অন্তর্মৃত্তিকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

অন্তর্মৃত্তিকা (Subsoil) হচ্ছে পৃষ্ঠমৃত্তিকার নিচের স্তর, মাটি গঠন প্রক্রিয়ার দ্বারা যে স্তরের পলি বা শিলার মূল অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। মৃত্তিকা স্তর বিন্যাসের ‘খ’ স্তরকে কখনও কখনও ভুল করে অন্তর্মৃত্তিকা আখ্যায়িত করা হয়। ‘খ’ স্তরের অন্তর্তলের অন্তর্ভুক্ত স্তরে উপর থেকে এমনকি নিচ থেকেও বস্ত্তর পরিস্রুতি সংঘটিত হয়। আর্দ্র অঞ্চলে, ‘খ’ স্তরে লোহা ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড এবং সিলিকেট কাদার মতো পদার্থ সবচেয়ে বেশি সঞ্চিত হয়। শুষ্ক ও আধা শুষ্ক অঞ্চলে ওই স্তরে ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ক্যালসিয়াম সালফেট এবং অন্যান্য লবণ বেশি জমা হয়।

ভূমির উপরিভাগ থেকে অন্তর্মৃত্তিকা দৃষ্টিগোচর হয় না এবং জমি কর্ষণের ফলেও এটা সাধারণত ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। মাটির অনেক ব্যবহার রয়েছে যা অন্তর্মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্যের দ্বারা প্রভাবিত হয় না। তবে অন্তর্মৃত্তিকায় শিকড় সঞ্চারণের কারণে এবং সেখানকার আর্দ্রতা ও পুষ্টির উপর কৃষি উৎপাদনের ভালমন্দ অবশ্যই নির্ভরশীল। একইভাবে অপ্রবেশ্য অন্তর্মৃত্তিকা মাঝে মাঝে পানির নিম্নমুখী প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এবং এ জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট আর্দ্রতা অধিকাংশ শস্যের বৃদ্ধির পক্ষে ক্ষতিকর।

বাংলাদেশে চুনমুক্ত বাদামি প্লাবনভূমির অন্তর্মৃত্তিকা হলদেটে-বাদামি ও মাঝারি থেকে নিরপেক্ষ অম্ল প্রবণতা-বিশিষ্ট। ধূসর প্লাবনভূমির অন্তর্মৃত্তিকা সাধারণত ১৫ থেকে ৫০ সেমি পুরু এবং নিরপেক্ষ থেকে হাল্কা ক্ষারীয় এবং পূর্ব সুরমা-কুশিয়ারা প্লাবনভূমি, চট্টগ্রাম উপকূলীয় সমতলভূমি এবং মধ্য মেঘনা প্লাবনভূমির অন্তর্মৃত্তিকা সামান্য থেকে মাঝারি অম্ল। চুনযুক্ত গাঢ় ধূসর প্লাবনভূমির অন্তর্মৃত্তিকায় (৩০-৬০ সেমি পুরু) পলির স্তরবিন্যাস সাধারণত অনুপস্থিত। অম্ল অববাহিকীয় কাদা-র অন্তর্মৃত্তিকা তীব্র থেকে সুতীব্র অম্লীয়। সিলেট এলাকার পর্বতমালাগুলি ঘেঁষে ধূসর পাদদেশীয় মাটির অন্তর্মৃত্তিকার রং অধিকতর লাল। গাঢ় লালাভ-বাদামি সোপান মাটির, লালাভ-বাদামি থেকে হলদেটে বাদামি ভঙ্গুর বা চূর্ণনীয় অন্তর্মৃত্তিকা রয়েছে। অগভীর লালাভ- বাদামি সোপান মাটির ৩০ থেকে ৬০ সেমি পুরু লাল মাটির কঠিন কর্দমযুক্ত অন্তর্মৃত্তিকা এবং হলদে-বাদামি মাটিতে সরন্ধ্র দোঅাঁশ অন্তর্মৃত্তিকা আছে। বাদামি পাহাড়ি মাটি-র অন্তর্মৃত্তিকা এক তৃতীয়াংশ থেকে এক মিটার পুরু এবং রং কড়া বাদামি থেকে হলদে বাদামির মধ্যে লাল ছোপবিশিষ্ট। বাংলাদেশের প্লাবনভূমি এলাকার অধিকাংশ মাটি, উপরিভাগ থেকে ধূসর, আধা-ধূসর ও গাঢ় ধূসর রঙের পরিবাহিত পদার্থে আচ্ছাদিত। এ সব আচ্ছাদনের ফলে উপরের মাটি নিচে স্থানান্তরের কারণে মাটিতে বিভিন্ন পদার্থের মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। ফলে অন্তর্মৃত্তিকায় রঙের বৈপরীত্যও তীব্রতর হয়। প্লাবনভূমির অধিকাংশেরই অন্তর্মৃত্তিকা নিমজ্জিত অবস্থায়ও বাতান্বিত (aerated) থাকে। এমনকি পানিতে সম্পূর্ণ ডুবে থাকলেও এ বায়ু চলাচল অব্যাহত থাকে। অকর্ষিত জমিতেও অবায়ুজীবী উপরিভাগ স্তরের নিচে অন্তর্মৃত্তিকা বাতান্বিত থাকে। তাই নিমজ্জমান মাটিতে অবস্থিত ক্ষেতের (ধানসহ) শিকড়ের দ্বারাও বাতাস অন্তর্মৃত্তিকায় বাহিত হতে পারে।

তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]