অন্তরঙ্গ সঙ্গীর প্রতি সহিংসতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মরিয়ম, যিনি তার স্বামীর অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছেন

অন্তরঙ্গ সঙ্গীর প্রতি সহিংসতা (আইপিভি) হল একজন বর্তমান বা প্রাক্তন পত্নী বা সঙ্গীর দ্বারা অন্য স্ত্রী বা সঙ্গীর বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারিবারিক সহিংসতা। [১][২] আইপিভি শারীরিক, মৌখিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন নির্যাতন সহ বেশ কয়েকটি রূপ নিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আইপিভি'কে সংজ্ঞায়িত করেছে নিন্মক্ত ভাবে "... ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে যে কোনও আচরণ যা সম্পর্কের মধ্যে শারীরিক, মানসিক বা যৌন ক্ষতি করে, যার মধ্যে শারীরিক আগ্রাসন, যৌন জবরদস্তি, মানসিক নির্যাতন এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার ঘটনা রয়েছে।" [৩] আইপিভি'কে কখনও কখনও কেবল ব্যাটারি বা স্ত্রী বা সঙ্গীর অপব্যবহার হিসাবে উল্লেখ করা হয়। [৪]

আইপিভি-এর সবচেয়ে চরম রূপকে ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসবাদ, জোর করে নিয়ন্ত্রণ করার সহিংসতা, অথবা কেবল জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ বলা হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, একজন সঙ্গী নিয়মতান্ত্রিকভাবে হিংস্র ও নিয়ন্ত্রণকারী। এটি সাধারণত মহিলাদের বিরুদ্ধে পুরুষদের দ্বারা সংঘটিত হয়, এবং এই ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা ও মহিলাদের আশ্রয়ের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।[৫][৬][৪] ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, যা আত্মরক্ষার একটি ধরন, এবং যাকে হিংসাত্মক প্রতিরোধ বলা হয়, তা সাধারণত মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। [৭][৮]

পুরুষদের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতার উপর গবেষণায় দেখা গেছে যে মহিলা অন্তরঙ্গ সঙ্গীদের দ্বারা গৃহস্থালি সহিংসতার ক্ষেত্রে পুরুষরাদের দ্বারা রিপোর্ট বা প্রতিবেদন করার সম্ভাবনা কম। [৯][১০] অন্যদিকে, পুরুষদের মারাত্মক গার্হস্থ্য আক্রমণ করার সম্ভাবনা বেশি,[১১][১২][১৩] এবং এর ফলে মহিলারা গুরুতর আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। [১৪]

অন্তরঙ্গ সঙ্গীর সহিংসতার সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু কম ক্ষতিকর রূপ হল পরিস্থিতিগত দম্পতি সহিংসতা (যা পরিস্থিতিগত সহিংসতা নামেও পরিচিত), যা পুরুষ ও মহিলাদের দ্বারা প্রায় সমানভাবে পরিচালিত হয়,[৬][৪][৭] এবং এটি হওয়ার সম্ভাবনা কিশোর -কিশোরী ও কলেজ বয়সী সহ তরুণ দম্পতিদের (কিশোর ডেটিং সহিংসতা দেখুন) মধ্যে বেশি। [৭][১৫] সহিংসতার আরেকটি রূপ, যেখানে সম্পর্কের উভয় সঙ্গী নিয়ন্ত্রণ ও হিংসাত্মক আচরণে জড়িত, একে পারস্পরিক সহিংস নিয়ন্ত্রণ বলা হয়।

পটভূমি[সম্পাদনা]

বেনিনে একজন মহিলার বিরুদ্ধে শারীরিক সহিংসতা।
ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর দ্বারা সহিংসতার শিকার হওয়া মহিলাদের শতাংশ, ২০১৬ [১৬]

অন্তরঙ্গ সম্পর্কের দুই ব্যক্তির মধ্যে অন্তরঙ্গ সঙ্গী সহিংসতা ঘটে। এটি বিষমকামী বা সমকামী দম্পতির মধ্যে হতে পারে এবং শিকার পুরুষ বা মহিলা উভয়ই হতে পারে। দম্পতিরা ডেটিং, সহবাস বা বিবাহিত হতে পারে এবং বাড়িতে বা বাড়ির বাইরে হিংসা ঘটতে পারে। [৭]

