আতেন (শহর)
| অবস্থান | লাক্সর, লাক্সর গভর্নরেট, মিশর |
|---|---|
| অঞ্চল | উচ্চ মিশর |
| স্থানাঙ্ক | ২৫°৪৩′২১″ উত্তর ৩২°৩৬′০৬″ পূর্ব / ২৫.৭২২৫০° উত্তর ৩২.৬০১৬৭° পূর্ব |
| ধরন | জনবসতি |
| যার অংশ | থিবীয় নেক্রোপলিস, থিবস |
| ইতিহাস | |
| প্রতিষ্ঠিত | ১৩৮৬–১৩৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ |
| সময়কাল | মিশরের নতুন রাজ্য |
| যার সাথে যুক্ত | |
| স্থান নোটসমূহ | |
| আবিষ্কৃত হয়েছে | ৮ এপ্রিল ২০২১ (ঘোষণা নিশ্চিতকরণ) |
| খননের তারিখ | সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে বর্তমান |
| প্রত্নতত্ত্ববিদ | জাহি হাওয়াস |
অবৈধ উপাধি | |
| প্রাতিষ্ঠানিক নাম | নেক্রোপলিসসহ প্রাচীন থিবস |
| ধরন | সাংস্কৃতিক |
| মানদণ্ড | i, iii, vi |
| মনোনীত | ১৯৭৯ (৩য় অধিবেশন) |
| সূত্র নং | ৮৭ |
| অঞ্চল | আরব রাষ্ট্রসমূহ |
আতেন (প্রকৃত নাম দ্য ড্যাজলিং আতেন[ক] এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের দেওয়া প্রাথমিক নাম রাইজ অফ আতেন) হলো মিশরের লাক্সরের কাছে থিবীয় নেক্রোপলিসে নীল নদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন মিশরীয় শহরের ধ্বংসাবশেষ।[১] মিশরের সূর্যদেবতা আতেনের নামানুসারে এই শহরটির নামকরণ করা হয়েছে। মনে করা হয়, তিন সহস্রাব্দেরও বেশি সময় ধরে শহরটি প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল। ২০২০ সালের শেষের দিকে খননকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি প্রাচীন মিশরের এ ধরনের বৃহত্তম শহর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এর সংরক্ষণের অসাধারণ মান দেখে একে পম্পেই এর সাথে তুলনা করা হচ্ছে।[২][৩]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]| হায়ারোগ্লিফাসে আতেন (শহর) | ||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
pn-ṯḥn-jtn (পেন-তজেহেন আতেন) উজ্জ্বল আতেন | ||||||||||
শহরটির গোড়াপত্তন হয়েছিল প্রায় ৩,৪০০ বছর আগে তৃতীয় আমেনহোতেপের আমলে (১৩৮৬–১৩৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)।[৩] বেশ কিছু শিলালিপির মাধ্যমে প্রত্নতাত্ত্বিকরা শহরটির ইতিহাসের সঠিক সময়কাল নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে একটি শিলালিপিতে ১৩৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দের উল্লেখ রয়েছে, যা আখেনাতেনের রাজত্বকালের সাথে মিলে যায়। মনে করা হয়, তিনি পরবর্তী বছরেই তার নতুন রাজধানী আখেতাতেনে স্থানান্তরিত হন।[৪] এ পর্যন্ত পাওয়া নিদর্শনগুলো থেকে বোঝা যায় যে, পরবর্তীতে আতেন তুতানখাতেনের শাসনাধীন ছিল, যিনি অন্য এক মিশরীয় দেবতার নামানুসারে নিজের নাম পরিবর্তন করে তুতানখামেন রেখেছিলেন। এরপর এটি অষ্টাদশ রাজবংশের উপান্ত্য শাসক আই ব্যবহার করেছিলেন।[৩] এ পর্যন্ত প্রাপ্ত জনবসতির চারটি স্বতন্ত্র স্তর থেকে বোঝা যায় যে, খ্রিস্টীয় ৩য় থেকে ৭ম শতাব্দী পর্যন্ত কপটিক বাইজেন্টাইন যুগেও এখানে পুনরায় মানুষের বসবাস ছিল।[৩]
আবিষ্কার
[সম্পাদনা]এর আগে অনেক অনুসন্ধানকারী দল শহরটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল।[১] মিশরীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জাহি হাওয়াসের নেতৃত্বে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে এই স্থানে খননকাজ শুরু হয়। মূলত তৃতীয় রামেসিসের মৃতদেহ সৎকার মন্দির এবং তৃতীয় আমেনহোতেপের মন্দিরের মধ্যবর্তী এলাকায় এই অনুসন্ধান চালানো হয়, যা পরবর্তীতে শহরের দক্ষিণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়।[৪] হাওয়াস ও তার দল যখন তুতানখামেনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজছিলেন, তখনই দুর্ঘটনাক্রমে শহরটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।[৫] এই আবিষ্কারে সেই সময়ের সর্ববৃহৎ প্রশাসনিক ও শিল্প কেন্দ্রের সন্ধান মেলে।[১]
