আংনিও
| আংনিও | |
| হাঙ্গুল | 웅녀 |
|---|---|
| হাঞ্জা | 熊女 |
| সংশোধিত রোমানীকরণ | Ungnyeo |
| ম্যাক্কিউন-রাইশাওয়া | Ungnyŏ |
আংনিও (কোরীয়: 웅녀; হাঞ্জা: 熊女; আক্ষরিক 'ভালুক নারী') কোরিয়ান জাতির সৃষ্টির কিংবদন্তি অনুসারে এক ভালুক যে পরবর্তীতে নারীতে পরিণত হয়।
কাহিনি
[সম্পাদনা]একটি বাঘ ও একটি ভালুক একসঙ্গে একটি গুহায় বাস করত এবং স্বর্গীয় রাজা হোয়ানউং এর কাছে প্রার্থনা করেছিল যাতে তারা মানব হয়ে উঠতে পারে। হোয়ানউং তাদের প্রার্থনা শুনলেন এবং তাদের ২০টি রসুন ও একগুচ্ছ মগওয়ার্ট দিলেন এবং আদেশ দিলেন যে ১০০ দিন তারা শুধুমাত্র এই খাদ্য গ্রহণ করবে এবং সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকবে। অনাহারের কারণে বাঘ প্রায় ২০ দিন পর গুহা ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু ভালুকটি গুহায় থেকে যায়। ২১ দিন পর, ভালুকটি এক নারীতে রূপান্তরিত হয়।
আংনিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হোয়ানউংকে নৈবেদ্য প্রদান করে। কিন্তু স্বামীর অভাবে সে বিষণ্ণতায় ভুগতে থাকে এবং এক পবিত্র বেতুলা গাছের (কোরীয়:신단수; 神檀樹) নিচে প্রার্থনা করতে থাকে যাতে সে একটি সন্তান লাভ করতে পারে। হোয়ানউং তার প্রার্থনা শুনে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি আংনিওকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন এবং কিছুদিন পরেই তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। এর নাম ডানগুন যে পরবর্তীতে কোরিয়া জাতির প্রতিষ্ঠাতা হন।
গল্পের ব্যাখ্যা
[সম্পাদনা]আংনিওর দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কোরিয়ার প্রাচীন জাতির প্রতিষ্ঠার কিংবদন্তি সাধারণত প্রতিষ্ঠাতার পিতৃপুরুষের রক্তরেখাকে চিওনশিন (কোরীয়:천신; 天神; আক্ষরিক 'আকাশ দেবতা') এবং মাতৃরেখাকে জিশিন (কোরীয়: 지신; হাঞ্জা: 地神; আক্ষরিক 'পৃথিবীর দেবতা') হিসেবে স্থাপন করে। ফলে, ওংন্যোকে টোটেম এর একটি রূপ হিসেবে গণ্য করা হয় যা ডানগুনের মাতৃরেখা দ্বারা দেবীতুল্য হয়েছে।
অন্যদিকে, ভালুকের নিজস্ব ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। ভালুক ভূমির দেবতা এবং কৃষি সংস্কৃতিতে উর্বরতার প্রতীক। তাই ভালুককে সাধারণত স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ধরা হয়। ওংন্যোকে এক ধরনের দেবী হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।