অস্ট্রোনেশীয় ভাষাসমূহ
|
|
এই নিবন্ধটিতে কোনো উৎস বা তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। দয়া করে উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থেকে উৎস প্রদান করে নিবন্ধটির মানোন্নয়নে সাহায্য করুন। (সাহায্যের জন্য দেখুন: যাচাইযোগ্যতা) নিবন্ধের যেসব অংশে সঠিক তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই, সেগুলি যেকোনো মুহূর্তে সরিয়ে ফেলা হতে পারে। (মার্চ ২০১০) |
| অস্ট্রোনেশীয় | |
|---|---|
| ভৌগলিক বিস্তার: |
সামুদ্রিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ওশেনিয়া, মাদাগাস্কার, তাইওয়ান |
| বংশগতিক শ্রেণীবিভাগ: |
বিশ্বের একটি প্রধান ভাষা পরিবার |
| উপবিভাজনসমূহ: | |
| ISO 639-2 এবং 639-5: | map |
| [[File:
|
|
অস্ট্রোনেশীয় ভাষাসমূহ (ইংরেজি: Austronesian languages) একটি বিরাট ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এরা মাদাগাস্কার থেকে ইস্টার দ্বীপ পর্যন্ত এবং তাইওয়ান ও হাওয়াই থেকে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। ভাষার সংখ্যা এবং ভৌগোলিক বিস্তার উভয় দিক থেকেই এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাষাপরিবার। এই পরিবারে ১২৪৪টি ভাষা আছে।
মাদাগাস্কার, মালয় উপদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, নিউ গিনি, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, পলিনেশিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৩০ কোটি লোক বিভিন্ন অস্ট্রোনেশীয় ভাষাতে কথা বলেন। বর্তমানে এদের মধ্যে চারটি ভাষা চারটি দেশে সরকারী মর্যাদা লাভ করেছে। এগুলি হল
- মালাগাসি ভাষা; মাদাগাস্কারে প্রচলিত।
- মালয় ভাষা; মালয়েশিয়াতে প্রচলিত।
- ইন্দোনেশীয় ভাষা; ইন্দোনেশিয়াতে প্রচলিত মালয়-ভিত্তিক ভাষা।
- পিলিপিনো ভাষা; ফিলিপাইনে প্রচলিত তাগালোগ-ভিত্তিক ভাষা।
অস্ট্রোনেশীয় ভাষাগুলি নিয়ে বিগত দশকগুলিতে ব্যাপক গবেষণা করা হলেও এদের উৎস ও প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। এদের শ্রেণীকরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন তত্ত্ব থাকলেও কোনটিই সুপ্রতিষ্ঠিত নয়। ভাষাবিজ্ঞানীরা মনে করেন এগুলি কোন একটি আদি ভাষা থেকে ৪০০০ বছর বা তারও আগে পৃথক হওয়া শুরু করে।
ধারণা করা হয় আদি অস্ট্রোনেশীয় ভাষাটির বক্তারা মালয় উপদ্বীপের কাছে বাস করত এবং সেখান থেকে তারা পশ্চিমে মাদাগাস্কার পর্যন্ত এবং পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিস্তরণ সম্ভবত দুই হাজার বছরেরও আগে সংঘটিত হয়েছল। একে অপরের থেকে বহু দূরে অবস্থিত হাজার হাজার দ্বীপে বসবাসের ফলে আদি ভাষাটি থেকে অনেকগুলি উপভাষার উৎপত্তি ঘটে যেগুলি পরে একেকটি স্বতন্ত্র ভাষাতে রূপ নেয়।
অস্ট্রোনেশীয় ভাষাগুলিকে দুইটি শাখায় ভাগ করা হয়--- মালয়-পলিনেশীয় এবং ফরমোসীয়। এদের মধ্যে মালয়-পলিনেশীয় শাখাতি বৃহত্তর। মালয়-পলিনেশীয় শাখাটিকে আবার দুইটি উপশাখায় ভাগ করা যায়। এগুলি হল
- পশ্চিম উপশাখা; এতে প্রায় ৫০০টি ভাষা আছে যেগুলি মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ানের কিয়দংশ, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং ক্যাম্বোডিয়াতে প্রচলিত। এছাড়া মাইক্রোনেশিয়ার দুইটি ভাষা চামোররো ও পালাউয়ান ভাষাও এই দলের অন্তর্গত। এই উপশাখাতে ৩০ কোটিরও বেশি লোক কথা বলেন। জাভানীয় ভাষা, মালয় ভাষা এবং তাগালোগ ভাষা তিনটি প্রধানতম ভাষা,
- কেন্দ্রীয়-পূর্বী উপশাখা। ওশেনীয় ভাষা নামেও পরিচিত। এই শাখায় প্রায় ৫০০টি ভাষা অন্তর্গত। এগুলির বেশির ভাগই নিউ গিনি দ্বীপে প্রচলিত। বাকিগুলি মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও পলিনেশিয়ার প্রায় ১০ হাজার দ্বীপে প্রচলিত। ভৌগলিকভাবে বিস্তৃত হলেও এই উপশাখার ভাষাগুলিতে মাত্র ২০ লক্ষ লোক কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী ভাষাগুলি এবং নিউ গিনির পাপুয়ান ভাষাগুলিকে এই উপশাখার অন্তর্গত ধরা হয় না।
বহু অস্ট্রোনেশীয় ভাষা আজ বিপন্ন। বিশেষ করে মেলানেশিয়ার ভাষাগুলিতে গড়ে ১৫০০-র বেশি বক্তা নেই।