বিষয়বস্তুতে চলুন

অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল
কার্যকাল১৮৪৭ থেকে বর্তমান[]
ঘুঁটি সাজানোর সময়কালন্যূনতম, যদি থাকে
দৈবসুযোগনেই
প্রয়োজনীয় দক্ষতাহস্তনিপুণতা
সামাজিক দক্ষতা
হাঁটা
স্থূল সঞ্চালনমূলক দক্ষতা
দৌড়ানো

অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল হলো এমন একটি খেলা যেখানে খেলোয়াড়রা হাত ব্যবহার করে এক বা একাধিক দেয়ালে বল আঘাত করে। এটি অলিম্পিক হ্যান্ডবল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর খেলার ধরনে গেলিক হ্যান্ডবল, ওয়েলশ হ্যান্ডবল এবং আমেরিকান হ্যান্ডবলের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।[] অস্ট্রেলিয়ায় ১৯২৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খেলাটি প্রচলিত।[]

খেলার নিয়ম

[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল অনেকটা স্কোয়াশের মতো খেলা হয়, তবে এতে কোনো র‍্যাকেট ব্যবহার করা হয় না। সার্ভ করার সময় বলটি মাটিতে ড্রপ না খেয়ে সরাসরি সামনের দেয়ালে আঘাত করতে হয়। প্রতিপক্ষকেও একইভাবে বলটি সামনের দেয়ালে ফেরত পাঠাতে হয় যাতে বলটি মাটিতে দুবার ড্রপ খাওয়ার আগেই দেয়ালে লাগে। বলটি পাশের দেয়ালে লেগে সামনের দেয়ালে যেতে পারে, কিন্তু একবার কোনো খেলোয়াড় বলটিকে হাত দিয়ে আঘাত করলে তা মাটিতে স্পর্শ করার আগেই সামনের দেয়ালে লাগতে হবে।

খেলাটি একল (সিঙ্গেলস) বা দ্বৈত (ডাবলস) ফরম্যাটে ১, ৩ বা ৪টি দেয়ালবিশিষ্ট কোর্টে খেলা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত তিন দেয়ালবিশিষ্ট সংস্করণটিই বেশি জনপ্রিয় এবং অধিকাংশ কোর্ট এভাবেই তৈরি করা হয়। এই খেলার ভেন্যুগুলো মূলত বিভিন্ন বেসরকারি ক্যাথলিক কলেজগুলোতে অবস্থিত।[][]

ইতিহাস ও বিকাশ

[সম্পাদনা]

সূচনা

[সম্পাদনা]

যদিও অস্ট্রেলিয়ায় ১৯২৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়,[][] ঊনবিংশ শতাব্দী থেকেই কোনো না কোনো আকারে এটি খেলা হতো।[] আয়ারল্যান্ডেও একই ধরণের একটি খেলা প্রচলিত ছিল এবং ১৮৪৭ সালে মেলবোর্নের হোটেল মালিক মাইকেল লিনচ প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল কোর্টটি নির্মাণ করেন।[]

স্কুলছাত্রদের অংশগ্রহণ

[সম্পাদনা]

খেলার প্রাথমিক বিকাশের কৃতিত্ব মূলত 'ক্রিশ্চিয়ান ব্রাদার্স কলেজের' ওপর বর্তায়।[]

কলেজগুলোতে ছাত্রদের মধ্যে হ্যান্ডবলকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হতো। ব্রাদারদের মতে, হ্যান্ডবল "ফুটবলের জন্য একটি চমৎকার প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ, কারণ এটি শারীরিক সক্ষমতার সকল দিককে কাজে লাগায়"।[] এটি সম্ভাব্য অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য হাত ও চোখের সমন্বয় , সব্যসাচী দক্ষতা , সাবলীলতা এবং স্থান-কাল সম্পর্কে ধারণা অর্জনের সর্বোত্তম উপায় হিসেবে বিবেচিত হতো। উদাহরণস্বরূপ, কলিংউডের হয়ে তিনটি গ্র্যান্ড ফাইনালে খেলা বিল সেরং ভিক্টোরিয়া প্যারেডের ক্রিশ্চিয়ান ব্রাদার্স কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন এবং ১৯৭৪ সালে ৩৮ বছর বয়সে তিনি অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়ন হন।[][১০]

জাতীয় প্রতিযোগিতা

[সম্পাদনা]

ইতিহাসের অধিকাংশ সময় ধরে এই খেলাটি মূলত ভিক্টোরিয়া, সাউথ অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৭০ সাল নাগাদ নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়ান এবং সাউথ অস্ট্রেলিয়ান রাজ্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর অধীনে প্রায় ১,০০০ নিবন্ধিত খেলোয়াড় ছিল।[]

বহু দশক ধরে অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল কাউন্সিল প্রায় প্রতি বছর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করে আসছে এবং প্রতিটি রাজ্য তাদের নিজস্ব শিরোপা প্রতিযোগিতা পরিচালনা করে।[] কেবল সিনিয়রদের শিরোপাই নয়, ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে 'অস্ট্রেলিয়ান সিঙ্গেলস স্কুলবয়েজ হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপ' এবং 'অস্ট্রেলিয়ান ডাবলস স্কুলবয়েজ হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপ' নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতো। অতীতের অনেক মহান চ্যাম্পিয়ন এই স্কুলজীবনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমেই উঠে এসেছেন।[] এছাড়া, বহু দশক ধরে অস্ট্রেলিয়ানরা বিশ্ব জুনিয়র এবং বিশ্ব সিনিয়র শিরোপা প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছে।[][] সাম্প্রতিক দশকগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরে ভিক্টোরিয়া এবং সাউথ অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। গত তিন দশক ধরে রাজ্যগুলো সাধারণত ওয়ার্নামবুল, ভিক্টোরিয়ার মতো কোনো মধ্যবর্তী স্থানে জাতীয় হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য বার্ষিক সপ্তাহান্তে মিলিত হয়। কিছু এলাকায় স্কুল ভেন্যুতে আধুনিক পরিবর্তনের ফলে ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডবল কোর্টগুলো হারিয়ে গেছে, যা হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের জন্য খেলার সুযোগ কঠিন করে তুলেছে।[]

