বিষয়বস্তুতে চলুন

আদিবাসী ভাষার জীবন্ত সংরক্ষণাগার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লিভিং আর্কাইভ অব অ্যাবরিজিনাল ল্যাঙ্গুয়েজেস-এ অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর অবস্থান এবং আদিবাসী ভাষার উপকরণ প্রকাশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রগুলো

আদিবাসী ভাষার জীবন্ত সংরক্ষণাগার হলো একটি ডিজিটাল আর্কাইভ বা অনলাইন সংগ্রহশালা, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার বিলুপ্তপ্রায় ভাষাসমূহের সাহিত্য সংরক্ষিত আছে। এখানে নর্দান টেরিটরি অঞ্চলের চল্লিশটিরও বেশি অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী ভাষাতে রচিত সাহিত্যকর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল এই আর্কাইভ তৈরির জন্য প্রথম অর্থায়ন করে। প্রকল্পটি মূলত চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেখে পরিচালিত হয় এবং এতে অংশীদার হয় নর্দান টেরিটরি সরকারঅস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। পরবর্তীতে ব্যাচেলর ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিজেনাস টারশিয়ারি এডুকেশন, নর্দান টেরিটরি লাইব্রেরি এবং নর্দান টেরিটরি ক্যাথলিক এডুকেশন অফিসও অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়।

বিবরণ

[সম্পাদনা]

আদিবাসী ভাষার জীবন্ত সংরক্ষণাগার হলো নর্দান টেরিটরি অঞ্চলের ভাষাসমূহে রচিত সাহিত্যের একটি অনলাইন আর্কাইভ।[]

উন্নয়ন

[সম্পাদনা]

আর্কাইভে সংরক্ষিত অনেক সাহিত্যকর্ম মূলত দ্বিভাষিক শিক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে নর্দান টেরিটরিতে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে ফেডারেল এবং টেরিটরি সরকার দ্বিভাষিক শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ায় এসব উপকরণ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।[][]

এই আর্কাইভ গঠনের জন্য প্রকল্পটি ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল থেকে প্রাথমিক অর্থায়ন পেত। এতে চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রধান প্রতিষ্ঠান করে নর্দান টেরিটরি সরকার এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সহযোগিতা করে।[] আর্কাইভ তৈরির প্রথম ধাপে যত বেশি সম্ভব বই (প্রায় ৪,০০০টি) সংগ্রহ, সেগুলোর তালিকাভুক্তকরণ ও ডিজিটাইজ করা হয়। পরে মূল লেখকদের অনুমতি নিয়ে এই উপকরণগুলো অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।[]

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ কাউন্সিল থেকে দ্বিতীয় দফা অর্থায়ন পাওয়ার পর আর্কাইভ উন্নয়নের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়। এই পর্যায়ে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় নর্দান টেরিটরির ভাষায় আদিবাসী লেখকদের রচিত উপকরণগুলোর আরও গভীরভাবে "সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ" বা অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে। একইসঙ্গে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্য, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এই সংগ্রহের ব্যবহার ও সমৃদ্ধকরণে জোর দেওয়া হয়।[] এই ধাপে নতুনভাবে অংশীদার হয় ব্যাচেলর ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিজেনাস টারশিয়ারি এডুকেশন, নর্দান টেরিটরি লাইব্রেরি এবং নর্দান টেরিটরি ক্যাথলিক এডুকেশন অফিস।[]

আর্কাইভ এখনও প্রাসঙ্গিক উপকরণের জন্য সম্প্রদায়ের সদস্য এবং গবেষকদেরকে, তবে শর্ত থাকে যে এসব উপকরণ ব্যবহারের জন্য যথাযথ অনুমতি থাকতে হবে।[]

প্রবেশাধিকার

[সম্পাদনা]

লিভিং আর্কাইভের সব উপকরণ অনলাইনে সবার জন্য উন্মুক্ত, এবং এগুলো আদিবাসী ভাষার জীবন্ত সংরক্ষণাগার রিডার অ্যাপ ব্যবহার করেও দেখা যায়।[][] ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীরা একটি মানচিত্রে নির্দিষ্ট স্থানে ক্লিক করে অথবা অবস্থান, ভাষা, লেখক বা বইয়ের তালিকা দেখে উপকরণ খুঁজে পেতে পারেন। এই উপকরণগুলো ক্রিয়েটিভ কমন্স অ্যাট্রিবিউশন-ননকমার্শিয়াল-নোডেরিভস ৩.০ অস্ট্রেলিয়া লাইসেন্সের অধীনে উন্মুক্ত। তবে গল্প ও ছবির স্বত্ব মূল আদিবাসী ভাষার অধিকারী, সৃষ্টিকারী এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের কাছেই থাকে।[]

ব্যবহার

[সম্পাদনা]

আর্কাইভে সংরক্ষিত উপকরণ নানা ধরনের কাজে ব্যবহার করা যায়। সংগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপে বিশেষভাবে সম্প্রদায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের সঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় ব্যবহারের জন্য সংগ্রহগুলোকে উপযোগী করা, যেমন। এছাড়া, সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণে নতুন গল্প বা অডিও-রেকর্ড সংস্করণ যোগ করে সংগ্রহের প্রসার ও মানোন্নয়ন করাও লক্ষ্য। এ ছাড়া, শ্রেণিকক্ষে প্রচলিত জ্ঞান সম্পর্কিত কার্যক্রমে এই উপকরণ ব্যবহারের পথ খোঁজা, এবং শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভাষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

ভাষাসমূহ

[সম্পাদনা]

২০১৫-এর হিসাব অনুযায়ী সাল পর্যন্ত লিভিং আর্কাইভ অব অ্যাবরিজিনাল ল্যাঙ্গুয়েজেস-এ নিম্নলিখিত ভাষায় উপকরণ সংরক্ষিত ছিল:[১০]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Home"Living Archive of Aboriginal Languages। Northern Institute, Charles Darwin University। ২০১৯। ২০ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২০
  2. "Living Archive booklet"Living Archive of Aboriginal Languages। Northern Institute, Charles Darwin University। ২০১৪। ২২ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০১৫
  3. 1 2 3 "Background"Living Archive of Aboriginal Languages। Northern Institute, Charles Darwin University। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০২০
  4. Todd, Courtney (১৭ নভেম্বর ২০১৩)। "Tales to tell"। Sunday Territorian। Darwin, Northern Territory: NT News। পৃ. ১৯।
  5. "Some vital signs for Aboriginal languages"The Conversation। ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৫
  6. "Collections policy"Living Archive of Aboriginal Languages। Northern Institute, Charles Darwin University। ২০১৪। ২ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৫
  7. "LAAL Reader"Google Play। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৫
  8. "LAAL Reader"iTunes। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৫
  9. "Copyright and IP issues"Living Archive of Aboriginal Languages। Northern Institute, Charles Darwin University। ২০১৪। ২ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৫
  10. "Browse by language"Living Archive of Aboriginal Languages। Northern Institute, Charles Darwin University। ২০১৪। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৫