আদিবাসী ভূমি অধিকার
আদিবাসী ভূমি অধিকার বলতে ভূমি ও তৎসংলগ্ন প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারকে বোঝায় যা ব্যক্তিগত বা সামষ্টিকভাবে থাকতে পারে, বিশেষত ঔপনিবেশিক দেশগুলোতে। ভূমি ও সম্পদ-সম্পর্কিত অধিকার আদিবাসীদের কাছে নানাবিধ কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে রয়েছে ভূমির ধর্মীয় তাৎপর্য, স্বনিয়ন্ত্রণ, পরিচয় এবং অর্থনৈতিক উপাদান।[১] ভূমি একটি প্রধান অর্থনৈতিক সম্পদ এবং কিছু আদিবাসী সমাজে ভূমি ও সাগরের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার তাদের গৃহস্থালি অর্থনীতির ভিত্তি গঠন করে বা করতে পারে। ফলে মালিকানার দাবি মূলত এসব সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজন থেকেই উদ্ভূত হয়। ভূমি উত্তরাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে অথবা সামাজিক মর্যাদার প্রতীকও হতে পারে। অনেক আদিবাসী সমাজে যেমন অ্যাবরিজিনাল অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে ভূমি তাদের আধ্যাত্মিকতা ও বিশ্বাস ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ।
আদিবাসী ভূমি দাবি বিভিন্ন মাত্রার সফলতার সঙ্গে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপনিবেশ স্থাপন শুরুর পর থেকেই বিবেচনা করা হয়েছে। এসব দাবি আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি, কমন ল অথবা দেশীয় সংবিধান ও বিধির নীতির ওপর ভিত্তি করে হতে পারে। আদিবাসী শিরোনাম (যা আদিবাসী শিরোনাম, নেটিভ শিরোনাম এবং অন্যান্য নামে পরিচিত) হলো কমন লয়ের একটি নীতি যা অনুসারে উপনিবেশিক শাসন শুরু হওয়ার পরও প্রচলিত দখলের ভিত্তিতে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার বহাল থাকে। আদিবাসী জনগণের অধিকারের বিষয়ে জাতিসংঘের ঘোষণা যা ২০০৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। আদিবাসীদের কাছে ভূমির গুরুত্বকে চিত্রিত করে এবং আদিবাসীদের ভূমি অধিকারের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। আইনগত স্বীকৃতি ও আদিবাসী এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক ভূমি অধিকারের সুরক্ষা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ভূমি এবং প্রথাগতভাবে ধারণ ও পরিচালিত ভূমির মধ্যে ব্যবধান উন্নয়নের অভাব, সংঘাত এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।[২]
আন্তর্জাতিক আইন
[সম্পাদনা]আন্তর্জাতিক আইনে আদিবাসী ভূমি অধিকারের জন্য মৌলিক দলিলগুলির মধ্যে রয়েছে আদিবাসী ও উপজাতীয় জনগোষ্ঠী সম্পর্কিত কনভেনশন, ১৯৮৯ ("আইএলও ১৬৯"), আদিবাসী জনগণের অধিকারের বিষয়ে জাতিসংঘের ঘোষণা, সমস্ত প্রকার বর্ণবৈষম্য বিলোপ সম্পর্কিত কনভেনশন, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি, আমেরিকান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস, এবং আমেরিকান আদিবাসী জনগণের অধিকারের ঘোষণা।
চীন
[সম্পাদনা]আরব অঞ্চল
[সম্পাদনা]কমন ল
[সম্পাদনা]অ্যাবরিজিনাল টাইটেল যা অস্ট্রেলিয়ায় নেটিভ টাইটেল, নিউজিল্যান্ডে কাস্টমারি টাইটেল, যুক্তরাষ্ট্রে অরিজিনাল ইন্ডিয়ান টাইটেল নামেও পরিচিত, হলো কমন লয়ের সেই মতবাদ যা বলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রথাগত মালিকানার অধিকার সার্বভৌমত্ব গ্রহণের পরও বহাল থাকে। অনেক বিচারব্যবস্থায় আদিবাসীদের ক্রাউন ল্যান্ড-এও কিছু অধিকার থাকতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া
