আঞ্জুমান (১৯৭০-এর চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আঞ্জুমান
আঞ্জুমান চলচ্চিত্রের পোস্টার.jpeg
পরিচালকহাসান তারিক
প্রযোজকসফদার মাসুদ
রচয়িতাআঘা হাসান ইমতিসাল
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারনিসার বাজমি
সম্পাদকআল-হামিদ
পরিবেশকএভারেডি পিকচার্স
মুক্তি৩১ জুলাই ১৯৭০
দৈর্ঘ্যআনু. ৩ ঘণ্টা
দেশপাকিস্তান
ভাষাউর্দু

আঞ্জুমান ৩১ জুলাই, ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি পাকিস্তানি উর্দুভাষিক রঙিন চলচ্চিত্র, যার শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেছিলেন ওয়াহিদ মুরাদ, রানি, দিবা, সন্তোষ কুমার, সাবিহা খানম ও লেহরি। বিশেষত এটি ওয়াহিদ মুরাদের বর্ণাঢ্য জীবনের একটি উজ্জ্বল মাইলফলক ছিল। চলচ্চিত্রটি আইডিয়াল মুভিজের ব্যানারে প্রযোজনা করেছিলেন সফদার মাসুদ এবং পরিচালনা করেছিলেন পাকিস্তানের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক হাসান তারিক।[১]

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে দেশের সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছিল। তবুও রুনা লায়লা এবং আহমেদ রুশদির বিখ্যাত গানগুলোর সাহায্যে এটি একটি বিশাল সাফল্য করেছিল।[২][৩]

চলচ্চিত্রটি সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা সংগীতশিল্পী, সেরা গীতিকার, সেরা প্লেব্যাক গায়িকা, সেরা সম্পাদক, সেরা শিল্পনির্দেশক এবং সেরা কৌতুক অভিনেতা এই ৮টি বিভাগে নিগার পুরস্কার জিতেছিল। [৪]

চলচ্চিত্রের মুক্তি[সম্পাদনা]

আঞ্জুমান চলচ্চিত্রটি পাকিস্তানের সবচেয়ে খারাপ রাজনৈতিক সময়ে বাবর পিকচার্স থেকে ১৯৭০ সালের ৩১ জুলাইয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। করাচির সিনেমা হলে এটি একটানা ৮১ সপ্তাহ ধরে প্রদর্শিত হয়েছিল।[২][৩]

কাহিনী সংক্ষেপ[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটি 'আঞ্জুমান' (রানি অভিনীত চরিত্র) নামের একজন বারনারীকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি ট্র্যাজেডি। আঞ্জুমান ধনী নবাব ওয়াজাহাত আলির (সন্তোষ কুমার অভিনীত চরিত্র) প্রেমাবেগে উতলা হলেও পরবর্তীতে তার ছোট ভাই নবাব আসিফ আলির (ওয়াহিদ মুরাদ অভিনীত চরিত্র) প্রেমে পড়ে যায়। বড় ভাইয়ের বিয়ে বাঁচাতে আসিফ "বিনিময়" হিসাবে আঞ্জুমানকে দ্রুত "কথা" দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও সে তখন নূদ্রত (দিবা অভিনীত চরিত্র) নামে অন্য এক মেয়ের সাথে প্রেমাবদ্ধ ছিল। নবাব ওয়াজাহাত আলীর স্ত্রী নুরুলাইন জারতাজ (সাবিহা খানম অভিনীত চরিত্র) বাধ্য হয়ে আঞ্জুমানকে তার নিজের ভালবাসা ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করে যাতে আসিফ সুখে থাকতে পারে। সবশেষে আঞ্জুমানকে মৃত্যুর চেয়ে আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাকে তার প্রেমিকের বিবাহের অনুষ্ঠানে গান করার জন্য আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। প্রেমাহত এবং হতাশ আঞ্জুমান সেই অনুষ্ঠানে একটি বিষাদময় গান উপহার দেয়। গান গাওয়ার পূর্বে বিষ পান করার ফলে বিবাহ অনুষ্ঠান চলাকালেই সে তার প্রেমিকের পায়ের কাছে মারা যায়।

২০১৩ সালে পুনর্নির্মাণ[সম্পাদনা]

২০১৩ সালে ইয়াসির নওয়াজের পরিচালনায় এবং তারাঙ হাউসফুলের প্রযোজনায় একই নামে চলচ্চিত্রটি পুনর্নির্মিত হয়েছে, যার শ্রেষ্ঠাংশে ছিল ইমরান আব্বাস, সারা লরেন এবং আলি খান।

সংগীত[সম্পাদনা]

আঞ্জুমান চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনায় ছিলেন নিসার বাজমি।[১] বিশেষত রুনা লায়লার গাওয়া এই চলচ্চিত্রের গানগুলো পাকিস্তানে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছিল:

পুরস্কার[সম্পাদনা]

আঞ্জুমান চলচ্চিত্রটি নিম্নোলিখিত ৮টি বিভাগে নিগার পুরস্কার জিতেছিল:

বিভাগ প্রাপক
সেরা চলচ্চিত্র সফদার মাসুদ
সেরা পরিচালক হাসান তারিক [৪]
সেরা সঙ্গীতজ্ঞ নিসার বাজমি
সেরা গীতিকার মাসরুর আনোয়ার
সেরা প্লেব্যাক গায়িকা রুনা লায়লা [৩]
সেরা সম্পাদক আল-হামিদ
সেরা শিল্পনির্দেশক হাবিব শাহ
সেরা কৌতুক অভিনেতা লেহরি

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Anjuman (1970 film) film cast on Complete Index To World Film (CITWF) website Retrieved 24 May 2019
  2. Anjuman (1970 film) on cineplot.com website Retrieved 24 May 2019
  3. Anjuman (1970 film) on Dawn (newspaper) Published 19 April 2015, Retrieved 24 May 2019
  4. Nigar Awards – 1970 on cineplot.com website Published 13 May 2010, Retrieved 24 May 2019