স্বামী প্রণবানন্দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্বামী প্রণবানন্দ
প্রণবানন্দ
হিন্দু ধর্মগুরু
{{{Caption}}}
জন্ম (১৮৯৬-০১-২৯)২৯ জানুয়ারি ১৮৯৬
জন্মস্থান বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার বাজিতপুর গ্রাম।
পূর্বাশ্রমের নাম বিনোদ
মৃত্যু ৮ জানুয়ারি ১৯৪১(১৯৪১-০১-০৮) (৪৪ বছর)
মৃত্যুস্থান {{{death-place}}}
গুরু মহাযোগী বাবা গম্ভীরনাথজী
দর্শন সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রচার, সন্ন্যাসী সংঘ গঠন, আর্ত-পীড়িত মানুষের ত্রাণ, সমাজ-সংস্কার, তীর্থ সংস্কার, ধর্মচক্র ও কর্মচক্রের প্রবর্তন প্রভৃতি
সম্মান স্বামীজি
উক্তি লক্ষ্য কি?- মহামুক্তি, আত্মতত্ত্বোপলব্ধি।

ধর্ম কি ?- ত্যাগ, সংযম, সত্য, বহ্মচর্য। মহামৃত্যু কি ?- আত্মবিস্মৃতি। প্রকৃত জীবন কি?- আত্মবোধ, আত্মস্মৃতি, আত্মানুভূতি। মহাপূণ্য কি ?- বীরত্ব, পুরুষত্ব, মনুষ্যত্ব, মুমুক্ষত্ব (মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছা) মহা পাপ কি ?- দুর্বলতা, ভীরুতা, কাপুরুষতা, সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা। মহাশক্তি কি ?- ধৈর্য, স্থৈর্য, সহিষ্ণুতা। মহাসম্বল কি ?- আত্মবিশ্বাস, আত্মনির্ভরতা, আত্মমর্যদা। মহাশত্রু কি?- আলস্য, নিদ্রা, তন্দ্রা, জড়তা, রিপু ও ইন্দ্রিয়গণ। পরম মিত্র কি ?- উদ্যম, উৎসাহ, অধ্যাবসায়।

পাদটীকা

স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ ১৮৯৬ সালে ২৯ জানুয়ারী বুধবার মাঘীপূর্ণিমা তিথিতে মাদারীপুর জেলার বাজিতপুর গ্রামে বিষ্ণুচরণ ভূঞা ও মাতা সারদাদেবীর ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। বাল্য নাম ছিল বিনোদ। গোরক্ষপুরের মহাযোগী বাবা গম্ভীরনাথজীর নিকট ১৯১৩ সালে ১৭ বৎসর বয়সে তিনি দীক্ষালাভ করেন এবং ১৯১৬ সালে মাত্র ২০ বৎসর বয়সে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। ১৯২৪ সালে প্রয়াগে অর্দ্ধকুম্ভমেলায় স্বামী গোবিন্দানন্দ গিরির নিকট আনুষ্ঠানিক সন্ন্যাস গ্রহণ পূর্বক স্বামী প্রণবানন্দ নামে পরিচিত হন। ১৯৪১ সালে ৮ জানুয়ারী মাত্র ৪৫ বৎসর বয়সে তিনি দেহ ত্যাগ করেন।

জীবনী[সম্পাদনা]

Sami Pranavannada (1).jpg

জন্ম[সম্পাদনা]

তিনি বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমায় কুমার নদী থেকে প্রায় এক মাইল দূরে বাজিতপুর গ্রামে বিষ্ণুচরণ ভুঁইয়া ও সারদা দেবীর সন্তান। বিষ্ণুচরণ ছেলের জন্মের পর দীর্ঘদিনের পুরোনো মামলায় জয়ী হয়েছেন, তাই ছেলের নাম রাখেন “জয়নাথ”। পরে নাম দেওয়া হয় বিনোদ।

সন্ন্যাস[সম্পাদনা]

