অস্ট্রেলীয় সাংবিধানিক সংকট, ১৯৭৫
| তারিখ |
|
|---|---|
| অবস্থান | ক্যানবেরা, অস্ট্রেলীয় রাজধানী অঞ্চল: |
| অংশগ্রহণকারী | |
| ফলাফল |
|
১৯৭৫ সালের অস্ট্রেলীয় সাংবিধানিক সংকট, যা দ্য ডিসমিসাল (বরখাস্তকরণ) নামেও পরিচিত, ১১ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রী গফ হুইটলামকে গভর্নমেন্ট-জেনারেল স্যার জন কের কর্তৃক বরখাস্ত করার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ নেয়। হুইটলাম অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির (এএলপি) নেতা ছিলেন। এরপর কের বিরোধী দলীয় নেতা এবং লিবারেল পার্টির সদস্য ম্যালকম ফ্রেজারকে এই শর্তে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন যে, তিনি একটি নতুন ফেডারেল নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দেবেন। এই ঘটনাটিকে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
হুইটলামের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ১৯৭২ সালের ফেডারেল নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। এর মাধ্যমে টানা ২৩ বছরের লিবারেল-কান্ট্রি কোয়ালিশন সরকারের অবসান ঘটে। লেবার পার্টি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে কোয়ালিশনের ৫৮টি আসনের বিপরীতে ৬৭টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তবে উচ্চকক্ষ বা সিনেটে তারা বিরোধী পরিবেশের মুখোমুখি হয়। মে ১৯৭৪ সালে সিনেট যখন লেবার পার্টির ছয়টি বিল প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে ভোট দেয়, তখন হুইটলাম তৎকালীন গভর্নর-জেনারেল স্যার পল হাসলাককে একটি দ্বৈত বিলোপ নির্বাচনের ডাক দেওয়ার পরামর্শ দেন। এই নির্বাচনে লেবার পার্টি পুনরায় নির্বাচিত হয়। তবে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়টি আসন থেকে কমে পাঁচটি আসনে নেমে আসে, যদিও সিনেটে তারা আসন সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। সংসদের দুই কক্ষের মধ্যে এই অচল অবস্থা বজায় থাকায়, অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানের ৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হুইটলাম ৬-৭ আগস্ট ১৯৭৪ সালে সংসদের একটি যৌথ অধিবেশনে আগের দ্বৈত বিলোপ নির্বাচনের সেই ছয়টি বিতর্কিত বিল কোনোমতে পাস করিয়ে নিতে সক্ষম হন। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এটিই ছিল একমাত্র এই ধরণের যৌথ অধিবেশন।
হুইটলামের শাসনকাল অত্যন্ত অশান্ত ও বিতর্কিত প্রমাণিত হয়েছিল। অক্টোবর ১৯৭৫ সালে ফ্রেজারের নেতৃত্বে বিরোধী দল সিনেটে তাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে সরকারের খরচ নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বিল বা বাজেট পাস স্থগিত করে দেয়, যা ইতিমধ্যে হাউস অব রিপ্রেন্দেন্টেটিভসে পাস হয়েছিল। ফ্রেজার এবং বিরোধী দল ঘোষণা করে যে, হুইটলাম হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের জন্য নতুন নির্বাচনের ডাক না দেওয়া পর্যন্ত তারা সিনেটে এই অর্থ সরবরাহ আটকে রাখবে। জুলাই ১৯৭৪ সালে হুইটলামের পরামর্শেই স্যার জন কের গভর্নর-জেনারেল পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। বিরোধী দল কেরকে অনুরোধ করে যেন হুইটলাম তাদের দাবি না মানলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। হুইটলাম বিশ্বাস করতেন যে কের তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত করবেন না। কের-ও হুইটলামকে এমন কোনো আভাস দেননি যাতে তার মনে বরখাস্ত হওয়ার ভয় জাগে।
১১ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে এই সংকট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। সংসদের অচল অবস্থা ভাঙার প্রচেষ্টায় হুইটলাম সিনেটের অর্ধেক আসনের জন্য একটি নির্বাচনের অনুমোদন নিতে কেরের কাছে যান। কের হুইটলামের এই অনুরোধ গ্রহণ করেননি। এর পরিবর্তে তিনি তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করেন এবং ম্যালকম ফ্রেজারকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। শর্ত ছিল যে ফ্রেজার অবিলম্বে একটি সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেবেন। লেবার পার্টির সমস্ত সংসদ সদস্য এই সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে কিছু টের পাওয়ার আগেই ফ্রেজার এবং তার সংসদীয় সহযোগীরা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করেন। তারা সিনেটে আটকে থাকা অর্থ বিলগুলো পাস করিয়ে নেন এবং কেরকে একটি দ্বৈত বিলোপ নির্বাচনের জন্য সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তী মাসে অনুষ্ঠিত ফেডারেল নির্বাচনে ফ্রেজার এবং তার লিবারেল-কান্ট্রি কোয়ালিশন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়।
এই বরখাস্তের ঘটনার ফলে অস্ট্রেলিয়ার সংবিধানে কেবল সামান্য কিছু পরিবর্তন এসেছিল। সিনেটের অর্থ বিল আটকে দেওয়ার ক্ষমতা এবং গভর্নর-জেনারেলের সরকার মন্ত্রীদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা বহাল থাকে। তবে এরপর থেকে কোনো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য এই ক্ষমতাগুলো আর ব্যবহার করা হয়নি। হুইটলামকে বরখাস্ত করার পেছনে সিআইএ জড়িত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। তবে কের এবং হুইটলাম উভয়েই এই দাবি অস্বীকার করেন। কের তার এই পদক্ষেপের জন্য লেবার পার্টির সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যাপক সমালোচিত হন। তিনি মেয়াদের আগেই গভর্নর-জেনারেল পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং তার অবশিষ্ট জীবনের বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে কাটান।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Ayres, Philip (১৯৮৭), Malcolm Fraser, William Heinemann Australia, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৫৫৬১-০৬০-৯
- Brown, Wallace (২০০২), Ten Prime Ministers: Life Among the Politicians, Loungeville Books, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯২০৬৮১-০৪-৩
