অ্যালেন মার্শাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অ্যালেন মার্শাল
Alan Marshal cricketer c1905.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামঅ্যালেন মার্শাল
জন্ম(১৮৮৩-০৬-১২)১২ জুন ১৮৮৩
ওয়ারউইক, কুইন্সল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু২৩ জুলাই ১৯১৫(1915-07-23) (বয়স ৩২)
ইমতারফা সামরিক হাসপাতাল, মাল্টা
উচ্চতা৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯০৩/০৪–১৯১৩/১৪কুইন্সল্যান্ড
১৯০৭–১৯১০সারে
এফসি অভিষেক২ এপ্রিল ১৯০৪ কুইন্সল্যান্ড বনাম নিউ সাউথ ওয়েলস
শেষএফসি১৯ ডিসেম্বর ১৯১৩ কুইন্সল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১১৯
রানের সংখ্যা ৫১৭৭
ব্যাটিং গড় ২৭.৯৮
১০০/৫০ ৮/৩১
সর্বোচ্চ রান ১৭৬
বল করেছে ৫৩৫৫
উইকেট ১১৯
বোলিং গড় ২২.৮৪
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৭/৪১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১১৪/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১০ এপ্রিল ২০১৯

অ্যালেন মার্শাল (ইংরেজি: Alan Marshal; জন্ম: ১২ জুন, ১৮৮৩ - মৃত্যু: ২৩ জুলাই, ১৯১৫) কুইন্সল্যান্ডের ডার্লিং ডাউন্স এলাকার ওয়ারউইকে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ড বুলস ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন তিনি।

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

চার বছর বয়সে পিতামাতার সাথে ব্রিসবেনে চলে যান। পরিবারের অপর দুই ভ্রাতা - মার্কাস ও ইসবি’র সাথে দক্ষিণ ব্রিসবেনের গ্ল্যাডস্টোন রোডের বাড়ীর সামনে ক্রিকেট খেলতেন। স্বীয় পিতার নামাঙ্কিত বাড়ি অনুসরণে ব্রুকস্টিডস ক্লাবের প্রথম খেলেন। এরপর ফ্রাঙ্কলিনস ও ক্লিফটনসের পক্ষে খেলেন। তন্মধ্যে, ক্লিফটনসের অধিনায়ক, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও মাঠ তদারককারীর দায়িত্ব পালন করতেন অ্যালেন মার্শাল। এক পর্যায়ে গ্রাজিয়ার্সের পক্ষেও খেলেছেন তিনি। পার্সি ম্যাকডোনেল, হ্যারি বয়েল, কানিংহাম ও স্যাম জোন্সের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। তাদের কাছ থেকে ক্রিকেট সম্পর্কে অনেককিছু ওয়াকিবহাল হন। প্রশিক্ষণের তেমন ব্যবস্থা না থাকলেও স্যাম জোন্স মাঝে-মধ্যেই তরুণ ক্রিকেটারদেরকে ক্রিকেটের ধারনা দিতেন। সিডনিভিত্তিক প্যাডিংটন ক্লাবে থাকাকালে একটি খেলায় ভিক্টর ট্রাম্পারের ৩২৪ রানের মনোরম ইনিংস অবলোকন করেছিলেন।

সাউথ ব্রিসবেন স্টেট স্কুল ও ব্রিসবেন গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন অ্যালেন মার্শাল। সেখানেই তিনি ক্রিকেট খেলার সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে ক্লাব ক্রিকেটের দিকে ধাবিত হন। এ পর্যায়ের সাউথ ব্রিসবেন ও সিডনিতে প্যাডিংটনের পক্ষে ক্রিকেট খেলেছেন।[১]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

মাঝারিসারিতে আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমায় ব্যাটিং প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী দীর্ঘদেহী অ্যালেন মার্শাল। ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে পিচে কিছুটা স্পিন করতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন।

কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে মাত্র এগারোটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ সময়ে দলটি শেফিল্ড শিল্ড প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেনি। ১৯০৫ সালে ইংল্যান্ড চলে যান তিনি। সেখানে ক্লাব ক্রিকেটে ২,৭০০ রানের অধিক সংগ্রহ করেছিলেন। মূলতঃ ডব্লিউ. জি. গ্রেসের নেতৃত্বাধীন লন্ডন কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলাসহ শৌখিন দলগুলোর সাথে কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ১৯০৬ সালে পূর্বের তুলনায় আরও ভালো করেন। ঐ মৌসুমের সবগুলো খেলায় অংশ নিয়ে ৪,৩০০ রানেরও অধিক খেলেন। আবাসকালীন যোগ্যতা অর্জনের পর ১৯০৭ সালে সারে দলের সদস্য হন। ইনিংস প্রতি প্রায় ২৫ গড়ে সহস্রাধিক রানের মাইলফলক অতিক্রম করেন তিনি।

১৯০৮ সালে তার খেলোয়াড়ী জীবন তুঙ্গে পৌঁছে। ইনিংস প্রতি চল্লিশোর্ধ্ব গড়ে ১৯৩১ রান তুলেন। স্বচ্ছ ও শক্তিশালী ড্রাইভিংয়ে তার ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য করা যায়। এরফলে ঐ মৌসুমের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯০৯ সালের উইজডেন সংস্করণে অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন।[২]

বিতর্কিত ভূমিকা[সম্পাদনা]

১৯০৮ সালের সফলতার পুণরাবৃত্তি ১৯০৯ সালে ঘটাতে পারেননি। তবে, আবারো সহস্রাধিক রান তুলেন। চেস্টারফিল্ডের কুইন্স পার্কে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে খেলার প্রাক্কালে সংঘটিত ঘটনায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ কয়েকটি খেলায় তার অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণ প্রকাশ করেনি। তবে, ১৯৩৫ সালে জ্যাক হবস তার আত্মজীবনীতে এ ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। মার্শাল ও তার কয়েকজন দলীয় সঙ্গী বল নিয়ে রাস্তায় খেলাধূলারত অবস্থায় হোটেলের দিকে যাচ্ছিলেন। একজন পুলিশ কনস্ট্যাবল মার্শালের নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা বলেননি। ফলশ্রুতিতে, চীফ কনস্ট্যাবলের কাছে তাকে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু তিনি এ ঘটনার নিষ্পত্তি করায় তা আর বিচারকের দরবারে পৌঁছেনি। অবশ্য হবস তখন চেস্টারফিল্ডে ছিলেন না। এ সময় তিনি ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলছিলেন।[৩]

১৯১০ মৌসুমের শুরুতে সেরা খেলাগুলো খেলেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার পর অস্ট্রেলিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেন। কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে মাঝে-মধ্যেই খেলায় অংশ নিলেও সীমিত পর্যায়ের সফলতা পেয়েছিলেন। সর্বমোট ১১৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন অ্যালেন মার্শাল। ১৯৮ ইনিংসের ১৩টি অপরাজিত থাকেন। ২৭.৯৮ গড়ে ৫,১৭৭ রান তুলেছিলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ১৭৬ রান। ১১৪ ক্যাচও তালুবন্দী করেছেন তিনি। বল হাতে ২২.৮৪ গড়ে ১১৯ উইকেট দখল করেন। ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান ৭/৪১।

বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন অস্ট্রেলীয় বাহিনীর অন্যতম হিসেবে গ্যালিপলি অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হন। মাল্টায় তাকে প্রেরণ করা হলে সেখানকার ইমতারফা সামরিক হাসপাতালে ২৩ জুলাই ১৯১৫ তারিখে মাত্র ৩২ বছর বয়সে তার দেহাবসান ঘটে।[৪]

অভিনেতা অ্যালেন মার্শাল সম্পর্কে তার আত্মীয় হন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার অ্যালেন মার্শাল সম্পর্কে ভাইপো ছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sinnamon, Myles (৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "Sport and War – Alan Marshal"Queensland's World War 1 Centenary blog। State Library of Queensland। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০১৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 
  3. Lemmon, David (1989) The History of Surrey County Cricket Club. Christopher Helm. আইএসবিএন ০-৭৪৭০-২০১০-৮. p. 127.
  4. "Cricketers who died in World War 1 — Part 4 of 5"Cricket Country। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৮ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]