সিদ্ধি লাভের দীর্ঘ ৮ বৎসর পর ১৯২৪ সালের জানুয়ারী মাসে প্রয়াগধামের অর্ধকুম্ভের সময় স্বামী গোবিন্দানন্দ গিরি মহারাজের কাছ থেকে থেকে ব্রহ্মচারী সন্ন্যাস দীক্ষা গ্রহন করেন। তখন তার নাম হয় “আচার্য স্বামী প্রণবানন্দ।” উক্ত বছরেই মাঘি পূর্ণিমা তিথিতে তিনি চিহ্নিত প্রথম সাত জন্য সঙ্ঘ সন্তানকে সন্ন্যাস দীক্ষায় দীক্ষিত করনে।

বিপ্লবীদের সাথে সম্পর্ক[সম্পাদনা]

ব্রহ্মচারী বিনোদ দেশের স্বাধীনতা আন্দোনকে পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করতেন। ১৯১৪ সনে মাদারীপুরের চারপাশে ডাকাতিতে পুলিশ ফরিদপুর ষড়যন্ত্র মামলায় (১৯১৪) বিনোদকে গ্রেফতার করে মাদারীপুর ও পরে ফরিদপুর জেলে আটক রাখা হল।

আশ্রম স্থাপন[সম্পাদনা]

১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি একটি আশ্রম স্থাপন করেন। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রচন্ড ঝড়ের ফলে বহু লোক মারা গেলে তিনি সেবার কাজে এগিয়ে আসেন। সেবাকার্য শেষে মাদারীপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধে মাদারীপুর সেবাশ্রম স্থাপিত করেন। এর কিছুবছরের মধ্যে খুলনা, নওগাঁ, আশাশুনি প্রভৃতি জায়গাতে সেবাশ্রম স্থাপিত হয়। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতার বাগবাজারে ডিস্পেনসারী লেনে ঘর ভাড়া করে কলকাতায় প্রথম আশ্রম স্থাপন করা হয়। ঐ বৎসরেই ভাদ্র মাসে ১১৮নং শোভাবাজার ষ্ট্রীটে ১৮ টাকা ভাড়ায় দুইখানি কোঠা ঘর ভাড়া লইয়া সেখানে কলিকাতা আশ্রম স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯২৪ খ্রীঃ জুন মাসে ২৭নং বহুবাজার ষ্ট্রীটে আশ্রম উঠিয়া আসে। ইং ১৯২৬ খ্রীঃ ১৬২ কর্ণওয়ালিশ স্ট্রীটে আশ্রম স্থানান্তরিত হয়। ইং ১৯২৭ খ্রীঃ জুলাই মাসে ২৪/৩, মীর্জ্জাপুর স্ট্রীটে (বতর্মানে সূর্য্যসেন স্ট্রীট) আশ্রম উঠিয়া আসে। পরে বালিগঞ্জে ডিহি শ্রীরামপুর লেনে কয়েক মাস থাকার পর ইং ১৯৩২ খ্রীঃ মে মাসে সঙ্ঘের প্রধান কার্য্যালয় ২১১, রাজবিহারী এভিনিউ, বালিগঞ্জে নিজস্ব জমি ও বাড়ীতে স্থাপিত হয়।

তীর্থ সংস্কার[সম্পাদনা]

আচার্য স্বামী প্রণবানন্দ, হিন্দু সমাজ সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে হিন্দুজাতি গঠন, মিলন মন্দির ও রক্ষিদল গঠন এবং বহুবিধ জনহিতকর সেবামূলক কাজ তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের মাধ্যমে করেছেন। জনকল্যাণে তিনি যে সব কাজ করেছেন তার অন্যতম তীর্থ সংস্কার।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

যুগাচার্য স্বামী প্রণবানন্দ, লেখক- রণজিৎ ঘোষ, প্রকাশক- স্বামী সারস্বতানন্দ, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, ২১১, রাসবিহারী এভিনিউ, কলকাতা-১৯