- Cohen, Barry (১৯৯৬), Life With Gough, Allen & Unwin, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৬৪৪৮-১৬৯-৩
- Freudenberg, Graham (২০০৯), A Certain Grandeur: Gough Whitlam's Life in Politics (revised সংস্করণ), Viking, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭০-০৭৩৭৫-৭
- Hocking, Jenny (২০১৭), The Dismissal Dossier. The Palace Connection: Everything You Were Never Meant to Know About November 1975 (revised সংস্করণ), Melbourne UP, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২২-৮৭৩০১-৬
- Kelly, Paul (১৯৮৩), The Dismissal, Angus & Robertson Publishers, আইএসবিএন ৯৭৮-০-২০৭-১৪৮৬০-৬
- Kelly, Paul (১৯৯৫), November 1975, Allen & Unwin, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৬৩৭৩-৯৮৭-০
- Kerr, John (১৯৭৮), Matters for Judgment, Macmillan, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৩৩-২৫২১২-৩
- Lloyd, Clem (২০০৮), "Edward Gough Whitlam", Grattan, Michelle (সম্পাদক), Australian Prime Ministers (revised সংস্করণ), New Holland Publishers Pty Ltd, পৃ. ৩২৪–৩৫৪, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৪১১০-৭২৭-২
- Markwell, Donald (২০১৬)। Constitutional Conventions and the Headship of State: Australian Experience। Connor Court। আইএসবিএন ৯৭৮১৯২৫৫০১১৫৫।
- McMinn, Winston (১৯৭৯), A Constitutional History of Australia, Oxford University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৫০৫৬২-৭
- Reid, Alan (১৯৭৬), The Whitlam Venture, Hill of Content, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৫৫৭২-০৭৯-৭
- Truu, Maani (২০২৫), "The Quiet Coup", Australian Broadcasting Corporation
- Whitlam, Gough (১৯৭৯), The Truth of the Matter, Allen Lane, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭১৩৯-১২৯১-৩
- Whitlam, Gough (১৯৯৭), Abiding Interests, University of Queensland Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭০২২-২৮৭৯-৭
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Bach, Stanley (২০০৩)। Platypus and Parliament: The Australian Senate in Theory and Practice: Chapter 4: The crisis of 1974–75। Department of the Senate। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৪২-৭১২৯১-২।
- Elder, D. R.; Fowler, P. E., সম্পাদকগণ (২০১৮)। "Double dissolutions: The 1975 double dissolution"। House of Representatives Practice (7th সংস্করণ)। Canberra: Department of the House of Representatives। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৪৩৬৬-৬৫৪-৮।
- Evans, Harry (২০২২)। "Relations with the House of Representatives: Simultaneous dissolutions of 1975"। Odgers' Australian Senate Practice (14th সংস্করণ)। Canberra: Department of the Senate। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৬০১০-৫০৩-৭।
- Hocking, Jenny (২০১২), Gough Whitlam: His Time, The Miegunyah Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২২-৮৫৭৯৩-১
- Hocking, Jenny (২০১৭), The Dismissal Dossier: Everything You Were Never Meant to Know about November 1975 - the Palace Connection, Melbourne University Publishing, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২২-৮৭৩০১-৬
- Hocking, Jenny (২০২০), The Palace Letters:The Queen, the governor-general, and the plot to dismiss Gough Whitlam, Scribe Publications, আইএসবিএন ৯৭৮১৯২২৩১০২৪৮
- Hocking, Jenny (২০২৪)। "Critical Archival Encounters and the Evolving Historiography of the Dismissal of the Whitlam Government"। Australian Journal of Politics & History। ৭০ (2): ২৮১–৯৯।
- Kelly, Paul; Bramston, Troy (২০১৫)। The Dismissal: In the Queen's Name: A Groundbreaking New History। Penguin। আইএসবিএন ৯৭৮০১৪৩৫৭৪০৮৮।
- Kelly, Paul; Bramston, Troy (২০২০)। The Truth of the Palace Letters: Deceit, Ambush and Dismissal in 1975। Melbourne University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২২৮৭৭৫৫৭।
- Markwell, Donald (২০১৬)। Constitutional Conventions and the Headship of State: Australian Experience। Connor Court। আইএসবিএন ৯৭৮১৯২৫৫০১১৫৫।
- Smith, Sir David (২০০৫), The Head of State, Macleay Press, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৭৬৪৯২-১৫-১
- Twomey, Anne (২০১৮)। The Veiled Sceptre: Reserve Powers of Heads of State in Westminster Systems। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮১১০৭২৯৭৮৪৫।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Statement from John Kerr (dated 11 November 1975) explaining his decisions.
- Australian Biography – Malcolm Fraser, part 6 and Australian Biography – Malcolm Fraser, part 7, a 1994 interview in which Fraser gives his perspective on his actions.
- Official site of The Whitlam Institute – contains many news reports and speeches from the time under "Whitlam Government" tab.
- The Malcolm Fraser Collection at the University of Melbourne
- whitlamdismissal.com – privately maintained web site with background, source documents and audio and video clips.
- ইউটিউবে Video clip of Norman Gunston at "The Dismissal"
- Listen to an excerpt of Gough Whitlam's 'Kerr's Cur' speech on australianscreen online
- The Kerr Palace Letters at the National Archives of Australia