বিষয়বস্তুতে চলুন

আতাগা খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আতাগা খান
মুঘল সাম্রাজ্যের উকিল
কাজের মেয়াদ
নভেম্বর ১৫৬১  ১৬ মে ১৫৬২
সার্বভৌম শাসকআকবর
পূর্বসূরীমুনিম খান
ব্যক্তিগত বিবরণ
মৃত্যু১৬ মে ১৫৬২
দিওয়ান-ই-আম, আগ্রা দুর্গ, আগ্রা, মুঘল সাম্রাজ্য

শামস উদ-দিন আতগা খান (মৃত্যু ১৬ মে ১৫৬২) ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবরের দরবারের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

তিনি আকবরের দরবারে 'উকিল' (উপদেষ্টা বা মন্ত্রী) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ১৫৬১ সালের নভেম্বরে তিনি এই পদে নিযুক্ত হন, যা অপর এক প্রভাবশালী উপদেষ্টা মহাম আঙ্গার অসন্তোষের কারণ হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৫৬২ সালে মহাম আঙ্গার পুত্র আধম খান তাকে হত্যা করেন। আতগা খান ছিলেন আকবরের অন্যতম স্তন্যদাত্রী জিজি আঙ্গার স্বামী।

হুমায়ুনের অধীনে সেবা

[সম্পাদনা]

শামস উদ-দিন ছিলেন গজনির একজন সাধারণ কৃষক মির ইয়ার মুহাম্মদের পুত্র। তিনি কামরান মির্জার সেনাবাহিনীতে একজন সৈনিক হিসেবে জীবন শুরু করেন। তিনি সম্রাট হুমায়ুনকে গঙ্গা নদীতে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। এর পুরস্কার স্বরূপ হুমায়ুন তাকে তার ব্যক্তিগত সেবায় নিযুক্ত করেন এবং শামস উদ-দিনের স্ত্রী জিজি আঙ্গা আকবরের পালক মাতা (আঙ্গাহ) হন। শামস উদ-দিনকে 'পালক পিতা' বা 'আতগা' উপাধি দেওয়া হয়। তিনি 'খান' উপাধিও লাভ করেন এবং তার জৈবিক পুত্র আজিজ কোকা আকবরের দুধ-ভাই (কোকা) হিসেবে পরিচিত হন। ১৫৪৫ সালে তিনি জিজি এবং আজিজসহ আকবরের সাথে কাবুলে যান।[]

আকবরের অধীনে সেবা

[সম্পাদনা]

১৫৬০ সালে আকবর যখন তার অভিভাবক বৈরাম খাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং তাকে মক্কায় হজ্জ পালনের নির্দেশ দেন, তখন বৈরাম খাঁ তার রাজনৈতিক বিরোধীদের উস্কানিতে বিদ্রোহ করেন। বৈরাম খাঁ লাহোর দখলের উদ্দেশ্যে জলন্ধরের দিকে অগ্রসর হন। আকবর শামস উদ-দিনকে মুঘল সেনাবাহিনীর অগ্রগামী দলের সাথে পাঠান যাতে বৈরাম খাঁর অগ্রযাত্রা থামানো বা অন্তত ধীর করা যায়। শামস উদ-দিন জলন্ধরের কাছে 'গুনচুর' গ্রামের কাছে বৈরাম খাঁর পথ রোধ করতে সক্ষম হন। একটি ভয়াবহ যুদ্ধের পর শামস উদ-দিন বিজয়ী হন এবং বৈরাম খাঁ পিছু হটতে বাধ্য হন। এই বিজয়ের জন্য শামস উদ-দিনকে বীর হিসেবে সম্মান জানানো হয় এবং তাকে বৈরাম খাঁর অধিকারে থাকা রাজকীয় পোশাক (খিলাত), পতাকা ও রণবাদ্য প্রদান করা হয়।[]

১৫৬১ সালে আকবর মুনিম খানকে উকিল পদ থেকে বরখাস্ত করেন এবং তার স্থলে শামস উদ-দিনকে নিযুক্ত করেন। শামস উদ-দিন একজন যোগ্য ও অনুগত প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন।[]

তরুণ আবদুর রহিম খান-ই-খানাকে আকবর অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন, পাশে আতগা খান সাহায্য করছেন, আকবরনামা, আনু.১৫৯০–৯৫
আতগা খানকে হত্যার অপরাধে আকবর আধম খানকে ছাদ থেকে দুইবার নিচে ফেলে দেওয়ার শাস্তি দিচ্ছেন, আকবরনামা, আনু.১৫৯০–৯৫
দরগাহ থেকে দেখা আতাগা খানের সমাধি

মৃত্যু

[সম্পাদনা]
নিজামুদ্দিন পশ্চিমে চৌষট্টি খাম্বার কাছে আতগা খানের সমাধি

১৫৬২ সালের ১৬ মে আধম খান কয়েকজন দুষ্কৃতীকে নিয়ে আগ্রা দুর্গের 'দিওয়ান-ই-আম'-এ প্রবেশ করেন এবং সেখানে উপবিষ্ট আতগা খানকে দিওয়ান-ই-আমের চত্বরেই হত্যা করেন।[] এই সংবাদ শুনে ক্রুদ্ধ সম্রাট আকবর আধম খানকে দুর্গের প্রাচীর থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার আদেশ দেন। প্রথমবার নিচে ফেলার পর আধম খানের পা ভেঙে যায় কিন্তু তিনি মারা যাননি, তাই সম্রাট তাকে পুনরায় নিচে ফেলার নির্দেশ দেন। দ্বিতীয়বার পতনের ফলে আধম খানের তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়।

আতগা খানের মৃত্যুর পর সম্রাট আকবরের নির্দেশে ১৫৬৬-৬৭ সালে তার সমাধি নির্মিত হয়। সমাধিটি নির্মাণ করেন তার পালক ভাই মির্জা আজিজ কোকা। এটি নিজামুদ্দিনের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত, যা ১৩শ শতাব্দীর সুফি সাধক নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগাহের জন্য বিখ্যাত। সমাধির স্থপতি ছিলেন ওস্তাদ খুদা কুলি এবং ক্যালিগ্রাফার ছিলেন বোখারার বাকি মুহাম্মদ খান। লাল বেলেপাথরের বাইরের দেওয়ালে সাদা মার্বেল পাথরের ওপর কুরআনের আয়াত খোদাই করা হয়েছে। মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল আতগা খানের এই মৃত্যুকে 'শাহাদাত' হিসেবে অভিহিত করেছেন।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Collier, Dirk (১ মার্চ ২০১৬)। The Great Mughals and their India। Hay House, Inc। আইএসবিএন ৯৭৮৯৩৮৪৫৪৪৯৮০ Google Books এর মাধ্যমে।
  2. Collier, Dirk (১ মার্চ ২০১৬)। The Great Mughals and their India। Hay House, Inc। আইএসবিএন ৯৭৮৯৩৮৪৫৪৪৯৮০ Google Books এর মাধ্যমে।
  3. Collier, Dirk (১ মার্চ ২০১৬)। The Great Mughals and their India। Hay House, Inc। আইএসবিএন ৯৭৮৯৩৮৪৫৪৪৯৮০ Google Books এর মাধ্যমে।
  4. আধম খানের শাস্তি আকবরনামা
  5. Asher, Catherine B (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯২)। The New Cambridge History of Indiaকেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ৪২। আইএসবিএন ০-৫২১-২৬৭২৮-৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]