আউকান বুদ্ধ মূর্তি
| আউকান বুদ্ধ মূর্তি | |
|---|---|
| সিংহলি: අවුකන බුද්ධ ප්රතිමාව | |
| বছর | ৫ম শতাব্দী |
| ধরন | পাথরের ভাস্কর্য |
| মাধ্যম | গ্রানাইট |
| আয়তন | ১১.৮৪ m (৩৮.৮ ফুট) |
| অবস্থান | কেকিরাওয়া, শ্রীলঙ্কা |
| ৮°০′৩৯.১″ উত্তর ৮০°৩০′৪৫.৬″ পূর্ব / ৮.০১০৮৬১° উত্তর ৮০.৫১২৬৬৭° পূর্ব | |
অবৈধ উপাধি | |
| ওয়েবসাইট | aukana.org |
আউকান বুদ্ধ মূর্তি হলো কেকিরাওয়ার কাছে শ্রীলঙ্কার উত্তর মধ্যাঞ্চলে বুদ্ধের একটি দাঁড়ানো মূর্তি। ১৪ মিটারেরও (৪৬ ফুট) বেশি উচ্চতার এই মূর্তিতে বুদ্ধকে আশ্বাসের ভঙ্গিতে একটি হাত তুলে রাখতে দেখানো হয়েছে, যা অভয় মুদ্রার একটি রূপ। আউকান মূর্তি শ্রীলঙ্কায় নির্মিত সেরা দাঁড়ানো মূর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি এখন একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।
অবস্থান ও রূপ
[সম্পাদনা]আউকান মূর্তি কেকিরাওয়ার কাছে আউকান গ্রামে অবস্থিত (অউকানাও লেখা হয়) (সিংহলি: අවුකන)। মূর্তিটি একটি অগভীর কুলুঙ্গির মধ্যে স্থাপিত এবং পূর্বদিকে মুখ করে কালা ওয়েওয়া জলাধারের দিকে তাকিয়ে আছে।[১] মূর্তিটি দেয়ালের একটি অগভীর খাঁজের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।[২] এর মুখটি পূর্ব দিকে ফিরানো এবং এটি কালা ওয়েভা জলাশয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।[৩] মূর্তিটির পেছনের দেয়াল বা অংশটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা দেখে বিশালাকার পাথরের গাঁথুনি মনে হয়। এর ফলে মনে হয় যেন পেছনে একটি পাহাড় রয়েছে। বুদ্ধ মূর্তিটি যে বেদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেটি দেখতে একটি পদ্মফুলের মতো। শুধু মূর্তিটির উচ্চতা ১১.৮৪ মিটার (৩৮ ফুট ১০ ইঞ্চি) এবং পদ্মফুলের বেদীসহ আউকান মূর্তিটির মোট উচ্চতা ১৪ মিটারেরও (৪৬ ফুট) বেশি।[৪][৫]
মূর্তিটি একটি বড় মূর্তিগৃহ বা মন্দিরের মধ্যে স্থাপিত ছিল, যার নিচের দেয়ালের কিছু অংশ এখনও টিকে আছে। স্থাপত্যটিতে পাথরের ভিত্তি ছিল এবং উপরের অংশ ইট দিয়ে তৈরি। এটি ২৩ মিটার (৭৪ ফুট) দীর্ঘ ও ১৯ মিটার (৬৩ ফুট) প্রশস্ত ছিল।[৬]
বৈশিষ্ট্য
[সম্পাদনা]আউকান মূর্তিটিকে প্রাচীন শ্রীলঙ্কার বুদ্ধের দাঁড়ানো মূর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৩] এতে গান্ধার শিল্পরীতির এবং ভারতের অমরাবতী শিল্পরীতির কিছু প্রভাব দেখা যায়। পোশাকটি শরীরের সাথে শক্তভাবে লেগে আছে, যার ফলে শরীরের গঠন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। এর ভাজগুলো খুব নিখুঁত এবং সুন্দরভাবে খোদাই করা হয়েছে। পোশাকটি বাম কাঁধের ওপর দিয়ে পরিধান করা হয়েছে এবং ডান কাঁধটি অনাবৃত রাখা হয়েছে, যা শ্রীলঙ্কার বুদ্ধ মূর্তির ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য। বুদ্ধের শরীরটি একদম সোজা অবস্থায় আছে। তিনি বাম হাত দিয়ে বাম কাঁধের কাছে পোশাকটি ধরে রেখেছেন এবং ডান হাতটি ডান কাঁধ পর্যন্ত উঁচু করে রেখেছেন, যার হাতের তালু বাম দিকে মুখ করে আছে।[১][৪] এই অবস্থান আসিস মুদ্রা নামে পরিচিত, যা অভয় মুদ্রার একটি রূপ। পোশাকের নিচের অংশে মূর্তির ভেতরে মূর্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হাতিয়ারের একটি চিত্র ও লেখা রয়েছে।[৭]
নির্মাণকাল
[সম্পাদনা]আউকান মূর্তি ৫ম শতাব্দীতে নির্মিত বলে ব্যপকভাবে বিশ্বাস করা হয়, তবে হ্যারি চার্লস পার্ভিস বেলের, আনন্দ কুমারস্বামীর এবং সেনারথ পরনবিথানার সময় থেকে বিভিন্ন মত প্রকাশিত হয়েছে।[৮] দিরান কে. দোহানিয়ান এই ভাস্কর্যটির শৈলী এবং এর পক্ষে থাকা সমস্ত প্রমাণ খুব গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখেন। শ্রীলঙ্কার অন্যান্য বুদ্ধ মূর্তি এবং অমরাবতী শিল্পরীতিতে তৈরি বুদ্ধ মূর্তির সাথে তুলনা করে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, আউকানার বুদ্ধ মূর্তিটি ৮ম শতাব্দীর।[৮] ১৯৫১ সালে মন্দিরের উত্তর দেয়ালে পাওয়া একটি সিংহলি ভাষায় লেখা দানের শিলালিপি দ্বারাও এটি নিশ্চিত হয়।[৯]
কিংবদন্তি
