অ্যারাকনিডা
আরাকনিডা ( /əˈræknɪdə/ ) হলো কেলিকেরাটা উপপর্বের অন্তর্গত সন্ধিযুক্ত পা-বিশিষ্ট অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের ( আর্থ্রোপড ) একটি শ্রেণি। মাকড়সা, কাঁকড়াবিছে, এঁটুল, মাইট, সিউডোস্করপিয়ন, হারভেস্টম্যান, উট মাকড়সা, চাবুক মাকড়সা এবং চাবুক বিছে প্রভৃতি এই শ্রেণির অন্তর্গত।[১]
প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক অ্যারাকনিডেরই আটটি পা থাকে। তবে কিছু প্রজাতির সামনের জোড়া পা সংবেদী অঙ্গে রূপান্তরিত হয়েছে। আবার অন্যান্য প্রজাতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপাঙ্গ এত বড় হতে পারে যে সেগুলোকে অতিরিক্ত জোড়া পা বলে মনে হয়। এই শব্দটি গ্রিক শব্দ ἀράχνη (aráchnē, অর্থ 'মাকড়সা') থেকে এসেছে। গ্রিক পুরাণের অহংকারী তাঁতি 'আরাকনে'-এর নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়েছে, যাকে পরবর্তীতে মাকড়সায় রূপান্তরিত করা হয়েছিল।[২]
বর্তমানে টিকে থাকা প্রায় সব অ্যারাকনিডই স্থলচর, অর্থাৎ এরা প্রধানত ডাঙায় বাস করে। তবে কিছু প্রজাতি মিষ্টি পানিতে এবং পেলাজিক অঞ্চল (উন্মুক্ত সমুদ্র) বাদে অন্যান্য সামুদ্রিক পরিবেশেও বাস করে। এরা ১,০০,০০০-এরও বেশি নামাঙ্কিত প্রজাতি নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে প্রায় ৪৭,০০০টিই মাকড়সার প্রজাতি। [৩]
রূপবিদ্যা
[সম্পাদনা]
বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক অ্যারাকনিডের মোট আটটি পা থাকে। এই চার জোড়া পা ছাড়াও অ্যারাকনিডদের আরও দুটি জোড়া উপাঙ্গ থাকে, যেগুলো খাদ্যগ্রহণ, আত্মরক্ষা ও সংবেদী অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। এদের প্রথম জোড়া উপাঙ্গের নাম কেলিসেরি, যা খাদ্যগ্রহণ ও আত্মরক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় জোড়া উপাঙ্গের নাম পেডিপাল্প, যা খাদ্যগ্রহণ, চলাচল ও জননে সাহায্য করে। সলফুগিদের পেডিপাল্পগুলো দেখতে পায়ের মতো হওয়ায় মনে হয় এদের দশটি পা রয়েছে। মাইট ও রিকিনিউলিদের লার্ভা অবস্থায় ছয়টি পা থাকে। তবে খোলস মোচনের মাধ্যমে এরা যখন নিম্ফ দশায় পৌঁছায়, তখন চতুর্থ জোড়া পা গজায়। অবশ্য মাইটদের ক্ষেত্রে পায়ের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে; যেমন কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মাইটের ছয়টি, এমনকি চারটি পা-ও থাকতে পারে।[৪]
অ্যারাকনিডদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোনো অ্যান্টেনা বা ডানা থাকে না। এদের শরীর দুটি ট্যাগমায় বিভক্ত: প্রসোমা (বা শিরোবক্ষ) এবং ওপিসথোসোমা (বা উদর)। (তবে জীবাশ্ম বা ভ্রূণতাত্ত্বিক প্রমাণে এদের মস্তক ও বক্ষ কখনো আলাদা থাকার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। তাই 'সেফালোথোরাক্স' বা শিরোবক্ষ নামটি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এমনকি 'উদর' নামটি নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে, কারণ ওপিসথোসোমায় শ্বসন অঙ্গ থাকে, যা সাধারণত উদরে থাকে না।[৫]) প্রসোমা বা সেফালোথোরাক্স সাধারণত একটি অখণ্ড ক্যারাপেস দ্বারা আবৃত থাকে। আদিকালে এদের উদর খণ্ডায়িত ছিল, কিন্তু বর্তমানে বহু প্রজাতির ক্ষেত্রে এই খণ্ডগুলো একত্রিত হয়ে গেছে। উদরকে অগ্রউদর ও পশ্চাৎউদর এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। তবে এটি মূলত কাঁকড়াবিছেদের মধ্যেই দেখা যায়; কারণ অ্যাকারিদের মতো কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে উদরের খণ্ডগুলো সম্পূর্ণ একত্রিত অবস্থায় থাকে।[৬] কাঁকড়াবিছেদের দেহে টেলসন নামক একটি অঙ্গ থাকে, যা হুলে রূপান্তরিত হয়েছে। অন্যদিকে শিজোমিডা, চাবুক মাকড়সা ও পাল্পিগ্রাডিদের ক্ষেত্রে এটি চাবুকের মতো লেজে পরিণত হয়।[৭]
অন্যান্য সন্ধিপদীদের মতো অ্যারাকনিডদেরও একটি বহিঃকঙ্কাল থাকে। এছাড়া এদের দেহে তরুণাস্থি-সদৃশ উপাদান দিয়ে গঠিত 'এন্ডোস্টারনাইট' নামক একটি অভ্যন্তরীণ কাঠামো থাকে। কিছু ওপিলিওনদের ক্ষেত্রে এটি ক্যালসিয়ামযুক্ত বা ক্যালসিফায়েড হয়ে থাকে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Cracraft, Joel & Donoghue, Michael, সম্পাদকগণ (২০০৪)। Assembling the Tree of Life। Oxford University Press। পৃ. ২৯৭।
- ↑ Oxford English Dictionary।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - ↑ Brabazon, Anthony (২০১৮)। Foraging-Inspired Optimisation Algorithms। Springer International Publishing। পৃ. ২৩৭। আইএসবিএন ৯৭৮৩৩১৯৫৯১৫৬৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|আইএসবিন=মান: অবৈধ অক্ষর পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ Schmidt, Günther (১৯৯৩)। Giftige und gefährliche Spinnentiere [Poisonous and dangerous arachnids] (জার্মান ভাষায়)। Westarp Wissenschaften। পৃ. ৭৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৮৯৪৩২-৪০৫-৬।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|আইএসবিন=মান: অবৈধ অক্ষর পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ Shultz, Stanley; Shultz, Marguerite (২০০৯)। The Tarantula Keeper's Guide। Hauppauge, New York: Barron's। পৃ. ২৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৬৪১-৩৮৮৫-০।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|আইএসবিন=মান: অবৈধ অক্ষর পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ Ruppert, E.; Fox, R. & Barnes, R. (২০০৭)। Invertebrate Zoology: A Functional Evolutionary Approach (৭th সংস্করণ)। Thomson Learning। আইএসবিএন ৯৭৮-০-০৩-০২৫৯৮২-১।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|আইএসবিন=মান: অবৈধ অক্ষর পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ The Colonisation of Land: Origins and Adaptations of Terrestrial Animals