আঞ্জাইল
| আঞ্জাইল | |
|---|---|
| Mabuya প্রজাতির এক প্রকার আঞ্জাইল | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ: | Animalia |
| পর্ব: | Chordata |
| শ্রেণী: | Reptilia |
| বর্গ: | Squamata |
| উপবর্গ: | Lacertilia |
| অধোবর্গ: | Scincomorpha |
| পরিবার: | Scincidae |
আঞ্জাইল হল Scincidae পরিবারভুক্ত একটি টিকটিকি-জাতীয় সরীসৃপ। এই পরিবারে ১,৫০০-রও বেশি প্রজাতি ও ১০০-র বেশি গণ রয়েছে, যার ফলে এটি টিকটিকির অন্যতম বৈচিত্র্যময় পরিবার। এদের একটি প্রজাতি সোনালী আঞ্জাইল বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্জিনা, অঞ্জন, আচিলা, অঞ্জনি ইত্যাদি নামে পরিচিত।
নামের উৎপত্তি
[সম্পাদনা]'Skink' শব্দটি ইংরেজি ভাষায় আসে ১৫৮০–১৫৯০ সালের দিকে। এটি এসেছে গ্রিক 'skinkos' ও ল্যাটিন 'scincus' শব্দ থেকে, যা একধরনের টিকটিকিকে বোঝাত।[১]
বৈশিষ্ট্য
[সম্পাদনা]আঞ্জাইল দেখতে সাধারণ টিকটিকির মতো হলেও, বেশিরভাগ প্রজাতির গলা স্পষ্ট নয় এবং পা ছোট হয়। কিছু প্রজাতির যেমন Typhlosaurus গণের একেবারেই পা থাকে না। আবার কিছু প্রজাতির (যেমন লালচোখ কুমির-আঞ্জাইল) মাথা শরীর থেকে স্পষ্ট আলাদা এবং পা তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও স্পষ্ট দেখা যায়।
তাদের খুলির উপর মোটা কঙ্কাল আবরণ থাকে যা সাধারণত একে অপরের সাথে খাপ খায় এবং একে অপরকে আচ্ছাদন করে থাকে। কিছু গণের (যেমন Neoseps) পা অনেকটাই ক্ষয়প্রাপ্ত এবং প্রতি পায়ে পাঁচের কম আঙুল থাকে। এই ধরনের প্রজাতির চলাফেরা অনেকটা সাপের মতো।
একটি জৈবিক অনুপাত, SENI (Scincidae Ecological Niche Index), ব্যবহার করে কোনো আঞ্জাইলের বাসস্থান বা পরিবেশগত অভ্যাস অনুমান করা যায়। এটি পায়ের দৈর্ঘ্য ও শরীরের দৈর্ঘ্যের অনুপাতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।[২]
লেজ ঝরানো ও পুনরুদ্ধার
[সম্পাদনা]বেশিরভাগ আঞ্জাইলের লম্বা, সরু লেজ থাকে, যা শিকারি দ্বারা ধরলে তারা ফেলে দিতে পারে। এ ধরনের প্রজাতি সাধারণত সেই লেজ আবার গজাতে পারে, যদিও পুরোপুরি আগের মতো হয় না। সাধারণত ৩–৪ মাসের মধ্যে লেজটি আবার গজিয়ে ওঠে। যেসব প্রজাতির লেজ মোটা ও ছোট, তারা সাধারণত এটি পুনরুদ্ধার করতে পারে না।[৩]
আকৃতি
[সম্পাদনা]কিছু আঞ্জাইল অনেক ছোট, যেমন Scincella lateralis প্রজাতি মাত্র ৭.৫–১৪.৫ সেমি লম্বা হয়, যার অর্ধেকই লেজ। অধিকাংশ আঞ্জাইল মাঝারি আকারের হয়, শরীরের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১২ সেমি। তবে কিছু বড় আকারের প্রজাতিও আছে, যেমন Corucia zebrata বা সলোমন দ্বীপের আঞ্জাইল, যেটি প্রায় ৩৫ সেমি পর্যন্ত বড় হয়।[৪]
বর্ণ ও ছদ্মবেশ
[সম্পাদনা]আঞ্জাইল অনেক সময় আশেপাশের পরিবেশের সাথে রঙ মিশিয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে, যা তাদের শত্রুদের চোখে পড়া কঠিন করে তোলে। একে বলে ছদ্মবেশ বা ক্যামোফ্লাজ।[৫]
রক্তের রঙ
[সম্পাদনা]Prasinohaema গণের কিছু আঞ্জাইলের রক্ত সবুজ রঙের হয়। এটি হয় কারণ তাদের দেহে বাইল রঙজাত বর্জ্য পদার্থ বিলিভারডিন অতিরিক্ত পরিমাণে জমে থাকে।[৬]
বিবর্তনের ইতিহাস
[সম্পাদনা]আঞ্জাইলদের প্রাচীনতম জীবাশ্ম পাওয়া গেছে মিয়ানমারের বার্মিজ অ্যাম্বারে, প্রায় ১০ কোটি বছর আগে মধ্য ক্রেটেশাস যুগে। এই জীবাশ্মের নাম Electroscincus zedi। এতে কঙ্কাল-বর্ম বা অস্থিচর্ম (osteoderms) দেখা যায়, যা বোঝায় যে এটি আধুনিক Scincidae পরিবারের মধ্যেই পড়ে। ফলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, তখনই আঞ্জাইলদের বিভিন্ন উপপরিবারের বিবর্তন শুরু হয়ে গিয়েছিল।[৭]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Etymology of 'Skink'"। Online Etymology Dictionary। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০২৫।
- ↑ Pianka, Eric R. (১৯৬৬)। "Notes on niche relations of some Australian desert lizards"। Western Australian Naturalist। ১০: ২৫–৩২।
- ↑ Arnold, E. N. (১৯৮৪)। "Caudal autotomy as a defense"। Biology of the Reptilia। ১৫: ২৩৫–২৭৩।
- ↑ Pianka, Eric R. (১৯৮৬)। Ecology and Natural History of Desert Lizards। Princeton University Press। পৃ. ১০৮।
- ↑ Cooper, W. E. (২০০৫)। Chemical Signals in Vertebrates। Springer।
- ↑ Austin, Christopher C. (২০০২)। "Green-blooded lizards: evolution of prasinohaema in Papua New Guinea"। Science। ২৯৮: ১৯৫৩।
- ↑ Mo, Jingmai O’Connor (২০২০)। "Skinks in mid-Cretaceous amber from Myanmar"। Zootaxa। ৪৮৭৭ (1)।