১৯২৮ সালে গঠিত অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল কাউন্সিল জাতীয়ভাবে খেলাটি পরিচালনা করে।[] এর বর্তমান নির্বাহী পরিচালক জিম কাইলি এবং সচিব/কোষাধ্যক্ষ গ্রেগ হে।[]

উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়

[সম্পাদনা]

খেলার ইতিহাসে বেশ কিছু সম্মানিত নাম রয়েছে, যাঁদের মধ্যে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে মাল্টি-ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন জিম ফ্ল্যাটারি,[১১] টিম টাকার এবং জর্জ ম্যাক্রিস[][১২] অন্যতম। দ্বিতীয়ার্ধে ভিক্টোরিয়ার জন হিউজ, এনএসডব্লিউ এর পল ফ্যালন , এসএ এর লু রাভেসি এবং ভিক্টোরিয়ার ভিক ডি'লুজিও ও জিওফ ওয়ালশ উল্লেখযোগ্য।[][][১৩]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]
  • হ্যাক স্ল্যাপ , হাতের বদলে পা দিয়ে খেলা একই ধরণের একটি খেলা।
  • হ্যান্ডবল (স্কুল), অস্ট্রেলিয়ার স্কুলগুলোতে খেলা একটি জনপ্রিয় খেলা , এটি ফোর স্কয়ারের স্কুলইয়ার্ড সংস্করণ।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 7 "হ্যান্ডবল" (নিবন্ধ), দ্য ওয়ার্ল্ড বুক এনসাইক্লোপিডিয়া – অস্ট্রালেশিয়া ১৯৭০, ফিল্ড এন্টারপ্রাইজেস এডুকেশনাল কর্পোরেশন, শিকাগো ইলিনয়, (মাঠ পর্যায়ের সহায়তায় ফিল্ড এডুকেশনাল এন্টারপ্রাইজেস অফ অস্ট্রালেশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, নর্থ সিডনি, অস্ট্রেলিয়া, পৃষ্ঠা ৩৭০)
  2. 1 2 3 "হ্যান্ডবলে এডির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল" (নিবন্ধ), সিটি অফ প্রিস্টন পোস্ট টাইমস, লিডার গ্রুপ, নর্থকোট, মেলবোর্ন, ১৮ ডিসেম্বর ১৯৮৪, পৃষ্ঠা ১১
  3. রাইস, কে.এ., "হ্যান্ডবলের রোমান্টিক ইতিহাস রয়েছে", দ্য (অ্যাডিলেড) মেইল, (শনিবার, ১২ এপ্রিল ১৯৩০), পৃষ্ঠা ৭।
  4. 'রাইট ওয়াল', হ্যান্ডবল: ব্যায়াম হিসেবে এর মূল্য: চ্যাম্পিয়নশিপ গেমস, দ্য স্পোর্টিং গ্লোব, (শনিবার, ১৯ এপ্রিল ১৯২৪), পৃষ্ঠা ৬।
  5. 1 2 3 4 5 "অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল"। অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল কাউন্সিল। ২৯ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০০৯ অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল কাউন্সিল, এসএ ২০০৯
  6. "দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় হ্যান্ডবলের ১০০ বছর ১৯০১–২০০০"। সাউথ অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশন, [অ্যাডিলেড] ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০১৭
  7. 1 2 3 "দ্য স্ট্র্যান্ড" (পিডিএফ)। সেন্ট বার্নার্ডস কলেজ, এসেনডন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ২০০৩। ২২ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০০৯(নিউজলেটার), খণ্ড ১০, নং ২ জুলাই ২০০৩, পৃষ্ঠা ৬
  8. সেন্ট ভার্জিলস অ্যানুয়াল, সেন্ট ভার্জিলস কলেজ, (হোবার্ট), ক্রিসমাস ১৯২২, পৃষ্ঠা ৭।
  9. 'লিংকস', "ফুটবলারদের অবসর বিনোদন: হ্যান্ডবলের ইতিহাস", দ্য হেরাল্ড, (শনিবার, ২০ মার্চ ১৯২০), পৃষ্ঠা ২।
  10. হ্যান্ডবল বিশেষজ্ঞ: অনেক ফুটবলারই খেলাটি পছন্দ করেন, দ্য হেরাল্ড, (শনিবার, ১০ এপ্রিল ১৯২০), পৃষ্ঠা ৩।
  11. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নমিনাল রোল: সার্জন ক্যাপ্টেন জেমস মার্টিন ফ্ল্যাটারি, ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগ
  12. হ্যান্ডবলের হল অফ ফেম (২০১০ সালে জর্জ ম্যাক্রিস সম্পর্কে সাউদার্ন কুরিয়ার-এর কাটিং), র্যান্ডউইক সিটি লাইব্রেরি
  13. "পল ফ্যালনের সাক্ষাৎকার, এগারোবারের অস্ট্রেলিয়ান হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়ন"। নীল বেনেটস, অস্ট্রেলিয়া, ১৯৮৩। ১৯৮৩। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০০৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]