এটি আমেনহোতেপের প্রাসাদ চত্বরের (মালকাতা, যা মূলত "দ্য ড্যাজলিং আতেন" নামেও পরিচিত) অংশ, যা এই নতুন এলাকার ঠিক উত্তরে অবস্থিত।[৩] ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল হাওয়াস এই আবিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। মিশরতত্ত্ববিদ বেটসি ব্রায়ান একে তুতানখামেনের সমাধির পর মিশরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার হিসেবে অভিহিত করেন।[২]
কাঠামো
[সম্পাদনা]এ পর্যন্ত এঁকেবেঁকে চলা কাঁচা ইটের দেয়াল দিয়ে তৈরি বেশ কয়েকটি পৃথক এলাকা আবিষ্কৃত হয়েছে।[৩] এর মধ্যে একটি বেকারির এলাকাও রয়েছে, যেখানে শহরের শৈল্পিক ও শিল্প জীবন সম্পর্কিত দৈনন্দিন ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।[২][৩] তিনটি পৃথক প্রাসাদও শনাক্ত করা হয়েছে।[৬] ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত উত্তরের এলাকা এবং শহরের কবরস্থান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে সেখানে এখনও খননকাজ চালানো হয়নি।[৪]
মানচিত্র
[সম্পাদনা]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- মালকাতা, যা দ্য ড্যাজলিং আতেন নামেও পরিচিত
টীকা
[সম্পাদনা]পাদটীকা
[সম্পাদনা]- ↑ "এখানে পাওয়া শিলালিপিতে বলা হয়েছে যে এই শহরটির নাম ছিল: 'দ্য ড্যাজলিং আতেন', হাওয়াস সেখানে সাংবাদিকদের জানান।" (Magdy 2021)
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]উৎস
[সম্পাদনা]- "3,000-year-old 'lost golden city' of ancient Egypt"। The Guardian। Agence France-Presse। ৯ এপ্রিল ২০২১।
- Alberti, Mia; Guy, Jack (৯ এপ্রিল ২০২১)। "Archaeologists discover 3,000-year-old Egyptian city, left 'as if it were yesterday'"। CNN।
- Blakemore, Erin (৮ এপ্রিল ২০২১)। "'Lost golden city of Luxor' discovered by archaeologists in Egypt"। National Geographic। ৮ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- Cascone, Sarah (৯ এপ্রিল ২০২১)। "Archaeologists Have Discovered the Lost Pleasure City of Luxor, Long Fabled as the 'Egyptian Pompeii,' Stunningly Preserved in Time"। Artnet।
- "Egypte: découverte d'une " Cité d'or perdue" vieille de 3 000 ans" [Egypt: discovery of a 3,000-year-old "lost city of gold"]। GEO (ফরাসি ভাষায়)। Agence France-Presse। ৯ এপ্রিল ২০২১। ১৯ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২৬।
- Giuliani, Tiziana (৮ এপ্রিল ২০২১)। "Zahi Hawass annuncia la scoperta di "Rise of Aten", la città di Amenhotep III, Akhenaton, Tut e Ay" [Zahi Hawass announces the discovery of "Rise of Aten", the city of Amenhotep III, Akhenaten, Tut and Ay] (ইতালীয় ভাষায়)। Mediterraneo antico।
- Hawass, Zahi (২০২১)। "Excavations in Western Thebes, 2021: The Discovery of the Golden Lost City, A Preliminary Report"। Journal of the American Research Center in Egypt। ৫৭ (1): ৮৩–১১০। ডিওআই:10.5913/jarce.57.2021.a005।
- Magdy, Samy (১১ এপ্রিল ২০২১)। "Archaeologist reveals details of 3,000-year-old lost city found in Egypt"। ABC7NY। Associated Press। ১১ এপ্রিল ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০২১।
- Virtuani, Paolo (৮ এপ্রিল ২০২১)। "Egitto, scoperta l'antica città di Aten: "Il ritrovamento più importante dopo la tomba di Tutankhamon"" [Egypt, the ancient city of Aten discovered: "The most important discovery after Tutankhamun's tomb"]। Corriere della Sera (ইতালীয় ভাষায়)।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]