হুদাইবিয়ার সন্ধি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হুদাইবিয়ার সন্ধি (আরবি: صلح الحديبية), ষষ্ঠ হিজরীর জ্বিলকদ মাসে (মার্চের ৬২৮ খ্রীষ্টাব্দে) মদিনা শহরবাসী এবং কুরাইশ গোত্রের মধ্যে সম্পাদিত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। এই সন্ধিটি একটি দশ বছর শান্তি প্রতিষ্ঠিত করে এবং মুহাম্মদ (সাঃ) তার জীবনের বিশ্রামের জন্য তীর্থের সময় মক্কার দিকে আসতে অনুমোদন করে।[১]

পটভূমিকা[সম্পাদনা]

হিজরি ৬ষ্ঠ সনের জ্বিলকদ মাসে হুদাইবিয়ার অভিযান সংঘটিত হয়। এই সনে নবী করীম (সাঃ) একদা স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি তাঁর সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে মদীনা থেকে মক্কায় চলে গেলেন এবং সেখানে উমরা পালন করলেন। নবীর স্বপ্ন নিছক একটি স্বপ্ন নয়, বরং সেটিও একটি রকম ওহী। সুতরাং এরপর তিনি চৌদ্দশ সাহাবীসহ উমরা পালন করার জন্য মক্কা রওনা হলেন। কিন্তু জ়েদ্দা থেকে মক্কাগামী পথের পাশে হুদাইবিয়া নামক স্থানে মক্কার মুশরিকদের দ্বারা তিনি বাধাপ্রাপ্ত হন। ফলে, মক্কায় পৌছে উমরা পালন করা তাঁর পহ্মে সম্ভব হয়নি।[২] পথিমধ্যে হুদাইবা নামক স্থানে উনি তীব্র বাধার সম্মুখীন হন। এই স্থানের সানিয়াতুল মিরারে নামক স্থানে উনার উটনী বসে যায়। অপরদিকে কুরাইশদের পক্ষ থেকে সামরিক অভিযানের হুমকি আস্তে থাকে। শেষ পর্যন্ত কুরাইশদের পক্ষ থেকে সুহায়ল ইবনে আমরকে দূত হিসাবে পাঠান হয়। সেখানে নিম্ন লিখিত সমযোতা গুলিই হুদাইবার সন্ধি হিসাবে পরিচিত হয়।[৩] নবী করীম (সাঃ) উমরার জন্য নিয়ে আসা পশুগুলো সেখানে কোরবানী করে মদীনায় ফিরে যান। অতঃপর পবিত্র কোরানে সুরা ফাতেহ তে ইহাকে প্রকাশ্য বিজয় হিসাবে অভিহিত করা হয়।

সন্ধিপত্রের কয়েকটি শর্ত[সম্পাদনা]

(১) মুসালমানগণ এ বছর উমরা না করেই মদীনায় ফিরে যাবে।
(২) আগামী বছর উমরার জন্য এসে তারা তিন দিন মক্কায় অবস্থান করতে পারবে এবং তাদের অবস্থানকালে কুরাইশরা মক্কা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাবে।
(৩) কুরাইশদের এবং মুসলমানদের মধ্যে আগামী দশ বছর যুদ্ধ বন্ধ থাকবে।
(৪) কুরাইশদের কেউ মদীনায় আশ্রয় নিলে তাকে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু মদীনায় কোন মুসলমান মক্কায় আশ্রয় নিলে, তাকে ফেরত দেয়া হবে না।
(৫) আরবের যেকোন গোত্রের লোক মুসলমানদের বা কুরাইশদের সাথে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হতে পারবে।
(৬) মক্কায় ব্যবসায়ীরা নিরাপদে মদীনার পথ ধরে সিরিয়া, মিশর প্রভৃতি দেশে ব্যবসা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [:en:Tafsir ibn Kathir|Tafsir ibn Kathir] [১]
  2. মাসিক মদীনা। প্রকাশিত হয়েছে মে, ২০০৪
  3. সীরাতে ইবনে হিশাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন।