বিষয়বস্তুতে চলুন

অনায়নিতকারক বিকিরণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিভিন্ন ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ

অনায়নিতকারক বিকিরণ বলতে এমন তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে বোঝায়, যার প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অবিভাজ্য অংশের তথা কোয়ান্টামের শক্তি (ফোটন শক্তি) এত কম যে তা পরমাণু বা অণুকে আয়নিত করতে পারে না, অর্থাৎ কোনও পরমাণু বা অণু থেকে একটি ইলেকট্রন সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করার জন্য তা যথেষ্ট নয়।[] পদার্থের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করার সময় আধানযুক্ত আয়ন সৃষ্টি করার পরিবর্তে, অনায়নিতকারক তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের শক্তি কেবল ইলেকট্রনকে উত্তেজিতকরণের জন্য (অর্থাৎ কোনও ইলেকট্রনকে উচ্চতর শক্তিস্তরে স্থানান্তরিত করার জন্য) যথেষ্ট হয়। অনায়নিতকারক বিকিরণ সাধারণত উল্লেখযোগ্য কোনও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে না; তবে উচ্চতর কম্পাঙ্কের অনায়নিতকারক বিকিরণ বা উচ্চ শক্তিঘনত্বের দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শে আসলে (যেমনটি গবেষণাগার বা শিল্পকারখানার কর্মক্ষেত্রে ঘটতে পারে) স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অনায়নিতকারক বিকিরণ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে বেতার সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ, চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক চিত্রণ এবং তাপচিকিৎসা[]

এর বিপরীতে আয়নিতকারক বিকিরণ-এর কম্পাঙ্ক বেশি এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনায়নিতকারক বিকিরণের তুলনায় কম; ফলে এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এর সংস্পর্শে আসলে দগ্ধতা, বিকিরণজনিত অসুস্থতা, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং বংশাণুগত ক্ষতি ঘটতে পারে। আয়নিতকারক বিকিরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে জটিল বিকিরণ সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়, যা সাধারণভাবে অনায়নিতকারক বিকিরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না।[][]

কোন্‌ পর্যায় থেকে একটি বিকিরণকে "আয়নিতকারক" হিসেবে গণ্য করা হবে, তার কোনও সুস্পষ্ট সীমারেখা নেই; কারণ বিভিন্ন অণু ও পরমাণু ভিন্ন ভিন্ন শক্তিতে আয়নিত হয়। প্রচলিত সংজ্ঞা অনুযায়ী যেসব বিকিরণের কণা বা ফোটনের শক্তি ১০ ইলেকট্রন-ভোল্ট (eV)-এর কম, সেগুলিকে অনায়নিতকারক বিকিরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরেকটি প্রস্তাবিত সীমামাত্রা হলো ৩৩ ইলেকট্রন-ভোল্ট, যা পানির বা জলের অণুকে আয়নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি। সূর্য থেকে পৃথিবীতে পৌঁছানো আলোর অধিকাংশই অনায়নিতকারক বিকিরণ দ্বারা গঠিত, কারণ দূর-অতিবেগুনি অঞ্চলের আয়নিতকারক রশ্মিগুলো বায়ুমণ্ডলের গ্যাস দ্বারা, বিশেষত অক্সিজেন দ্বারা পরিশ্রুত হয়ে যায়।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "Ionizing & Non-Ionizing Radiation"EPA। ১৬ জুলাই ২০১৪। ১১ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২০
  2. 1 2 CDC (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)। "About Non-Ionizing Radiation"Radiation and Your Health (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  3. "Nonionizing Radiation"Radiation Answers (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