অলকানন্দা নদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অলকানন্দা (अलकनंदा)
River
পলি দ্বারা চালিত উত্তরাখন্ডের দেবপ্রয়াগে প্রবাহিত অলকানন্দা' নদী"
পলি দ্বারা চালিত উত্তরাখন্ডের দেবপ্রয়াগে প্রবাহিত অলকানন্দা' নদী"
দেশ  ভারত
রাজ্য উত্তরাখণ্ড
অঞ্চল গাড়োয়াল বিভাগ
জেলাসমূহ চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, পৌড়ী গাড়ওয়াল
উপনদী
 - বাঁদিকে সরস্বতী, ধৌলীগঙ্গা, নন্দাকিনী, পিন্ডার
 - ডানদিকে মন্দাকিনী
উত্স সতোপন্থ হিমবাহ এবং ভাগিরথী খড়ক হিমবাহের সঙ্গমস্থল
 - উচ্চতা ৩,৮৮০ মিটার (১২,৭৩০ ফিট)
উত্স জনতা ভাগীরথী নদী
মোহনা গঙ্গা
 - অবস্থান দেবপ্রয়াগ, উত্তরাখণ্ড, ভারত
 - উচ্চতা ৪৭৫ মিটার (১,৫৫৮ ফিট)
দৈর্ঘ্য ১৯০ কিলোমিটার (১১৮ মাইল)
অববাহিকা  বর্গকিলোমিটার ( বর্গমাইল)
প্রবাহ
 - গড় /s ft³/s)
ভারতের উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল অঞ্চলের গঙ্গার হিমালয় থেকে নির্গত উপনদীসমূহ। দেবপ্রয়াগে অলকানন্দা গঙ্গার বামতীরবর্তী শাখানদী।
ভারতের উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল অঞ্চলের গঙ্গার হিমালয় থেকে নির্গত উপনদীসমূহ। দেবপ্রয়াগে অলকানন্দা গঙ্গার বামতীরবর্তী শাখানদী।

ভারতের উত্তরাখণ্ডের অলকানন্দা হিমালয় থেকে উদ্ভূত নদী এবং গঙ্গার দুটি প্রধান উৎসের একটি। এটি উত্তর ভারতের প্রধান নদী এবং হিন্দুধর্মের পবিত্র নদী । জলবিজ্ঞানে বৃহত্তর দৈর্ঘ্য এবং প্রবাহের অনুসারে, অলকানন্দা, গঙ্গার উৎস জলস্রোত হিসাবে বিবেচিত হয়;[১] যদিও হিন্দু ধর্মের এবং সংস্কৃতি অনুসারে অন্য মুখ্য জলস্রোত, ভাগীরথী নদীকে, উৎস প্রবাহ হিসাবে গণ্য করা

সংক্ষিপ্ত বিবরণ[সম্পাদনা]

উত্তরাখণ্ডের সতোপন্থ এবং ভাগীরথ খড়ক হিমবাহের পাদদেশে ও সঙ্গমস্থলে অলকানন্দা উদ্গত হয়[২] এবং ২১  কিলোমিটার দুরের তিব্বত থেকে আগত উপনদী সরস্বতী নদীর সঙ্গে মানায় মিলিত হয়। মানা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে হিন্দু তীর্থযাত্রা বদরিনাথ এর আগে অলকানন্দা প্রবাহিত হয়।

উত্তরাখন্ডের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থযাত্রার ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য অলকানন্দা নদীটির উৎপত্তি বিশেষ আগ্রহের স্থান। তিব্বতের সীমান্তের ভারতীয় অংশে দক্ষিণ হিমালয় অঞ্চলে অলকানন্দা হিসাবে গঙ্গা দেখা যায়। সতোপন্থ হিমবাহে অলকানন্দার উত্স থেকে ছয় কিলোমিটার উঁচুতে এর স্নাউটের কাছে ৪৩৫০ মিটার উচ্চতায় ত্রিভূজাকৃতি সতোপন্থ হ্রদ আছে এবং এর নামকরণ করা হয় হিন্দু দেবতাত্রয়ী ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের নামে। উত্তরাখণ্ডের উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ী অঞ্চলে উদ্গত অলকানন্দার সাথে যুক্ত পাঁচ প্রধান উপনদী ক্রমানুসারে ধৌলিগঙ্গা, নন্দকিনী, পিন্ডার, মন্দাকিনীভাগীরথী। দেবপ্রয়াগের শেষ উপনদীতে মিলিত হওয়ার পর নদীটি গঙ্গা নামে পরিচিত। ভাগীরথীর চেয়ে গঙ্গার প্রবাহে অলকানন্দা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অবদান রাখে।

