বাংলা একাডেমী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Bangla Academy থেকে ঘুরে এসেছে)
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০-এ মুক্তধারার দোকান। চিত্রগ্রাহক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী


বাংলা একাডেমী ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ভাষাসাহিত্যের চর্চা, গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) এই একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন-পরবর্তী কালের প্রেক্ষাপটে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন "বর্ধমান হাউজ"-এ এই একাডেমীর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। একাডেমীর "বর্ধমান হাউজে" একটি "ভাষা আন্দোলন জাদুঘর" আছে।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস [সম্পাদনা]

বাংলা একাডেমীর প্রধান ভবন বর্ধমান হাউজ

বশীর আল হেলালের মতে, বাংলা একাডেমীর মতো প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও সংগঠনের চিন্তা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম করেন।[১] ডঃ শহীদুল্লাহ ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ এ পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে ভাষা সংক্রান্ত একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবী করেন।[২] এছাড়া দৈনিক আজাদ পত্রিকা বাংলা একাডেমী গঠনে জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ১৯৫২ সালের ২৯ এপ্রিল পত্রিকাটি 'বাংলা একাডেমী' প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে এ প্রসঙ্গে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময় কিছু প্রচেষ্টা নেয়।[৩][৪] ১৯৫৪ সালে এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু অর্থাভাবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলে শিক্ষামন্ত্রী সৈয়দ আজিজুল হক নির্দেশ দেন,[৫]

যুক্তফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী বর্ধমান হাউজের বদলে অপেক্ষাকৃত কম বিলাসের বাড়িতে বাসস্থান নির্দিষ্ট করিবেন এবং বর্ধমান হাউজকে আপাতত ছাত্রাবাস ও পরে বাংলাভাষার গবেষণাগারে পরিণত করা হইবে।

অবশেষে ১৯৫৫ সালে ৩ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার উদ্বোধন করেন 'বাংলা একাডেমী'র। বাংলা একাডেমীর প্রথম সচিব মুহম্মদ বরকতুল্লাহ। তার পদবী ছিল 'স্পেশাল অফিসার'।[৬] ১৯৫৬ সালে একাডেমীর প্রথম পরিচালক নিযুক্ত হন অধ্যাপক মুহম্মদ এনামুল হক। বাংলা একাডেমীর প্রথম প্রকাশিত বই আহমদ শরীফ সম্পাদিত দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত 'লাইলী মজনু'। স্বাধীনতার পর থেকে একাডেমী চত্বরে স্বল্প পরিসরে বইমেলা শুরু হয় এবং ১৯৭৪ সাল থেকে বড় আকার ধারণ করে। [৭] ২০০৯-২০১১ খ্রিষ্টাব্দে একাডেমীর "বর্ধমান হাউজ" ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ভাষা আন্দোলন জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে।

সাংগঠনিক কাঠামো [সম্পাদনা]

এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলা একাডেমী একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। একাডেমীর কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে রয়েছেন একজন মহাপরিচালক। বর্তমান মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন শামসুজ্জামান খান[৮]

আভ্যন্তরীক কাঠামো [সম্পাদনা]

বাংলা একাডেমীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ৪টি বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগগুলো হচ্ছে:

  • গবেষণা, সঙ্কলন ও ফোকলোর বিভাগ
  • ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগ
  • পাঠ্যপুস্তক বিভাগ
  • প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ

কার্যক্রম [সম্পাদনা]

একাডেমী আয়োজিত একটি সেমিনারে পুরোহিত অধ্যাপক পবিত্র সরকার ও আলোচকবৃন্দ

অমর একুশে গ্রন্থমেলা [সম্পাদনা]

প্রতি বছর পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে বাংলা একাডেমী একটি জাতীয় বই মেলার আয়োজন করে যা অমর একুশে গ্রন্থমেলা নামে আখ্যায়িত। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের যে করুণ ঘটনা ঘটে, সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই এই মাসে আয়োজিত এই বইমেলার নামকরণ করা হয় 'অমর একুশে গ্রন্থমেলা'।

গবেষণা [সম্পাদনা]

গ্রন্থাগার [সম্পাদনা]

পুস্তক প্রকাশনা [সম্পাদনা]