[সম্পাদনা]আদিবাসী ভূমি অধিকারকে ঐতিহাসিকভাবে তেরা নালিয়াস-এর মতো নানা মতবাদ দ্বারা খর্ব করা হয়েছে।[৩] এটি একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ “কারও নয় এমন ভূমি”।[৪] ১৯৭১ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেরিয়াম জনগোষ্ঠীর একটি দল তাদের টরেস প্রণালীর মের দ্বীপের মালিকানা দাবিতে মামলা করে।[৫] তারা দাবি করে যে তাদের ভূমি স্বাভাবিকভাবেই এবং একচেটিয়াভাবে মেরিয়াম জনগোষ্ঠীর মালিকানাধীন, যেখানে তারা ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলি পরিচালনা করেছে।[৬] বহু বছরের আইনি প্রক্রিয়ার পর এবং বাদীদের একজন (এডি মাবো)-এর মৃত্যুর পরে, উচ্চ আদালত রায় দেয় যে নেটিভ টাইটেল বিদ্যমান এবং টেরা নালিয়াস মতবাদ অস্বীকারযোগ্য।[৬]
কানাডা
[সম্পাদনা]কানাডার সংবিধান তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠী এতে নিজেদের অধিকার সংযোজনের জন্য প্রচারণা চালাতে পেরেছে।[৭] ফার্স্ট নেশন নেতা জর্জ ম্যানুয়েলের 'কনস্টিটিউশন এক্সপ্রেস' ধারণা অ্যাবরিজিনাল অধিকার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কানাডীয় সরকার এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৬৯ সালে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে যা অনেক আদিবাসী নেতাকে অসন্তুষ্ট করে। এর জবাবে ১৯৭০ সালে 'রেড পেপার' (সিটিজেন প্লাস) প্রকাশিত হয় যেখানে ভূমি অধিকার একটি বড় অংশ দখল করে। এই সময়ে জাতীয় ইন্ডিয়ান আন্দোলন আকার পায় এবং ন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ব্রাদারহুডের মাধ্যমে স্বশাসন, ভূমি টাইটেল ও চুক্তি বিষয়ক ন্যায্য সমাধানের দাবি ওঠে। কানাডায় অ্যাবরিজিনাল টাইটেলের প্রধান মামলা হলো ডেলগামুক বনাম ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (১৯৯৭), যা মৌখিক সাক্ষ্যের বৈধতা স্বীকৃতি দেয়। প্রথমবার টাইটেল ঘোষণা করা হয় সিলকোটিন নেশন বনাম ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (২০১৪) মামলায়।[৮]
জাপান
[সম্পাদনা]২০১৯ সালে আয়নু জনগোষ্ঠীকে জাপানের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর, তারা প্রয়োজন হলে বিশেষ ভূমি অধিকারের জন্য আবেদন করতে পারে। আয়নু প্রোমোশন অ্যাক্ট ২০১৯-এ বিশেষভাবে 'জাতীয় উদ্যান, নদী এবং ট্রেডমার্ক'-এর উপর অধিকার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।[৯]
লাতিন আমেরিকা
[সম্পাদনা]কিছু লাতিন আমেরিকার দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক হওয়ার ফলে সংখ্যালঘুদের মতামত শোনা ও গ্রহণ করার প্রক্রিয়া বেড়েছে, তবে আদিবাসীরা এখনও অনেক দেশে সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়ে গেছে। ১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) “আইএলও কনভেনশন ১০৭” গৃহীত করে, যা স্বাধীন দেশগুলিতে আদিবাসীদের সুরক্ষা ও সংহতকরণে আইন প্রণয়ন করে। ১৯৮৯ সালে এটি হালনাগাদ হয়ে কনভেনশন ১৬৯ হয়, যেখানে ভূমি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্বীকৃত হয়। যদিও ১৫টি লাতিন আমেরিকান ও ক্যারিবীয় দেশ এটি অনুমোদন করেছে, বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে গুয়াতেমালায় এসকোবাল খনি আন্দোলন, ইকুয়েডরে ইয়াসুনি তেল সংরক্ষণ এবং সারামাকা বনাম সুরিনামসহ বিভিন্ন সংঘাত ঘটেছে।[১০]
নিউজিল্যান্ড
[সম্পাদনা]ব্রিটিশ ক্রাউন ও বিভিন্ন মাওরি প্রধানদের মধ্যে ১৮৪০ সালের ওয়াইতাঙ্গি চুক্তিতে আদিবাসী ভূমি অধিকার স্বীকৃত হয়। তবে চুক্তির ভিন্ন অনুবাদে ক্ষমতা বণ্টনে পার্থক্য দেখা দেয়।[১১] মাওরি ভাষার পাঠ অনুযায়ী, তারা ভূমি ও বন নিজেদের ইচ্ছামতো ধরে রাখতে পারবে।[১২] তবে ক্রাউন একাধিকবার চুক্তি ভঙ্গ করে, বিশেষ করে নেটিভ ল্যান্ড কোর্ট প্রতিষ্ঠা করে, যা ভূমিকে ক্রাউন-মঞ্জুর ফ্রীহোল্ডে রূপান্তরের প্রক্রিয়া ছিল—যা সরাসরি চুক্তি লঙ্ঘন। ১৯৭৫ সালে ওয়াইতাঙ্গি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়, যা চুক্তি ভঙ্গ প্রতিরোধের জন্য কাজ করে।