অলকানন্দা নদীপ্রবাহে উচ্চ রাফটিং গ্রেডের কারণে এখানে বিশ্বের অন্যতম উচ্চমানের রাফটিং হয়।.[৩] চামোলি, টিহরি, এবং পৌরী জেলার কিছু অংশ অলকানন্দা নদীর জলনির্গমন পথ। [৪]

'বদ্রীনাথ'

বদ্রীনাথ, অলকানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত, ভারতের হিন্দুদের জন্য পবিত্র গন্তব্যগুলির মধ্যে একটি। নারায়ণ রেঞ্জের পিছনে অবস্থিত নীলকণ্ঠ শিখর, নর ও নারায়ণ দুই পর্বতশ্রেণী উভয় দিকে এই স্থানটি ঘিরে রয়েছে। 'পঞ্চ প্রয়াগ' গাড়োয়াল অঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদীর জায়গায় জায়গায়, অলকানন্দার সঙ্গে সঙ্গমস্থলগুলি প্রয়াগ অথবা নদীর পবিত্র সঙ্গমস্থল বলে পরিচিত । এইগুলি হল:[৫]

  1. বিষ্ণুপ্রয়াগ, যেখানে ধৌলিগঙ্গা নদী দ্বারা অলকানন্দা মিলিত হয়
  2. নন্দপ্রয়াগ, যেখানে এটি নন্দাকিনী নদী দ্বারা মিলিত হয়
  3. কর্ণপ্রয়াগ, যেখানে এটি পিণ্ডার নদী দ্বারা মিলিত হয়
  4. রুদ্রপ্রয়াগ, যেখানে মন্দাকিনী নদী দ্বারা এটি মিলিত হয়
  5. দেবপ্রয়াগ, যেখানে এটি ভাগীরথী নদী দ্বারা মিলিত হয়ে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে গঙ্গা হয়ে যায়।

অলকানন্দা নদী বরাবর শহরগুলি[সম্পাদনা]

যেমন নদী প্রবাহিত হয়, তেমনি তীরবর্তী শহরগুলো হল বদ্রিনাথ, বিষ্ণুপ্রয়াগ, জোশিমঠ, চামোলি, নন্দপ্রয়াগ, কর্ণপ্রয়াগ, রুদ্রপ্রয়াগ, শ্রীনগরদেবপ্রয়াগ রয়েছে। প্রতিটি শহরে উপবাস প্রার্থনা সহ আলকানন্দ অন্য নদীর সাথে মিলিত হন।, রুদ্রপ্রয়াগ, শ্রীনগর ও দেবপ্রয়াগ রয়েছে। প্রতিটি শহরে যার মূল শব্দের শেষে প্রয়াগ যুক্ত আছে, সেখানে অলকানন্দা অন্য নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Gopal, Madan (১৯৯০)। K.S. Gautam, সম্পাদক। India through the ages। Publication Division, Ministry of Information and Broadcasting, Government of India। পৃষ্ঠা 65। 
  2. "eUttaranchal" 
  3. "11 Top Destinations for River Rafting in India - Travel News India"। travelnewsindia.com। ২০১৭-০১-৩১। ২০১৮-০৩-১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-০৯ 
  4. Singh Negi, Sharad (1995). Uttarakhand: Land and People, page 6. MD Publications Pvt Ltd. আইএসবিএন ৮১-৮৫৮৮০-৭৩-৫.
  5. Kapadia, Harish (2001). Trekking and Climbing in the Indian Himalaya, page 89. Stackpole Books. আইএসবিএন ০-৮১১৭-২৯৫৩-২.