অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পিটারবরা ক্রনিকল-এর প্রথম পৃষ্ঠা[১]

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল (ইংরেজি: Anglo-Saxon Chronicle) হল প্রাচীন ইংরেজি ভাষায় রচিত বর্ষপঞ্জির একটি সংকলন। এই সংকলনে অ্যাংলো-স্যাক্সনদের ইতিহাস কালানুক্রমিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর মূল পাণ্ডুলিপিটি খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীর শেষভাগে সম্ভবত ওয়েসেক্সে মহামতি অ্যালফ্রেডের রাজত্বকালে (৮৭১-৮৯৯) রচিত হয়েছিল। মূল পাণ্ডুলিপির অনুলিপি সারা ইংল্যান্ডের খ্রিস্টীয় মঠগুলিতে বিতরণ করা হয়েছিল। তারপর সেই সব মঠে তা আলাদা আলাদা ভাবে হালনাগাদ করা হতে থাকে। একটি ক্ষেত্রে দেখা যায় ১১৫৪ সালেও অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল সক্রিয়ভাবে হালনাগাদকৃত হয়েছিল।

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর মোট নয়টি সম্পূর্ণ অথবা খণ্ডিত পাণ্ডুলিপি পাওয়া গিয়েছে। অবশ্য সব ক’টি পাণ্ডুলিপির ঐতিহাসিক মূল্য সমান নয়; তাছাড়া এগুলির কোনওটিই অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর মূল পাণ্ডুলিপি নয়। অধুনা-লভ্য পাণ্ডুলিপিগুলির মধ্যে প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিটি সম্ভবত অ্যালফ্রেডের রাজত্বকালের অন্তিম পর্বে লেখা শুরু হয়েছিল; অপরপক্ষে সাম্প্রতিকতম পাণ্ডুলিপিটি পিটারবরা অ্যাবিতে একটি অগ্নিকাণ্ডের পর ১১১৬ সালে সেখানেই রচিত হয়েছিল। অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর প্রায় সকল বিষয়বস্তুই বর্ষপঞ্জির আকারে অর্থাৎ বছর অনুযায়ী লিখিত; সর্বপ্রথম ঘটনাটি খ্রিস্টপূর্ব ৬০ অব্দের (বর্ষপঞ্জির হিসেব অনুযায়ী যেটি জুলিয়াস সিজারের ব্রিটেন অভিযানের তারিখ), এরপরের ঐতিহাসিক উপাদান গ্রন্থবদ্ধ হয়েছে যে বছর কালপঞ্জিটি লেখা শুরু হচ্ছে অর্থাৎ সমসাময়িক বিবরণ যে সময় থেকে দেওয়া হচ্ছে সেই বছর থেকে। এই পাণ্ডুলিপিগুলি একত্রে অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল নামে পরিচিত।

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল বিভিন্ন ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট। অন্যান্য মধ্যযুগীয় উৎসসূত্রগুলির সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে অনেক সময় স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে যে, লিপিকরেরা অনেক ঘটনার কথা বাদ দিয়েছেন অথবা ঘটনার এক-তরফা পাঠ লিপিবদ্ধ করেছেন। ক্ষেত্রবিশেষে আবার বিভিন্ন পাঠের মধ্যে পরস্পর-বিরোধী বক্তব্যও চোখে পড়ে। সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে যদিও অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল রোমানদের ব্রিটেন ত্যাগ থেকে নর্ম্যান বিজয়ের পরবর্তী দশকগুলির মধ্যবর্তী সময়ের ইংল্যান্ড-সংক্রান্ত তথ্যের একক সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উৎসসূত্র। অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এ প্রাপ্ত অনেক তথ্যই অন্য কোথাও নথিবদ্ধ হয়নি। এছাড়া এই পাণ্ডুলিপিগুলি ইংরেজি ভাষার ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎসসূত্র; বিশেষত মধ্য ইংরেজি ভাষার যে আদিতম উদাহরণগুলি এখনও রক্ষিত আছে তার মধ্যে অন্যতম হল অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালে রচিত পিটারবরা পাঠটি

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর যে নয়টি সম্পূর্ণ অথবা খণ্ডিত পাণ্ডুলিপি পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে সাতটি রয়েছে ব্রিটিশ গ্রন্থাগারে। অপর দু’টির একটি রয়েছে অক্সফোর্ডের বডলিয়ান গ্রন্থাগারে এবং অন্যটি রাখা আছে কর্পাস ক্রিস্টি কলেজ, কেমব্রিজের পার্কার গ্রন্থাগারে

রচনাকাল ও স্থান[সম্পাদনা]

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর যে পাণ্ডুলিপিগুলি পাওয়া গিয়েছে সেগুলি কোনওটিই এর মূল পাণ্ডুলিপি নয়, বরং প্রতিলিপি। তাই এই কালপঞ্জির আদি পাঠটি কবে কোথায় রচিত হয়েছিল তা সঠিক জানা যায় না। তবে গবেষকেরা এই ব্যাপারে একমত যে মূল পাঠটি (যেটিকে কেউ কেউ আর্লি ইংলিশ অ্যানালস নামে অভিহিত করেছেন[২]) খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীর শেষভাগে ওয়েসেক্সের কোনও লিপিকর কর্তৃক রচিত হয়।[৩][৪][notes ১] ফ্র্যাংক স্টেনটন প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলিতে উল্লিখিত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মনে করেন যে, অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল প্রথমে কোনও ধর্মনিরপেক্ষ পৃষ্ঠপোষকের জন্য রচিত হয়, যিনি রাজা বা রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন না; সেই সঙ্গে স্টেনটন এও মনে করেন যে, এটির "রচনাস্থল [ছিল] দক্ষিণ-পশ্চিম শায়ারগুলির কোনও একটিতে… [যা] সমারসেট ও ডরসেটের সীমানা থেকে খুব দূরে ছিল না।" [৫] মূল অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল সংকলনের পর সেটির একাধিক প্রতিলিপি নকল করে বিভিন্ন খ্রিস্টীয় মঠে বিতরণ করা হয়। পরবর্তীকালে বিতরণের উদ্দেশ্যে অথবা হারানো পাণ্ডুলিপি প্রতিস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত কিছু প্রতিলিপিও করা হয়েছিল। কয়েকটি প্রতিলিপি আবার পরেও আলাদাভাবে হালনাগাদ করা হয়। বর্তমানে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলির সব ক’টিই এই পরবর্তীকালীন প্রতিলিপি মাত্র।[৬]

অধুনা-লভ্য সবচেয়ে পুরনো পাণ্ডুলিপিটি হল পার্কার ক্রনিকল। ৮৯১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি একক লিপিকর কর্তৃক লিখিত হয়েছিল (পরবর্তী পংক্তির মার্জিনে তিনি বছরের সংখ্যা "DCCCXCII" লিখে রাখেন); পরবর্তী ভুক্তিগুলি লিখিত হয় অন্যান্য লিপিকরদের দ্বারা।[৭] এর থেকে অনুমান করা হয় যে মূল অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল ৮৯২ খ্রিস্টাব্দের আগেই রচিত হয়েছিল। বিশপ অ্যাসের রচিত লাইফ অফ কিং অ্যালফ্রেড গ্রন্থে উৎসসূত্র হিসেবে অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর ব্যবহার আরেকটি প্রমাণ,কারণ জানা গিয়েছে যে অ্যাসেরের বইটির রচনাকাল ৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ।[৮] উইনচেস্টারে রক্ষিত পাণ্ডুলিপিটি দুই বার স্থানান্তরিত হয়েছিল, তাই সেই পাণ্ডুলিপিটি যে উইনচেস্টারেই লেখা তার কোনও প্রমাণ নেই।[৯]

মূল অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর রচনাকাল নির্ধারণ করা আরও কঠিন। তবে সাধারণভাবে মনে করা হয় যে অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল রচিত হয়েছিল মহামতি অ্যালফ্রেডের রাজত্বকালে অর্থাৎ ৮৭১ থেকে ৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনও সময়েই। এই অনুমানের কারণ, অ্যালফ্রেড নিজ রাজ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটাতে সচেষ্ট হয়েছিলেন এবং ইংরেজদের তিনি লিখিত ভাষা ব্যবহার করতে উৎসাহ দিতেন। অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর রচনা এবং বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্রে সেই কালপঞ্জির প্রতিলিপি বিতরণ সম্ভবত ছিল অ্যালফ্রেড কর্তৃক প্রবর্তিত সংস্কারগুলিরই ফলশ্রুতি।[১০]

প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি[সম্পাদনা]

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি কোথায় লেখা হয় এবং বর্তমানে সেগুলি কোথায় কোথায় রক্ষিত আছে তার একটি মানচিত্র

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর নয়টি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গিয়েছে। এগুলির মধ্যে সাতটি আগাগোড়াই প্রাচীন ইংরেজিতে (যা অ্যাংলো-স্যাক্সন ভাষা নামেও পরিচিত) লেখা। বাইলিঙ্গুয়াল ক্যান্টারবেরি এপিটোম নামে পরিচিত একটি পাণ্ডুলিপিতে প্রাচীন ইংরেজির সঙ্গে প্রতিটি বার্ষিক বিবরণের লাতিন অনুবাদও পাওয়া যায়। পিটারবরা ক্রনিকল নামে পরিচিত আরেকটি পাণ্ডুলিপির শেষ ভুক্তিটি বাদে পুরোটাই প্রাচীন ইংরেজিতে এবং শেষ ভুক্তিটি মধ্য ইংরেজিতে লেখা। এই নয়টি পাণ্ডুলিপির মধ্যে সবচেয়ে পুরনো পাণ্ডুলিপিটি (কর্পাস ক্রিস্টি পাণ্ডুলিপি সংখ্যা ১৭৩) উইনচেস্টার পাণ্ডুলিপি বা পার্কার পাণ্ডুলিপি (এটির পূর্বতন অধিকারী ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ ম্যাথিউ পার্কারের নামানুসারে) নামেও পরিচিত। এই পাণ্ডুলিপিটি ১০৭০ খ্রিস্টাব্দের ভুক্তি পর্যন্ত মার্শিয়ান উপভাষায় এবং তার পর থেকে ১০৭৫ খ্রিস্টাব্দের ভুক্তি পর্যন্ত লাতিনে লেখা। নয়টি পাণ্ডুলিপির মধ্যে ছয়টি পাণ্ডুলিপি ১৮৬১ সালের রোলস সংস্করণে বেঞ্জামিন থর্প কর্তৃক মুদ্রিত হয়। এই মুদ্রণে অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর পাঠগুলি এ থেকে এফ পর্যন্ত ছয়টি স্তম্ভে ভাগ করা হয়েছিল। এগুলি ছাড়াও আরেকটি পুড়ে যাওয়া সপ্তম পাণ্ডুলিপি থেকে কয়েকটি উদ্ধারযোগ্য অংশ তিনি [জি] শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এই পাণ্ডুলিপিটি ১৭৩১ সালে অ্যাশবার্নহ্যাম হাউসে একটি অগ্নিকাণ্ডে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। পাণ্ডুলিপিগুলির নামকরণের এই প্রথা চালু হওয়ার পর আরও দু’টি পাণ্ডুলিপিকে [এইচ] ও [আই] নামে অভিহিত করে এর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। লভ্য পাণ্ডুলিপিগুলির তালিকা নিচে দেওয়া হল:

পাঠ ক্রনিকলের নাম অবস্থান পাণ্ডুলিপির নাম
উইনচেস্টার (বা পার্কার) ক্রনিকল পার্কার গ্রন্থাগার, কর্পাস ক্রিস্টি কলেজ ১৭৩
বি অ্যাবিংডন ক্রনিকল এক ব্রিটিশ গ্রন্থাগার কটন টাইবেরিয়াস এ. ছয়
সি অ্যাবিংডন ক্রনিকল দুই ব্রিটিশ গ্রন্থাগার কটন টাইবেরিয়াস বি. এক
ডি উস্টার ক্রনিকল ব্রিটিশ গ্রন্থাগার কটন টাইবেরিয়াস বি. চার
পিটারবরা (বা লাউড) ক্রনিকল বডলিয়ান গ্রন্থাগার লাউড মিসলেনিয়াস ৬৩৬
এফ বাইলিঙ্গুয়াল ক্যান্টারবেরি এপিটোম ব্রিটিশ গ্রন্থাগার কটন ডোমিশিয়ান এ. আট
জি বা এ বা ডব্লিউ উইনচেস্টার ক্রনিকল-এর একটি প্রতিলিপি ব্রিটিশ গ্রন্থাগার কটন ওথো বি. এগারো + ওথো বি. দশ
এইচ কটনিয়ান ফ্র্যাগমেন্ট ব্রিটিশ গ্রন্থাগার কটন ডোমিশিয়ান এ. নয়
আই অ্যান ইস্টার টেবিল ক্রনিকল ব্রিটিশ গ্রন্থাগার কটন ক্যালিগুলা এ. পনেরো

