আইকন খেলোয়াড়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আইকন খেলোয়াড় একটি মর্যাদা যা সাধারণত কোনও অ্যাথলিটকে প্রদান করা হয়। এই মর্যাদা প্রদানের সাহায্যে বোঝানো হয় যে সেই খেলোয়াড়টি তাঁরা দলের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়। শিরোনামটি বর্তমানে ঘরোয়া ক্রিকেটে সাধারণত ব্যবহৃত হচ্ছে; বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ, আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগ এবং ইউরো টি টোয়েন্টি স্ল্যাম এ। আগে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ, পাকিস্তান সুপার লীগ এবং গ্লোবাল টি ২০ কানাডা তেও ব্যবহার করা হত। এই মর্যাদাটি মাঝে মাঝে বোঝাতে পারে যে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়টি খসড়ায় বা লিগের নিলামে প্রথম বা সর্বোচ্চ হয়ে অবস্থান করেন।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ[সম্পাদনা]

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এ পাঁচ জনকে আইকন খেলোয়াড়ের মর্যাদা দেওয়া হয়ে ছিল। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম আইপিএল-এ খেলোয়াড় নিলামের অংশ ছিল না। তাঁরা যে দলে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তাঁরা সেই দলের হয়েই খেলেছেন। আইকন খেলোয়াড়রা নিলামে কেনা দলের সর্বোচ্চ-প্রাপক খেলোয়াড়ের চেয়ে ১৫% শতাংশ বেশি অর্থ পেয়েছিলেন। [১] ২০১০ সালের মরসুম পর্যন্ত খেলোয়াড়দের নিলামে আইকন খেলোয়াড় ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতার কারণ হচ্ছে - ফ্র্যাঞ্চাইজিদের এই অভিযোগে সে ব্যবস্থার অপসারণ করা হয়। [২]

প্রাথমিকভাবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের সাংগঠনিক কমিটি কর্তৃক মনোনীত চার জন আইকন খেলোয়াড় ছিলেন: শচীন তেন্ডুলকর মুম্বই ইন্ডিয়ানস এর জন্য, সৌরভ গাঙ্গুলি কলকাতা নাইট রাইডার্স এর জন্য, রাহুল দ্রাবিড় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর এর জন্য এবং যুবরাজ সিং কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এর জন্য। পরে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস এর অনুরোধে বীরেন্দ্র শেওয়াগ এর নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। ডেকান চার্জার্স ভিভিএস লক্ষ্মণ কে আইকন প্লেয়ারের মর্যাদা দেওয়ার জন্যও বলেছিলেন। তবে তখনও তিনি মার্কিন ডলার ৫ মিলিয়ন বেতন ক্যাপ লঙ্ঘন করছেন না বলে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে অন্য খেলোয়াড়দের জন্য আরও বেশি অর্থ ব্যয় করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। [৩] আইকন খেলোয়াড়দের মনোনীত করার পেছনের উদ্দেশ্যটি ছিল শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়রা তাদের নিজ নিজ শহরের পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবে তা নিশ্চিত করা যা লিগের পক্ষে স্থানীয়দের মধ্যে ফ্যান সমর্থন এবং আগ্রহ বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দেখা গেল যে আইকন খেলোয়াড় সম্পর্কিত ব্যাপারে সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির মনে হয়েছিল যে আইকন খেলোয়াড় থাকায় খেলোয়াড় নিলামের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ঘটছে। কারণ আইকনের জন্য ব্যয় করা অর্থের ফলে অন্যান্য খেলোয়াড়দের কেনার মতো বেতন ক্যাপের আওতায় কম জায়গা পড়ে থাকছে। [৪] উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে শচীন তেন্ডুলকর এর আইকন খেলোয়াড় হিসাবে উপস্থিতির মূল কারণে মহেন্দ্র সিং ধোনি এর জন্য চেন্নাই সুপার কিংস এর সাথে মুম্বই ইন্ডিয়ানস প্রতিদ্বন্দ্বীতা না করতে পারার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। [৫]

পাকিস্তান সুপার লীগ[সম্পাদনা]

পাকিস্তান সুপার লীগ এর প্রথম মরসুমে পাঁচ জনকে আইকন খেলোয়াড়ের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ খেলোয়াড় লিগে খসড়া প্রথম পাঁচ জন হবেন যাতে প্রতিটি দলেই আইকন খেলোয়াড় থাকেন। শিরোনামটি কেবল পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের জন্যই একচেটিয়া ছিল না এবং পাঁচ জন আইকন খেলোয়াড়ের মধ্যে তিন জন ছিলেন বিদেশী। [৬]

পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক এবং টেস্টে সর্বোচ্চ স্কোরকারী ব্যাটসম্যান ইউনুস খান আইকন খেলোয়াড়ের মর্যাদা থেকে বাদ পড়ায় অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাঁদেরকে লীগে নেতৃত্বের ভূমিকা না দেওয়া হলে তাঁরা লীগকে এড়িয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্ত বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।[৭]

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ এ ছটি দলের ছয় জনকে আইকন খেলোয়াড়ের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। আইকন প্লেয়ারের মর্যাদা কেবল প্রথম মরসুম এর জন্য উপলব্ধ ছিল। আইকন খেলোয়াড়দের বেস পুরস্কার ছিল US$ ২১০,০০০। তাঁদের নিলাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং তাঁরা স্থানীয় সর্বাধিক প্রাপক খেলোয়াড়দের চেয়ে ১৫% বেশি অর্থ পেয়েছিলেন। পরবর্তী মরসুমে আইকন মর্যাদা প্রদান বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং প্রথম বিভাগের স্থানীয় খেলোয়াড়দের গোল্ডেন বিভাগ হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। আবার আইকন বিভাগটি ২০১৫ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ এ বেস পুরস্কার মূল্য US$ ৫০,০০০ এর সাথে চালু হয়েছিল। [৮]

বিপিএল-এ আইকন খেলোয়াড়দের তালিকা[সম্পাদনা]

এপিএল-এ আইকন খেলোয়াড়দের তালিকা[সম্পাদনা]

ইটি২০ স্ল্যাম-এ আইকন খেলোয়াড়দের তালিকা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Cricinfo - IPL to decide on 'icon' status for Sehwag and Laxman
  2. Rao, K Shriniwas (২০০৯-০৮-১২)। "IPL bids goodbye to 'icon' players"Times of India। ২০১১-০৮-১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০২-১১ 
  3. "Laxman truly is special"The Telegraph। Calcutta, India। ২০০৮-০২-২১। 
  4. "Cricket"The Times Of India 
  5. "Icon Player Information"। RTBot.net। 
  6. Toqui, Tahmid। "Pakistan Super League draft system and player Salary"TSM Plug। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৬ 
  7. "PSL icon players snub angers Misbah, Younis"The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৬ 
  8. Mohammad Isam (২২ অক্টোবর ২০১৫)। "Nineteen overseas player picked in BPL auction"ESPNCricinfo 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]