আদম আবদুল্লাহ আল-ইলোরি
আদম আবদুল্লাহ আল-ইলোরি | |
|---|---|
| জন্ম | ১৯১৭ ইলোরিন |
| মৃত্যু | ৩ মে ১৯৯২ লন্ডন |
| পেশা | ইসলামিক পণ্ডিত |
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান | আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়[১] |
আদম আবদুল্লাহ আল-ইলোরি (১৯১৭-১৯৯২) ছিলেন একজন নাইজেরিয়ান ইসলামী পণ্ডিত। তিনি ইলোরিনের আব্দুল বাকি আল-ইলোরির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আব্দুল বাকি আল-ইলোরি আবদুল্লাহর পুত্র ছিলেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
তিনি একজন মালেকি পণ্ডিত এবং আরবি ভাষায় বেশ কয়েকটি বইয়ের লেখক। তিনি কাদিরিয়ায় একজন সুফি সাধক ছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালে নাইজেরিয়ার লাগোসের উপকণ্ঠে এজেজে আরবি ও ইসলামিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে কুরআনের তাফসীরকারীদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসতে থাকে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
তার লেখা
[সম্পাদনা]তার কিছু লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে:
- নাসিম সোবা (মর্নিং ব্রীজ)
- মারকাজ তালিমিল আরবি ওয়াল ইসলামি আরবি ও ইসলামিক শিক্ষা কেন্দ্র
- আলি হিদু আল-আরবাউনা মিন তাআসিসিল-মারকাজ (মারকাজের ৪০ বছর পূর্তি, ১৯৮৫)
- আসলু কোবাইল-ইওরুবা (ইওরুবা উপজাতির উৎপত্তি)
- এল ইসলাম ফি নাইজিরিয়া (নাইজেরিয়ার ইসলাম)
- লামহাদা তুল-বালুরি ফি উলামাই আল-ইলোরি (ইলোরিন শহরের পণ্ডিতদের বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্তসার)
- আতহারুলিলমি ওয়াতাসাউফ ফিল-ইসলাম (ইসলামে বিজ্ঞান ও সুফিবাদের ভূমিকা)
- দাহোরু তাসোউওয়াসোফিয়াত (সুফিবাদের উদ্দেশ্য)
- নিযুমু তাহলিমুল-আরবিয়ে ওয়াহলিস্লামিয় (আরবি ও ইসলামী শিক্ষার পদ্ধতি)
- হুকুকুল-ইনসানি (মানবাধিকার)
- আল ইসলাম দীনু ওয়া দাওলাত (ইসলাম হলো ধর্ম এবং সরকার)
- আল ইসলাম ওয়া তাকুলিদিল- জাহিলিয়াহ (ইসলাম এবং প্রাক-ইসলামিক ঐতিহ্য)
আরবি ও ইসলামি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও স্নাতক অনুষ্ঠান
[সম্পাদনা]অ্যালোরির কেন্দ্রে আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষা দেওয়া হত। উদাহরণস্বরূপ, মারকাজেই দক্ষিণ-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় আরবি ও ইসলামী শিক্ষা শেখানোর জন্য চক এবং ব্ল্যাকবোর্ডের ব্যবহার প্রথম চালু হয়েছিল। তখন শিক্ষাদানের উপকরণ ছিল কাঠের স্লেট এবং স্থানীয় কালি। মারকাজেই প্রথম একটি পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছিল যেখানে পড়াশোনাকে বিষয়গুলিতে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের তাদের স্তর অনুসারে শ্রেণীকক্ষে ভাগ করা হয়েছিল। মারকাজেই আরবি ও ইসলামী শিক্ষার শিক্ষার্থীরা প্রথমে ইউনিফর্ম পরত। শিক্ষার্থীরা খালি মেঝেতে না বসে চেয়ারে বসে খাতায় পেন্সিল বা কলম দিয়ে লিখত। মারকাজেই শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং এক শ্রেণী থেকে অন্য শ্রেণীতে উন্নীত করার জন্য প্রথম লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হত। এখানেই সফল মাদ্রাসা স্নাতক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ সনদপত্র দেওয়া হত। মারকাজেই প্রথম ছাত্রদের জন্য বাসস্থান, লাইব্রেরি, প্রিন্টিং প্রেস এবং ক্লিনিকের মতো সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল।[২]
১৯৫৭ সালে মারকাজের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আদম তার পদ্ধতির একটি যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেন। এই সমাবর্তনের পর কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্থানীয় আলফা (ধর্মীয় শিক্ষক) তাদের জ্ঞান উন্নত করতে এবং আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির প্রশিক্ষণ নিতে মারকাজে ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন।[৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Nigeria honors Muslim thinker Adam el-Ilory"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০১৮।
- ↑ "Sheikh Adam Al Ilory: Centenary celebrations begin April 15"। Vanguard News। ৩০ মার্চ ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৮।
- ↑ "BIOGRAPHY OF SHEIKH MUSTAPHA ZUGLOOL SUNUUSI (1938 – 2017) – Know Islam"। Know Islam – Know Islam, Know Paradise। ২০১৫।