পাণ্ডুলিপিগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর সাতটি পাণ্ডুলিপির পারস্পরিক সম্পর্কের রেখাচিত্র। এই রেখাচিত্রে [এইচ] নামাঙ্কিত খণ্ডিত পাণ্ডুলিপিটি অবশ্য নির্ভরযোগ্যভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সম্পর্কিত অন্যান্য পাঠগুলিও প্রদর্শিত হয়েছে। সেই সঙ্গে রেখাচিত্রে একটি অনুমানমূলক মূল পাণ্ডুলিপিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেটি বর্তমানে অবলুপ্ত। এছাড়া উত্তর ইংল্যান্ডে রচিত পাণ্ডুলিপিগুলির একটি সংস্করণের সম্পর্কও দেখানো হয়েছে। এই শেষোক্ত পাণ্ডুলিপিগুলি এখন আর পাওয়া না গেলেও এক সময়ে এগুলির অস্তিত্ব ছিল বলে মনে করা হয়।

গবেষকেরা অনুমান করেন, অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর সব ক’টি পাণ্ডুলিপিই একটিমাত্র মূল পাণ্ডুলিপি থেকে উৎসারিত। কিন্তু এই পাঠগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক নিছক দুই সাধারণ উত্তরাধিকারীর পারস্পরিক সম্পর্কের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। ডানদিকের রেখাচিত্রে সেই সম্পর্কের একটি সাধারণ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। নিচে এই সম্পর্ক সম্পর্কে যা জানা যায় তার একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হল:[৭]

  • [এ] পাণ্ডুলিপিটি ছিল [এ] পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি। [এ] পাণ্ডুলিপিটি উইনচেস্টারে লিখিত এবং রচনাকাল সম্ভবত ১০০১ থেকে ১০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়।
  • [সি] পাণ্ডুলিপিটি সংকলিত হয়েছিল অ্যাবিংটনে একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে। সংকলনের সময় [বি] পাণ্ডুলিপিটিকে ব্যবহার করা হয়েছিল। অবশ্য [সি] পাণ্ডুলিপির লিপিকরের কাছে অপর একটি সংস্করণও ছিল, যার অস্তিত্ব এখন আর নেই।
  • [ডি] পাণ্ডুলিপিতে বিড কর্তৃক ৭৩১ সালে রচিত ইক্লিজিঅ্যাস্টিক্যাল হিস্ট্রি অব দি ইংলিশ পিপল এবং অষ্টম শতাব্দীতে রচিত একগুচ্ছ নরদামব্রিয়ান বর্ষপঞ্জি থেকে উপাদান গৃহীত হয়েছে। মনে করা হয় যে, [ডি] পাণ্ডুলিপিটি উত্তর ইংল্যান্ডে রচিত একটি অধুনা-অবলুপ্ত সংস্করণ থেকে প্রতিলিপি করা হয়েছিল।
  • [ই] পাণ্ডুলিপিটিতে [ডি] পাণ্ডুলিপির উৎসসূত্রের অনুরূপ বিষয়বস্তু গ্রন্থিত হয়েছে। কিন্তু "মার্শিয়ান রেজিস্টার"-এর মতো কিছু কিছু বিষয় শুধুমাত্র [ডি] পাণ্ডুলিপিতেই পাওয়া যায়। এই পাণ্ডুলিপিটি রচিত হয়েছিল পিটারবরার খ্রিস্টীয় মঠে। সম্ভবত ১১১৬ সালে একটি অগ্নিকাণ্ডে সেই মঠে রক্ষিত অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর প্রতিলিপিটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কিছুকাল পরে [ই] পাণ্ডুলিপিটি রচিত হয়; মনে করা হয় যে, [ই] পাণ্ডুলিপিটি এরপর সম্ভবত ক্যান্টারবেরি থেকে একটি কেন্টিশ সংস্করণের আকারে সৃষ্ট হয়েছিল।
  • [এফ] পাণ্ডুলিপিটি দেখে মনে হয়, যে ক্যান্টারবেরি সংস্করণটি [ই] পাণ্ডুলিপি রচনার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেই সংস্করণের বিষয়বস্তুই [এফ] পাণ্ডুলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
  • বিশপ অ্যাসের কর্তৃক ৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে রচিত লাইফ অফ কিং অ্যালফ্রেড গ্রন্থে অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর একটি ভুক্তির অনুবাদ সংকলিত হয়েছিল। ভুক্তিটির রচনাকাল ৮৪৯ থেকে ৮৮৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়। প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলির মধ্যে সম্ভবত [এ] পাণ্ডুলিপিটিই ৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের আগে রচিত। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় অ্যাসেরের বিবরণ [এ] পাণ্ডুলিপির পাঠের অনুরূপ নয়। তাই এমনও হতে পারে যে অ্যাসের [এ] পাণ্ডুলিপির এমন একটি সংস্করণ ব্যবহার করেছিলেন যা এখন আর পাওয়া যায় না।[notes ২]
  • এথেলওয়ার্ড দশম শতাব্দীর শেষভাগে লাতিন ভাষায় অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ক্রনিকন এথেলওয়ার্ডি (লাতিন: Chronicon Æthelweardi) নামে পরিচিত। এই অনুবাদের কাজে পাণ্ডুলিপির যে সংস্করণটি তিনি ব্যবহার করেছিলেন সেটি সম্ভবত এসেছিল রেখাচিত্রে উল্লিখিত [এ] পাণ্ডুলিপির উৎস যে শাখাটি সেই শাখা থেকেই।[১২]
  • অ্যাসেরের পাঠটি [এ] পাণ্ডুলিপি ও এথেলওয়ার্ডের পাঠের সঙ্গে কোথাও কোথাও মিললেও [বি], [সি], [ডি] ও [ই] পাণ্ডুলিপির সমন্বয়িত পাঠের প্রামাণ্য সাক্ষ্যের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। সেই জন্যই গবেষকেরা মনে করেন যে, শেষোক্ত চারটি পাণ্ডুলিপির একটি একক পূর্বসূরির অস্তিত্ব ছিল।[১৩]
  • বেরি সেন্ট এডমন্ডসে ১১২০ থেকে ১১৪০ সালের মধ্যবর্তী কোনও সময়ে কোনও এক অজ্ঞাতনামা লেখক অ্যানালস অফ সেন্ট নিওটস নামে এক লাতিন কালপঞ্জি রচনা করেছিলেন। এই গ্রন্থে অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর একটি প্রতিলিপি থেকে কিছু উপাদান অন্তর্ভুক্ত হলেও তা কোন প্রতিলিপি থেকে নেওয়া হয়েছিল তা বলা কঠিন। কারণ কালপঞ্জিকার বেছে বেছে উপাদান ব্যবহার করেছিলেন। সম্ভবত এই উৎস-পাণ্ডুলিপিটি ছিল উত্তর ইংল্যান্ডে রচিত কোনও সংস্করণ অথবা সেই সংস্করণ থেকে উদ্ভূত কোনও লাতিন সংস্করণ।[১২]

উপরিউক্ত সব ক’টি পাণ্ডুলিপিতেই ৭৫৬ থেকে ৮৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে একটি কালপঞ্জিগত ভুল রয়েছে। কিন্তু অ্যানালস অফ সেন্ট নেওটস-এর রচয়িতা যে সেই ভুল-সম্বলিত কোনও প্রতিলিপি ব্যবহার করেননি তা স্পষ্টই বোঝা যায় এবং নিশ্চিতভাবেই সেই প্রতিলিপিটি রচিত হয়েছিল আগেই। অ্যাথেলওয়ার্ডের প্রতিলিপিটিতে এই ভুলটি ছিল। কিন্তু এই প্রতিলিপির ৮৮৫ খ্রিস্টাব্দের বর্ষপঞ্জি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য হারিয়ে যায়নি, যা অন্য সকল প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি থেকে হারিয়ে গিয়েছে। অতএব সেই ভুলটি এবং হারিয়ে যাওয়া বাক্যটির রচনা নিশ্চয়ই প্রতিলিপিকরণের পৃথক পর্যায়ে ঘটেছিল, যা ইঙ্গিত করে যে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলির কোনওটিই মূল সংস্করণ থেকে দুইবার প্রতিলিপিকরণের আগে রচিত হয়নি। [১৩]

পাণ্ডুলিপির ইতিহাস[সম্পাদনা]

উইনচেস্টার পাণ্ডুলিপি[সম্পাদনা]

উইনচেস্টার ক্রনিকল বা পার্কার ক্রনিকল-এর একটি পৃষ্ঠায় বংশলতিকা-সংক্রান্ত ভূমিকা

[এ] পাণ্ডুলিপি (অপর নাম: উইনচেস্টার ক্রনিকল বা পার্কার ক্রনিকল): [এ] পাণ্ডুলিপিটি হল অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর লভ্য পাণ্ডুলিপিগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরনো। রাজা অ্যালফ্রেডের শাসনকালের শেষভাগে ওল্ড মিনস্টার, উইনচেস্টারে এটির রচনার কাজ শুরু হয়। পাণ্ডুলিপির গোড়ায় অ্যালফ্রেডের একটি বংশলতিকা পাওয়া যায়। তবে কালপঞ্জির প্রথম ভুক্তিটি ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬০ অব্দের।[৭] অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর অন্তর্গত অংশটি পাণ্ডুলিপির ১ থেকে ৩২ সংখ্যক ফোলিওর মধ্যে ধৃত হয়েছে।[১৪] এই কালপঞ্জির অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলি অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালের রচনা হলেও [এ] পাণ্ডুলিপিটি প্রাচীন। তাই এই পাণ্ডুলিপিতে নবশ শতাব্দীর শেষভাগের ঘটনাগুলি বিভিন্ন লিপিকরের হস্তাক্ষরে গ্রন্থিত হয়েছে। প্রথম লিপিকরের হস্তলিপিটি নবম শতাব্দীর শেষভাগ বা দশম শতাব্দীর একেবারে গোড়ার দিকের বলে শনাক্ত করা যায়। এই লিপিকর রচিত ভুক্তিগুলি শেষ হয়েছে ৮৯১ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে এসে। পরবর্তী ভুক্তিগুলি মধ্যে মধ্যে বিরতি সহ বিভিন্ন লিপিকরের হস্তাক্ষরে সমগ্র দশম শতাব্দী জুড়ে গ্রন্থিত হয়েছে। অষ্টম লিপিকর ৯২৫-৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের বর্ষপঞ্জিগুলি রচনা করেন। এই অংশে উইনচেস্টার-সংক্রান্ত কিছু কিছু উপাদান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে দেখে স্পষ্টই বোঝা যায় অংশটি উইনচেস্টারেই লেখা হয়েছিল। তাছাড়া তিনি যে চেস্টার (ইংরেজি: ceaster) বা "শহর" কথাটিও ব্যবহার করেছেন তাও উইনচেস্টারকেই ইঙ্গিত করে।[১৫] ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ভুক্তিটির পরে [এ] পাণ্ডুলিপি অন্যান্য সংস্করণের থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এক পাঠে পরিণত হয়েছে। ৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ভুক্তিটির পর পাণ্ডুলিপির মধ্যে অ্যালফ্রেডের আইনসংহিতাআইনের আইনসংহিতাও একত্রে বাঁধাই করা হয়। একাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে সব কিছু সহ বইটি ক্যান্টারবেরিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।[৭] আর্চবিশপ ম্যাথিউ পার্কার কর্পাস ক্রিস্টি কলেজকে পাণ্ডুলিপির যে তালিকা দিয়েছিলেন তা থেকেই এই স্থানান্তরণের কথা জানা যায়।[১৪] ক্যান্টারবেরিতে নতুন কিছু সংযোজনের জন্য পাণ্ডুলিপিটি থেকে কিছু অংশ মুছে ফেলার প্রয়োজন হয়। এই অতিরিক্ত ভুক্তিগুলি দেখে মনে হয় তা পাণ্ডুলিপির এমন এক সংস্করণ থেকে গৃহীত হয়েছে যেটি [ই] পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।[১৫] স্থানীয় ভাষায় শেষ ভুক্তিটি ১০৭০ খ্রিস্টাব্দের। এরপরই শুরু হয়েছে লাতিন অ্যাক্টা ল্যানফ্রান্সি (লাতিন: Acta Lanfranci), যে অংশে ১০৭০ থেকে ১০৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চার্চের ঘটনাবলি গ্রন্থিত রয়েছে। যে সব পোপ ও ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপদের প্যালিয়াম প্রেরণ করা হয়েছিল, তার একটি তালিকা এর পরে গ্রন্থিত হয়েছে। ইংল্যান্ডে খ্রিস্টীয় মঠগুলির অবলুপ্তির পরে পান্ডুলিপিটি এসেছিল ম্যাথিউ পার্কারের হাতে। তিনি ছিলেন ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ (১৫৫৯-১৫৭৫)[৭] তথা কর্পাস ক্রিস্টি কলেজ, কেমব্রিজের মাস্টার। পার্কার সেটি কর্পাস ক্রিস্টি কলেজকেই দান করে যান। বর্তমানে এটি সেই কলেজেরই পার্কার গ্রন্থাগারের অংশ।

