বিষয়বস্তুতে চলুন

অম্বরীষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অম্বরীষ
রাজা অম্বরীষ যুবকদের সুনশেপা বলিদান করেন
পরিবার

অম্বরীষ (সংস্কৃত: अम्बरीषः,টেমপ্লেট:IAST3ইক্ষ্বাকু রাজবংশের রাজা এবং মান্ধাত্র এর পুত্র।[] তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে সমগ্র বিশ্ব জয় করেছেন বলে বিশ্বাস করা হয়।[] তিনি ত্রেতাযুগে বাস করতেন।

কিংবদন্তি

[সম্পাদনা]

রামায়ণ

[সম্পাদনা]

রামায়ণে রাজা হরিশচন্দ্র সম্বন্ধে ঐতরেয় ব্রাহ্মণ কিংবদন্তির ভিন্নতা রয়েছে। রামায়ণ সংস্করণে হরিশ্চন্দ্রের পরিবর্তে রাজার নাম রাখা হয়েছে অম্বরীষ। এই কিংবদন্তি অনুসারে, অম্বরীষ একবার তাঁর রাজধানী অযোধ্যায় অশ্বমেধ যজ্ঞে নিযুক্ত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানের সময়, অশ্বমেধের ঘোড়াটি ইন্দ্র চুরি করেছিল। অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী পুরোহিত রাজাকে বলেছিলেন যে পরিস্থিতির ফলে ঘটে যাওয়া দুর্ভাগ্য এড়াতে তাকে পশুটি খুঁজে বের করতে হবে বা মানব বলিদান করতে হবে। পশুটি খুঁজে না পেয়ে রাজা বলির জন্য ঋষির পুত্র শুনহ্শেপকে কিনে নেন। শুনহশেপ ঋষি বিশ্বামিত্র তাকে যে দুটি স্তোত্র দিয়েছিলেন তা পাঠ করে বলিদান থেকে বেঁচে যান।[][]

ভাগবত পুরাণ

[সম্পাদনা]
অম্বরীষের পায়ে পড়ে দুর্বাসার ক্ষমা চাওয়ার চিত্রকর্ম।

ভাগবত পুরাণ অনুসারে, রাজা অম্বরীষ এর পিতা ছিলেন নভগ। নভগ তার পুত্রের নাম রেখেছিলেন শ্রীনভোগ। শ্রীনভোগ ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভের পর অম্বরীষ নামে পরিচিত হন। রাজা অম্বরীষ ছিলেন বিষ্ণুর একজন মহান ভক্ত, এবং সত্যের প্রতি দৃঢ়ভাবে আনুগত্য করতেন। তাঁর ভক্তিতে খুশি হয়ে, বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র অম্বরীষ তার রাজ্য রক্ষা করার জন্য দিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত ভক্তি সহকারে দেবতার অস্ত্রের পূজা করতেন। একবার, কাত্তিকী উত্থান একাদশীর দিবসের পর রাজা অম্বরীষ দ্বাদশী দিবসে ঋষি দুর্ব্বাসা আগমন করেন। রাজা অম্বরীষ তাঁকে সমস্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করেছিলেন। দুর্বাসা তার সম্মানিত অতিথি হওয়ার জন্য রাজার অনুরোধে সম্মত হন এবং রাজাকে অপেক্ষা করতে বলেন। তখন ঋষি দুর্বাসা রাজা অম্বরীষ এর কাছে পারণ (উপবাস ভঙ্গ) এর ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং উষ্ণ পরমান্ন দিয়ে পারণ(উপবাস ভঙ্গ) করবেন বলে জানান। যখন উপবাস ভঙ্গের মুহূর্ত ঘনিয়ে আসছিলোদুর্বাসা যমুনা নদীতে স্নান শেষ করে ফিরতে দেরি করছিলেন। একাদশী ব্রতের ব্রত পূরণের জন্য রাজাকে উপবাস ভাঙার জন্য শুভ মুহূর্তটি ঘনিয়ে আসে, তখনও দুর্বাসা আসেননি। দ্বাদশী উত্তীর্ণ হওয়ার অল্পকাল আগে পারণ করতে হয় বিধায় বিপ্রগণ এর অনুরোধে কুশ-অগ্রে (কুশ =খড়-কুটা) জল বদনেতে (বদন=মুখ) নিয়ে (দ্বাদশ দিন) পারণ ভঙ্গ (উপবাস ভঙ্গ) করেন এবং রাজা অম্বরীষ উষ্ণ পরমান্ন হাতে নিয়ে ঋষি দুর্বাসার আগমনের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। স্নান শেষে ফিরে এসে পরাক্রমশালী ঋষি দূর্ব্বাসার মনে হয়েছিল যে অতিথির খাবার খাওয়ার আগেই রাজা অম্বরীষ তার উপবাস ভঙ্গ করে অতিথির সম্মান লঙ্ঘন করেছে এবং তার ক্রোধে অম্বরীষকে হত্যা করার জন্য তার চুলের অংশ থেকে অসুর তৈরি করেছিল। অম্বরীষ অসুরকে ধ্বংস করেছিল এবং নিজে দুর্বাসাকে তাড়া করতে শুরু করেছিল। দুর্বাসা ব্রহ্মাশিবের কাছে গিয়েছিলেন সুরক্ষার জন্য। দুজনেই তাকে বাঁচাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি স্বয়ং বিষ্ণুর কাছে গেলেন, যিনি বলেছিলেন যে তিনি অম্বরীষের নির্দোষ ভক্তিতে আবদ্ধ থাকায় তিনি কিছুই করতে পারবেন না এবং ঋষিকে রাজার কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। দুর্বাসা অম্বরীষের কাছে সংবৎসর(শতবছর) পরে দিয়ে দেখেন রাজা সেইমত দাঁড়াইয়া আছে এবং উষ্ণ পায়সেতে ধূম(ধোঁয়া) উঠিছে। সেখানে উপস্থিত হয়ে ঋষি দুর্বাসা তার প্রাণ রক্ষা করার জন্য রাজা অম্বরীষ এর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। এইভাবে দূর্বাসার প্রাণ রক্ষা পেল।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Pargiter, F.E. (1972) [1922]. Ancient Indian Historical Tradition, Delhi: Motilal Banarsidass, p.92.
  2. Gopal, Madan (১৯৯০)। K.S. Gautam (সম্পাদক)। India through the ages। Publication Division, Ministry of Information and Broadcasting, Government of India। পৃ. ৬৬
  3. Yves Bonnefoy & Wendy Doniger (১৯৯৩)। Asian Mythologies। University of Chicago Press। পৃ. ৫৪। আইএসবিএন ৯৭৮০২২৬০৬৪৫৬৭
  4. David Shulman (১৯৯৩)। "Sunahsepa: The Riddle of Fathers and Sons"The Hungry God: Hindu Tales of Filicide and Devotion। University of Chicago Press। পৃ. ৮৭–১০৫। আইএসবিএন ৯৭৮০২২৬৭৫৫৭১৭
  5. Prabhupada, Bhaktivedanta Swami (১৯৯৫)। Srimad Bhagavatam - Canto Nine। The Bhaktivedanta Book Trust। পৃ. ৮৫-১৭০। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮৯৫৭৪৯১-৮

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]