বিষয়বস্তুতে চলুন

অস্ট্রেলীয় সাংবিধানিক সংকট, ১৯৭৫

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অস্ট্রেলীয় সাংবিধানিক সংকট, ১৯৭৫
তারিখ
  • ১৬ অক্টোবর ১৯৭৫ (অর্থ সরবরাহ স্থগিতকরণ)
  • ১১ নভেম্বর ১৯৭৫ (গফ হুইটলামের বরখাস্তকরণ)
অবস্থানক্যানবেরা, অস্ট্রেলীয় রাজধানী অঞ্চল:
অংশগ্রহণকারী
ফলাফল

১৯৭৫ সালের অস্ট্রেলীয় সাংবিধানিক সংকট, যা দ্য ডিসমিসাল (বরখাস্তকরণ) নামেও পরিচিত, ১১ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রী গফ হুইটলামকে গভর্নমেন্ট-জেনারেল স্যার জন কের কর্তৃক বরখাস্ত করার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নেয়। হুইটলাম অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির (এএলপি) নেতা ছিলেন। এরপর কের বিরোধী দলীয় নেতা এবং লিবারেল পার্টির সদস্য ম্যালকম ফ্রেজারকে এই শর্তে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন যে, তিনি একটি নতুন ফেডারেল নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দেবেন। এই ঘটনাটিকে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

হুইটলামের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ১৯৭২ সালের ফেডারেল নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। এর মাধ্যমে টানা ২৩ বছরের লিবারেল-কান্ট্রি কোয়ালিশন সরকারের অবসান ঘটে। লেবার পার্টি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে কোয়ালিশনের ৫৮টি আসনের বিপরীতে ৬৭টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তবে উচ্চকক্ষ বা সিনেটে তারা বিরোধী পরিবেশের মুখোমুখি হয়। মে ১৯৭৪ সালে সিনেট যখন লেবার পার্টির ছয়টি বিল প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে ভোট দেয়, তখন হুইটলাম তৎকালীন গভর্নর-জেনারেল স্যার পল হাসলাককে একটি দ্বৈত বিলোপ নির্বাচনের ডাক দেওয়ার পরামর্শ দেন। এই নির্বাচনে লেবার পার্টি পুনরায় নির্বাচিত হয়। তবে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়টি আসন থেকে কমে পাঁচটি আসনে নেমে আসে, যদিও সিনেটে তারা আসন সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। সংসদের দুই কক্ষের মধ্যে এই অচল অবস্থা বজায় থাকায়, অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানের ৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হুইটলাম ৬-৭ আগস্ট ১৯৭৪ সালে সংসদের একটি যৌথ অধিবেশনে আগের দ্বৈত বিলোপ নির্বাচনের সেই ছয়টি বিতর্কিত বিল কোনোমতে পাস করিয়ে নিতে সক্ষম হন। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এটিই ছিল একমাত্র এই ধরণের যৌথ অধিবেশন।

হুইটলামের শাসনকাল অত্যন্ত অশান্ত ও বিতর্কিত প্রমাণিত হয়েছিল। অক্টোবর ১৯৭৫ সালে ফ্রেজারের নেতৃত্বে বিরোধী দল সিনেটে তাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে সরকারের খরচ নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বিল বা বাজেট পাস স্থগিত করে দেয়, যা ইতিমধ্যে হাউস অব রিপ্রেন্দেন্টেটিভসে পাস হয়েছিল। ফ্রেজার এবং বিরোধী দল ঘোষণা করে যে, হুইটলাম হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের জন্য নতুন নির্বাচনের ডাক না দেওয়া পর্যন্ত তারা সিনেটে এই অর্থ সরবরাহ আটকে রাখবে। জুলাই ১৯৭৪ সালে হুইটলামের পরামর্শেই স্যার জন কের গভর্নর-জেনারেল পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। বিরোধী দল কেরকে অনুরোধ করে যেন হুইটলাম তাদের দাবি না মানলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। হুইটলাম বিশ্বাস করতেন যে কের তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত করবেন না। কের-ও হুইটলামকে এমন কোনো আভাস দেননি যাতে তার মনে বরখাস্ত হওয়ার ভয় জাগে।

১১ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে এই সংকট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। সংসদের অচল অবস্থা ভাঙার প্রচেষ্টায় হুইটলাম সিনেটের অর্ধেক আসনের জন্য একটি নির্বাচনের অনুমোদন নিতে কেরের কাছে যান। কের হুইটলামের এই অনুরোধ গ্রহণ করেননি। এর পরিবর্তে তিনি তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন এবং ম্যালকম ফ্রেজারকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। শর্ত ছিল যে ফ্রেজার অবিলম্বে একটি সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেবেন। লেবার পার্টির সমস্ত সংসদ সদস্য এই সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে কিছু টের পাওয়ার আগেই ফ্রেজার এবং তার সংসদীয় সহযোগীরা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করেন। তারা সিনেটে আটকে থাকা অর্থ বিলগুলো পাস করিয়ে নেন এবং কেরকে একটি দ্বৈত বিলোপ নির্বাচনের জন্য সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তী মাসে অনুষ্ঠিত ফেডারেল নির্বাচনে ফ্রেজার এবং তার লিবারেল-কান্ট্রি কোয়ালিশন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়।

এই বরখাস্তের ঘটনার ফলে অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানে কেবল সামান্য কিছু পরিবর্তন এসেছিল। সিনেটের অর্থ বিল আটকে দেওয়ার ক্ষমতা এবং গভর্নর-জেনারেলের সরকার মন্ত্রীদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা বহাল থাকে। তবে এরপর থেকে কোনো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য এই ক্ষমতাগুলো আর ব্যবহার করা হয়নি। হুইটলামকে বরখাস্ত করার পেছনে সিআইএ জড়িত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। তবে কের এবং হুইটলাম উভয়েই এই দাবি অস্বীকার করেন। কের তার এই পদক্ষেপের জন্য লেবার পার্টির সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যাপক সমালোচিত হন। তিনি মেয়াদের আগেই গভর্নর-জেনারেল পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং তার অবশিষ্ট জীবনের বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে কাটান।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]