বাংলা একাডেমী থেকে জানুয়ারী ২০১৩ সাল পর্যন্ত মোট ৪৯৬৫ টি পুস্তক ও পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে রয়েছে কথা সাহিত্য, কবিতা, সাধারণ অভিধান, পরিভাষা অভিধান, বিভিন্ন লেখক-কবির রচনাবলী, সাহিত্য গবেষণা, সাহিত্য সমালোচনা, দর্শন, ইতিহাস ,ভূগোল, গণিত, বিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, ভাষা-আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, শিশু-কিশোর সাহিত্য, অনুবাদ, ধর্ম, সংস্কৃতি, জীবনী ইত্যাদি বিষয়ের গ্রন্থাবলী।

পত্র-পত্রিকা প্রকাশনা [সম্পাদনা]

বাংলা একাডেমীর প্রথম প্রকাশনা “বাংলা একাডেমী পত্রিকা” প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৫৭-র জানুয়ারী মাসে।

  • উত্তরাধিকার। - এটি একটি সৃজনশীল মাসিক সাহিত্য পত্রিকা
  • বাংলা একডেমী পত্রিকা। - এটি একটি গবেষণামুলক ত্রৈমাসিকপত্রিকা ।
  • বাংলা একডেমী বিজ্ঞান পত্রিকা। - এটি ষাণ্মাসিক বিজ্ঞান পত্রকা।
  • ধানশালিকের দেশ। - এটি একটি কিশোর ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা।

বিভিন্ন বিশেষ প্রকল্প [সম্পাদনা]

মুদ্রণ [সম্পাদনা]

বাংলা একাডেমীর একটি নিজস্ব মুদ্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

পুরস্কার প্রদান [সম্পাদনা]

বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার বাংলা ভাষার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরষ্কার। এটি ছাড়াও বাংলা একাডেমী কয়েকটি পুরষ্কার প্রদান করে থাকে। এগুলো হল:

  • রবীন্দ্র পুরস্কার।
  • চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার :- ২০১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই অমর একুশে গ্রন্থমেলা-এর প্রবর্তক চিত্তরঞ্জন সাহার নামে একটি পদক প্রবর্তন করা হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে প্রকাশিত বইয়ের গুণমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
  • সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার :- অমর একুশে গ্রন্থমেলায় স্টল ও অঙ্গসজ্জার জন্য দেয়া হয় 'সরদার জয়েনউদদীন স্মৃতি পুরস্কার'।
  • পলান সরকার স্মৃতি পুরস্কার :- অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সর্বাধিক গ্রন্থ ক্রয়ের জন্য সেরা ক্রেতাকে দেয়া হয় 'পলান সরকার পুরস্কার'।[৪]
  • মোহাম্মদ নুরুল হক গ্রস্থ–সুহৃদ পুরস্কার।

ফেলোশিপ প্রদান [সম্পাদনা]

