আইস বাকেট চ্যালেঞ্জ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
আইস বাকেট চ্যালেঞ্জ করার সময়।

আইস বাকেট চ্যালেঞ্জ (ইংরেজি: Ice Bucket Challenge; এএলএস আইস বাকেট চ্যালেঞ্জ নামেও পরিচিত) অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরসিস (ALS) রোগের সচেতনতা বাড়ানো এবং গবেষণায় অনুদানে উত্সাহিত করার জন্য মাথায় এক বালটি বরফ পানি ঢালার একটি কার্যকলাপ। ২০১৪'র মাঝামাঝি সময়ে এটি সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে সংক্রামণ রুপে ছড়িয়ে পড়ে।[১][২] যুক্তরাজ্যে, লোকজন মোটর নিউরন ডিজিজ এসোসিয়েশন জন্য এই চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করে।

এই চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণকারীরা এক বালতি বরফ পানি মাথায় ঢালেন ও এর ভিডিও করেন এবং অন্যদের একই কাজ করতে চ্যালেঞ্জ জানায়। এর একটি সাধারণ শর্ত হচ্ছে যাজে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়ে তাকে এটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করতে হবে অথবা না করার পরিণাম বা শাস্তি হিসাবে দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক অনুদান দিতে হবে।[৩]

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করার জন্য এক বালতি ঠান্ডা পানি মাথায় ডাম্পিং করার ধারণা উদ্ভব অস্পষ্ট এবং একাধিক উত্সকে এর জন্য দায়ী করা হয়। ২০১৩'র মাঝামাঝি থেকে ২০১৪'র শুরু দিকে এই অজানা উৎপত্তির যাকে প্রায়ই "কোল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ" বলা হত যা উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এলাকায় সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই কাজ সাধারণত ক্যান্সার গবেষণার হয় অর্থ দান করা অথবা ঠান্ডা জলের মধ্যে ঝাঁপ দেওয়ার মত বিকল্পের সাথে জড়িত।[৪]

চ্যালেঞ্জের এক সংস্করণ, জুলাই ৭, ২০১৪ তারিখের নিউজিল্যান্ডে হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেয়া হয় এবং এর পর একটি দাতব্যকে অর্থ দান করতে হত; উদাহরণস্বরূপ, নিউজিল্যান্ড ক্যান্সার সোসাইটির অকল্যান্ড বিভাগ।[৫] অনুরূপ চ্যালেঞ্জ হিসাবে, এটি করার সময় সাধারণত ভিডিও করা হত যাতে ফুটেজ অনলাইন শেয়ার করা যায়।

২০১৪'র প্রথম দিকে তীয় পতিত অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা ফাউন্ডেশন বিশেষ অলিম্পিকে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত মেরু নিমজ্জনের অবিতর্কিত ঘুর্ণন বন্ধে তহবিল বাড়াতে অর্থ সংগ্রহকারী হিসাবে "কোল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ"কে জনপ্রিয় করে তোলে।[৬]

মে ২০, ২০১৪ তারিখে ওয়াশিংটন পৌরসভা, নিউ জার্সির অগ্নি বিভাগ আগুন নিভানোর নল সহ "কোল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ"-এ অংশগ্রহণকারীদের একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করে। দপ্তরের অংশগ্রহণকারী সদস্যদের পরবর্তীকালে অনুমতি ছাড়া ফায়ার বিভাগের সরঞ্জাম ব্যবহার করার জন্য শাস্তি দেয়া হয়।[৭]

আটলান্টা ফাল্কনস খেলোয়াড়, কোচ এবং স্টাফ যিনি এই চ্যালেঞ্জ নেন।

নিয়মাবলী[সম্পাদনা]

চ্যালেঞ্জ শুরু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অংশগ্রহণকারীদের একটানা চলমান ফুটেজে নিজেদের একটি ভিডিও রেকর্ড করতে হবে। প্রথমে, তাদের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার কথা বলতে হবে, এরপর একটি বালতিতে বরফসহ ঠাণ্ডা পানি ঢালতে হবে। এরপর বরফ পূর্ন বালতি উঠিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মাথায় ঢালতে হবে। এরপর অংশগ্রহণকারীরা অন্যদের এই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন।

এখানে যে কোন ব্যক্তি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, দান করা অথবা দুটিই করতে পারবে। চ্যালেঞ্জের এক সংস্করণ হচ্ছে অংশগ্রহণকারীর কাছে আশা করা হয় $১০ দান করার যদি তারা বরফ পূর্ন বালতি মাথায় ঢালে অথবা $১০০ যদি তারা তা না করে।[৮] অন্য সংস্করণ হচ্ছে, কোন দান করা ছাড়াই বরফ পূর্ন বালতি মাথায় ঢালা হয় যা চ্যালেঞ্জের কিছু সমালোচনা নেতৃত্বাধীনে রয়েছে। ব্যক্তিগত ভিডিওতে অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন যে এই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করার সাথে দানও করবেন।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lost Coast Of New Zealand (২০১৪-০৭-০৯)। "Charities benefit from viral ice challenge"। TVNZ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-১৭ 
  2. "News"। Cancer Society Auckland। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-১৭ 
  3. Arco, Matt (আগস্ট ১৩, ২০১৪)। "Governor Chris Christie gets in on 'Ice Bucket Challenge', dares Cory Booker"Nj.com। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ১৩, ২০১৪ 
  4. Perez, Iris (২০১৪-০৬-২৫)। "DNR: Don't rise 'Cold Water Challenge'"MyFox Twin CitiesFox Television Stations। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-১৭ 
  5. "The Ice Water Challenge"। Cancersocietyauckland.org.nz। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-১৮ 
  6. "'Ice bucket challenge' charity fundraiser gains momentum"। Dispatch.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-১৮ 
  7. "'Cold water challenge' video lands Washington Township firefighters in hot water after video posted online"। nj.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-১৮ 
  8. "Health: Local ALS Researchers Take Ice Bucket Challenge"CBS Philadelphia। আগস্ট ১২, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ১৭, ২০১৪ 
  9. "#IceBucketChallenge: Why You're Not Really Helping"Huffington Post। আগস্ট ৭, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ১৭, ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]