অক্সিজেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

অক্সিজেট একটি যন্ত্র যার সাহায্যে হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় সহজে উচ্চপ্রবাহে রোগীকে অক্সিজেন দেয়া হয়ে থাকে।[১][২] হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় সর্বোচ্চ ৬০ লিটার পর্যন্ত উচ্চপ্রবাহী অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব এই যন্ত্র দ্বারা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই যন্ত্রকে সীমিত পরিসরে অনুমোদন দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর[৩][৪][৫][৬][৭]

কার্যপ্রণালী[সম্পাদনা]

অক্সিজেট মূলত বাতাস থেকে প্রাকৃতিক অক্সিজেন যন্ত্রের মধ্যে নিয়ে আসবে, যার সাথে যুক্ত হবে সাধারণ সিলিন্ডারের অক্সিজেন। একত্রে প্রায় ৬০ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করার মতো ক্ষমতা তৈরি করে এই যন্ত্র, কোনো প্রকার বিদ্যুৎ ছাড়াই। হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় ১৫ লিটারের অক্সিজেন প্রবাহী-মিটার থাকে, যা মাস্কের মাধ্যমে রোগীর কাছে যায়। অক্সিজেট এই একটির বদলে দুইটি প্রবাহী-মিটার ব্যবহার করে। একটি দিয়ে সাধারণ ১৫ লিটার হলেও, অপরটি দিয়ে ৫০-৬০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেয়া যাবে। অক্সিজেট মূলত নিম্নচাপ তৈরি করে, যার ফলে পরিবেশ থেকে বাতাস যন্ত্রের ভিতরে প্রবেশ করে। অক্সিজেটে একটি নন-ভেন্টেড সিপ্যাপ মাস্ক ব্যবহার করা হয়, যেন দৃঢ়ভাবে মুখে আটকানো থাকে এবং সহজে বাতাস বের না হতে পারে। এছাড়া একটি পিপ ভালভ থাকে, যা রোগীর জন্য অক্সিজেনের চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।[৬] এর ফলে শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীরা সহজে অক্সিজেনের অভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চল ও যাত্রাপথে অ্যাম্বুলেন্সে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হবে। হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যায় রোগীকে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া যায়, তবে অতিরিক্ত শ্বাসকষ্টের সময় এর চেয়েও বেশি অক্সিজেনের দরকার পড়ে। তখন উচ্চ-প্রবাহী ন্যাজাল ক্যানুলার (হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা বা এইচএফএনও) প্রয়োজন হয়, কিংবা নিবিড় তত্ত্বাবধান কেন্দ্রের (আইসিইউ) প্রয়োজন হয়। তবে মহামারীর মত বিশেষ অবস্থায় আইসিইউ কিংবা প্রয়োজনীয় যন্ত্রের সংকট দেখা যায়।[৮][৯][১০] সেক্ষেত্রে অক্সিজেট ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যয়ের দিক থেকে এই যন্ত্রটির একটি ইউনিটের মূল্য ২০-২৫ হাজার টাকা হবে বলে জানানো হয়। এই যন্ত্রটির ব্যবহার কৌশল সহজ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনীয় স্থানে ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়।[১১] চিকিৎসা দেওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যে রোগীদের রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা (অক্সিজেন স্যাচুরেশন) গড়ে ১১.২% বৃদ্ধি করে এই যন্ত্র।[১২]

কোভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত এইচএফএনও বা কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার (সিপ্যাপ) প্রক্রিয়ায় দেয়া হয়। এর মধ্যে অক্সিজেট সিপ্যাপ পদ্ধতিতে অক্সিজেন দিয়ে থাকে।[১৩]

প্রেক্ষাপট[সম্পাদনা]

কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারীর শুরুতে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তওফিক হাসানের তত্ত্বাবধানে একদল শিক্ষার্থী এ কাজ শুরু করেন।[১৪] বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) অনুমোদন নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে তৃতীয় ধাপের অনুমতি লাভ করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়।[১১][১৩][১৫] বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ (আইডিয়া) শীর্ষক প্রকল্প, অঙ্কুর ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন এবং মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।[১১]

অনুমোদন ও ব্যবহার[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন অক্সিজেটের বিপণন-পরবর্তী সতর্কতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান, যেখানে প্রত্যেক রোগীর তথ্য রাখতে হবে এবং দেখতে হবে যে এতে রোগীর উপকার কিংবা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিংবা কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "BUET develops OxyJet for Covid patients"নিউ এজ। ১১ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ 
  2. "বুয়েটের 'অক্সিজেট'"দৈনিক প্রথম আলো। ৩০ জুলাই ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "অক্সিজেন দেওয়ার জন্য বুয়েটের তৈরি 'অক্সিজেট' অনুমতি পেল"যুগান্তর। ২৮ জুলাই ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ 
  4. "সীমিত অনুমোদন পেলো বুয়েট উদ্ভাবিত 'অক্সিজেট'"ইত্তেফাক। ২৮ জুলাই ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ 
  5. "সীমিত অনুমোদন পেল বুয়েটের 'অক্সিজেট'"প্রথম আলো। ২৮ জুলাই ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. আসিফ হাওলাদার (৬ জুলাই ২০২১)। "দুঃসময়ে আশা দেখাচ্ছে 'অক্সিজেট'"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. "OxyJet of BUET to supply oxygen to COVID patients gets approval"www.buet.ac.bd। ২ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ 
  8. Abe, Ryuzo; Bunya, Naofumi; Endo, Tomoyuki; Fujino, Yuji; Fujita, Kensuke; Fujizuka, Kenji; Hagiwara, Yoshihiro; Hamaguchi, Jun; Hara, Yoshitaka (২০২০-০৬-১৫)। "Save the ICU and save lives during the COVID-19 pandemic"Journal of Intensive Care (ইংরেজি ভাষায়)। 8 (1): 40। আইএসএসএন 2052-0492ডিওআই:10.1186/s40560-020-00456-1পিএমআইডি 32549989 |pmid= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)পিএমসি PMC7294761অবাধে প্রবেশযোগ্য |pmc= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  9. "Management of ICU nursing teams during the COVID-19 pandemic"Enfermería Intensiva (English ed.) (ইংরেজি ভাষায়)। 31 (2): 49–51। ২০২০-০৪-০১। আইএসএসএন 2529-9840ডিওআই:10.1016/j.enfie.2020.04.001 
  10. Leatherby, Lauren; Keefe, John; Tompkins, Lucy; Smart, Charlie; Conlen, Matthew (৯ ডিসেম্বর ২০২০)। "'There's No Place for Them to Go': I.C.U. Beds Near Capacity Across U.S."দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০২১ 
  11. "কোভিড চিকিৎসায় অক্সিজেনের ব্যয় কমাবে বুয়েটের 'অক্সিজেট'"বিডিনিউজ২৪। ১১ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ 
  12. "বুয়েট উদ্ভাবিত 'অক্সিজেট' প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার পরামর্শ হাইকোর্টের"কালের কণ্ঠ। ৫ জুলাই ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ 
  13. মোহাম্মদ আল-মাসুম মোল্লা (৫ মে ২০২১)। "A breath of fresh air in Covid crisis"ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ 
  14. এ. এম. এম. জাওয়াদুল আলম (৬ ডিসেম্বর ২০২০)। "করোনা গবেষণায় দেশের শিক্ষার্থীরা"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  15. "ঢাকা মেডিকেলে 'অক্সিজেট সিপ্যাপ ভেন্টিলেটরের' ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু"চ্যানেল ২৪। ২ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]