বিষয়বস্তুতে চলুন

অপস্বৈরশাসক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শিয়ার রাজা চিয়ে, নিপীড়নের প্রতীক হিসেবে চি দণ্ড ধারণ করছেন এবং দুই নারীর উপর বসে আছেন, যা তার ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতীক।
কিলিং নো মার্ডার, প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা, অলিভার ক্রমওয়েলকে হত্যার ঘটনাকে অনুপ্রাণিত এবং ন্যায়সঙ্গত করার জন্য লেখা ১৭শ শতকের ইংরেজি পুস্তিকাটির ১৮শ শতকের পুনর্মুদ্রণ

অপস্বৈরশাসক বা জালিম বলতে একজন পরম শাসক বা স্বৈরশাসককে বোঝায়, যে আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে, বা যে একজন বৈধ শাসকের সার্বভৌমত্ব জবরদখল করেছে। অপস্বৈরশাসকেরা প্রায়শই নিষ্ঠুর, নির্দয় ও নির্মম দমনমূলক উপায় অবলম্বন করে তাদের ক্ষমতা ধরে রাখে।[] অপস্বৈশাসক শাসিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অপস্বৈরশাসন বা অপস্বৈরতন্ত্র বা জালিম শাসন (Tyranny) বলে। অপস্বৈরশাসকের ইংরেজি পরিভাষা "টাইর‍্যান্ট" (Tyrant), যার মূল গ্রিক শব্দটির অর্থ ছিল একজন পরম সার্বভৌম শাসক যিনি সাংবিধানিক অধিকার ছাড়াই ক্ষমতায় আরোহণ করেন।[] তবে প্রাচীন এবং প্রাথমিক ধ্রুপদী যুগের গ্রিসে এই শব্দটির একটি নিরপেক্ষ অর্থ ছিল।[] তা স্বত্ত্বেও গ্রিক দার্শনিক প্লেটো (প্লাতোস) তিরান্নোস (tyrannos)-কে সরকারের একটি নেতিবাচক রূপ হিসেবে দেখতেন ও রাজনীতিতে দর্শনে নির্ণায়ক প্রভাব ফেলার কারণে তিনি তিরান্নোস-কে "রাষ্ট্রের চতুর্থ এবং নিকৃষ্টতম ব্যাধি" বলে মনে করতেন।

বিচারের জন্য যে উপকরণটির প্রয়োজন, অর্থাৎ যুক্তিবোধ, সেটিই একজন অপস্বৈরশাসকদের মধ্যে অনুপস্থিত। অপস্বৈরশাসক নিজেই দাসত্বে আবদ্ধ, কেননা তার শ্রেষ্ঠাংশটি (যুক্তিবোধ) দাসত্বে আবদ্ধ। একইভাবে অপস্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রটিও দাসত্বে আবদ্ধ, কেননা সেটিতেও যুক্তিবোধ ও শৃঙ্খলা অনুপস্থিত।[]

দার্শনিক প্লেটো (প্লাতোস) ও অ্যারিস্টটল (আরিস্তোতলেস) একজন অপস্বৈরশাসককে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, যে আইন ছাড়াই শাসন করার পাশাপাশি তার নিজ জনগণ ও অন্য জাতির জনগণের বিরুদ্ধে চরম ও নিষ্ঠুর পদ্ধতি ব্যবহার করে।[][] ফরাসি বিশ্বকোষ অঁসিক্লোপেদি-তে এই শব্দটিকে সার্বভৌম ক্ষমতা জবরদখলকারী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যেখানে প্রজারা "আইনের পরিবর্তে" একজন অপস্বৈরশাসকের "আবেগ এবং অন্যায্য আকাঙ্ক্ষার শিকার" হয়।[] খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম এবং চতুর্থ শতাব্দীর শেষের দিকে, বিশেষ করে সিসিলিতে এক নতুন ধরনের অপস্বৈরশাসকের উদ্ভব হয়েছিল, যার পেছনে সামরিক বাহিনীর সমর্থন ছিল ।

বিভিন্ন ধরনের সরকারের উপর অপস্বৈরশাসনের অভিযোগ প্রয়োগ করা যেতে পারে:

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Compare: "Tyrant"। ৬ নভেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৫ {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  2. "tyrant"Encyclopædia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০১৯
  3. Kagan, Donald (১৯৯৮)। Pericles of Athens and the Birth of Democracy (ইংরেজি ভাষায়)। Simon and Schuster। পৃ. ২৫০। আইএসবিএন ৯৭৮০৬৮৪৮৬৩৯৫৫। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২০
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "auto" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  5. "Politics by Aristotle"classics.mit.edu। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৯ Internet Classics Archive, Massachusetts Institute of Technology এর মাধ্যমে।
  6. "The Republic, by Plato"। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৯ Project Gutenberg এর মাধ্যমে।
  7. Compare: "Tyrant"। ৬ নভেম্বর ২০০৯। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]