অনুপম সুদ
অনুপম সুদ | |
|---|---|
২০১২ সালে অনুপম সুদ | |
| জন্ম | অনুপম সুদ ১৯৪৪ |
অনুপম সুদ (জন্ম ১৯৪৪) একজন শিল্পী যিনি নতুন দিল্লির উপকণ্ঠে মাণ্ডিতে থাকেন এবং একটি ছোট সম্প্রদায়ের মধ্যে কাজ করেন। তিনি পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যদিও তিনি তাঁর যৌবনের বেশিরভাগ সময় হিমাচল প্রদেশের প্রাক্তন ব্রিটিশ গ্রীষ্মকালীন রাজধানী সিমলায় কাটিয়েছেন। একটি রক্ষণশীল পরিবার থেকে আসা সত্ত্বেও, পারিবারিক পছন্দে বিবাহ করার পরিবর্তে তাঁর শিক্ষাজীবন এবং শৈল্পিক সাধনার পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল সাহসী এবং বিরল।
জীবনী
[সম্পাদনা]অনুপম সুদ ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত দিল্লির কলেজ অফ আর্ট- এ পড়াশোনা করেছিলেন। এই একই দশকে সোমনাথ হোর কলেজের প্রিন্টমেকিং বিভাগকে পুনর্গঠিত ও পুনরুজ্জীবিত করছিলেন। অনুপম ছিলেন "গ্রুপ ৮"-এর সর্বকনিষ্ঠ সদস্য, এটি ছিল কলেজের শিল্পীদের একটি সংগঠন, এটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অনুপমের শিক্ষক জগমোহন চোপড়া এবং এই গোষ্ঠীটি ভারতে মুদ্রণ তৈরির সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিল।
এরপরে অনুপম সুদ ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের স্লেড স্কুল অফ ফাইন আর্ট থেকে প্রিন্টমেকিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। স্লেড থেকে ফিরে আসার পরই খোদাইয়ের মাধ্যমে পোশাক-পরিহিত এবং নগ্ন মানব মূর্তি অন্বেষণের দিকে অনুপম সুদের তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়। অনুপম পুরুষ ও মহিলা উভয়ের যৌনতা এবং অভিন্নতার মধ্যে অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছিলেন। সামাজিক বিষয়গুলির উপর খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর শিল্পে খুব কমই পাওয়া যায়, এবং তাঁর চরিত্রগুলি প্রায়শই আত্মমগ্ন এবং গভীরভাবে চিন্তিত অবস্থায় থাকে। তবে, প্রতীকবাদ এবং রূপকের মাধ্যমে তিনি সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেন এবং লিঙ্গের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কের খামখেয়ালী চিত্রণ তাঁর কাজের একটি প্রিয় বিষয়। তাঁর খোদাই করা জিনিসপত্র দস্তা প্লেট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, এটি একটি কঠিন মাধ্যম যেখানে কাজের জন্য ধৈর্য এবং নির্ভুলতা উভয়ই প্রয়োজন।[১]
অনুপম সুদের অন্যতম বিখ্যাত রচনা, "সংলাপ সিরিজ"। পরিণতমনস্ক, নীরব, গ্রহণযোগ্য মনের ভাবের মাধ্যমে এটি বিভিন্ন লিঙ্গের মানুষের মধ্যে মানবিক যোগাযোগ প্রকাশ করে। "সংলাপ সিরিজ" মানব নৈকট্যকে ঘনিষ্ঠ এবং অকথিত হিসেবে জোর দেয়।[২] এই ক্রমেরই একটি একটি কাজে, একটি জীর্ণ বাড়ির সামনে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসে আছে কিছু মানুষ। তাদের মধ্যে খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা আছে বলে মনে হয় না। ভাঙা পাথরের মধ্যে অবস্থিত, এই মানুষগুলি পরিবর্তনশীল মূল্যবোধের মূর্ত প্রতীক।[৩]
অনুপম সুদের কাজ নতুন দিল্লির ন্যাশনাল গ্যালারি অফ মডার্ন আর্ট, লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যাণ্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়াম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিবডি মিউজিয়াম এবং জাপানের গ্লেনবারা আর্ট মিউজিয়ামের সংগ্রহে রয়েছে।[৪]
প্রভাব
[সম্পাদনা]অনুপম প্রায়শই তাঁর বাবার শরীরচর্চা, পাঞ্জাবি থিয়েটার এবং গোয়েন্দা গল্পের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর মায়ের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং উপনিষদ পাঠকে তাঁর প্রধান প্রভাব হিসেবে স্বীকার করেছেন। দিল্লিতে সোমনাথ হোরের পরামর্শে তিনি একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর দক্ষতা বিকাশ করেন।[৫]
পুরস্কার
[সম্পাদনা]তিনি ললিত কলা একাডেমি, রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক, কলা রত্ন, সাহিত্য কলা পরিষদ, মিশরীয় আন্তর্জাতিক প্রিন্ট বিয়েনাল, বিসি সান্যাল পুরস্কার এবং আরও অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছেন।[৬][৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Amrita Jhaveri, A Guide to 101 Modern and Contemporary Indian Artists, 2005 আইএসবিএন ৮১-৭৫০৮-৪২৩-৫
- ↑ Neville Tuli, Indian Contemporary Painting, Hary N. Abrams Incorporated, 1998, আইএসবিএন ০-৮১০৯-৩৪৭২-৮
- ↑ Jhaveri, Amrita. (২০০৫)। A guide to 101 modern & contemporary Indian artists। India Book House। আইএসবিএন ৮১৭৫০৮৪২৩৫। ওসিএলসি 62899830।
- ↑ Geeti Sen (editor), Transgression in Print, Palette Art Gallery, 2007 আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৯০৬০২৯-০-৭
- ↑ "Anupam Sud"। Saffronart। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৯।
- ↑ "Artists honoured with BC Sanyal Award"। business-standard। ১৭ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ Garg & Shah, Atul & Prerna। Footprints - Women in Printmaking। Bhasha Research and Publication Centre।