অ্যাবিংডন ক্রনিকল এক[সম্পাদনা]

পাণ্ডুলিপি [বি] অর্থাৎ অ্যাবিংডন ক্রনিকল এক লিখিত হয়েছিল দশম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে একক লিপিকরের দ্বারা। ক্রনিকল-টি ধৃত হয়েছে ১ থেকে ৩৪ ফোলিওর মধ্যে।[১৬] এটি শুরু হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ৬০ অব্দের ভুক্তিটি দিয়ে এবং শেষ ভুক্তিটি ৯৭৭ অব্দের। আদিতে কালপঞ্জির ভূমিকা হিসেবে পরিচিত একটি পাণ্ডুলিপিকে এখন পৃথক গণ্য করা হয় (ব্রিটিশ লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি কটন টাইবেরিয়াস এ তিন, এফ. ১৭৮)। এই ভূমিকাটিতে [এ] পাণ্ডুলিপির মতোই একটি বংশলতিকা রয়েছে, কিন্তু এটি প্রসারিত হয়েছে দশম শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত। একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে [বি] পাণ্ডুলিপিটি অ্যাবিংডনে ছিল, কারণ [সি] পাণ্ডুলিপি রচনার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। এর অল্পকাল পরেই এটিকে ক্যান্টারবেরিতে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে এটিতে কিছু সংযোজন ও সংশোধন করা হয়। [এ] পাণ্ডুলিপির মতো এটির শেষেও যে পোপ ও ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপদের প্যালিয়াম পাঠানো হয়েছিল তার তালিকা দেওয়া রয়েছে।[৭]

অ্যাবিংডন ক্রনিকল দুই[সম্পাদনা]

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর [সি] অ্যাবিংডন দুই সংস্করণের একটি পৃষ্ঠা। ভুক্তিটি ৮৭১ সালের, সেই বছর ওয়েসেক্স ও ভাইকিং-দের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল।

[সি] পাণ্ডুলিপিতে অ্যাবিংডনের স্থানীয় বর্ষপঞ্জি থেকে অতিরিক্ত উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পাণ্ডুলিপিটি সেখানেই রচিত হয়।[৭] যে অংশে ক্রনিকল-টি রয়েছে (ফোলিও ১১৫-৬৪), সেই অংশের আগে রয়েছে ওরোসিয়াসের বিশ্ব ইতিহাসের রাজা অ্যালফ্রেড কৃত প্রাচীন ইংরেজি অনুবাদ এবং তারপরে রয়েছে একটি মেনোলোগিয়ামপ্রাকৃতিক বিশ্বের নিয়মাবলি ও মানবতার কয়েকটি নোমিক কবিতা[১৭] তারপর ক্রনিকলের একটি প্রতিলিপি রয়েছে, যার প্রথম ভুক্তিটি খ্রিস্টপূর্ব ৬০ অব্দের; প্রথম লিপিকর ৪৯০ সালের ভুক্তি পর্যন্ত প্রতিলিপি করেন, এবং একজন দ্বিতীয় লিপিকর প্রতিলিপি করেন ১০৪৮ সালের ভুক্তি পর্যন্ত। ৪৯১ থেকে ৬৫২ সালের ভুক্তি পর্যন্ত [বি] ও [সি] সমরূপ, কিন্তু তারপরের পার্থক্যগুলি থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে দ্বিতীয় লিপিকর ক্রনিকল-এর অপর একটি প্রতিলিপি ব্যবহার করেছিলেন। ৯১৫ সালের বর্ষপঞ্জির পরে এই লিপিকর মার্সিয়ান রেজিস্টার অন্তর্ভুক্ত করেন, যাতে ৯০২-৯২৪ সালের ঘটনাবলি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই অংশের প্রধান আলোচ্য হলেন এথেলফ্লেড। পাণ্ডুলিপিটি প্রসারিত হয়েছে ১০৬৬ সাল পর্যন্ত এবং স্ট্যামফোর্ড সেতুর যুদ্ধের বিবরণের মাঝামাঝি থেমে গিয়েছে। দ্বাদশ শতাব্দীতে বর্ণনাটি শেষ করার জন্য অল্প কয়েকটি পংক্তি যোগ করে দেওয়া হয়েছিল।[৭]

ওরচেস্টার ক্রনিকল[সম্পাদনা]

[ডি] পাণ্ডুলিপি অর্থাৎ ওরচেস্টার ক্রনিকল সম্ভবত একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রচিত। ১০৩৩ সালের ভুক্তির পর এটিকে ওরচেস্টারের কিছু ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে, তাই সাধারণভাবে মনে করা হয় যে এটি সেখানেই রচিত হয়েছিল। ১০৫৪ সালের ভুক্তি পর্যন্ত পাঁচজন আলাদা আলাদা লিপিকরের হস্তাক্ষর চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তী অংশটি দেখে মনে হয় তা মধ্যে মধ্যে বিরতি দিয়ে রচিত। এই পাণ্ডুলিপিতে বিডের দি ইকলেসিয়াস্টিক্যাল হিস্ট্রি অফ দি ইংলিশ পিপল এবং অষ্টম শতাব্দীতে রচিত এক গুচ্ছ নরদাম্রিয়ান বর্ষপঞ্জি থেকে কিছু উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মনে করা হয় যে, এটির কয়েকটি ভুক্তির রচয়িতা হলেন আর্চবিশপ উলফস্ট্যান। উত্তর ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিষয়ে অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় [ডি] পাণ্ডুলিপিতে বেশি তথ্য পাওয়া যায়। গবেষকেরা অনুমান করেন যে, প্রতিলিপিটি অ্যাংলো-কৃত স্কটিশ রাজদরবারের জন্য লিখিত হয়েছিল। ৯৭২ থেকে ১০১৬ সাল পর্যন্ত ইয়র্কওরচেস্টারের সি পদে একই ব্যক্তি আসীন ছিলেন—৯৭২ সাল থেকে অসওয়াল, ৯৯২ সাল থেকে এয়াল্ডউলফ এবং ১০০৩ সাল থেকে উলফস্ট্যান। ওরচেস্টারে কেন উত্তর ইংল্যান্ডে রচিত সংস্করণ পাওয়া গিয়েছিল, তার ব্যাখ্যা এর থেকেই পাওয়া যায়। ষোড়শ শতাব্দীর আগেই পাণ্ডুলিপিটির কিছু অংশ হারিয়ে যায়; [এ], [বি], [সি] ও [ই] পাণ্ডুলিপি সহঅন্যান্য উৎসসূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিকল্প ভুক্তিগুলি আলাদা আঠারোটি পাতায় সংযোজন করা হয়।[৭] এই পৃষ্ঠাগুলির লেখক ছিলেন ম্যাথিউ পার্কারের সচিব জন জোসেলিন[১৮]

পিটারবরো ক্রনিকল[সম্পাদনা]

[ই] পাণ্ডুলিপি অর্থাৎ পিটারবরো ক্রনিকল: ১১১৬ সালে একটি অগ্নিকাণ্ডে পিটারবরোর খ্রিস্টীয় মঠের অধিকাংশ ভবন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ক্রনিকল-এর যে প্রতিলিপিটি সেখানে রাখা ছিল, সেটি সেই সময়ে অথবা পরে হারিয়ে গিয়ে থাকবে। কিন্তু যখনই হারিয়ে যাক না কেন, তার অব্যবহিত পরেই একটি নতুন প্রতিলিপি লিখিত হয়েছিল। মনে করা হয় যে নতুন প্রতিলিপিটি করা হয়েছিল একটি কেন্টিশ সংস্করণ থেকে—যা খুব সম্ভবত ক্যান্টারবেরির জিনিস ছিল।[৭] পাণ্ডুলিপিটি একই সময়ে একক লিপিকর কর্তৃক ১১২১ সালের বর্ষপঞ্জি পর্যন্ত একটানা লেখা।[১৯] লিপিকর পিটারবরো অ্যাবে-সম্পর্কিত যে সব বিষয়বস্তু এতে সংযোজিত করেছেন সেগুলি অন্যান্য সংস্করণে পাওয়া যায় না। যে মূল ক্যান্টারবেরি প্রতিলিপিটি তিনি নকল করেছিলেন সেটি [ডি] পাণ্ডুলিপির অনুরূপ হলেও অবিকল একরূপ নয়: সেখানে মার্সিয়ান রেজিস্টার অংশটি নেই। এছাড়া ৯৩৭ সালে ব্রুনানবারের যুদ্ধ-বিষয়ক একটি কবিতা, যা ক্রনিকল-এর অন্যান্য অধিকাংশ প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়, তাও সেখানে নথিবদ্ধ হয়নি। একই লিপিকর এরপর ১১৩১ সাল পর্যন্ত বর্ষপঞ্জির প্রতিলিপি করেন। এই ভুক্তিগুলি বিরতি দিয়ে দিয়ে লেখা। সেই জন্য এগুলিকে সমসাময়িক নথি মনে করা হয়। শেষে ১১৫৪ সালে একজন দ্বিতীয় লিপিকর ১১৩২-১১৫৪ সালের বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন। তবে জানা যায় যে এই লিপিকরের তারিখনির্ণয় নির্ভরযোগ্য নয়। এই শেষ ভুক্তিটি প্রাচীন ইংরেজিতে নয়, বরং মধ্য ইংরেজিতে লিখিত। [ই] পাণ্ডুলিপিটির একদা মালিক ছিলেন ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ (১৬৩৩-১৬৪৫) উইলিয়াম লাউড। তাই এটি লাউড ক্রনিকল নামেও পরিচিত।[৭] পাণ্ডুলিপিটিতে স্থানে স্থানে লাতিনে টীকা সংযোজিত হয়েছে। ১৫৬৬ সালের একটি অ্যান্টিকোয়ারিয়ান গ্রন্থে এই পাণ্ডুলিপিটি উল্লিখিত হয়েছে "দ্য স্যাক্সন স্টোরি অফ পিটারবরো চার্চ" (ইংরেজি: "the Saxon storye of Peterborowe church") নামে।[১৯] জোসেলিনের মতে, নোওয়েলের কাছে এই পাণ্ডুলিপিটির একটি প্রতিলিপি ছিল। পাণ্ডুলিপিটির ভূতপূর্ব মালিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন উইলিয়াম ক্যামডেন[২০]উইলিয়াম লি’আইল। লি’আইলের পরেই সম্ভবত পাণ্ডুলিপিটির মালিক হন লাউড।[২১]

ক্যান্টারবেরি বাইলিঙ্গুয়াল এপিটোম[সম্পাদনা]

