হিমু (চরিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হিমু একটি হুমায়ুন আহমেদ রচিত জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র। হিমু একজন বেকার যুবক যার আচরণ কিছুটা অজাগতিক।

হিমুর প্রথম উপন্যাস ময়ূরাক্ষী। এর প্রাথমিক সাফল্যের পর হিমু বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন উপন্যাসে প্রকাশিত হতে থাকে। হিমু ও মিসির আলি হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট সর্বাধিক জনপ্রিয় দুটি কাল্পনিক চরিত্র। কিছু নারী-পুরুষ হিমুকে সত্যি বলে মনে করেন। আবার কোন কোন হিমুভক্ত পাঠক নিজেকে হিমু বলে দাবি করেন।

চরিত্র পরিচয়[সম্পাদনা]

হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট এই চরিত্র অনুসারে হিমুর আসল নাম হিমালয়। এ নামটি রেখেছিলেন তার বাবা। লেখক হিমুর বাবাকে বর্ণনা করেছেন একজন বিকারগ্রস্ত মানুষ হিসেবে; যার বিশ্বাস ছিল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার যদি প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা যায় তবে একইভাবে মহাপুরুষও তৈরি করা সম্ভব। তার একটি মহাপুরুষ তৈরির স্কুল ছিল যার একমাত্র ছাত্র ছিল তার সন্তান হিমু। হিমুর পোশাক হল পকেট বিহীন হলুদ পাঞ্জাবী। ঢাকার পথে-পথে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো তার কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম। মাঝে মাঝে তার মধ্যে আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রকাশ দেখা যায়। যদিও হিমু নিজে তার কোন আধ্যাত্মিক ক্ষমতার কথা স্বীকার করে না। হিমুর আচার আচরণ খুবই বিভ্রান্তিকর। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার প্রতিক্রিয়া অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করে। এবং এই বিভ্রান্ত করা হিমুর অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ।

উপন্যাসে হিমুর কিছু ভক্তশ্রেণীর মানুষ থাকে যারা হিমুকে মহাপুরুষ মনে করে। এদের মধ্যে হিমুর খালাতো ভাই বাদল অন্যতম। মেস ম্যানেজার বা হোটেল মালিক- এরকম আরও কিছু ভক্ত চরিত্র প্রায় সব উপন্যাসেই দেখা যায়। হিমুর একজন বান্ধবী আছে, যার নাম রূপা; যাকে ঘিরে হিমুর উপন্যাসে অজানা রহস্যময়তা আবর্তিত হয়।

নামকরণ[সম্পাদনা]

হিমুর প্রকৃত নাম হিমালয়। হিমু যখন ছোট ছিল তখন তার বাবা তার নাম রেখেছিলেন হিমালয়, যা হিমালয় পর্বতের ন্যায় মহত্ব প্রকাশ করে। হিমুর বাবা তাকে একজন মহাপুরুষ হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি তার ছেলের এমন নাম রেখেছিলেন। পরে ছাত্রজীবনে এই নাম নিয়ে তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তার দাদা (পিতামহ) তার অন্য নাম রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হিমু তার বাবার দেয়া নামই রাখে।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

হিমু ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে। এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়েছে এমন ই বলা হয়েছে। পাশ করেছে কিনা কোন বিষয় তা উল্লেখ করা হয়নি।

উপস্থিতি[সম্পাদনা]

হিমুর বয়স ১৮-২৫ বছরের মধ্যে। সে দেখতে খুব সুন্দর নয়,বরং তার পোশাক ও গেট-আপ বিরক্তিকর। সে সবসময় হলুদ রঙের পাঞ্জাবী (অধিকাংশ সময়ে যেটার পকেট থাকে না) পরে। রাতের বেলায় রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করে। তার খালাতো ভাই/ফুপাতো ভাই বাদল তার অন্ধভক্ত। যে তার আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতি নিঃসন্দিহান, এবং তাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করে। হিমু মাঝে মাঝে ভবিষ্যতবাণী করে যা প্রায় সময়েই মিলে যায়। সে তার যুক্তি-বিরোধী মতানুসারে কাজ করে, এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেয়।

জীবন যাপন[সম্পাদনা]

হিমুর জীবন যাপন অনেক অদ্ভুত। তার জীবন অনেকটা বাউন্ডুলে ধরনের। সে মেসে তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে থাকে। মাঝে মাঝে রাস্তায় ও পার্কেও রাত কাটায়। তার প্রধান কাজ রাস্তায় ঘুরে বেরানো । তার কোনো পেশা নেই। হিমুর বেশকিছু বিত্তবান আত্মীয় রয়েছে। হিমু প্রায়ই তার বিত্তবান আত্মীয়দের কাছ থেকে উপহার এবং অর্থসাহায্য পায়।

ব্যাক্তিত্ব[সম্পাদনা]

হিমু স্বতন্ত্র ব্যাক্তিত্বের অধিকারী। সে প্রায়ই যুক্তি-বিরোধী মতানুসারে আচরণ করে, এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং তার এরকম অযৌক্তিক ব্যাক্তিত্বের কারণে সে অনেক সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। তার এরূপ আচরণ অনেক মানুষকে তাকে মহাপুরুষ ভাবতে প্রভাবিত করে।

হিমু কেন্দ্রিক উপন্যাস[সম্পাদনা]

উপন্যাস প্রকাশকাল
ময়ূরাক্ষী মে ১৯৯০
দরজার ওপাশে ১৯৯২
হিমু ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩
পারাপার ১৯৯৪
এবং হিমু... ১৯৯৫
হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম ১৯৯৬
হিমুর দ্বিতীয় প্রহর ১৯৯৭
হিমুর রূপালী রাত্রি ১৯৯৮
একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁ ‍ঝিঁ পোকা মে ১৯৯৯
তোমাদের এই নগরে ২০০০
চলে যায় বসন্তের দিন ২০০২
সে আসে ধীরে ২০০৩
আঙ্গুল কাটা জগলু ২০০৫
হলুদ হিমু কালো র‍্যাব ২০০৬
আজ হিমুর বিয়ে ফেব্রুয়ারি ২০০৭
হিমু রিমান্ডে ফেব্রুয়ারি ২০০৮
হিমুর মধ্যদুপুর জুন ২০০৯
হিমুর নীল জোছনা ফেব্রুয়ারি ২০১০
হিমুর আছে জল ফেব্রুয়ারি ২০১১
হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী ফেব্রুয়ারি ২০১১
হিমু এবং হার্ভার্ড পিএইচডি বল্টু ভাই অগাস্ট ২০১১

অন্যান্য[সম্পাদনা]

উপন্যাস প্রকাশকাল
হিমু মামা ২০০৪
হিমুর একান্ত সাক্ষাতকার ও অন্যান্য ২০০৮
হিমুর বাবার কথামালা জুন ২০০৯

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]