অদ্রিকা
| অদ্রিকা | |
|---|---|
| অন্তর্ভুক্তি | অপ্সরা |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| সঙ্গী | উপরিচর বসু (মিলন) |
| সন্তান | সত্যবতী (কন্যা) মৎস্য (পুত্র) |
অদ্রিকা (সংস্কৃত: अद्रिका) হলেন হিন্দু মহাকাব্য মহাভারত-এ বর্ণিত একজন স্বর্গীয় অপ্সরা।[১] তিনি এক ব্রহ্মর্ষির অভিশাপের কারণে দীর্ঘকাল যমুনা নদীতে একটি কৃত্রিম মৎস্য (মাছ) হিসেবে জীবন অতিবাহিত করতে বাধ্য হন।[২] তিনি কুরু বংশের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ও পূর্বসূরি সত্যবতীর জন্মদাত্রী মাতা এবং মহর্ষি ব্যাসদেবের মাতামহী।[৩]
পৌরাণিক উপাখ্যান
[সম্পাদনা]ধ্যানে বিঘ্ন ও অভিশাপ
[সম্পাদনা]মহাভারতের আদিপর্ব এবং দেবীভাগবত পুরাণ অনুসারে, অদ্রিকা ছিলেন দেবরাজ ইন্দ্রের সভার একজন অত্যন্ত রূপসী অপ্সরা। একবার তিনি যমুনা নদীর তীরে তপস্যারত এক পরম ধার্মিক ব্রাহ্মণ ঋষিকে (কোনো কোনো পাঠভেদে স্বয়ং পিতামহ ব্রহ্মাকে) তাঁর রূপ, সৌন্দর্য ও চপলতা দ্বারা প্রলোভিত করার চেষ্টা করেন। এতে ঋষির তপস্যা ভঙ্গ হলে তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত ও ক্রুদ্ধ হয়ে অদ্রিকাকে অভিশাপ দেন যে, যে রূপের অহংকারে তিনি ঋষির ধ্যান নষ্ট করেছেন, সেই রূপ হারিয়ে তাকে মর্ত্যে জলচর মাছের রূপ ধারণ করে যমুনা নদীতে বাস করতে হবে।[১][৪] অদ্রিকা নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করলে ঋষি শান্ত হয়ে শাপমুক্তির শর্ত দেন। শর্তানুসারে বলা হয়, যখন তিনি কোনো রাজকীয় বীর্যের মাধ্যমে গর্ভবতী হয়ে দুটি মানব সন্তানের জন্ম দেবেন, কেবল তখনই তিনি এই মৎস্যরূপ থেকে মুক্তি পাবেন।[২]
সত্যবতী ও মৎস্যের জন্ম
[সম্পাদনা]চেদি রাজ্যের রাজা উপরিচর বসু একবার মৃগয়ায় (শিকার) গিয়ে তাঁর পত্নী গিরিকার কথা স্মরণ করে কামার্ত হন। তিনি তাঁর বীর্য একটি পাতার ঠোঙায় সংগ্রহ করেন এবং একটি প্রশিক্ষিত শিকারি বাজপাখির মাধ্যমে তা রানীর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।[২] কিন্তু আকাশে ওড়ার সময় অন্য একটি বাজপাখির সাথে সেটির যুদ্ধ বাধলে বীর্যের ঠোঙাটি যমুনা নদীতে পড়ে যায়। যমুনার জলে সন্তরণরত মাছরূপী অদ্রিকা সেই বীর্য গ্রাস করেন এবং এর ফলে তিনি গর্ভবতী হন। দশ মাস পর যমুনার ধীবরদের (জেলে) প্রধান দাশরাজার জালে সেই বিশাল মাছটি ধরা পড়ে। জেলেরা মাছটির পেট কাটলে তার ভেতর থেকে দুটি অত্যন্ত সুন্দর মানব শিশু জীবিত অবস্থায় উদ্ধার পায়। এদের মধ্যে একটি ছিল পুত্র শিশু এবং অন্যটি কন্যা শিশু।[১]
শাপমুক্তি
[সম্পাদনা]মানব শিশু দুটির জন্ম হওয়ার সাথে সাথেই অদ্রিকার মৎস্যরূপের অবসান ঘটে। তিনি তাঁর আদি অপ্সরা রূপ ফিরে পান এবং অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে পুনরায় স্বর্গে আরোহণ করেন।[২]
উত্তরসূরি ও গুরুত্ব
[সম্পাদনা]অদ্রিকার গর্ভজাত শিশু দুটির মধ্যে পুত্রটি পরবর্তীকালে রাজা মৎস্য নামে পরিচিত হন এবং 'মৎস্য রাজ্য' প্রতিষ্ঠা করেন। কন্যা শিশুটির গা থেকে মাছের গন্ধ আসায় ধীবররাজা তার নাম রাখেন মৎস্যগন্ধা এবং তাকে নিজের কন্যা হিসেবে লালন-পালন করেন। এই মৎস্যগন্ধাই পরবর্তীকালে পরাশর মুনির আশীর্বাদে সুগন্ধিযুক্তা (যোজনগন্ধা বা কস্তুরিগন্ধা) হন এবং সত্যবতী নামে পরিচিত হন। রাজা শান্তনুর সাথে বিয়ের পর এই সত্যবতীর মাধ্যমেই কুরু বংশের ধারা এগিয়ে চলে এবং তাঁর গর্ভেই জন্ম নেন মহাভারতের রচয়িতা মহর্ষি ব্যাসদেব।
বংশতালিকা
[সম্পাদনা]| ব্রহ্মা | উপরিচর বসু | অদ্রিকা | |||||||||||||||||||||||||||||||||
| বশিষ্ঠ | |||||||||||||||||||||||||||||||||||
| শক্তি | |||||||||||||||||||||||||||||||||||
| পরাশর | সত্যবতী | ||||||||||||||||||||||||||||||||||
| ব্যাসদেব | |||||||||||||||||||||||||||||||||||
| ধৃতরাষ্ট্র | পাণ্ডু | বিদুর | শুক | ||||||||||||||||||||||||||||||||
| কৌরবগণ | পাণ্ডবগণ | ||||||||||||||||||||||||||||||||||