যদিও ঐ চুক্তিটিকে ঐতিহাসিকদের মতে প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়েছে।[১৩] ১৯৭৫ সালে একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পূর্ণতা হিসেবে নিউজিল্যান্ড সরকার ওয়াইটাঙ্গি ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠিত করে।[১৩] এই ট্রাইব্যুনালটি আদালত তত্ত্বাবধানের জন্য একটি কমিশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় যাতে পরবর্তী সময়ে ঐ চুক্তি ভঙ্গের কোনো ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করা যায়।[১৩] ট্রাইব্যুনালের প্রতিষ্ঠা মাওরি জনগণের অধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক। সামাজিক দিক থেকে যেমন তেমনি ভূমি দখল ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও।
যে অভিযোগকে তারা ন্যায়সঙ্গত বলে স্বীকার করেছে, সেটি মীমাংসা করার মাধ্যমে ক্রাউন ও মাওরিরা অতীতের সেই ভাঙন কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে — মাননীয় বিচারপতি ম্যাথিউ পামার (২০১৭)
এছাড়াও, নিউজিল্যান্ডের আদালত সাধারণত স্থানীয় অধিকার-এর অস্তিত্ব মেনে নিয়েছে। আদিবাসী ভূমি অধিকারের বিরোধগুলো মূলত ঘুরপাক খেয়েছে এই প্রশ্নে যে মাওরিরা কীভাবে মালিকানা হারিয়েছিল, বরং তারা আদৌ মালিক ছিল কিনা তা নিয়ে নয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা
[সম্পাদনা]নেটিভস ল্যান্ড অ্যাক্ট ১৯১৩-এর মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিকাংশ জমি শ্বেতাঙ্গদের জন্য সংরক্ষিত হয়, যদিও কৃষ্ণাঙ্গরা জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।[১৪] কৃষ্ণাঙ্গদের শুষ্ক ও অনুৎপাদনশীল সংরক্ষিত এলাকায় সীমাবদ্ধ করা হয়। ১৯৯৪ সালের ভূমি অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা আইন এ পরিস্থিতি আংশিকভাবে সমাধান করে।
যুক্তরাষ্ট্র
[সম্পাদনা]যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাবরিজিনাল টাইটেলের ভিত্তি হলো জনসন বনাম ম্যাকইন্টশ (১৮২৩), যা আবিষ্কার মতবাদ অনুযায়ী নেটিভ আমেরিকানরা জমির মালিক নয়, কেবল দখলাধিকারী।[১৫] চেরোকি নেশন বনাম জর্জিয়া (১৮৩১)-এ তাদের “নির্ভরশীল অভ্যন্তরীণ জাতি” বলা হয়, তবে ওর্সেস্টার বনাম জর্জিয়া (১৮৩২)-এ তাদের সার্বভৌম জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৮৭১ সালে নেটিভদের সঙ্গে নতুন চুক্তি বন্ধ হলেও পুরনো চুক্তি বহাল থাকে। উইন্টারস বনাম যুক্তরাষ্ট্র (১৯০৮)-এ রায় হয় যে সংরক্ষিত অঞ্চলে জলসম্পদের অধিকার নেটিভদের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
দেওয়ানি আইন
[সম্পাদনা]ব্রাজিল
[সম্পাদনা]ব্রাজিলে আদিবাসী ভূমি-অধিকার অতীতে এবং বর্তমানে আদিবাসী ব্রাজিলিয়ানদের জন্য একটি চলমান সংগ্রাম; তাদেরকে কোনো অধিকারবিহীন একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়েছে এবং বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। ঔপনিবেশিক যুগ থেকে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য চলে আসছে। ১৯১০ সালে আদিবাসীদের ওপর ব্যাপক সহিংসতার কারণে ‘ইন্ডিয়ান প্রোটেকশন সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; তবে এই নীতি অকার্যকর ও দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল এবং ১৯৬৭ সালে এটি ‘ন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশন’-এ রূপান্তরিত হয়। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসীদের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা, যা কার্যত তাদের জমি কেড়ে নিয়ে সরকারকে তার প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে লাভবান হতে দেয়। ১৯৮৩ সালে আরও ভূমি-সীমারেখা নির্ধারণ আইন কার্যকর করা হয়। এই আইনগুলো শ্বেতাঙ্গ উপনিবেশকারীদের আদিবাসী জমি দখল থেকে বিরত রাখত এবং আদিবাসী জমির সীমানা নির্দিষ্ট করত। তবে অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোকেও সীমানা নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়, যা খনিশিল্পের প্রভাবাধীন ছিল। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৪% জমির সীমারেখা নির্ধারণ হয় এবং বিপুল পরিমাণ জমি খনির কোম্পানির দখলে চলে যায়।[১৬]