[সম্পাদনা]যদিও প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে মূর্তিটি রাজা ধাতুসীয়নের আদেশে তৈরি করা হয়েছিল, তবে আরেকটি মতবাদ হলো এটি বারন নামে এক ব্যক্তি তৈরি করেছিলেন।[১০] সাসেরুওয়ায় বুদ্ধের আরেকটি দাঁড়ানো মূর্তি আছে যা আউকান মূর্তির মতোই। একটি লোককাহিনী প্রচলিত আছে যে, এই মূর্তি দুটি তৈরি হয়েছিল এক পাথর খোদাইকারী গুরু (ওস্তাদ) এবং তার শিষ্যের (ছাত্রের) মধ্যকার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। গল্পটি এমন গুরু তৈরি করেছিলেন আউকান মূর্তিটি, আর শিষ্য তৈরি করেছিলেন সাসেরুয়ার মূর্তিটি। নিয়ম ছিল, যিনি আগে নিজের মূর্তি তৈরির কাজ শেষ করবেন, তিনি ঘণ্টা বাজিয়ে অন্যজনকে তা জানিয়ে দেবেন। গুরু আগে তার মূর্তি সম্পন্ন করে প্রতিযোগিতায় জেতেন। এই কারণেই সাসেরুওয়ার মূর্তি অসম্পূর্ণ বলে বলা হয়। আউকান মূর্তিকে দুটির মধ্যে উৎকৃষ্ট বলে মনে করা হয় এবং তাদের মিলগুলো ঐতিহাসিকদের মনে করায় যে গল্পটি সত্য।[১১] তবে এটি কেবল একটি লোককাহিনী, কারণ সাসেরুওয়ার মূর্তি আউকান বুদ্ধমূর্তির প্রায় চারশো বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। রেসওয়েহেরা রাজমহা বিহার একটি প্রাচীন মন্দির যা রাজা দেবনম্পিয়তিস্স (৩০৭–২৬৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) নির্মাণ করেছিলেন।
বর্তমান অবস্থা
[সম্পাদনা]আজ দেশের সব প্রান্ত থেকে তীর্থযাত্রীরা মূর্তি দেখতে আসেন এবং আউকান মূর্তি একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।[১২] যদিও স্থানটিতে আগে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছিলনা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও নাগরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন এটিকে আধুনিকায়ন করেছে।[১০]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Diganwela, T. (১৯৯৭)। කලා ඉතිහාසය [History of Art] (সিংহলি ভাষায়)। Wasana Publishers। পৃ. ২৩–২৪।
- ↑ Walters, Alan (১৯৯৭)। Palms & pearls, or, Scenes in Ceylon। 9788120612358। Asian Educational Services। পৃ. ৭৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৬-১২৩৫-৮।
- 1 2 Siriwera, W. I. (২০০৪)। History of Sri Lanka। Dayawansa Jayakody & Company। পৃ. ২৮৬–২৮৭। আইএসবিএন ৯৫৫-৫৫১-২৫৭-৪।
- 1 2 Sarachchandra, B. S. (১৯৭৭)। අපේ සංස්කෘතික උරුමය [Cultural Heritage] (সিংহলি ভাষায়)। Silva, V. P.। পৃ. ১২১–১২২।
- ↑ De Silva, K. M. (১৯৮১)। A history of Sri Lanka। University of California Press। পৃ. ৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-০৪৩২০-৬।
- ↑ Bandaranayake, Senake (১৯৭৪)। Sinhalese monastic architecture: the viháras of Anurádhapura। Brill। পৃ. ২০৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-০৩৯৯২-৬।
- ↑ De Silva, D. G. B. (১২ মে ২০০১)। "Misconceptions about Sri Lankan Buddha image"। The Island। ১২ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১০।
- 1 2 Dohanian, Diran K. (১৯৬৫)। "The Colossal Buddha at Aukana"। Archives of the Chinese Art Society of America। ১৯: ১৬–২৫। জেস্টোর 20067080।
- ↑ Archaeological Survey of Ceylon, Annual Report 1952, Colombo: [Ceylon Govt., Archæological Dept.]: p. 33, cited in Dohanian 1965
- 1 2 Perera, Harshini (২১ জুন ২০০৯)। "A new facelift to Avukana precincts"। Sunday Observer। ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১০।
- ↑ "A guru-gola battle for supremacy"। Sunday Times। ৬ জুন ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১০।
- ↑ Davidson, Linda Kay; Gitlitz, David Martin (২০০২)। Pilgrimage: from the Ganges to Graceland : an encyclopedia। খণ্ড ১। ABC-CLIO। পৃ. ৪৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৭৬০৭-০০৪-৮।
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]von Schroeder, Ulrich (1990). Buddhist Sculptures of Sri Lanka. (752 p.; 1620 illustrations). Hong Kong: Visual Dharma Publications, Ltd. আইএসবিএন ৯৬২-৭০৪৯-০৫-০