১৯৯০-এর দশকে গবেষণায় দেখা গেছে যে নারী-পুরুষ উভয়েই গালিগালাজ করতে পারে বা গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকার হতে পারে।[nb ১] নারীদের প্রতিহিংসা বা আত্মরক্ষায় হিংস্রভাবে কাজ করার সম্ভাবনা বেশি এবং পুরুষদের তুলনায় কম গুরুতর ধরনের সহিংসতায় লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যেখানে পুরুষদের দ্বারা নারীদের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদী চক্রের অপব্যবহার করার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Gelles 1980, 1989; McNeely and Mann 1990; Shupe, Stacey, and Hazelwood 1987; Straus 1973; Straus, Gelles, and Steinmetz 1980; Steinmetz 1977/1978.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Connie Mitchell (২০০৯)। Intimate Partner Violence: A Health-Based PerspectiveOxford University Press। পৃষ্ঠা 319–320। আইএসবিএন 978-0199720729। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৬ 
  2. Mandi M. Larsen (২০১৬)। Health Inequities Related to Intimate Partner Violence Against Women: The Role of Social Policy in the United States, Germany, and NorwaySpringer। পৃষ্ঠা 110–111। আইএসবিএন 978-3319295657। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৬ 
  3. Krug, Etienne G.; Dahlberg, Linda L. (২০০২)। World report on violence and healthWorld Health Organizationআইএসবিএন 9789240681804 
  4. Anglin, Dierdre; Homeier, Diana C. (২০১৪)। "Intimate Partner Violence"Rosen's Emergency Medicine: Concepts and Clinical Practice, Volume 1 (8th সংস্করণ)। Elsevier Saunders। পৃষ্ঠা 872–875। আইএসবিএন 978-1-4557-0605-1 
  5. Pamela Regan (২০১১)। Close RelationshipsRoutledge। পৃষ্ঠা 456–460। আইএসবিএন 978-1136851605। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১, ২০১৬ 
  6. Robert E. Emery (২০১৩)। Cultural Sociology of Divorce: An EncyclopediaSAGE Publications। পৃষ্ঠা 397। আইএসবিএন 978-1452274430। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১, ২০১৬ 
  7. Howe, Tasha R. (২০১২)। "Families in crisis: violence, abuse, and neglect: intimate partner violence: marital rape"। Marriages and families in the 21st century a bioecological approach। John Wiley & Sons। আইএসবিএন 9781405195010  Preview.
  8. Marital Separation and Lethal Domestic ViolenceRoutledge। ২০১৫। পৃষ্ঠা 22। আইএসবিএন 978-1317522133। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১, ২০১৬ 
  9. Dutton, Donald G.; Nicholls, Tonia L. (সেপ্টেম্বর ২০০৫)। "The gender paradigm in domestic violence research and theory: Part 1—The conflict of theory and data": 680–714। ডিওআই:10.1016/j.avb.2005.02.001 
  10. Watson, Dorothy; Parsons, Sara (জুলাই ২০০৫)। Domestic Abuse of Women and Men in Ireland: Report on the National Study of Domestic Abuse। Stationery Office। পৃষ্ঠা 169। আইএসবিএন 978-0-7557-7089-2 
  11. Morse, Barbara J. (জানুয়ারি ১৯৯৫)। "Beyond the Conflict Tactics Scale: Assessing Gender Differences in Partner Violence": 251–272। ডিওআই:10.1891/0886-6708.10.4.251পিএমআইডি 8703839 
  12. Swan, Suzanne C.; Gambone, Laura J. (২০০৮)। "A review of research on women's use of violence with male intimate partners": 301–314। ডিওআই:10.1891/0886-6708.23.3.301পিএমআইডি 18624096পিএমসি 2968709অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  13. Ansara, D. L.; Hindin, M. J. (১ অক্টোবর ২০১০)। "Exploring gender differences in the patterns of intimate partner violence in Canada: a latent class approach": 849–854। ডিওআই:10.1136/jech.2009.095208পিএমআইডি 19833606 
  14. Wallace, Harvey; Roberson, Cliff (২০১৬)। "Intimate Partner Abuse and Relationship Violence"Family Violence: Legal, Medical, and Social Perspectives। Routledge। পৃষ্ঠা 49–50। আইএসবিএন 978-1-315-62827-1 
  15. The Psychology of Violence in Adolescent Romantic RelationshipsSpringer। ২০১৫। পৃষ্ঠা 107–108। আইএসবিএন 978-1137321404। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১, ২০১৬ 
  16. "Women who experienced violence by an intimate partner"Our World in Data। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিমিডিয়া কমন্সে অন্তরঙ্গ সঙ্গীর প্রতি সহিংসতা সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।