বিষয়বস্তুতে চলুন

আওকাফ মন্ত্রণালয় (মিশর)

স্থানাঙ্ক: ৩০°২′৩১″ উত্তর ৩১°১৩′৫৭″ পূর্ব / ৩০.০৪১৯৪° উত্তর ৩১.২৩২৫০° পূর্ব / 30.04194; 31.23250
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
ওয়াকফ মন্ত্রণালয়
সংস্থার রূপরেখা
যার এখতিয়ারভুক্তমিশর সরকার
সদর দপ্তরনতুন প্রশাসনিক রাজধানী, কায়রো গভর্নরেট
সংস্থা নির্বাহী
  • ওসামা আল আজহারি, মন্ত্রী
ওয়েবসাইটঅফিসিয়াল ওয়েবসাইট

মিশরের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় (আরবি: وزارة الأوقاف المصرية) হলো মিশর সরকারের অন্যতম একটি মন্ত্রণালয় এবং এটি ধর্মীয় এনডাউমেন্ট বা ওয়াকফ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। ধর্মীয় এনডাউমেন্ট বা ওয়াকফ হলো সাধারণ আইনের ট্রাস্টের মতো, যেখানে ট্রাস্টি হলো মসজিদ বা ওয়াকফের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং সুবিধাভোগী সাধারণত সামগ্রিকভাবে সমাজ। ওয়াকফের উদাহরণ হলো কোনো একখণ্ড জমি, বাজার, হাসপাতাল বা অন্য কোনো ভবন যা সম্প্রদায়ের উপকারে আসে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ওয়াকফ রাষ্ট্রীয়করণের পূর্বে

[সম্পাদনা]

ওয়াকফ রাষ্ট্রীয়করণের পূর্বে মসজিদগুলো দরিদ্র নাগরিকদের কথা বলার সুযোগ করে দিত। উদাহরণস্বরূপ, আল-আজহার মসজিদ ওয়াকফের মাধ্যমে সমাজকে সহায়তা করত এবং ওয়াকফ থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে পৃথক থাকত। এটি মসজিদকে সরকার ও শাসকদের নির্দেশ থেকে স্বাধীন থাকতে সাহায্য করত। মসজিদগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সমাজকে সাহায্য করতে ওয়াকফ ব্যবহার করতে পারত। এছাড়াও, মসজিদগুলো অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন থাকায় ইমামগণ যা গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন তা প্রচার করতে পারতেন এবং এতে সরকারের হস্তক্ষেপ ছিল না বললেই চলে। তবে, সরকার যখন কার্যকরভাবে ওয়াকফ কর্মসূচি দখল করে নেয়, তখন মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের আর কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যম রইল না এবং আল-আযহারের ধর্মীয় প্রভাবকে রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডা তৈরির কাজে ব্যবহার করা শুরু হয়।

ওয়াকফ রাষ্ট্রীয়করণ

[সম্পাদনা]
ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ে আল-শারাউই, ১৯৭৮

প্রথম মিশরীয় নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলি ওয়াকফ রাষ্ট্রীয়করণ করেন। তিনি এনডাউমেন্টগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার নজির স্থাপন করেন। তার উত্তরসূরিরা এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন এবং রাজা প্রথম ফুয়াদ যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আল-আযহার সরকারের ইচ্ছা পূরণ করত। রাজা যখন খলিফা হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন কিছু "...আল-আযহারের শেখরা প্রয়োজনীয় ঘোষণা দিতে প্রস্তুত ছিলেন" (ইব্রাহিম ৬৩৬)। ১৯৫২ সালে জামাল আবদেল নাসের ওয়াকফ রাষ্ট্রীয়করণ করলে এগুলোকে রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়। জামাল আবদেল নাসের আল-আযহারের নতুন তৈরি প্রোপাগান্ডা যন্ত্রকে "...আরব সমাজতন্ত্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার সংগ্রামকে বৈধতা দিতে" ব্যবহার করেন (ইব্রাহিম ৬৩৬)। আনোয়ার সাদাত আল-আযহারকে "...বিপরীতমুখী নীতিগুলোর বৈধতা দেওয়ার জন্য, যার মধ্যে ইসরায়েলের সাথে তার চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল," নাসেরের নীতিগুলো অব্যাহত রাখেন (ইব্রাহিম ৬৩৭)।

এই প্রক্রিয়াটি সম্ভবত এক সময়ের জনহিতকর মসজিদকে একটি দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক যন্ত্রে রূপান্তরিত করেছে;[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এবং ওয়াকফ মন্ত্রণালয় দরিদ্রদের স্বার্থ দেখার পরিবর্তে যুক্তিবাদ প্রচার করছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৯৭৭ সালে জামাত আল মুসলিমিন নামক একটি গেরিলা ইসলামি গোষ্ঠী যা ইখওয়ানুল মুসলিমিন থেকে উদ্ভূত হয়েছিল, তারা তাদের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর সাবেক ওয়াকফ মন্ত্রী মুহাম্মদ আল-ধাহাবিকে হত্যা করে। জনগণের বড় অংশের চোখে ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এবং মসজিদগুলো ছিল রাষ্ট্রের হাতিয়ার। যেহেতু মসজিদগুলো এখন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাই ইমামগণ কার্যকরভাবে রাষ্ট্রের কর্মচারী হয়ে পড়েন। সরকার প্রথমবারের মতো ইমাম এবং মসজিদকে কী প্রচার করা যাবে বা যাবে না তা নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা লাভ করে।[]