[এফ] পাণ্ডুলিপি অর্থাৎ ক্যান্টারবেরি বাইলিঙ্গুয়াল এপিটোম: ১১০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ক্রাইস্ট চার্চ, ক্যান্টারবেরিতে ক্রনিকল-এর একটি অনুলিপি করা হয়।[২২] সম্ভবত এটির লিপিকর ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি [এ] পাণ্ডুলিপির টীকাগুলি প্রস্তুত করেছিলেন। এই সংস্করণটি প্রাচীন ইংরেজি ও লাতিন দুই ভাষাতেই লেখা; প্রত্যেকটি ভুক্তি প্রথমে প্রাচীন ইংরেজিতে দেওয়া হয়েছে এবং তারপরে দেওয়া হয়ে লাতিন পাঠটি। লিপিকর যে সংস্করণ থেকে এটি অনুলিপি করেছিলেন (ফোলিও ৩০-৭০ অংশে), সেটি পিটারবরোর লিপিকর [ই] পাণ্ডুলিপি রচনায় যে সংস্করণটি ব্যবহার করেছিলেন তারই অনুরূপ। যদিও মনে হয় যে এটি কিছুটা সংক্ষেপিত। [ডি] পাণ্ডুলিপির একই ভূমিকাংশ এতে গ্রন্থিত হয়েছে। [এফ] ও [ই] হল সেই দু’টি কালপঞ্জি যাতে "ব্যাটেল অফ ব্রুনানবার" কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাণ্ডুলিপিতে অনেক টীকা ও পংক্তিদ্বয়ের মধ্যবর্তী লেখা রয়েছে। এগুলির কোনও কোনওটির রচয়িতা হলেন মূল লিপিকর, আবার কোনও কোনওটি রবার্ট ট্যালবট[২৩] সহ অন্যান্য লিপিকরেরা লিখেছিলেন।[৭]

উইনচেস্টার ক্রনিকলের অনুলিপি[সম্পাদনা]

উইনচেস্টার ক্রনিকল-এর [এ]/[জি] অনুলিপি: একাদশ শতাব্দীতে উইনচেস্টারে [এ] পাণ্ডুলিপি থেকে নকলের মাধ্যমে [এ] অনুলিপিটি প্রস্তুত করা হয়। বিডের দি ইকলেসিয়াস্টিক্যাল হিস্ট্রি অফ দি ইংলিশ পিপল গ্রন্থের দশম শতাব্দীতে কৃত একটি প্রাচীন ইংরেজি অনুবাদের পরে এটি গ্রন্থিত হয়েছে।[১৪] অনুলিপিকৃত সর্বশেষ বর্ষপঞ্জিটি ১০০১ সালের, অর্থাৎ অনুলিপিটি সেই বছরের আগে করা হয়নি। [এ]-এর পরিশিষ্টভাগে বিশপ-সংক্রান্ত একটি তালিকা ইঙ্গিত করে যে অনুলিপিটি ১০১৩ সাল নাগাদ করা হয়েছিল। ১৭৩১ সালে অ্যাশবার্নহ্যাম হাউসে (যেখানে কটন লাইব্রেরি অবস্থিত ছিল) একটি অগ্নিকাণ্ডে এই পাণ্ডুলিপিটি প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।[৭] পাণ্ডুলিপির মূল চৌত্রিশটি পৃষ্ঠার মধ্যে সাতটি মাত্র (ফোলিও ৩৯-৪৭) অবশিষ্ট রয়েছে।[২৪] যদিও ষোড়শ শতাব্দীতে লরেন্স নোওয়েল নামে এক পুরাদ্রব্য-সংগ্রাহক একটি প্রতিলিপি করেছিলেন। আব্রাহাম হুইলক কর্তৃক ১৬৪৩ সালের মুদ্রিত ক্রনিকল-এর একটি সংস্করণে সেটি ব্যবহৃত হয়।[৭] এই কারণে এটি কোথাও কোথাও হুইলকের নামানুসারে [ডব্লিউ] নামেও পরিচিত।[৭] নোওয়েলের প্রতিলিপিতে [বি] পাণ্ডুলিপি থেকে বিচ্ছিন্ন বংশলতিকা-সংক্রান্ত ভূমিকাংশটি (বর্তমানে পৃষ্ঠাটি ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে রক্ষিত, পাণ্ডুলিপি কটন টাইবেরিয়াস এ তিন, ফোলিও ১৭৮) অনুলিপি করা হয়েছিল, এই নথিতে মূল যে ভূমিকাংশটি ছিল তা অনুলিপি করা হয়নি। মূল [এ]-এর ভূমিকাটি অগ্নিকাণ্ডের আগেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া গয়েছিল। বর্তমানে সেটি ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে (অতিরিক্ত পাণ্ডুলিপি ৩৪৬৫২, ফোলিও ২)।[২৫] [এ], [এ] ও [জি] পাণ্ডুলিপির নাম-পদ্ধতির উৎস যথাক্রমে প্লামার, স্মিথ ও থর্প।[২৪]

কটনিয়ান ফ্র্যাগমেন্ট[সম্পাদনা]

কটনিয়ান ফ্র্যাগমেন্ট [এইচ]-এ শুধুমাত্র একটি মাত্র পৃষ্ঠা রয়েছে, তাতে ১১১৩ ও ১১১৪ সালের বর্ষপঞ্জি গ্রন্থিত হয়েছিল। ১১১৩ সালের ভুক্তিটিতে লেখা "তিনি উইনচেস্টারে এসেছিলেন" বাক্যবন্ধটি দেখে মনে হয় যে পাণ্ডুলিপিটি সম্ভবত উইনচেস্টারে লিখিত হয়েছিল। অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সঙ্গে এই পাণ্ডুলিপিটির নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি।[৭] কার মনে করেন যে, এই পাণ্ডুলিপির ভুক্তিগুলি সম্ভবত সমসাময়িক কালে রচিত।[২৬]

ইস্টার টেবিল ক্রনিকল[সম্পাদনা]

[আই] পাণ্ডুলিপি অর্থাৎ ইস্টার টেবিল ক্রনিকল: বছরের একটি সারণির সঙ্গে ক্রনিকল ভুক্তিগুলির একটি তালিকা পাওয়া যায় বিশ্রীভাবে পুড়ে যাওয়া একটি পাণ্ডুলিপির ১৩৩ থেকে ১৩৭ ফোলিওতে। এই পাণ্ডুলিপিটিতে জাদুমন্ত্রের উপর বিবিধ টীকা এবং ক্রাইস্ট চার্চ, ক্যান্টারবেরির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত চার্চ সার্ভিসের তারিখ নির্ধারণ ও বর্ষপঞ্জি পাওয়া যায়।[২৭] ক্রনিকল-এর অধিকাংশ ভুক্তিই ক্রাইস্ট চার্চ, ক্যান্টারবেরি সংক্রান্ত। ১১০৯ সালের ভুক্তি (ক্যান্টারবেরির অ্যানসেমের মৃত্যু) পর্যন্ত ভুক্তিগুলি ইংরেজিতে লেখা হলেও পরবর্তী ভুক্তিগুলি লাতিন ভাষায় রচিত।[২৮] [আই] পাণ্ডুলিপির একটি অংশ ১০৭৩ সালের অল্প কিছুকাল পরেই একক লিপিকর কর্তৃক লিখিত হয়েছিল[৭] এই একই হস্তাক্ষর ও কালি পাওয়া যায় ক্যালিগুলা পাণ্ডুলিপির অবশিষ্টাংশেও। ১০৮৫ সালের পরবর্তী বর্ষপঞ্জিগুলি বিভিন্ন সমসাময়িক হস্তাক্ষরে লিখিত। মূল বর্ষপঞ্জিকারের নর্ম্যান বিজয়-সংক্রান্ত ভুক্তিটি সীমাবদ্ধ "Her forðferde eadward kyng" অবধিই; পরবর্তীকালের একটি হস্তলিপিতে দিগ্বিজয়ী উইলিয়ামের আগমন প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে "7 her com willelm."[২৮] একটি নির্দিষ্ট সময় অবধি পাণ্ডুলিপিটি ছিল ক্যান্টারবেরির সেন্ট অগাস্টিন’স অ্যাবেতে[৭][২৯]

হারিয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি[সম্পাদনা]

ডারহ্যামের লাইব্রেরির একটি পুরনো গ্রন্থতালিকায় দু’টি পাণ্ডুলিপির কথা নথিভুক্ত রয়েছে; এগুলিকে বর্ণনা করা হয়েছে ক্রনিকা ডুও অ্যাংলিকা (ইংরেজি: cronica duo Anglica) নামে। এছাড়া উপহারসামগ্রীর মধ্যে পার্কার হিস্ট. অ্যাংলি স্যাক্সোনিকা (ইংরেজি: Hist. Angliae Saxonica) নামে একটি পাণ্ডুলিপিও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন; কিন্তু যে পাণ্ডুলিপির মধ্যে এই পাণ্ডুলিপিটি ছিল, অর্থাৎ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার পাণ্ডুলিপি এইচএইচ.১.১০, সেটির ৫২টি পৃষ্ঠা হারিয়ে গিয়েছে। হারানো পৃষ্ঠাগুলির মধ্যে এই কালপঞ্জির অনুলিপিটিও রয়েছে।[১৩][৩০]

উৎসসূত্র, নির্ভরযোগ্যতা ও তারিখ নির্ধারণ[সম্পাদনা]

ক্রনিকল-এ বিভিন্ন উৎসসূত্র থেকে উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ৭৫৫ সালের ভুক্তিটিতে বর্ণিত হয়েছে কীভাবে কিনউলফ সাইবার্টের থেকে ওয়েসেক্সের রাজপদ অধিকার করেছিলেন। পারিপার্শ্বিক ভুক্তিগুলির থেকে এই ভুক্তিটি অনেকটাই বড়ো। এতে সেই সব ঘটনায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গের বক্তৃক্তার সরাসরি উদ্ধৃতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দেখে মনে হয় সম্ভবত লিপিকর ঘটনাটি তৎকালে বিদ্যমান বীরগাথা থেকে উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন।[৩১] প্রথম দিকের ভুক্তিগুলির (১১০ সাল পর্যন্ত) উৎস বিশ্ব ইতিহাসের ক্ষুদ্র বিশ্বকোষের খণ্ডগুলির একটি। ক্রনিকল যখন প্রথম লেখা হয়েছিল তখন এই বিশ্বকোষ প্রচারিত হত। বিডের দি ইকলেসিয়াস্টিক্যাল হিস্ট্রি অফ দি ইংলিশ পিপল গ্রন্থের কালপঞ্জিমূলক সারসংক্ষেপও অন্যতম উৎসসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ক্রনিকল-এ নরদামব্রিয়ামার্সিয়ার রাজাদের তারিখ ও বংশলতিকা এবং ওয়েসেক্সের বিশপদের একটি তালিকা পাওয়া যায়; এগুলির উৎসসূত্র সম্ভবত স্বতন্ত্র। ৬৬১ সালের ভুক্তিতে একটি যুদ্ধের কথা নথিবদ্ধ হয়েছে। যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন সেনওয়াল। কথিত আছে যুদ্ধটি হয়েছিল "ইস্টারে"। এতটা নির্ভুল উক্তি দেখে মনে করা হয় যে এটি একটি সমসাময়িক নথি, যা পরেও বিদ্যমান ছিল এবং ক্রনিকল-এর লিপিকরেরা পরেও তা আবার ব্যবহার করেছিলেন।[৩২]

সপ্তম শতাব্দীতে ওয়েসেক্সে রক্ষিত হওয়ার জন্য সমসাময়িক বর্ষপঞ্জিগুলি শুরু হয়েছিল।[৩৩][notes ৩] অ্যালফ্রেডের শাসনকালের ক্ষেত্রে যে উপাদান সংকলিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কেন্টিশ, দক্ষিণ স্যাক্সন, মার্সিয়ান ও নির্দিষ্টভাবে ওয়েস্ট স্যাক্সন ইতিহাস-সম্পর্কিত বর্ষপঞ্জিগুলি। কিন্তু কিনউলফ-সংক্রান্ত ভুক্তিটি বাদে অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগ থেকে নর্ডিক অভিযানের পূর্বাবধি সেগুলি গতি পায়নি।[৩৪] ক্রনিকল-এর উদ্ভব ঘটেছিল ইস্টার টেবিলস প্রথা থেকে, যা তৈরি করা হত ভাবী বছরগুলিতে উৎসবের তারিখ নির্ধারণে যাজকমণ্ডলীকে সাহায্য করার জন্য: একটি পৃষ্ঠায় থাকত আনুপূর্ব কয়েকটি আনুভূমিক লাইন, তার নিচে থাকত জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত তথ্য, সঙ্গে একটা করে ফাঁকা জায়গা থাকত এক বছরের ঘটনার সঙ্গে আরেক বছরের ঘটনার পার্থক্য করার উদ্দেশ্যে ছোটো ছোটো টীকা লিখে রাখার জন্য। ক্রনিকল লেখা শুরু হওয়ার পর আস্তে আস্তে সেটির তালিকা-অনুরূপ চেহারাটি হারিয়ে যায় এবং ওই ধরনের টীকাগুলি আরও বেশি জায়গা নিয়ে লেখা হতে থাকে। ফলে সমগ্র বিষয়টি ঐতিহাসিক নথিপত্রের মতো হয়ে ওঠে। পরবর্তী অনেক ভুক্তিতেই, বিশেষত যেগুলি সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গের লেখা, বর্ষ শিরোনামের অধীনে প্রচুর পরিমাণে ঐতিহাসিক বিবরণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।[৩৫]