এ পর্যন্ত যারা বাংলা একডেমী ফেলোশিপ পেয়েছেন তাঁরা হলেনঃ

1. মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ

2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

3.কবি গোলাম মোসত্মফা

4. কবি জসীমউদ্দীন

5.শামসুন নাহার মাহমুদ

6. শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন

7. খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ

8. শেখ রেয়াজউদ্দীন আহমেদ

9. শেখ হবিবর রহমান সাহিত্যরত্ন

10.নূরুন্নেসা খাতুন বিদ্যাবিনোদিনী

11.মোজাম্মেল হক

12. খোদাবক্স সাঁই

13. আরজ আলী মাতুব্বর

14. মজিবর রহমান বিশ্বাস

15.মাহবুবুল আলম চৌধুরী

16.মনীন্দ্র নাথ সমাজদার

17.লুৎফর রহমান খান

18.প্রফেসর কামালুদ্দীন আহমদ

19.শিল্পী সফিউদ্দীন আহমদ

20.শিল্পী কামরুল হাসান

21.বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী

22.জনাব আবদুল আহাদ

23.প্রফেসর আজিজুর রহমান মল্লিক

24.প্রফেসর শাহ ফজলুর রহমান

25.প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক

26.প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইব্রাহীম

27.প্রফেসর মুহম্মদ শামস-উল হক

28.প্রফেসর মোহাম্মদ নূরুল হক

29.দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ

30.আ.ফ.মু. আবদুল হক ফরিদী

31.মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন

32.ফিরোজা বেগম

33.কলিম শরাফী

34.রফেসর খান সারওয়ার মুরশিদ

35.আ.ন.ম. গাজীউল হক

36.প্রফেসর এ. এফ. সালাহ্উদ্দীন আহ্মদ

37.বারীণ মজুমদার

38.লুৎফর রহমান সরকার

39.আবদুল লতিফ

40.নূরজাহান বেগম

41.ওয়াহিদুল হক

42. প্রফেসর রেহমান সোবহান

43. শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী

44.মোহাম্মদ সাইদুর

45.আবদুল হালিম বয়াতী

46.আবদুল মতিন

47.অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ

48.প্রফেসর বেগজাদী মাহমুদা নাসির

49.প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলাম

50.মোহাম্মদ ফেরদাউস খান

51.প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ

52.ফেরদৌসী রহমান

53.প্রফেসর ডাঃ নূরুল ইসলাম

54.প্রফেসর ইকবাল মাহমুদ

55.রাহিজা খানম ঝুনু

56.প্রফেসর ড. এম শমশের আলী

57.প্রফেসর এম এইচ খান

58.ডা. এম কিউ কে তালুকদার

59.শ্রীমৎ শুদ্ধানন্দ মহাথের

60.ড. উইলিয়ম রাদিচে

61.কাজী আজহার আলী

62.অধ্যাপক কাজী আবদুল ফাত্তাহ্

63.অধ্যাপক ডা. টি. এ. চৌধুরী

64.অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী

65.প্রফেসর ড. এম ইন্নাস আলী

66.প্রফেসর ড. এ. এম. হারম্নন অর রশীদ

67.প্রফেসর ড. মোজাফ্ফর আহমদ

68.শিল্পী মু. আবুল হাশেম খান

69.শিল্পী সোহরাব হোসেন

70.প্রকৌশলী ড. নূরম্নদ্দীন আহমদ

71.প্রকৌশলী ড. মোঃ কামরম্নল ইসলাম

72. অধ্যাপক মুশার্রফ হোসেন

73.শিল্পী সুধীন দাশ

74.অধ্যাপক অজয় রায়

75.অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম

76.অধ্যাপক সোহ্রাবউদ্দিন আহ্মদ

77.প্রফেসর নজরম্নল ইসলাম

78.শিল্পী রফিকুন নবী

79.অধ্যাপক অমলেশ চন্দ্র মন্ডল

80.নূরম্নল ইসলাম কাব্যবিনোদ

81.আমানুল হক

82.শিল্পী ইমদাদ হোসেন

83.রওশন আরা বাচ্চু

84.এ বি এম মূসা

85.আতাউস সামাদ

86.আবুল মাল আবদুল মুহিত

87.ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল-ইসলাম

88.প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান

89.অধ্যাপক এ. বি. এম. আবদুল লতিফ মিয়া

90.ড. আকবর আলী খান

91.ফেরদৌসী মজুমদার

92.বিবি রাসেল

93.মুহাম্মদ হাবিবুলস্নাহ পাঠান

94.মোঃ আবদুস সামাদ মন্ডল

95.প্রফেসর কাজুও আজুমা

96.ক্লিনটন বুথ সিলি

97.আতিকুল হক চৌধুরী

98.প্রফেসর এ.বি.এম. হোসেন

99.কামাল লোহানী

100.জামিল চৌধুরী

101.ড. এনামুল হক

102.প্রফেসর সাহানারা হোসেন

103.মুসত্মাফা জামান আববাসী

104.রশীদ তালুকদার

105.রামেন্দু মজুমদার

106. লায়লা হাসান

107.ফরিদা পারভীন

[৯] এছাড়াও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেনকে এই সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।[১০]

বাংলা একাডেমী পুরস্কার [সম্পাদনা]

বাংলা একাডেমী অভ্যন্তরের ছবি [সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

  1. দৈনিক সংবাদের নিবন্ধ
  2. বাংলাপিডিয়ার ভুক্তি
  3. http://174.120.99.127/~thedaily/details.php?news=27&action=main&option=all&menu_type=&pub_no=118
  4. http://www.banglapedia.org/httpdocs/HT/B_0134.HTM
  5. http://174.120.99.127/~thedaily/details.php?news=27&action=main&option=all&menu_type=&pub_no=118
  6. http://www.banglapedia.org/httpdocs/HT/B_0134.HTM
  7. http://174.120.99.127/~thedaily/details.php?news=27&action=main&option=all&menu_type=&pub_no=118
  8. বাংলার বিকৃত উচ্চারণের জন্য গণমাধ্যমের একাংশ দায়ী - ডয়চে ভেলে, সংগ্রহঃ ৯ জানুয়ারী, ২০১২ইং
  9. [১]বাংলা একডেমী ওয়েবসাইট
  10. অমর্ত্য সেনকে বাংলা একাডেমীর সম্মানসূচক ফেলোশিপ - ডয়চে ভেলে, সংগ্রহঃ ৩১ ডিসেম্বর, ২০১১ইং

বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]