আইপি ওভার এভিয়ান ক্যারিয়ার
কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ে, আইপি ওভার এভিয়ান ক্যারিয়ার (IPoAC) হলো একটি রসাত্মক প্রস্তাব। এতে কবুতরের মতো পাখির মাধ্যমে ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) ট্রাফিক আদান-প্রদানের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রস্তাবটি প্রথম RFC 1149-এ উল্লেখ করা হয়। ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্সের ডেভিড ওয়াইটজম্যান এটি রচনা করেন এবং ১৯৯০ সালের ১ এপ্রিল এটি প্রকাশিত হয়। এটি মূলত এপ্রিল ফুল দিবসের বিশেষ আরএফসিগুলোর (RFC) একটি উদাহরণ।
পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ১ এপ্রিল, RFC 2549-এ আইপি ওভার এভিয়ান ক্যারিয়ার উইথ কোয়ালিটি অব সার্ভিস শিরোনামে এই প্রোটোকলটির একটি উন্নত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ১ এপ্রিল RFC 6214 প্রকাশিত হয়। এই সংস্করণে আইপিভি৬ (IPv6)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য ব্রায়ান কার্পেন্টার এবং রবার্ট হিন্ডেন প্রোটোকলটিকে অভিযোজিত করেন।RFC 6214
বাস্তবে আইপিওএসি (IPoAC) প্রয়োগ করা হলেও এর ফলাফল ছিল অত্যন্ত সীমিত। পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র নয়টি প্যাকেট ডেটা পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে অপারেটরের ত্রুটির কারণে ৫৫% প্যাকেট লস হয়। প্রতিক্রিয়া সময় ছিল ৩,০০০ second (৫০ minute) থেকে ৬,০০০ second (১০০ minute)-এরও বেশি, যা অত্যন্ত ধীরগতির। মূলত উচ্চ ল্যাটেন্সি বা বিলম্বের সমস্যাই এই প্রযুক্তির প্রধান দুর্বলতা।[১]
বাস্তব জীবনে প্রয়োগ
[সম্পাদনা]২০০১ সালের ২৮ এপ্রিল নরওয়ের বার্গেন লিনাক্স ব্যবহারকারী গ্রুপ বাস্তবে আইপিওএসি (IPoAC) প্রয়োগ করে। তারা এই ব্যবস্থার নাম দিয়েছিল সিপিআইপি (CPIP - Carrier Pigeon Internet Protocol)।[২] তারা প্রায় ৫ কিমি (৩ মা) দূরত্বে নয়টি প্যাকেট পাঠায়। প্রতিটি পায়রা একটি করে প্যাকেট বহন করেছিল এবং তাদের মধ্যে চারটির সফল উত্তর (ping response) পাওয়া যায়।
Script started on Sat Apr 28 11:24:09 2001
$ /sbin/ifconfig tun0
tun0 Link encap:Point-to-Point Protocol
inet addr:10.0.3.2 P-t-P:10.0.3.1 Mask:255.255.255.255
UP POINTOPOINT RUNNING NOARP MULTICAST MTU:150 Metric:1
RX packets:1 errors:0 dropped:0 overruns:0 frame:0
TX packets:2 errors:0 dropped:0 overruns:0 carrier:0
collisions:0
RX bytes:88 (88.0 b) TX bytes:168 (168.0 b)
$ ping -c 9 -i 900 10.0.3.1
PING 10.0.3.1 (10.0.3.1): 56 data bytes
64 bytes from 10.0.3.1: icmp_seq=0 ttl=255 time=6165731.1 ms
64 bytes from 10.0.3.1: icmp_seq=4 ttl=255 time=3211900.8 ms
64 bytes from 10.0.3.1: icmp_seq=2 ttl=255 time=5124922.8 ms
64 bytes from 10.0.3.1: icmp_seq=1 ttl=255 time=6388671.9 ms
--- 10.0.3.1 ping statistics ---
9 packets transmitted, 4 packets received, 55% packet loss
round-trip min/avg/max = 3211900.8/5222806.6/6388671.9 ms
Script done on Sat Apr 28 14:14:28 2001
বাস্তব প্রয়োগের এই উদাহরণটি ফ্রান্সের সংসদ সদস্য মার্টিন বিলার্ড ফরাসি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে উল্লেখ করেছিলেন।[৩] ফরাসি HADOPI-এর (একটি কপিরাইট আইন) বিষয়ে বিতর্ক চলাকালীন বিষয়টি আলোচনায় আসে।
ঝুঁকি
[সম্পাদনা]২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বার্ড ফ্লু নিয়ে গার্টনারের (Gartner) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, "মহামারি সরাসরি আইটি সিস্টেমকে প্রভাবিত করবে না।" তবে প্রতিবেদনটি রসাত্মক সমালোচনার মুখে পড়ে; কারণ এতে আরএফসি ১১৪৯ এবং আরএফসি ২৫৪৯-এর বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছিল।[৪]