অন্যান্য যে কোনও ঐতিহাসিক উৎসসূত্রের মতো ক্রনিকল-কেও একই রকম সাবধানতা অবলম্বন করে পর্যালোচনা করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, ৫১৪ থেকে ৫৪৪ সালের ভুক্তিগুলির মধ্যে ক্রনিকল-এ উইটগারের উল্লেখ পাওয়া যায়। মনে করা হয় উইটগারকে আইল অফ উইটে "উইটগার’স স্ট্রংহোল্ড"-এ (মূলের নাম "Wihtgaræsbyrg") সমাধিস্থ করা হয়েছিল এবং সেই কারণে কথিত আছে যে উইটগারের নামেই দ্বীপটি নামাঙ্কিত হয়েছে। যদিও "আইল অফ উইট" নামটি এসেছে লাতিন "ভেকটিস" (লাতিন: "Vectis") থেকে, উইটগার থেকে নয়। দুর্গটির প্রকৃত নাম সম্ভবত ছিল "উইটওয়ারাবর্গ" (ইংরেজি: "Wihtwarabyrg") অর্থাৎ "উইটের অধিবাসীদের শক্ত ঘাঁটি"। হয় কালপঞ্জিকার অথবা তারও পূর্ববর্তী কোনও উৎসসূত্র উইটগার-সংক্রান্ত এই ভুল ব্যাখ্যার জন্য দায়ী।[৩৬][৩৭]

নথিবদ্ধ ঘটনার তারিখ নির্ধারণও সাবধানে করতে হয়। তারিখ ভুল করার সঙ্গে সঙ্গে লিপিকরেরা মাঝে মাঝে অন্যান্য ভুলও করেছিলেন, যা থেকে আরও ভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, [ডি] পাণ্ডুলিপিতে লিপিকর বাঁ দিকের তালিকা থেকে ১০৪৪ সালটি বাদ দিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর নকল করা ১০৪৫ থেকে ১০৫২ সাল পর্যন্ত (যেটুকুর মধ্যে দু’টি ভুক্ত রয়েছে) বর্ষপঞ্জিগুলিতেও তাই ভুল রয়েছে। আরও বড়ো সমস্যা হল কোন তারিখে নতুন বছর শুরু হত সেই প্রশ্নটি। কারণ আধুনিক নিয়মে বর্ষারম্ভের তারিখ ১ জানুয়ারি হলেও সেই সময় এই নিয়মটি বিশ্বজনীন ছিল না। [ই] পাণ্ডুলিপিতে ১০৯১ সালের ভুক্তিটি শুরু হয়েছে বড়োদিনে এবং চলেছে সারা বছর ধরে; তা থেকেই স্পষ্ট এই ভুক্তিটি বড়োদিন থেকে বর্ষারম্ভ ধরার পুরনো প্রথাটিকে অনুসরণ করেছে। অন্য কয়েকটি ভুক্তিতে বর্ষারম্ভ হয়েছে ২৫ মার্চ। যেমন [সি] পাণ্ডুলিপির ১০৪৪ সালের ভুক্তিটিতে এই তারিখেই বর্ষারম্ভ ধরা হয়েছে এবং এটি শেষ হয়েছে ২৩ জানুয়ারি এডওয়ার্ড দ্য কনফেসরের বিবাহের ঘটনার মধ্য দিয়ে, অন্যদিকে ২২ এপ্রিল তারিখের ভুক্তিটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ১০৪৫ সালের শিরোনামে। এছাড়া এমন কিছু কিছু বছরও রয়েছে যেগুলি শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে।[৩৮]

পাণ্ডুলিপিগুলি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে লিখিত এবং প্রত্যেক পাণ্ডুলিপিতেই লিপিকরের পক্ষপাতের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। কোনও কোনও গবেষক এই মত পোষণ করেন যে, ক্রনিকল-কে প্রপাগান্ডা হিসেবে দেখা উচিত, যার উৎপত্তি অ্যালফ্রেডের রাজদরবারে এবং লিখিত হয়েছিল অ্যালফ্রেডকে মহিমান্বিত করার ও রাজানুগত্য সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য নিয়ে।[৩৯] এই মত সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত নয়।[notes ৪] কিন্তু পাণ্ডুলিপির উৎসগুলি স্পষ্টতই ওয়েসেক্স ও অন্যান্য রাজ্যের পারস্পরিক সম্পর্কের বিবরণ এবং ভাইকিংদের লুটতরাজের বিবরণ অতিরঞ্জিত করেছে। ৮২৯ সালের ভুক্তিটিতে এই জাতীয় একটি উদাহরণ দেখা যায়। এই ভুক্তিতে এগবার্টের নরদামব্রিয়া অভিযান বর্ণিত হয়েছে। ক্রনিকল অনুযায়ী, মার্সিয়া ও এসেক্স জয় করার পর এগবার্ট "ব্রেটওয়াল্ডা" হয়েছিলেন, অর্থাৎ এই ইঙ্গিত অনুসারে তিনি সমগ্র ইংল্যান্ডের অধিরাজত্ব লাভ করেছিলেন। তারপর যখন তিনি নরদামব্রিয়ায় সামরিক বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হলেন তখন নরদামব্রিয়ানরা "শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ" করল। ওয়েন্ডোভারের রজারের ত্রয়োদশ শতাব্দীর ইতিহাস গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত নরদামব্রিয়ান কালপঞ্জিগুলিতে ভিন্ন একটি ছবি তুলে ধরা হয়েছে: "দক্ষিণের সকল রাজ্য অধিকার করার পর এগবার্ট একটি বৃহৎ সামরিক বাহিনী নিয়ে নরদামব্রিয়ায় উপস্থিত হলেন এবং ব্যাপক লুটতরাজ চালিয়ে প্রদেশটিকে বিধ্বস্ত করে দিলেন এবং রাজা এয়ানরেডকে কর প্রদান করতে বাধ্য করলেন।"[৪১][৪২]

ক্ষেত্রবিশেষে লিপিকরেরা পাণ্ডুলিপির যে ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ প্রস্তুত করেছিলেন তার তুলনা করেও সেই লিপিকরদের পক্ষপাতের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ পূর্ব অ্যাংলিয়ার আর্ল এলফগার (মার্সিয়ার আর্ল লিওফ্রিকের পুত্র) ১০৫৫ সালে স্বল্পকালের জন্য নির্বাসিত হয়েছিলেন। [সি], [ডি] ও [ই] পাণ্ডুলিপিতে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:[৪৩][৪৪]

  • [সি]: "আর্ল লিওফ্রিকের পুত্র আর্ল এলফগার বিনা দোষে নির্বাসিত হয়েছিলেন …" (মূল: "Earl Ælfgar, son of Earl Leofric, was outlawed without any fault ...")
  • [ডি]: "আর্ল লিওফ্রিকের পুত্র আর্ল এলফগার প্রায় বিনা দোষে নির্বাসিত হয়েছিলেন …" (মূল: "Earl Ælfgar, son of Earl Leofric, was outlawed well-nigh without fault ...")
  • [ডি]: রাজা ও সমগ্র দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে আর্ল এলফগার নির্বাসিত হয়েছিলেন। এবং সেখানে উপস্থিত সকলের সম্মুখে তিনি তা স্বীকার করেন, যদিও কথাগুলি তিনি স্বেচ্ছায় উচ্চারণ করেননি।" (মূল: "Earl Ælfgar was outlawed because it was thrown at him that he was traitor to the king and all the people of the land. And he admitted this before all the men who were gathered there, although the words shot out against his will.")

এলফগারের যে উল্লেখগুলি ক্রনিকল-এর এক ভিন্ন ধরনের অনির্ভরযোগ্যতা প্রদর্শন করে সেগুলিকেও অপর উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়। ১০৫৮ সালের মধ্যেই এলফগার মার্সিয়ার আর্ল হয়েছিলেন এবং সেই বছরই তিনি পুনরায় নির্বাসিত হয়েছিলেন। এই ক্ষেত্রে একমাত্র [ডি] পাণ্ডুলিপিতেই কিছু বলা হয়েছে: "এখানে আর্ল এলফগার নির্বাসিত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি শীঘ্রই গ্রুফিডের সহায়তায় সহিংস পন্থায় ফিরে আসেন। এবং এখানে নরওয়ে থেকে একটি আকস্মিক আক্রমণকারী নৌ-বাহিনী এসেছিল; কীভাবে এ সব কিছু ঘটল তা বলা একঘেয়ে কাজ।" (মূল: "Here Earl Ælfgar was expelled, but he soon came back again, with violence, through the help of Gruffydd. And here came a raiding ship-army from Norway; it is tedious to tell how it all happened.")[৪৩] এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান অন্যান্য উৎসসূত্রগুলি থেকে ছবিটি স্পষ্ট হয়: নরওয়ে থেকে একটি বড়ো আক্রমণ প্রচেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল, কিন্তু [ই] পাণ্ডুলিপিতে এই প্রসঙ্গে কিছুই বলা হয়নি এবং [ডি] পাণ্ডুলিপিতে নামে মাত্র সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কখনও কখনও এমন মতও পোষণ করা হয়েছে যে, যখন ক্রনিকল নীরব, তখন প্রধান ঘটনার বর্ণনাকারী অন্যান্য উৎসসূত্রগুলি নিশ্চয়ই ভ্রান্ত, কিন্তু এই উদাহরণটিই দেখিয়ে দেয় যে ক্রনিকল-এও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উহ্য রাখা হয়েছে।[৪৪]

লাতিন ও অ্যাংলো-নর্ম্যান ইতিহাসবিদদের দ্বারা ব্যবহার[সম্পাদনা]

ওরচেস্টারের জন, ম্যালমেসবেরির উইলিয়ামহান্টিংডনের হেনরি—এই তিন অ্যাংলো-নর্ম্যান ইতিহাসবিদের প্রত্যেকের কাছে ক্রনিকল-এর একটি করে অনুলিপি ছিল, যেগুলি এই তিন ইতিহাসবিদ ব্যবহার করেছিলেন নিজস্ব উদ্দেশ্যে।[৪৫] ডারহ্যামের সাইমনের কাছেও ক্রনিকল-এর একটি অনুলিপি ছিল।[১৩] পরবর্তীকালের কয়েকজন মধ্যযুগীয় ইতিহাসবিদও ক্রনিকল ব্যবহার করেছিলেন এবং অন্যেরা ক্রনিকল-ব্যবহারকারীদের রচনা থেকে উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন। এই কারণে ক্রনিকল পরিণত হয়েছিল "ইংরেজ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের মূলধারার কেন্দ্রে"।[৪৫]

হান্টিংডনের হেনরি ক্রনিকল-এর যে অনুলিপিটি ব্যবহার করেছিলেন তা [ই] পাণ্ডুলিপির সঙ্গে অনেকটাই সমরূপীয়। [ই] পাণ্ডুলিপিতে ১১২১ সালের ভুক্তির পরবর্তী কোনও কিছুর প্রমাণ হেনরির রচনায় পাওয়া যায় না। তাই যে পাণ্ডুলিপিটির মালিক তিনি ছিলেন সেটি প্রকৃতপক্ষে [ই] পাণ্ডুলিপি হতে পারে, আবার একটি অনুলিপিও হতে পারে—হয় যে ভুক্তিগুলি তিনি ব্যবহার করেননি তার পূর্বাবধি [ই] থেকে নেওয়া অথবা এমন কোনও পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া যার থেকে [ই] পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করা হয়েছিল, সেক্ষেত্রে অনুলিপি করা হয়েছিল তিনি শেষ যে বর্ষপঞ্জিটি ব্যবহার করেছেন তার তারিখের ঠিক আগে। হেনরি [সি] পাণ্ডুলিপিটিও ব্যবহার করেছিলেন।[১৩]

