হাসান আল বান্না

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হাসান আল বান্না (আরবি ভাষায় حسن البنا) (জন্ম অক্টোবার ১৪, ১৯০৬-মৃত্যু ফেব্রুয়ারী ১২, ১৯৪৯) (আরবী: حسن البنا) ছিলেন একজন মিশরীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারক। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড দলের প্রতিষ্ঠাতা।


সংক্ষেপে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা আমার প্রিয় নেতা ইমাম হাসান আল বান্না।

২৭ শে জুলাই, ২০১০ রাত ৮:২৮


হাসান আল বান্না (আরবি ভাষায় حسن البنا) (জন্ম অক্টোবার ১৪, ১৯০৬-মৃত্যু ফেব্রুয়ারী ১২, ১৯৪৯) তিনি ছিলেন একজন মিশরীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারক। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড দলের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯০৬ সালে ১৪ অক্টোবর মিশরের রাজধানী কায়রোর কাছে মাহমুদিয়া অঞ্চলে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মুসলীম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শায়খ হাসানুল বান্না (রহ: )। তার পিতার নাম আব্দুর রহমান বান্না। বারো বছর বয়সে তিনি সুফীবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি সেই কিশোর বয়সেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন। তার শিক্ষা জীবন শুরূ হয় মাদ্রাসায় রাশাদ আদ নামক প্রতিষ্ঠানে। এরপর তিনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দারূল উলুমে ভর্তি হন। ১৯১৭ সালে সেখান থেকে তিনি ডিপ্লোমা লাভ করেন। শায়খ হাসানুল বান্না ১৯২৭ সালে সরকারী স্কুলের শিক হিসেবে যোগ দানকরে কর্ম জীবন শুরূ করেন।এই সময় তিনি মিশরে প্রচুর ভ্রমণ করেন এবং সেই সময়কার বড় বড় আলেমদের সংস্পর্শে আসেন। তাঁর নজরে পড়ে পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রভাবে কিভাবে মিশরের সমাজ ক্রমশ ভোগের দিকে ঝুঁকে পড়ছে কিভাবে সনাতন মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে আসছে। পরবর্তিতে তিনি আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। সেখানে তিনি সবিস্ময়ে লক্ষ করেন কিভাবে খ্রীষ্টান মিশনারীরা ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিকতাকে উৎসাহিত করে চলে। ১৯২৮ সালে ৬ জন ইসলামী ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায় হাসানুল বান্না (রহ: ) গঠন করেন “ইখওয়ানুল মুসলিমিন” সংগঠনটি । আর সেই সংগঠনের আমির নির্বাচিত হন স্বয়ং হাসানুল বান্না (রহ: )। সংগঠনটিকে সামাজিক ভিত্তি দিতে পুরো মিশর জুড়ে তিনি একইসঙ্গে সমাজকল্যাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। মিশরের প্রতিটি শহরে গড়ে ওঠে শাখা সংগঠন। দ্বীন ইসলামকে সবার নিকট উপস্হাপনের জন্য হাসানুল বান্না (রহ: ) মহিলাদেরকে নিয়ে আখওয়াত আল মুসলিমাত নামক সংগঠন গড়ে তোলেন । ১৯৩৩ সালে আল ইখওয়ানের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় একটি প্রত্রিকা প্রকাশের । পত্রিকাটির নাম মাজাল্লাতুল ইখওয়ানুল মুসলিমিন।তার এই কর্মকান্ড মিশরের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে ভীত করে তোলে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ১৯৪৯ সালে শসকশ্রেণীর লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডার গুলিতে তিনি নিহত হন।

তিনি জীবদ্দশায় ইসলামের নূর ছড়াতে প্রচুর বই লিখেছেন। তার মধ্যে আমার মতে সব থেকে উল্লেখযোগ্য বই জিহাদ ।