আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
২০১০ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব.jpg
ব্যবস্থাপকইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল
খেলার ধরনটুয়েন্টি২০
প্রথম টুর্নামেন্ট২০০৮, আয়ারল্যান্ড
শেষ টুর্নামেন্ট২০১৫, আয়ারল্যান্ডস্কটল্যান্ড
প্রতিযোগিতার ধরনরাউন্ড রবিননক-আউট
দলের সংখ্যা১৬
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস (২য় শিরোপা)
 স্কটল্যান্ড (১ম শিরোপা) (যৌথভাবে)
সর্বাধিক সফল আয়ারল্যান্ড [৩বার (১বার যৌথভাবে)]
সর্বাধিক রানআফগানিস্তান মোহাম্মাদ শেহজাদ (৮৯৫)
সর্বাধিক উইকেট মুদাচ্ছার বুখারী (৩৯)
ওয়েবসাইটICC WT20 Qualifier Official website
২০১৯ আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব

আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ যোগ্যতা নির্ধারণ প্রতিযোগিতা বা আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃক পরিচালিত টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আইসিসি’র সহযোগী সদস্য দেশসমূহের জাতীয় দলকে আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার অধিকারী করা। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতা অণুষ্ঠিত হয় যা আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের অণুরূপ। উদ্বোধনী আসরে ৬ দল অংশগ্রহণ করলেও ২০১০ সালের প্রতিযোগিতায় ৮ দলে উপনীত করা হয়।[১] পরবর্তীতে ২০১২ সালে এ সংখ্যাটি ১৬ দলে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে শীর্ষ ছয় দলকে আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০০৮ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব[সম্পাদনা]

২০০৯ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সর্বপ্রথম টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্বের আয়োজন করা হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টের স্টরমন্ট এলাকায় ২ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট, ২০০৮ তারিখ পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতা অণুষ্ঠিত হয়। শীর্ষ তিনটি দল ২০০৯ সালের টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে।[২] সর্বমোট ছয়টি দল এতে অংশগ্রহণ করে:

বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় কোন বল মাঠে গড়ায়নি। তাই, আয়ারল্যান্ডনেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দল যৌথভাবে প্রতিযোগিতার শিরোপাধারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরফলে দল দু’টি ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অণুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তৃতীয় স্থান লাভ করে স্কটল্যান্ড

২০১০ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব[সম্পাদনা]

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০১০ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্বের ২য় আসর বসে। ৯-১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখ পর্যন্ত অণুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় দলের সংখ্যা আটটিতে নিয়ে আসা হয়।[৩] প্রথমবারের মতো আফগানিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করে। কিন্তু বারমুদা ক্রিকেট দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেনি। অংশগ্রহণকারী আটটি দল হলো:[৪]

আফগানিস্তান ক্রিকেট দল আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করে শিরোপা লাভ করে। এরফলে উভয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজে অণুষ্ঠিত ২০১০ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

২০১২ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব[সম্পাদনা]

২০১২ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতা বছরের শুরুতে অণুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দশটি দল ও একদিনের আন্তর্জাতিক/টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে মর্যাদাপ্রাপ্ত ছয়টি দলসহ মোট ১৬টি দল এ প্রতিযোগিতার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়। দশটি অঞ্চলে ৮১ দল আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করে। ষোল দলের বিবরণ নিম্নে দেয়া হলো:

আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল আফগানিস্তানকে চূড়ান্ত খেলায় পরাজিত করে। কিন্তু উভয় দল ২০১২ সালের টুয়েন্টি২০ বিশ্বকাপে খেলার জন্য বিবেচিত হয়।

২০১৩ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতা একই সালের নভেম্বর মাসে অণুষ্ঠিত হয়। পূর্বেকার আসরের ন্যায় এবারও ১৬ দল নিয়ে এ প্রতিযোগিতা অণুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দশটি দল ও ২০১২ সালে অণুষ্ঠিত পূর্বেকার প্রতিযোগিতায় শীর্ষ-৬ দল অংশগ্রহণ করে। গ্রুপের শীর্ষ দল: আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান; নক-আউট খেলায় প্রথম রানার আপ: নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত; ৫ম ও ৬ষ্ঠ স্থানের অধিকারী: নেদারল্যান্ডস ও হংকং ২০১৪ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। অংশগ্রহণকারী দলের বিবরণ নিম্নে দেয়া হলো:

শীর্ষ ছয়টি দল ২০১৪ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

২০১৫ বাছাইপর্ব[সম্পাদনা]

২০১৫ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতাটি খেলা হয় ২০১৫ সালের জুলাই মাসে এবং প্রথমবারের মতো যৌথভাবে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড মিলে আয়োজন করে। প্রতিযোগিতার ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারনী উভয় খেলাটি পরিত্যাক্ত হয় বৃষ্টির কারণে; স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস শিরোপা ভাগাভাগি করে।

সেরা ছয়টি দল আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, আফগানিস্তান, হংকং এবং ওমান যারা এই প্রতিযোগিতায় অভিষেক করেছিল, সকলেই ২০১৬ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অগ্রসর হয়।

