমূহ | ইট |
আদিলা খাতুন মসজিদ (আরবি: جامع عادلة خاتون) হলো ইরাকের বাগদাদ গভর্নরেটের বাগদাদ শহরের আল-রুসাফা জেলায় অবস্থিত একটি সুন্নি মসজিদ।[১][২] এটি মূলত ইরাকের মামলুক শাসনকর্তা বাগদাদের আহমদ পাশার কন্যা এবং সুলাইমান আবু লায়লার স্ত্রী আদিলা খাতুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং নির্মিত হয়েছিল।[১][৩] এটি বাগদাদের আল-রুসাফা জেলায় আল-আইওয়াদিয়া পাড়ায় (বর্তমানে ডাক্তারদের কোয়ার্টার) আল-সারাফিয়া সেতুর ঠিক কাছে অবস্থিত।[৪]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ইরাকের মামলুক রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আদিলা খাতুন ছিলেন আহমদ পাশার কন্যা এবং হাসান পাশার (মামলুক) নাতনী। তিনি সুলাইমান আবু লায়লার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন এবং তার জনহিতকর প্রকল্প ও ভালো কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে আল-আদিলিয়া মসজিদ এবং তার নামে নামাঙ্কিত এই মসজিদটির নির্মাণ।[১][৩] মসজিদটির নাম ছিল "আদিলা খাতুনের জামে মসজিদ" এবং এটি মূলত আল-মামুন সড়কে সুক আল-সাফাফিরের প্রবেশপথের কাছে অবস্থিত ছিল, যা বর্তমানে বাগদাদি জাদুঘর ভবনের বিপরীতে।[৫]
১৯৬২ সালে, আবদ আল-করিম কাসিমের সরকার রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য পুরনো মসজিদটি ভেঙে ফেলে। এটি ভেঙে ফেলার পর একই বছরে আল-সারাফিয়া এলাকায় মসজিদটি পুনরায় নির্মাণ করা হয় এবং এর আগের নামই বহাল রাখা হয়।[৫]
ইরাক যুদ্ধ চলাকালীন, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের কারণে মসজিদটি ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের শিকার হয়েছিল এবং ২০০৬ সালে একদল সশস্ত্র লোক কর্তৃক আল-আসকারি মাজারে বোমা হামলার পর সাম্প্রদায়িক মিলিশিয়াদের হাতে মসজিদের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, পরে ২০০৭ সালে সুন্নি এনডাউমেন্ট অফিস এটি পুনরায় চালু করে। বর্তমানে মসজিদে জুমার নামাজ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং মসজিদটি ইরাকের সুন্নি এনডাউমেন্ট অফিস দ্বারা পরিচালিত হয়।
স্থাপত্য
[সম্পাদনা]মসজিদটিতে একটি বিশাল মুসল্লা (নামাজ কক্ষ) রয়েছে যেখানে ৫০০-এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এটি হলুদ রঙের ইট এবং নীল রঙের কাশানি ইট দিয়ে নির্মিত। দরজার ওপরে লেখা আছে "সাইয়্যিদা আদিলা বিনতে আহমদ পাশার মসজিদ, যা ১৩৮২ হিজরি/১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে জেনারেল এনডাউমেন্টস ডিরেক্টরেট দ্বারা সংস্কার করা হয়েছে"। উত্তর-পূর্ব দিকে আরও একটি ছোট দরজা আছে। এর ওপর কাশানি ইটে লেখা আছে "আদিলা খাতুন মসজিদ ১৩৮২ হিজরি/১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ।"[৫][৬] নামাজের মুসল্লাটি আয়তাকার, যার প্রস্থ ১১ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১৮ মিটার, যা জানালা দিয়ে ঘেরা। নামাজের জায়গার মেঝেতে ইরাকি কার্পেট বিছানো রয়েছে এবং মুসল্লার মাঝখানে চারটি কংক্রিটের খিলানযুক্ত স্তম্ভ রয়েছে যার ওপরে মসজিদের মুসল্লার নীল গম্বুজটি অবস্থিত।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 العمري ،الشيخ, ياسين (১ জানুয়ারি ২০১৩)। تاريخ محاسن بغداد وهو (تهذيب غاية المرام) (আরবি ভাষায়)। Dar Al Kotob Al Ilmiyah دار الكتب العلمية। আইএসবিএন ৯৭৮-২-৭৪৫১-৭৭৯৭-১।
- ↑ "Adila Khatun Mosque - Mutasim Malik Awad al-Khazraji - Historical and Archaeological Study"। Journal of Historical and Cultural Studies। ১১ (45): ১৩২–১৫৬।
- 1 2 Raʼūf, ʻImād ʻAbd al-Salām (১৯৯৭)। عادلة خاتون: صفحة من تاريخ العراق (আরবি ভাষায়)। مطبعة الكتاب،।
- ↑ سرمد حاتম شكر (১২ এপ্রিল ২০২৩)। تاريخ مساجد بغداد الحديثة - يونس الشيخ ابراهيم السامرائي (আরবি ভাষায়)।
- 1 2 3 "Who was Adila Khatun?"। almadapaper.net। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০২৩।
- ↑ مساجد (১৯২৭)। تاريخ مساجد بغداد وآثارها (আরবি ভাষায়)।