ওয়েভারলি অ্যানালস এমন একটি পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করেছিল যেটি [ই] পাণ্ডুলিপির অনুরূপ ছিল, তবে সেই পাণ্ডুলিপিটিতে মনে হয় পিটারবরো-কেন্দ্রিক ভুক্তিগুলি ছিল না। জিওফ্রে গেইমার অনূদিত কালপঞ্জির পাণ্ডুলিপিটি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, যদিও ইতিহাসবিদ ডরোথি হোয়াইটলকের মতে সেটি ছিল "‘ই’ অথবা ‘এফ’-এর তুলনায় অধিকতর উৎকৃষ্ট পাঠ"। গেইমারের ইঙ্গিত অনুসারে, তিনি যে সময়ের মানুষ সেই সময়, অর্থাৎ দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে উইনচেস্টারে একটি পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি ছিল; হোয়াইটলকের মতে, নবম শতাব্দীর মধ্যভাগেও উইনচেস্টারে একটি অধুনা-লুপ্ত পাণ্ডুলিপির অস্তিত্ব ছিল। এই পাণ্ডুলিপিটিই গেইমারের সময় অবধি সেখানে থাকে, তবেই কেন [এ] পাণ্ডুলিপিটির হালনাগাদ করা হয়নি এবং কেন [এ] পাণ্ডুলিপিটিকে ক্যান্টারবেরির মঠে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব।[১৩]

ওরচেস্টারের জন রচিত ক্রনিকন এক্স ক্রনিসিস সম্ভবত [এ] পাণ্ডুলিপি বা তার অনুরূপ কোনও পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করে লেখা; তিনি এমন কিছু বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করেছিলেন যা অন্যান্য পাঠগুলিতে দেখা যায় না। এই জাতীয় বর্ষপঞ্জিগুলির মধ্যে এডওয়ার্ড দি এল্ডারের বিজয় অভিযান-সংক্রান্ত ভুক্তিগুলি এবং কালপঞ্জির শেষ দিকে উইনচেস্টার-সংক্রান্ত তথ্যাবলি উল্লেখযোগ্য। জনের বিবরণ প্রায়শ ক্ষেত্রেই [ডি] পাণ্ডুলিপির অনুরূপ, যদিও তিনি স্কটল্যান্ডের মার্গারেটের উপর মনোনিবেশ কমই করেছেন, যা [ডি] পাণ্ডুলিপির একটি শনাক্তকরণযোগ্য বৈশিষ্ট্য। জনের কাছে মার্সিয়ান রেজিস্টারও ছিল, যা শুধুমাত্র [সি] ও [ডি] পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়। এছাড়া তিনি ৯৭৯-৯৮২ সালের বর্ষপঞ্জিগুলিতে যে বিষয়বস্তু সংযোজন করেছেন তা শুধু [সি] পাণ্ডুলিপিতেই পাওয়া যায়। সম্ভবত জনের কাছে [ডি] পাণ্ডুলিপির পূর্বসূরি কোনও পাণ্ডুলিপি ছিল। এছাড়াও তিনি এমন কয়েকটি উৎসসূত্র ব্যবহার করেছিলেন যেগুলিকে চিহ্নিত করা যায়নি এবং তিনি এমন কিছু কথাও লিখেছিলেন যা পূর্ববর্তী কালের তথা অধুনালভ্য কোনও উৎসসূত্রেও পাওয়া যায় না।[১৩]

[ই] পাণ্ডুলিপির অনুরূপ একটি পাণ্ডুলিপি ম্যালমেসবেরির উইলিয়াম পেয়েছিলেন। সেটি যে খুব সম্ভবত [ই] পাণ্ডুলিপি নয়, তার কারণ উইলিয়াম যে সময়ে কাজ করেছিলেন, তার পরেও [ই] পাণ্ডুলিপি পিটারবরোতেই ছিল বলে জানা গিয়েছে এবং উইলিয়ামও [ই] পাণ্ডুলিপিতে পিটারবরো-সংক্রান্ত কোনও ভুক্তি ব্যবহার করেননি। হয় যে পাণ্ডুলিপি থেকে [ই] পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করা হয়েছিল সেটি, অথবা মূল পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি উইলিয়ামের কাছে ছিল। তিনি বলেছিলেন যে কালপঞ্জিগুলিতে অ্যালফ্রেড এথেলিং-এর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কোনও তথ্যই দেওয়া হয়নি, কিন্তু এই ঘটনাটি যেহেতু [সি] ও [ডি] উভয় পাণ্ডুলিপিতেই বর্ণিত হয়েছে, সেই হেতু বলা যায় যে এই পাণ্ডুলিপিগুলি উইলিয়ামের হস্তগত হয়নি। ক্ষেত্রবিশেষে মনে হয় [ডি] পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে উইলিয়ামের কিছু জ্ঞান ছিল, কিন্তু সম্ভবত সেই তথ্য তিনি সংগ্রহ করেছিলেন ওরচেস্টারের জনের বিবরণী থেকে। এছাড়া তিনি ৬৫২ সালে সিনওয়েলের লড়া একটি যুদ্ধেরও উল্লেখ করেননি, যা [এ], [বি] ও [সি] পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া গেলেও [ই] পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায় না। আবার তিনি ওয়ার্টগারনেসবার্গে সিনওয়েলের লড়া আরেকটি যুদ্ধের উল্লেখ করেছেন, যেটি কোনও অধুনা-লভ্য পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায় না। তাই সম্ভবত উইলিয়ামের কাছে এমন একটি অনুলিপি ছিল যা বর্তমানে হারিয়ে গিয়েছে।[১৩]

গুরুত্ব[সম্পাদনা]

অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল হল অ্যাংলো-স্যাক্সন যুগের ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র। ক্রনিকলবিডের হিস্টোরিয়া ইকলেসিয়াস্টকা জেন্টিস অ্যাংলোরাম (ইকলেসিয়াস্টিক্যাল হিস্ট্রি অফ দি ইংলিশ পিপল) ছাড়া রোমানদের প্রত্যাবর্তন থেকে নর্ম্যান বিজয়ের মধ্যবর্তী সময়কালের ইংরেজদের ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হত না।[৪৬] নিকোলাস হাও এই দু’টি বইকে বলেন "ইতিহাসের দুই মহৎ অ্যাংলো-স্যাক্সন রচনা"।[৪৭] স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, ইংল্যান্ডে খ্রিস্টধর্ম প্রসারের একেবারে গোড়ার দিকে কোনও ধরনের নথিপত্র ও বর্ষপঞ্জি রাখা হত, কিন্তু সেই সব নথির কোনওটিই আর মূল আকারে পাওয়া যায় না। পরিবর্তে সেগুলি একত্রীভূত হয়েছে পরবর্তীকালের রচনাগুলির মধ্যে এবং মনে করা হয় যে ক্রনিকল-এর মধ্যেও এই ধরনের বহু নথিপত্র রয়েছে। যে ইতিহাস ক্রনিকল-এ সংকলিত হয়েছে তা যে শুধু এটির সংকলকেরা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছিলেন তা-ই নয়, বরং পূর্ববর্তী বর্ষপঞ্জিকারদের নথিপত্র থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন, যে সব নথি বহু ক্ষেত্রেই অন্য কোথাও সংরক্ষিত ছিল না।[৪৮]

যদিও এটির গুরুত্ব শুধুমাত্র এ থেকে যে ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায় তাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইংরেজি ভাষা আদি বিকাশ সম্পর্কেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র।[৪৬] ১১৩১ সালের পরে পিটারবরো ক্রনিকল-এর ভাষা প্রামাণ্য প্রাচীন ইংরেজি সাহিত্য ভাষা থেকে পরিবর্তিত হয়েছে আদি মধ্য ইংরেজিতে, যার ফলে আদিতম জ্ঞাত মধ্য ইংরেজির কিছু পাঠ পাওয়া সম্ভব হয়।[৭] রোম: ক্যাপিটল অফ অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড গ্রন্থে হাও বলেছেন যে, ক্রনিকল-এর অনেক ভুক্তিই ইঙ্গিত করে যে রোমকে অ্যাংলো-স্যাক্সনদের আধ্যাত্মিক বাসভূমি মনে করা হত, অনেক ভুক্তিতেই রোম ও রোমান ইতিহাস সর্বোচ্চ গুরুত্ব লাভ করেছে; উদাহরণস্বরূপ তিনি ১ খ্রিস্টাব্দের ভুক্তিটির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে খ্রিস্টের জন্মের কথা উল্লেখ করার আগে অক্টাভিয়ান অগাস্টাসের রাজত্বকালের কথা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।[৪৭]

ক্রনিকল-এ সাহিত্য প্রসঙ্গও উল্লিখিত হয়েছে। দশম শতাব্দী থেকে রাজপুরুষ ও তাদের কীর্তিকলাপের কথা মহিমান্বিত করার জন্য স্থানে স্থানে প্রাচীন ইংরেজি কবিতা সংযোজিত হয়েছে: "দ্য ব্যাটেল অফ ব্রুনানবার" (৯৩৭), ভাইকিং, স্কট ও স্ট্রেথক্লাইড ব্রিটনদের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে রাজা এথেলস্টানের বিজয়-সংক্রান্ত কবিতা, এবং পাঁচটি ক্ষুদ্রতর কবিতা, "ক্যাপচার অফ দ্য ফাইফ বরোজ" (৯৪২), "দ্য করোনেশন অফ কিং এডগার" (৯৭৩), "দ্য ডেথ অফ কিং এডগার" (৯৭৫), "দ্য ডেথ অফ প্রিন্স অ্যালফ্রেড" (১০৩৬) ও "দ্য ডেথ অফ কিং এডওয়ার্ড দ্য কনফেসর" (১০৬৫)।

সংস্করণ ও প্রাপ্যতার ইতিহাস[সম্পাদনা]

ক্রনিকল-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আদি মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৬৯২ সালে এডমন্ড গিবসন কর্তৃক। গিবসন ছিলেন এক ইংরেজ আইনজ্ঞ ও ধর্মবেত্তা, যিনি পরে (১৭১৬) লিংকনের বিশপ হয়েছিলেন। ক্রনিকন স্যাক্সনিকাম নামাঙ্কিত এই সংস্করণে প্রাচীন ইংরেজি পাঠের সমান্তরাল স্তম্ভে গিবসনের নিজের কৃত লাতিন অনুবাদও সন্নিবেশিত হয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এটিই ছিল ক্রনিকল-এর প্রামাণ্য সংস্করণ। গিবসন তিনটি পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করেছিলেন, যার মধ্যে প্রধান পাণ্ডুলিপিটি ছিল পিটারবরো ক্রনিকল[৪৯] ১৮৬১ সালে বেঞ্জামিন থর্পের রোলস সংস্করণ এর পরে প্রামাণ্য সংস্করণের স্থান অধিকার করে। এই সংস্করণে এ থেকে এফ লেবেলে ছয়টি স্তম্ভে ছয়টি পাঠ মুদ্রিত হয়। এই স্তম্ভগুলির শিরোনাম অক্ষরের নামানুসারেই বর্তমানে পাণ্ডুলিপিগুলিকে নির্দেশ করা হয়।

জন আর্লে রচনা করেন টু অফ দ্য স্যাক্সন ক্রনিকলস প্যারালাল (১৮৬৫)।[৫০] চার্লস প্লামার এই বইটি সম্পাদনা করে টীকা, নির্ঘণ্ট ও শব্দকোষ সহ একটি রিভাইজড টেক্সট প্রস্তুত করেন। সেটি ১৮৯২ ও ১৮৯৯ সালে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়।[৫১][৫২] এ থেকে ই পাঠ পর্যন্ত এই সংস্করণটিতে অন্যান্য পাঠ থেকে উপাদান সংকলিত হয়েছে। বহুল ব্যবহৃত এই সংস্করণটি ১৯৫২ সালে পুনর্মুদ্রিত হয়।[৫২]

স্বতন্ত্র পাণ্ডুলিপিগুলির সংস্করণ[সম্পাদনা]