এই প্রোটোকলের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আরএফসি ২৫৪৯ (RFC 2549) অনুযায়ী, "শিকারি বাজপাখির আক্রমণের কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে এনক্যাপসুলেশন ঘটতে পারে। এটি ডিক্যাপসুলেশন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে এবং প্যাকেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।"
- আরএফসি ১১৪৯ (RFC 1149) উল্লেখ করে, "যদিও সম্প্রচার (broadcasting) সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত নয়, তবে পাখির ঝাঁক বা ঝড় প্রায়শই ডেটা হারানোর কারণ হতে পারে।"
- আরএফসি ৬২১৪-এ (RFC 6214) বলা হয়েছে, "নিউজিল্যান্ডের মতো কিছু স্থানে অনেক বাহক কেবল ছোট হপ করতে পারে, তাও কেবল তখনই সম্ভব যখন আলোর মাত্রা খুব কম থাকে।" এটি মূলত কিউই পাখির উড়তে না পারা এবং নিশাচর স্বভাবের প্রতি ইঙ্গিত করে।
- প্রজাতির বিলুপ্তি: যেমন প্যাসেঞ্জার পিজনের বিলুপ্তি।
- বাহকদের রোগাক্রান্ত হওয়া: আরএফসি ৬২১৪ অনুযায়ী, "বাহক পাখিদের এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।"
- নেটওয়ার্ক টপোলজির সীমাবদ্ধতা: মাল্টিকাস্ট যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক টপোলজি বাহকদের স্বভাবের ওপর নির্ভর করে। আরএফসি ৬২১৪-তে উল্লেখ করা হয়েছে, "... বাহকেরা মাল্টিহোমিংয়ে দক্ষ নয় এবং মাল্টিহোমিংয়ের চেষ্টা করলে তারা রাউটিং লুপে পড়ে যায়।"
অন্যান্য পাখি দ্বারা তথ্য স্থানান্তরের পদ্ধতি
[সম্পাদনা]রাফটিং বা ভেলা চড়ার ছবি তোলার জন্য আলোকচিত্রীরা ইতোমধ্যে স্নিকারনেট হিসেবে কবুতর ব্যবহার শুরু করেছেন। তারা ফ্ল্যাশ মিডিয়াতে ডিজিটাল ছবি সংরক্ষণ করে কবুতরের মাধ্যমে ট্যুর অপারেটরের কাছে পাঠান।[৫] প্রায় ৩০-মাইল (৪৮-কিলোমিটার) দূরত্বে একটি কবুতর এক ঘণ্টায় কয়েক গিগাবাইট ডেটা বহন করতে পারে। প্রাথমিক যুগের এডিএসএল-এর তুলনায় গড় ব্যান্ডউইথের দিক থেকে এটি অত্যন্ত কার্যকরী। এমনকি ডেটা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বিবেচনা করলেও এটি তুলনামূলকভাবে উন্নত একটি পদ্ধতি।[৬]
২০০৪ সালের ১২ মার্চ, ইয়োসি ভার্ডি, অমি বেন-বাসাত এবং গাই ভার্ডি তিনটি কবুতরকে ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) দূরত্বে পাঠান। প্রতিটি কবুতর ২০ থেকে ২২টি মেমোরি কার্ড বহন করছিল, যাতে মোট ৪ গিগাবাইট ডেটা ছিল। এর ফলে ২.২৭ Mbps কার্যকর ব্যান্ডউইথ অর্জিত হয়। এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল আরএফসি ২৫৪৯-এর চেয়ে উন্নত ফলাফল প্রদর্শন করা।[৬] তবে পরীক্ষায় কাগজের পরিবর্তে ফ্ল্যাশ মেমোরি ব্যবহার করায়, এটি আরএফসি ২৫৪৯-এর মূল ধারণার পরিপন্থী হিসেবে সমালোচিত হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান "দ্য আনলিমিটেড" একটি মজার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তারা তাদের পোষা কবুতর 'উইনস্টন'-কে টেলকম এসএ-এর এডিএসএল (ADSL) ইন্টারনেট সংযোগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামায়। প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) দূরত্বে অবস্থিত হাওইক থেকে হিলক্রেস্ট পর্যন্ত ৪ গিগাবাইট ডেটা স্থানান্তরের প্রতিযোগিতা হয়। উইনস্টন একটি মাইক্রোএসডি কার্ড বহন করে মাত্র দুই ঘণ্টা ছয় মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে গন্তব্যে পৌঁছায় এবং ডেটা স্থানান্তর সম্পন্ন করে। অন্যদিকে, একই সময়ে এডিএসএল সংযোগের মাধ্যমে মাত্র ৪% ডেটা স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছিল।[৭][৮]