১৯৮৮ সালে ব্রাজিল নতুন সংবিধান গ্রহণ করে। এতে বলা হয়েছিল যে আদিবাসী ভূমি ও সংস্কৃতি সুরক্ষিত থাকবে। এই আইন আদিবাসীদের তাদের ভূখণ্ডে নিরাপদে বসবাসের অধিকার দেয়, যাতে তাদের জমি বা সম্পদ কেড়ে নেওয়ার ভয় না থাকে। তবে এটি প্রত্যাশামতো সফল হয়নি, কারণ ব্রাজিল সরকার ১৯৯৩ সালের মধ্যে সব আদিবাসী ভূখণ্ডের সীমারেখা নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পাঁচ বছরে মাত্র ৫০% ভূখণ্ড নির্ধারণ সম্পন্ন হয়।[১৭]
২০১৭ সালেও ব্রাজিলের আদিবাসীদের ভূমি-অধিকার সুরক্ষায় খুব কম অগ্রগতি হয়েছিল। সে বছরের প্রেসিডেন্ট আদিবাসী ভূমির জন্য একটি শেষ সময়সীমা ঘোষণা করেন। এই আইনে বলা হয়, ১৯৮৮ সালের আগে যদি আদিবাসীরা তাদের ভূখণ্ডে না থাকত, তবে তা আর তাদের সীমারেখায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই কারণে ২৭টি আদিবাসী ভূখণ্ডের সীমারেখা নির্ধারণ স্থগিত করা হয়, যদিও এর অনেকগুলোর ক্ষেত্রে ১৯৮৮ সালের আগে দাবি করা সম্ভব হয়নি সরকারের বাধার কারণে বা পূর্ববর্তী বসতির প্রমাণ দিতে না পারার জন্য।[১৮] ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ১৯১/২০২০ নম্বর বিল প্রস্তাব করেন, যা আদিবাসী ভূখণ্ডে খনি খনন ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেবে।[১৯] এই বিল আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি তাদের ভূমি ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।[২০]
মেক্সিকো
[সম্পাদনা]মেক্সিকান বিপ্লব-পরবর্তী বছরগুলোতে (১৯১০ সালের পর) কৃষি সংস্কার (১৯১৭–১৯৩৪) চালু হয় এবং মেক্সিকান সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ২৭-এ এনকোমিয়েন্ডা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়, এবং ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়ের জন্য সমষ্টিগত জমি-র অধিকার স্বীকৃত হয়। এর ফলে এহিদো ব্যবস্থা চালু হয়, যা বাস্তবে বিদেশি কর্পোরেশন ও অনুপস্থিত জমিদারদের বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষমতা সীমিত করার কথা এবং আদিবাসী জনগণকে বসবাস ও চাষাবাদের জন্য জমি প্রদানের কথা বলে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশক থেকে মেক্সিকোর অর্থনৈতিক নীতি শিল্পোন্নয়ন ও বিদেশি পুঁজি আকর্ষণের দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। সালিনাস সরকার ভূমি বেসরকারীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করে। ১৯৯২ সালে উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সাথে যোগদানের পূর্বশর্ত হিসেবে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ ও অনুচ্ছেদ ২৭ সংশোধন করা হয়, যার মাধ্যমে বরাদ্দ বা অন্যান্য উপায়ে সমষ্টিগত এহিদো জমি বেসরকারীকরণ সম্ভব হয়। এর ফলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মূল ভূমি-নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Bouma; এবং অন্যান্য (২০১০)। Religious Diversity in Southeast Asia and the Pacific: National Case Studies। Springer।
- ↑ "Indigenous & Community Land Rights"। Land Portal। Land Portal Foundation। ২৬ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৭।