২০১৯ বাছাইপর্ব[সম্পাদনা]

পূর্বেকার বিজয়ী[সম্পাদনা]

২০০৭ সালের বিশ্ব ক্রিকেট লীগের প্রথম বিভাগ প্রতিযোগিতাকালীন সময়ে আইসিসি’র দুই সহযোগী সদস্য দেশ - কেনিয়া ও স্কটল্যান্ডকে আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে যোগ্য দলরূপে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বছর আয়োজক ফাইনাল
মাঠ
ফাইনাল
বিষয়ী ফলাফল রানার-আপ
২০০৮  আয়ারল্যান্ড বেলফাস্ট  আয়ারল্যান্ড
 নেদারল্যান্ডস
পরিত্যাক্ত – শিরোপা ভাগাভাগি
scorecard
২০১০  সংযুক্ত আরব আমিরাত দুবাই  আফগানিস্তান
১৪৭/২ (১৭.৩ ওভার)
আফগানিস্তান ৮ উইকেটে বিজয়ী
scorecard
 আয়ারল্যান্ড
১৪২/৮ (২০ ওভার)
২০১২  সংযুক্ত আরব আমিরাত দুবাই  আয়ারল্যান্ড
১৫৬/৫ (১৮.৫ ওভার)
আয়ারল্যান্ড ৫ উইকেটে বিজয়ী
scorecard
 আফগানিস্তান
১৫২/৭ (২০ ওভার)
২০১৩  সংযুক্ত আরব আমিরাত আবুধাবি  আয়ারল্যান্ড
২২৫/৭ (২০ ওভার)
আয়ার‍ল্যান্ড ৬৮ রানে বিজয়ী
scorecard
 আফগানিস্তান
১৫৭ (১৮.৫ ওভার)
২০১৫  আয়ারল্যান্ড
 স্কটল্যান্ড
ডাবলিন  নেদারল্যান্ডস
 স্কটল্যান্ড
পরিত্যাক্ত – শিরোপা ভাগাভাগি
scorecard
২০১৯  সংযুক্ত আরব আমিরাত দুবাই TBD TBD TBD

দলগত সাফল্য[সম্পাদনা]

আইসিসি টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্বে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সাফল্য তুলে ধরা হলো।

সাংকেতিক চিহ্ন
  • ১ম – চ্যাম্পিয়ন
  • ২য় – রানার-আপ
  • ৩য় – তৃতীয় স্থান
  •     — আয়োজক
  • নিচে দাগ দেওয়া দলটি টি২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে
  • Q – বাছাইকৃত
  • § – দলটি প্রতিযোগিতার জন্য বাছাইকৃত, কিন্তু পরে তুলে নিয়েছে বা অযোগ্য বলে ঘোষিত হয়েছে।
  • × – অংশ গ্রহণ করে নাই, অন্য পদ্ধতি অবলম্বনে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
দল উত্তর আয়ারল্যান্ড
২০০৮ ()
সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০১০ ()
সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০১২ (১৬)
সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০১৩ (১৬)
প্রজাতন্ত্রী আয়ারল্যান্ডস্কটল্যান্ড
২০১৫ (১৪)
সংযুক্ত আরব আমিরাত
২০১৯ (১৪)
মোট
 আফগানিস্তান ১ম ২য় ২য় 5th ×
 বারমুডা ৬ষ্ঠ ১৩তম ১৪তম Q
 কানাডা ৫ম ৮ম ৬ষ্ঠ ১২তম ১৪তম Q
 ডেনমার্ক ১৬তম ১৬তম
 হংকং ১১তম ৬ষ্ঠ ৪র্থ Q
 আয়ারল্যান্ড ১ম ২য় ১ম ১ম ৩য় Q
 ইতালি ১০ম ৯ম
 জার্সি ১১তম Q
 কেনিয়া ৪র্থ ৫ম ৯ম ১১তম ৯ম Q
 জিম্বাবুয়ে ৩য় ১০ম ৭ম §
   নেপাল ৭ম ৩য় ১২
 নেদারল্যান্ডস ১ম ৪র্থ ৪র্থ ৫ম ১ম Q
 নাইজেরিয়া Q
 ওমান ১৫তম ৬ষ্ঠ Q
 পাপুয়া নিউ গিনি ৮ম ৮ম ৮ম Q
 স্কটল্যান্ড ৩য় ৭ম ৫ম ৭ম ১ম Q
 সিঙ্গাপুর Q
 সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩য় ৪র্থ ১৩তম Q
 উগান্ডা ১৪তম ১৩তম
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৬ষ্ঠ ১২তম ১৫তম ১০ম
 নামিবিয়া × × × × × Q

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৭ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৪ 
  2. http://icc-cricket.yahoo.com/media-release/2008/July/media-release20080717-39.html[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] ICC-Cricket, retrieved 17 July 2008
  3. "Important dates for Associate cricket"। Cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ১১, ২০০৯ 
  4. "UAE to host expanded World Twenty20 Qualifiers"। Cricinfo.com। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৭, ২০০৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]