২০০৯ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার হাংরি বিস্ট নামক একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান দক্ষিণ আফ্রিকার এই পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করে। তারা একটি কবুতর, একটি গাড়ি এবং টেলস্ট্রা এডিএসএল সংযোগের মধ্যে ৭০০ মেগাবাইট ডেটা স্থানান্তরের প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। প্রায় ১৩২ কিলোমিটার (৮২ মাইল) দূরত্বের এই প্রতিযোগিতার রুট ছিল তারানা থেকে প্রসপেক্ট পর্যন্ত। প্রতিযোগিতার মাঝপথে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ডেটা স্থানান্তর নতুন করে শুরু করতে হয়। কবুতরটি মাত্র ১ ঘণ্টা ৫ মিনিটে তার কাজ শেষ করে প্রথম হয়। গাড়িটি ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে, আর ইন্টারনেট সংযোগটি ডেটা স্থানান্তরে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।[৯]
২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ারে অনুরূপ আরেকটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেখানে একটি কবুতর ৩০০ মেগাবাইটের একটি ভিডিও ফাইল বহন করে এবং ব্রিটিশ টেলিকমের ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। কবুতরটি মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছে যায়, কিন্তু ততক্ষণে ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে ভিডিওটির আপলোড সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।[১০]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Momot, Chris (২৮ জুলাই ২০০৮)। "IP over Avian Carriers high latency"। Calgary Herald। পৃ. ১৫। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০২২ – Newspapers.com এর মাধ্যমে।
- ↑ "RFC-1149 - The highly unofficial CPIP WG"। BLUG। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০০২।
- ↑ "Assemblée nationale ~ Troisième séance du mercredi 22 juillet 2009"। ৭ মার্চ ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩।
J'avais été choquée, monsieur le ministre, de vous entendre parler de pigeons voyageurs, mais, finalement, vous aviez peut-être raison. Il existe en effet une norme, la norme RFC 1149, qui date du 1er avril 1990 bien que ce n'est pas un poisson d'avril (Sourires), qui décrit comment on peut faire une transmission internet par pigeon voyageur. Neuf paquets de données ont été envoyés.
- ↑ "Virus Risks of RFC1149 and RFC2549"। Yui Kee Computing Articles। ৯ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০১৩।
- ↑ Human, Katy (২২ জুন ২০০৭)। "Homing pigeons get down to business, ferrying rafting company photos"। Denver Post। ৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৭।
- 1 2 "A New Israeli test confirms: PEI (Pigeon Enabled Internet) is FASTER than ADSL"। קצה - RIM - Ami Ben-Bassat's Blog। ১৩ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ Govender, Peroshni (৯ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। "Pigeon transfers data faster than South Africa's Telkom"। Reuters। ১৩ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০২১।
- ↑ "SA pigeon 'faster than broadband'"। BBC News। ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৯। ১৪ এপ্রিল ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১১।
- ↑ Real Human Stories (১০ নভেম্বর ২০০৯)। "Pigeons vs. Australian Internet (Hungry Beast)"। YouTube। ৫ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০১৪।
- ↑ Pigeon flies past broadband in data speed race, BBC News Technology, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১০, ২ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