১৯৮০-এর দশক থেকে "দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল: আ কোলাবোরেটিভ এডিশন" নামে ধারাবাহিকভাবে পাণ্ডুলিপিগুলির নতুন এক সেট পাণ্ডিত্যপূর্ণ সংস্করণ খণ্ডে খণ্ডে মুদ্রিত হতে শুরু করে। কয়েকটি খণ্ড এখনও পরিকল্পনার স্তরেই রয়েছে। যেমন, উত্তর ইংল্যান্ডে রচিত পাণ্ডুলিপিগুলিকে নিয়ে যে সংস্করণটির পরিকল্পনা করা হয়েছে সেটি। আবার প্রকাশিত খণ্ড, যেমন জ্যানেট বেটলির [এ] পাণ্ডুলিপির সংস্করণটি এখন প্রামাণ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[৭] ক্রনিকল-এর একটি সাম্প্রতিক অনুবাদ হল মাইকেল শনটনের দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল (লন্ডন, ১৯৯৬)। এটিতে বিপরীত পৃষ্ঠাগুলিকে [এ] থেকে [ই] পর্যন্ত অনুবাদ এবং সেই সঙ্গে যেখানে যেখানে অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সঙ্গে বিষয়বস্তুর পার্থক্য দেখা যায় সেখানে সেগুলি নির্দেশিত হয়েছে।

[এ] পাণ্ডুলিপির একটি ফ্যাক্সিমিলি সংস্করণ দ্য পার্কার ক্রনিকল অ্যান্ড লজ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি সম্পাদনা করেন রবিন ফ্লাওয়ারহিউজ স্মিথ[৫২] ১৯৮১ সালে প্রকাশক ডি. এস. ব্রিউয়ার দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল: আ কোলাবোরেটিভ এডিশন নামে একটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। ডেভিড ডামভিলসাইমন কিনেস সম্পাদিত এই গ্রন্থ-ধারাবাহিকের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি পাণ্ডুলিপির পাণ্ডিত্যপূর্ণ সংস্করণ সংকলন করা; প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড নির্দিষ্ট হয়েছিল তুলনামূলক সংস্করণগুলির জন্য, অন্যদিকে [এ] থেকে [জি] পর্যন্ত পাণ্ডুলিপির জন্য তৃতীয় থেকে নবম খণ্ড অবধি নির্দিষ্ট করা হয়। জ্যানেট এম. বেটলি সম্পাদিত তৃতীয় খণ্ডটি [এ] পাণ্ডুলিপির একটি সংস্করণ। ১৯৮৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়। [বি] পাণ্ডুলিপির সাইমন টেলর সম্পাদিত সংস্করণটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৩ সালেই।[৫৩] ১৯৪০ সালে বেইটরেজ জুর ইংলিশচেন ফিলোলজি (Beiträge zur Englischen Philologie), চৌত্রিশ, বোচাম-ল্যাঙ্গেন্ড্রিয়ার-এ এইচ. এ. রোজিৎজকে-র সম্পাদনায় "দ্য সি-টেক্সট অফ দি ওল্ড ইংলিশ ক্রনিকলস" শিরোনামে [সি] পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশিত হয়েছিল।[৫২] এই পাণ্ডুলিপির কোলাবোরেটিভ এডিশন ধারাবাহিকের খণ্ডটি ২০০০ সালে ক্যাথারিন ও’ব্রায়ান ও’কিফের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। ১৯২৬ সালে ম্যাঞ্চেস্টার থেকে ই. ক্লাসেন ও এফ. ই. হার্মারের সম্পাদনায় অ্যান অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল ফ্রম ব্রিটিশ মিউজিয়াম কটন ম্যানুস্ক্রিপ্ট, টাইবেরিয়াস বি. ফোর-এ [ডি] পাণ্ডুলিপির একটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ সংস্করণ প্রকাশিত হয়।[৫২] জিওফ্রে গাবিনও [ডি] পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনা করেন, যেটি ১৯৯৬ সালে কোলাবোরেটিভ এডিশন-এর ষষ্ঠ খণ্ডে প্রকাশিত হয়।[৫৩] রোজিৎজকে [ই] পাণ্ডুলিপির একটি অনুবাদও প্রকাশ করেছিলেন দ্য পিটারবরো ক্রনিকল (নিউ ইয়র্ক, ১৯৯৫) গ্রন্থে; এই পাণ্ডুলিপির সুজান আরভিন সম্পাদিত সংস্করণটি কোলাবোরেটিভ এডিশন ধারাবাহিকে ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৪৭ সালে এফ. পি. ম্যাগোন, জুনিয়ারের সম্পাদনায় মেডিয়াভাল স্টাডিজ অফ দ্য পন্টিফিক্যাল ইন্সটিটিউট অফ মেডিয়াভাল স্টাডিজ, নয়-এর অ্যানালেস ডোমিশিয়ানি লাতিনি: অ্যান এডিশন-এ (পৃ. ২৩৫-২৯৫) [এফ] পাণ্ডুলিপির পাঠটি মুদ্রিত হয়েছিল;[৫২] এই পাণ্ডুলিপির একটি সাম্প্রতিকতর সংস্করণ পিটার এস. বেকারের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে।[৫৪] ১৬৪৪ সালে [জি] পাণ্ডুলিপির আব্রাহাম হোয়েলক কৃত প্রথম সংস্করণ ভেনেরাবিলিস বিডি হিস্টোরিয়া ইকলেসিয়াস্টিকা (লাতিন: Venerabilis Bedae Historia Ecclesiastica) কেমব্রিজ থেকে মুদ্রিত হয়েছিল;[৫২] এই পাণ্ডুলিপিরই একটি সংস্করণ অ্যাঞ্জেলিকা লুৎজের সম্পাদনায় ডিয়ে ভার্সন জি ডের অ্যাংলস্যাকশিসচেন ক্রনিক: রেকোনস্ট্রাকশন আন্ড এডিশন (জার্মান: Die Version G der angelsächsischen Chronik: Rekonstruktion und Edition) মিউনিখ থেকে ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।[৭]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. যেমন, রিচার্ড অ্যাবেলস ইতিহাসবিদদের মতৈক্যের কথা উল্লেখ করে অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল-এর রচনাকাল নির্ধারণ করেছেন অন্যূনপক্ষে ৮৯০ খ্রিস্টাব্দ। সেই সঙ্গে কিনের ও ল্যাপিজের মতে, ইংল্যান্ডে ভাইকিংদের প্রত্যাবর্তন ৮৯২ খ্রিস্টাব্দের শেষে অথবা ৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকে এই কালপঞ্জির ‘প্রকাশ’-এর কারণ হয়েছিল।[৩][৪]
  2. উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অ্যাসের অ্যালফ্রেডের বংশলতিকাটি বাদ দিয়েছেন; [এ] পাণ্ডুলিপিতে "এসলা" অন্তর্ভুক্ত হলেও [ডি] পাণ্ডুলিপিতে তা হয়নি।[১১]
  3. ৬৪৮ সালের ক্রনিকল ভুক্তিটি সম্ভবত সেই সীমা যার পরের ভুক্তিগুলিতে সমসাময়িক নথিগুলি আবির্ভূত হতে শুরু করে।[৩৩]
  4. উদাহরণস্বরূপ, কিনেস ও ল্যাপিজ মন্তব্য করেছেন যে আমরা যেন "এটিকে পশ্চিম স্যাক্সন রাজবংশীয় প্রপাগান্ডা হিসেবে দেখার লোভ সংবরণ করি"।[৪০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বসওয়ার্থ, দি এলিমেন্টস অফ অ্যাংলো-স্যাক্সন গ্রামার, পৃ. ২৭৭
  2. জি. ও সেলেস, দ্য মেডিয়াভাল ফাউন্ডেশনস অফ ইংল্যান্ড (লন্ডন ১৯৬৬) পৃ. ৭
  3. অ্যাবেলস, অ্যালফ্রেড দ্য গ্রেট, পৃ. ১৫
  4. কিনেস ও ল্যাপিজ, অ্যালফ্রেড দ্য গ্রেট, পৃ. ৪১
  5. এফ. এম. স্টেনটন, 'দ্য সাউথ-ওয়েস্টার্ন এলিমেন্ট ইন দি ওল্ড ইংলিশ ক্রনিকল', মূল গ্রন্থ: এ. জি. লিটল সম্পাদিত, এসেজ ইন মেডিয়াভাল হিস্ট্রি প্রেজেন্টেড টু টি. এফ. টউট (ম্যাঞ্চেস্টার ১৯২৫) পৃ. ২২; মূল উদ্ধৃতি: "its origin is in one of the south-western shires...at some point not far from the boundary between Somerset and Dorset".<
  6. শনটন, দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল, পৃ. কুড়ি–বাইশ
  7. শটন, দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল, পৃ. তেইশ–আটাশ
  8. কিনেস ও ল্যাপিজ, অ্যালফ্রেড দ্য গ্রেট, পৃ. ৫৫
  9. ওরমল্ড, "অ্যালফ্রেডিয়ান ম্যানুস্ক্রিপ্টস", পৃ. ১৫৮, মূল গ্রন্থ: ক্যাম্পবেল ও অন্যান্য, দি অ্যাংলো-স্যাক্সনস
  10. হান্টার ব্লেয়ার, রোমান ব্রিটেন, পৃ. ১২
  11. কিনেস ও ল্যাপিজ, অ্যালফ্রেড দ্য গ্রেট, পৃ. ২২৮–২২৯, এন. ৪
  12. শনটন, দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল, পৃ. উনিশ–কুড়ি
  13. হোয়াইটলক, ইংলিশ হিস্টোরিক্যাল ডক্যুমেন্টস, পৃ. ১১৩–১১৪
  14. কার, ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস, পৃ. ৫৭
  15. হোয়াইটলক, ইংলিশ হিস্টোরিক্যাল ডক্যুমেন্টস, পৃ. ১০৯–১১২
  16. কার, ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্প্রিক্টস, পৃ. ২৪৯
  17. কার, ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস, পৃ. ২৫১–৫২
  18. কার, ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস, ২৫৪
  19. কার, ৪২৪-২৬
  20. হ্যারিসন, "উইলিয়াম ক্যামডেন অ্যান্ড দ্য এফ-টেক্সট", পৃ. ২২২
  21. হাওর্থ, "দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল", পৃ. ১৫৫
  22. নেউস, হ্যান্ডলিস্ট, পৃ. ৬৩
  23. কার, ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস, পৃ. ১৮৭
  24. কার, ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস, পৃ. ২৩১
  25. রেমন্ড জে. এস. গ্র্যান্ট (১৯৯৬), লরেন্স নোওয়েল, উইলিয়াম ল্যামবার্ডি, অ্যান্ড দ্য লজ অফ দি অ্যাংলো-স্যাক্সনস, আটলান্টা, জিএ.: রোডোপি, পৃ. ২৫
  26. কার, ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস, পৃ. ১৮৮
  27. কার, ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস, পৃ. ১৭৪
  28. কার, ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস, পৃ. ১৭৫
  29. "কটন ক্যাটালগ"। ২৩ এপ্রিল ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ এপ্রিল ২০০৭  "প্রোভেন্যান্স"-এর অধীনে ক্যালিগুলা এ.১৫ দেখুন; সেখানে পাণ্ডুলিপিটির একটি বিবরণ এবং সেটির ইতিহাস দেওয়া রয়েছে।
  30. "কেমব্রিজ, ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি, এইচএইচ. ১. ১০ – দ্য প্রোডাকশন অ্যান্ড ইউজ অফ ইংলিশ ম্যানুস্ক্রিপ্টস:১০৬০ টু ১২২০" [কেমব্রি, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, এইচএইচ. ১. ১০ – ইংরেজি পাণ্ডুলিপির উৎপাদন ও ব্যবহার: ১০৬০ থেকে ১২২০]। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০১১ 
  31. গ্রিনফিল্ড, আ নিউ ক্রিটিক্যাল হিস্ট্রি, পৃ. ৬০
  32. শনটন, দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল, পৃ. আঠারো–উনিশ
  33. ইয়র্ক, কিংস অ্যান্ড কিংডমস, পৃ. ১২৮
  34. ল্যাপিজ, এনসাইক্লোপিডিয়া অফ অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড, পৃ. ৩৫
  35. ক্রিস্টাল, দ্য কেমব্রিজ এনসাইক্লোপিডিয়া, পৃ. ১৫
  36. একওয়াল, ডিকশনারি অফ ইংলিশ প্লেস-নেমস
  37. শনতন, দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল, পৃ. ১৬
  38. শনটন, দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল, পৃ. চোদ্দো–ষোলো
  39. ক্যাম্পবেল,দি অ্যাংলো-স্যাক্সন স্টেট, পৃ. ১৪৪
  40. কিনেস ও ল্যাপিজ, অ্যালফ্রেড দ্য গ্রেট, পৃ. ৫৫
  41. শনটন, দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল, পৃ. ৬০–৬১; মূল উদ্ধৃতি: "When Egbert had obtained all the southern kingdoms, he led a large army into Northumbria, and laid waste that province with severe pillaging, and made King Eanred pay tribute."
  42. পি. ওরমল্ড, "দ্য নাইনথ সেঞ্চুরি", পৃ. ১৩৯, মূল গ্রন্থ: ক্যাম্পবেল ও অন্যান্য, দি অ্যাংলো-স্যাক্সনস
  43. শনটনের গ্রন্থ থেকে অনূদিত, দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল, পৃ. ১৮৪–১৮
  44. ক্যাম্পবেল ও অন্যান্য, দি অ্যাংলো-স্যাক্সনস, পৃ. ২২২
  45. ল্যাপিজ, এনসাইক্লোপিডিয়া অফ অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড, পৃ. ৩৬
  46. হান্টার ব্লেয়ার, অ্যান ইন্ট্রোডাকশন, পৃ. ৩৫৫
  47. হাও, নিকোলাস (২০০৪)। "রোম: ক্যাপিটল অফ অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড"। জার্নাল অফ মেডিয়াভাল অ্যান্ড আর্লি মডার্ন স্টাডিজ৩৪ (১): ১৪৭–৭২। এসটুসিআইডি 170978121ডিওআই:10.1215/10829636-34-1-147 
  48. হান্টার ব্লেয়ার, রোমান ব্রিটেন, পৃ. ১১
  49. পূর্ণাঙ্গ শিরোনাম ছিল Chronicon Saxonicum; seu Annales Rerum in Anglia Praecipue Gestarum, a Christo nato ad Annum Usque MCLIV. deducti, ac jam demum Latinitate donati. Cum Indice Rerum Chronologico. Accedunt Regulae ad Investigandas Nominum Locorum Origines. Et Nominum Locorum ac Virorum in Chronico Memoratorum Explicatio. প্রথম সংস্করণের একটি বিস্তারিত বিবরণ তালিকাভুক্ত হয়েছে "ল বুকস – অক্টোবর ২০০২ লিস্ট"। ২৮ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১৪ 
  50. জন আর্লে (১৮৬৫)। টু অফ দ্য স্যাক্সন ক্রনিকলস প্যারালাল: উইথ সাপ্লিমেন্টারি এক্সট্র্যাক্টস ফ্রম দি আদারস। ক্ল্যারেনডন প্রেস। 
  51. জন আর্লে; চার্লস প্লামার (১৮৯২)। = টু অফ দ্য স্যাক্সন ক্রনিকলস প্যারালাল: টেক্সট, অ্যাপেনডিসেস অ্যান্ড গ্লসারি। ক্ল্যারেনডন প্রেস। 
  52. হোয়াইটলক, ইংলিশ হিস্টোরিক্যাল ডক্যুমেন্টস, পৃ. ১২৯
  53. সিরিল হার্ট, "সাম রিসেন্ট এডিশনস অফ দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল", মিডিয়াম এভাম, খণ্ড ৬৬, সংখ্যা ২ (১৯৯৭), পৃ. ২৯৩–৩০১
  54. পিটার এস. বেকার (সম্পা.), দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল: আ কোলাবোরেটিভ এডিশন, ৮: এমএস এফ (উডব্রিজ: বয়ডেল অ্যান্ড ব্রিউয়ার, ২০০০)

