অনীস জঙ্গ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অনীস জঙ্গ
জন্ম১৯৬৪ (বয়স ৫৬–৫৭)
রোউরকেলা, ওডিশা, ভারত
জাতীয়তাভারতীয়
মাতৃশিক্ষায়তনমিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
পেশালেখক, সাংবাদিক, কলাম লেখক
পরিচিতির কারণআনভেইলিং ইন্ডিয়া (১৯৮৭)

অনীস জঙ্গ ১৯৬৪ সালে জন্ম নেওয়া, ভারতের একজন লেখক, সাংবাদিক ও কলাম লেখক, যিনি ভার‍ত ও ভারতের বাইরের পত্র পত্রিকায় কলাম লিখে থাকেন।[১] তিনি ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত আনভেইলিং ইন্ডিয়া বইটির জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত। বইটিতে ভারতীয় নারীদের জীবন কাহিনি চিত্রিত হয়েছে, ফুটে উঠেছে পর্দার অন্তরালে থাকা ভারতীয় মুসলিম নারীদের কথা।[২]

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

অনীস জঙ্গ জন্মেছিলেন রাউরকেলায়, ১৯৬৪ সালে।[৩] তিনি এসেছিলেন হায়দ্রাবাদের অভিজাত মুসলিম পরিবার থেকে। তার পিতা নবাব হোশ ইয়ার জঙ্গ একজন পণ্ডিত ও কবি ছিলেন। তার বাবা হায়দ্রাবাদের শেষ নিজামের দরবারে উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।[৪] অনীস জঙ্গের মা ও ভাইও উর্দু কবি ছিলেন।[৫]

ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়া শেষ করে, শিক্ষা অর্জনের জন্য অনীস জঙ্গ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গমন করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যান আর্বার শহরে অবস্থিত মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। সেখানে সমাজবিজ্ঞান ও আমেরিকার ইতিহাস বিষয়ে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।[৬]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি বিখ্যাত ভারতীয় পত্রিকা দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রকাশনা ইয়ুথ টাইমস এ কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ইয়ুথ টাইমস এর সাথে ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন এর হয়েও কাজ করেছেন।[৭] অনীস জঙ্গ বর্তমানে দিল্লিতে বাস করেন।[৪]

লেখক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৮৭ সালে তার বই আনভেইলিং ইন্ডিয়া প্রকাশিত হয়। এটি একটি ভ্রমণ ডায়েরি এবং এতে বিভিন্ন নারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

তার বইয়ে ফুটে ওঠে নারীদের প্রাত্যহিক জীবনের চিত্র। ১৯৯৩ সালে তার বই নাইট অব দ্য নিউ মুন: এনকাউন্টারস উইদ মুসলিম উইমেন ইন ইন্ডিয়া এবং এর পরের বছর তার লেখা সেভেন সিস্টার্স: অ্যামং দ্য উইমেন অব সাউথ এশিয়া প্রকাশিত হয়। ১৯৯৭ সালে তার বই ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স প্রকাশিত হয়। বইগুলোতে নারীদের দৈনন্দিন জীবনের গল্প ফুটে উঠেছে।

২০০৫ সালে তার লস্ট স্প্রিং: স্টোরিজ অব স্টোলেন চাইল্ডহুড বইটি প্রকাশিত হয়। বইটিতে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের গল্প বলা হয়েছে, বলা হয়েছে অপহরণের শিকার হওয়া শিশুদের গল্প।[৮] বইটির অংশবিশেষ বিভিন্ন ভারতীয় স্কুলে পড়ানো হয়।

এছাড়াও তিনি হোয়েন আ প্লেস বিকামস আ পার্সন (১৯৭৭), দ্য সং অব ইন্ডিয়া (১৯৯০), ব্রেকিং দ্য কোর্টইয়ার্ড: আ সিকুয়েল টু আনভেইলিং ইন্ডিয়া (২০০৩) সহ বিভিন্ন বই রচনা করেছেন।

গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা]

  • হোয়েন আ প্লেস বিকামস আ পার্সন (১৯৭৭)
  • ফ্ল্যাশপয়েন্ট: পোয়েমস ইন প্রোজ (১৯৮১)
  • আনভেইলং ইন্ডিয়া (১৯৮৭)
  • দ্য সং অব ইন্ডিয়া (১৯৯০)
  • নাইট অব দ্য নিউ মুন: এনকাউন্টারস উইদ মুসলিম উইমেন ইন ইন্ডিয়া (১৯৯৩)
  • সেভেন সিস্টার্স: অ্যামং দ্য উইমেন অব সাউথ এশিয়া (১৯৯৪)
  • ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স: ভয়েজ ইব উইমেন অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড (১৯৯৭)
  • অলিভস ফ্রম জেরিকো: পিস ইন উইন্টার গার্ডেন (১৯৯৯)
  • ব্রেকিং দ্য কোর্টইয়ার্ড: আ সিকুয়েল টু আনভেইলিং ইন্ডিয়া (২০০৩)
  • লস্ট স্প্রিং: স্টোরিজ অব স্টোলেন চাইল্ডহুড (২০০৫)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Indian women lack freedom: Anees Jung"The Hindu। ২৭ জানুয়ারি ২০০৪। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০১৯ 
  2. "Highlighting problems of women, youth"The Tribune। ২৭ এপ্রিল ২০০৪। 
  3. Unveiling India, Penguin Books, 1987. আইএসবিএন ০-১৪-০১০৩৪৪-৯. page 1
  4. Anees Jung ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে Penguin India.
  5. Anees Jung ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২২ জুন ২০১০ তারিখে Oxford Bookstore.
  6. Seven sisters: among the women of South Asia. Penguin Books, 1994. p. i
  7. Anees Jung ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৭ জুলাই ২০১০ তারিখে writersfestival.org
  8. Jung exposes national shame Hindustan Times, 1 January 2001.