অ্যাসিড বৃষ্টি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Processes involved in acid deposition (note that only SO2 and NOx play a significant role in acid rain).

অ্যাসিড বৃষ্টি (ইংরেজি ভাষায়:Acid rain) এক ধরনের বায়ুদূষণ, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কারখানা এবং অন্যান্য উৎস থেকে সৃষ্ট বায়ুবাহিত অ্যাসিডের কণা পৃথিবীর দূরবর্তী অঞ্চলে বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ে। অ্যাসিড-বৃষ্টির ক্ষয়কারী ধর্ম পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। জীবাশ্ম জ্বালানী যেমন: কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল ইত্যাদির দহনের ফলে সৃষ্ট সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) এবং নাইট্রোজেনের (N) বিভিন্ন অক্সাইড বাতাসের জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সাথে মিলে সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য দূষণকারী পদার্থ সৃষ্টি করে। এই অ্যাসিডীয় দূষণকারী পদার্থগুলি বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে পৌঁছে এবং বাতাসের মাধ্যমে শত শত মাইল দূরে চলে যায়। পরিশেষে এগুলি বৃষ্টি, তুষার বা কুয়াশার আকারে, এমনকি অদৃশ্য অবস্থায় শুষ্ক আকারেও মাটিতে নেমে আসে।

পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর আমেরিকা, জাপান, চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপে অ্যাসিড বৃষ্টি বহু ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে মাটিতে গাছের পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায়, গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, হ্রদ ও জলাশয়কে মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর বসবাসের অযোগ্য করে তোলে। শহরাঞ্চলে অ্যাসিড বৃষ্টি দালানকোঠা ও ভাষ্কর্যের স্বাভাবিক ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের সাথে মিলে অ্যাসিড-বাষ্প নগরে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে। ধোঁয়াশা সেবন করে শহরের মানুষের ফুসফুস আক্রান্ত হয় এবং আয়ু কমে যায়।

এসিড বৃষ্টি হল বৃষ্টি বা কোন অন্য ধরনের শিশির যা বিশেষত অম্লধর্মী, অর্থাৎ এটি উঁচু মাত্রায় হাইড্রোজেন আয়ন (নিম্ন মাত্রার pH-) ধারণ করে। এটি উদ্ভিদ, জলজ প্রাণী, এবং অবকাঠামোর উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে। এসিড বৃষ্টি কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গমনের দ্বারা সংঘটিত হয় যা বায়ুমন্ডলের পানির অণুর সাথে প্রতিক্রিয়া করে অম্ল উত্পাদন করে। সরকারগুলো ইতিবাচক ফলাফল সহ ১৯৭০ সাল থেকে বায়ুমণ্ডলে সালফার ডাই অক্সাইড নির্গমন কমাতে প্রচেষ্টা সাধন করছে। নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলো প্রাকৃতিকভাবেও বজ্রাঘাতে উত্পাদিত হতে পারে এবং সালফার ডাইঅক্সাইড আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত দ্বারা উত্পাদিত হয়। অ্যাসিড বৃষ্টির রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা রং উঠে যেতে পারে, সেতুর মত ইস্পাতের কাঠামো জারিত বা ক্ষয় হয়ে যেতে পারে এবং পাথরের মূর্তি পুরোনো এবং জরাজীর্ণ দেখা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]