উল্লেখপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • অ্যাবেলস, রিচার্ড (২০০৫)। অ্যালফ্রেড দ্য গ্রেট: ওয়ার, কিংশিপ অ্যান্ড কালচার ইন অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড [মহান অ্যালফ্রেড: অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ডে যুদ্ধ, রাজপদ ও সংস্কৃতি]। লংম্যান। পৃষ্ঠা ১৫। আইএসবিএন 0-582-04047-7 
  • বেটলি, জ্যানেট এম. (১৯৮৬)। দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল: আ কোলাবোরেটিভ এডিশন, ভল্যুম ৩: ম্যানুস্ক্রিপ্ট এ [অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল: একটি সমন্বয়িত সংস্করণ, তৃতীয় খণ্ড: পাণ্ডুলিপি এ]। কেমব্রিজ: ডি. এস. ব্রিউয়ার। আইএসবিএন 0-85991-103-9 
  • বসওয়ার্থ, জোসেফ (১৮২৩)। দি এলিমেন্টস অফ অ্যাংলো-স্যাক্সন গ্রামার [অ্যাংলো-স্যাক্সন ব্যাকরণের উপাদান]। লন্ডন: হার্ডিং, মাভোর অ্যান্ড লেপার্ড। 
  • ক্যাম্পবেল, জেমস; জন, এরিক; ওরমল্ড, প্যাট্রিক (১৯৯১)। দ্য অ্যাংলো-স্যাক্সনস। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন বুকস। আইএসবিএন 0-14-014395-5 
  • ক্যাম্পবেল, জেমস (২০০০)। দ্য অ্যাংলো-স্যাক্সন স্টেট [অ্যাংলো-স্যাক্সন রাষ্ট্রব্যবস্থা]। হ্যাম্বেলডন অ্যান্ড লন্ডন। আইএসবিএন 1-85285-176-7 
  • ক্রিস্টাল, ডেভিড (১৯৯৫)। দ্য কেমব্রিজ এনসাইক্লোপিডিয়া অফ দি ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ [কেমব্রিজ ইংরেজি ভাষা কোষ]। কেমব্রিজ: কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। আইএসবিএন 0-521-59655-6 
  • একওয়াল, এলিয়ার্ট (১৯৪৭)। দ্য কনসাইস অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ ইংলিশ প্লেস-নেমস। অক্সফোর্ড: ক্ল্যারেনডন প্রেস। ওসিএলসি 3821873 
  • নেউস, হেলমুট (২০০১)। হ্যান্ডলিস্ট অফ অ্যাংলো-স্যাক্সন ম্যানুস্ক্রিপ্টস: আ লিস্ট অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস অ্যান্ড ম্যানুস্ক্রিপ্ট ফ্র্যাগমেন্টস রিটেন অর ওনড ইন ইংল্যান্ড আপ টু ১১০০ [অ্যাংলো-স্যাক্সন পাণ্ডুলিপিগুলির সংক্ষিপ্ত তালিকা: ১১০০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে লিখিত বা মালিকানাধীন পাণ্ডুলিপি ও পাণ্ডুলিপি খণ্ডাংশগুলির তালিকা]। মেডিয়াভাল অ্যান্ড রেনেসাঁ টেক্সটস অ্যান্ড স্টাডিজ। ২৪১। টেম্পে: অ্যারিজোনা সেন্টার ফর মেডিয়াভাল অ্যান্ড রেনেসাঁ স্টাডিজ। আইএসবিএন 978-0-86698-283-2 
  • গ্রিনফিল্ড, স্ট্যানলি ব্রায়ান (১৯৮৬)। আ নিউ ক্রিটিক্যাল হিস্ট্রি অফ ওল্ড ইংলিশ লিটারেচার [প্রাচীন ইংরেজি সাহিত্যের একটি নতুন সমালোচনামূলক ইতিহাস]। নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ৬০। আইএসবিএন 0-8147-3088-4 
  • হ্যারিসন, জুলিয়ান (২০০৭)। "উইলিয়াম ক্যামডেন অ্যান্ড দ্য এফ-টেক্সট অফ দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল" [উইলিয়াম ক্যামডেন ও অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকলের এফ-পাঠ]। নোটস অ্যান্ড কোয়ারিজ৫৪ (৩): ২২২–২৪। ডিওআই:10.1093/notesj/gjm124 
  • হাওর্থ, হেনরি এইচ. (১৯০৮)। "দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল: ইটস অরিজিন অ্যান্ড হিস্ট্রি" [অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল: এটির উৎস ও ইতিহাস]। দি আর্কিওলজিক্যাল জার্নাল৬৫: ১৪১–২০৪। ডিওআই:10.1080/00665983.1908.10853082 
  • হান্টার ব্লেয়ার, পিটার (১৯৬০)। অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড [অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড পরিচয়] (৩য় সংস্করণ)। কেমব্রিজ: কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস।  (২০০৩ সংস্করণ: আইএসবিএন ০-৫২১-৮৩০৮৫-০)
  • হান্টার ব্লেয়ার, পিটার (১৯৬৬)। রোমান ব্রিটেন অ্যান্ড আর্লি ইংল্যান্ড: ৫৫ বি.সি. – এ.ডি. ৮৭১ [রোমান ব্রিটেন ও আদি ইংল্যান্ড: খ্রিস্টপূর্ব ৫৫ অব্দ – ৮৭১ খ্রিস্টাব্দ]। নিউ ইয়র্ক: নর্টন। আইএসবিএন 0-393-00361-2 
  • কার, নেইল রিপ্লে (১৯৫৭)। ক্যাটালগ অফ ম্যানুস্ক্রিপ্টস কনটেইনিং অ্যাংলো-স্যাক্সন [অ্যাংলো-স্যাক্সন সম্বলিত পাণ্ডুলিপিগুলির সুবিন্যস্ত তালিকা]। অক্সফোর্ড: অ্যাট দ্য ক্ল্যারেনডন। 
  • কিনেস, সাইমন; মাইকেল ল্যাপিজ (২০০৪)। অ্যালফ্রেড দ্য গ্রেট: আসের’স লাইফ অফ কিং অ্যালফ্রেড অ্যান্ড আদার কনটেম্পোরারি সোর্সেস [মহান আলফ্রেড: আসের লিখিত রাজা অ্যালফ্রেডের জীবনী এবং অন্যান্য সমসাময়িক উৎসসূত্র]। নিউ ইয়র্ক: পেঙ্গুইন ক্লাসিকস। আইএসবিএন 0-14-044409-2 
  • ল্যাপিজ, মাইকেল (১৯৯৯)। দ্য ব্ল্যাকওয়েল এনসাইক্লোপিডিয়া অফ অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড [ব্ল্যাকওয়েল অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড বিশ্বকোষ]। অক্সফোর্ড: ব্ল্যাকওয়েল পাবলিশিং। আইএসবিএন 0-631-22492-0 
  • প্লামার, চার্লস (১৮৮৫)। টু অফ দ্য স্যাক্সন ক্রনিকলস প্যারালাল [দু’টি সমান্তরাল স্যাক্সন ক্রনিকল]। 
  • স্যাভাজ, অ্যানি (১৯৯৭)। দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকলস। গ্যাডালমিং: সিএলবি। আইএসবিএন 1-85833-478-0 
  • স্মিথ, অ্যালবার্ট হিউজ (১৯৩৫)। দ্য পার্কার ক্রনিকল (৮৩২–৯০০)। মেথুয়েন’স ওল্ড ইংলিশ লাইব্রেরি, প্রোজ সিলেকশনস। । লন্ডন: মেথুয়েন। 
  • শনটন, মাইকেল (১৯৯৬)। দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকল। নিউ ইয়র্ক: রটলেজ। আইএসবিএন 0-415-92129-5 
  • থর্প, বেঞ্জামিন (১৮৬১)। দি অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকলরোলস সিরিজ২৩। লন্ডন: লংম্যান 
  • হোয়াইটলক, ডরোথি (১৯৬৮)। ইংলিশ হিস্টোরিক্যাল ডক্যুমেন্টস, খণ্ড ১, অধ্যায় ৫০০–১০৪২। লন্ডন: আয়ার অ্যান্ড স্পটিসউড। 
  • ওরমল্ড, প্যাট্রিক (১৯৯১)। "দ্য নাইনথ সেঞ্চুরি"। ক্যাম্পবেল ও অন্যান্য, দি অ্যাংলো-স্যাক্সনস, ১৩২–১৫৯
  • ইয়র্ক, বারবারা (১৯৯০)। কিংস অ্যান্ড কিংডমস অফ আর্লি অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ড [আদি অ্যাংলো-স্যাক্সন ইংল্যান্ডের রাজন্যবর্গ ও রাজ্যসমূহ]। লন্ডন: সিবাই। আইএসবিএন 1-85264-027-8 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]