- ↑ Gilbert, Jérémie. (২০০৬)। Indigenous peoples' land rights under international law: from victims to actors। Ardsley, NY: Transnational Publishers। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-৪৭৪-৩১৩০-৫। ওসিএলসি 719377481।
- ↑ "Mabo and Native Title The end of Terra Nullius, the beginning of Native Title."। Australians together।
- ↑ "Eddie Koiki Mabo"। aiatsis। ১৫ আগস্ট ২০২২।
- 1 2 "THE MABO CASE AND THE NATIVE TITLE ACT"। নং Australian bureau of statistics। Australian bureau of statistics। ১৯৯৫।
- ↑ Aboriginal and Treaty Rights in Canada's Constitution (ইংরেজি ভাষায়), সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২৩
- ↑ The historic Delgamuukw land claims case: 25 years later (ইংরেজি ভাষায়), সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২৩
- ↑ "Japan: New Ainu Law Becomes Effective"। Library of Congress।
- ↑ Bull, Benedicte; Aguilar-Stoen, Mariel, সম্পাদকগণ (১৩ নভেম্বর ২০১৪)। Environmental politics in Latin America: elite dynamics, the left tide and sustainable development। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৭-৬৫৩৭৯-০। ওসিএলসি 1100656471।
- ↑ Hill, Richard S. (১ অক্টোবর ২০১১)। "The Treaty of Waitangi Companion: Maori and Pakeha from Tasman to Today"। Ethnohistory। ৫৮ (4): ৭৪১–৭৪৩। ডিওআই:10.1215/00141801-1333760।
- ↑ Harris, Aroha (২১ জুন ২০১৭)। "Reconciliation, Representation and Indigeneity: 'Biculturalism' in Aotearoa New Zealand"। The Journal of New Zealand Studies (24)। ডিওআই:10.26686/jnzs.v0i24.4060।
- 1 2 3 E oho! A short history of the Waitangi Tribunal — Where to from here? (ইংরেজি ভাষায়), সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৩
- ↑ Beinart, William; Delius, Peter (৪ জুলাই ২০১৪)। "The Historical Context and Legacy of the Natives Land Act of 1913"। Journal of Southern African Studies। ৪০ (4): ৬৬৭–৬৮৮।
- ↑ Gallo, Marcus (১ এপ্রিল ২০১৫)। "Buying America from the Indians: Johnson v. McIntosh and the History of Native Land Rights"।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Carvalho, Georgia O. (২০০০)। "The Politics of Indigenous Land Rights in Brazil"। Bulletin of Latin American Research। ১৯ (4): ৪৬১–৪৭৮। আইএসএসএন 0261-3050। জেস্টোর 3339531।
- ↑ "Indigenous Rights in Brazil"। saiic.nativeweb.org। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২২।
- ↑ "Brazil: Reject Anti-Indigenous Rights Bill"। Human Rights Watch (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ আগস্ট ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২২।
- ↑ "Brazil Congress fast-tracks 'death package' bill to mine on Indigenous lands"। Mongabay Environmental News (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২২।
- ↑ "Bolsonaro Threatens the Indigenous Right to Be | Amazon Watch" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২২।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Richardson, Benjamin J., Shin Imai & Kent McNeil. 2009. Indigenous peoples and the law: comparative and critical perspectives.
- Robertson, L.G., (2005), Conquest by Law: How the Discovery of America Dispossessed Indigenous Peoples of Their Lands, Oxford University Press, New York আইএসবিএন ০-১৯-৫১৪৮৬৯-X
- Snow, Alpheus Henry. 1919. The Question of Aborigines in the Law and Practice of Nations.