দার আল-কিসওয়া

[সম্পাদনা]

১৯৫৩ সালে মন্ত্রণালয়টি কায়রোর আল-খোরোনফেশ সড়কের একটি শৈল্পিক কর্মশালা 'দার আল-কিসওয়া আল-শরিফা' (মর্যাদাপূর্ণ কিসওয়ার ঘর)-র নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।[] ১৮১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত দার আল-কিসওয়া মক্কামদিনার পবিত্র স্থানগুলোর জন্য টেক্সটাইল তৈরির দায়িত্বে ছিল।[] এর নামকরণ করা হয়েছিল কিসওয়া বা কাবার সূচিকর্ম করা আবরণের নামানুসারে যা প্রতি বছর পরিবর্তন করা হয়। ১৯৬২ সাল থেকে এই টেক্সটাইলগুলো মক্কায় তৈরি হতে থাকে। কায়রো কর্মশালার কর্মীর সংখ্যা কমতে থাকে এবং ১৯৯৭ সালে কর্মশালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।[] বর্তমানে ভবনটি মন্ত্রণালয় স্টোরেজ স্পেস হিসেবে ব্যবহার করে।[]

বর্তমানকাল

[সম্পাদনা]

ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক তার পূর্বসূরিদের নজির অনুসরণ করে ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয়করণ করে রাখেন। বর্তমান সরকার মসজিদগুলোর সুরকে পরিমিত করার লক্ষ্য রাখে এবং মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা করার সক্ষমতা বজায় রাখে।[] মাহমুদ হামদি জাকজুক ১৯৯৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[] মন্ত্রণালয়টি গত কয়েকশ বছরের বিভিন্ন ওয়াকফ আইনি নথিপত্রের আর্কাইভ সেন্টার হিসেবেও কাজ করে।[]

ওয়াকফ মসজিদে অপরাধ

[সম্পাদনা]
ওয়াকফ মন্ত্রণালয় ভবন

২০০৮ সালে মিশরের ওয়াকফ মসজিদগুলোতে চুরি বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়। যেমন গানিম আল বাহলাওয়ান এবং আলতিনবুঘা আল-মারিদানি মসজিদে মিম্বরের খচিত কাঠের প্যানেল চুরি হয়ে যায়। রোকায়া দুদুর সাবিল কুত্তাব থেকে লোহার গ্রিল জানালা চুরির চেষ্টাকালে চোর ধরা পড়ে। সুপ্রিম কাউন্সিল অফ অ্যান্টিকুইটিস (এসসিএ) এই ঘটনাগুলোর জন্য ওয়াকফ মন্ত্রণালয়কে দায়ী করে এই বলে যে, এসসিএ-র ভূমিকা কেবল মসজিদ সংস্কার করা এবং ওয়াকফের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, এরপর নিরাপত্তার দায়িত্ব ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের। তবুও, আইনত এসসিএ স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।[] ২০১৭ সালে নিরাপত্তার কারণে মসজিদের কিছু প্রত্নবস্তু এসসিএ গুদামে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।[]

মন্ত্রীগণ

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Fouad, Ahmed (২৭ জুন ২০১৪)। "Egyptian law seeks to control political speech at mosques"al-monitor.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৭
  2. 1 2 Nassar, Nahla (২০১৩)। "Dar al-Kiswa al-Sharifa: Administration and Production"। Porter, Venetia; Saif, Liana (সম্পাদকগণ)। The Hajj : collected essays। London: The British Museum। পৃ. ১৭৬–১৭৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৬১৫৯-১৯৩-০ওসিএলসি 857109543
  3. Porter, Venetia (২০১২)। "Textiles of Mecca and Medina"। Porter, Venetia (সম্পাদক)। Hajj : journey to the heart of Islam। Cambridge, Mass.। পৃ. ২৬৩–২৬৫। আইএসবিএন ৯৭৮০৭১৪১১১৭৬৬{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  4. Magdy, Amal (১৬ আগস্ট ২০১৬)। "Egypt's Dar al-Kiswah — a monument turned into a dump"Al-Monitor (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০২২
  5. El Sharnoubi, Osman (১২ এপ্রিল ২০১৭)। "Government continues attempts to extend control over mosques"Madamasr। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৭
  6. "Mahmoud Hamdi Zakzouk"DAAD। ৩১ জানুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৩
  7. Akhavi, Shahrough (১ জানুয়ারি ১৯৯২)। "The Clergy's Concepts of Rule in Egypt and Iran"। The Annals of the American Academy of Political and Social Science৫২৪: ৯২–১০২। ডিওআই:10.1177/0002716292524001008জেস্টোর 1046708এস২সিআইডি 144306758
  8. El Aref, Nevine (২৬ জুন – ২ জুলাই ২০০৮)। "Unholy thefts"Al Ahram Weekly (903)। ৫ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৩
  9. Hassan, Khalid (২০ জানুয়ারি ২০১৭)। "How Egypt is trying to stop looting at ancient mosques"। Al Monitor।
  10. "The Cabinet"Cabinet Gov Egypt

Ibrahim, Saad E. "Egypt's Islamic activism in the 1980s." Third World Quarterly (1988).

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Awqaf cabinet departments